খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ভোটের মাঠে উত্তেজনার পারদ: কেন এতো ডিম, হাতাহাতি ও ভাঙচুর?

সজল দাস
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৭ এএম
ভোটের মাঠে উত্তেজনার পারদ: কেন এতো ডিম, হাতাহাতি ও ভাঙচুর?

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দলের শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আর বিভিন্ন জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচনের আগেই ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কি না এমন প্রশ্ন সামনে আসছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকবে–– এ নিয়ে বেশ আগে থেকেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর কদিন আগে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর এই শঙ্কা বাড়তি মাত্রা পেয়েছিল।

বিভিন্ন জেলার সাংবাদিক ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এবং গণমাধ্যমে আসা খবর থেকে জানা যাচ্ছে, অন্তত ১০টি জেলায় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ডিম হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা- ৮ সংসদীয় আসনের জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যা নিয়ে তিনি অভিযোগ তুলেছেন তার প্রতিপক্ষ বিএনপির দিকে।

বুধবার শেরপুরে ‘নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে’ চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টের জেরে সম্প্রতি সংঘর্ষে জড়ান শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিএনপি ও জামায়াত কর্মী-সমর্থকরা।

ভোটের প্রচারণায় কথার লড়াই নতুন কিছু নয়। তবে সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে যে আশঙ্কা-সাবধানবাণী উচ্চারণ করা হয়েছিল, নির্বাচনের মাঠে সেই পরিবেশই তৈরি হচ্ছে কি না সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সংঘাতের শঙ্কাও ততই বাড়ছে কি না এবং শেষ পর্যন্ত ভোটে তার প্রভাব পড়বে কি না সেই শঙ্কাও জানাচ্ছেন পর্যবেক্ষক-বিশ্লেষকরা।

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতা কিংবা দলীয় প্রার্থীদের হুমকি-ধামকি ও বিশোদগারমূলক বক্তব্য নির্বাচনকে সংঘাতপূর্ণ করে তুলতে পারে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

প্রচারণা ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণ কিংবা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, শরীয়তপুর, সিরাজগঞ্জসহ অন্তত ১০ জেলায় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব সংঘাতের বেশিরভাগই ঘটেছে বিএনপি এবং জামায়াত-এনসিপি জোটের সমর্থকদের মধ্যে।

ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সম্প্রতি ডিম হামলার শিকার হন ঢাকা- ৮ সংসদীয় আসনের জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এই ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

অন্যদিকে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘উসকানিমূলক ও অশালীন’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে বিএনপি।

সব মিলিয়ে এই আসনে বিএনপি এবং জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ভোটের মাঠে উত্তেজনা রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী আমবাগান এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বুধবার বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

প্রচারণার সময় স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার এই ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে। পরদিন দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে দুই দলই।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারণার সময় মুখোমুখি হয়েছিল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা। ওইদিন পুলিশের হস্তক্ষেপে উত্তেজনা না বাড়লেও পরদিন আবারও সংঘাতে জড়ায় তারা।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টের জেরে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকরা।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহার মিয়া বিবিসি বাংলাকে জানান, বিএনপি কর্মী গণভোটে ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এমন দাবি করে জামায়াতে ইসলামীর এক নারী কর্মীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করেই সংঘাতে জড়াই দুই পক্ষ।

মি. বাহার বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জ সদর সংসদীয় আসনে। এই ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংঘাত যাতে আর না বাড়ে সেজন্য বিবাদমান দুই পক্ষের সঙ্গেই প্রশাসন কথা বলেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া, নাটোর-১ লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ব্যানার পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। নড়াইলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করছেন একজন প্রার্থী।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় গত রোববার বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন।

একই দিনে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

ময়মনসিংহে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এখনো স্বাভাবিক, তবে শঙ্কা আছে

‘আর দোষারোপের রাজনীতিতে ফিরবেন না’ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা অতীতে এমন কথা বললেও প্রচারণার শুরু থেকেই একে অন্যকে দোষারোপ এবং ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, হুমকিসহ নানা অভিযোগ যেমন আনছেন, তেমনি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অতীতের নানা বিষয়ও সামনে আনছেন কেউ কেউ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই কথার লড়াইয়ে ছাড় দিচ্ছে না বিএনপি, জামায়াতসহ কোনো দলই।

এমন প্রেক্ষাপটে সব দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও সহনশীল হতে বলছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশনকেও সতর্ক থাকতে বলছেন তারা।

নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো ছোট ঘটনায়ও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলছেন নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম। তিনি বলছেন, নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা বা নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে সেটিও কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জ।

“ছোট ছোট ঘটনাগুলোও কমিশনকে অ্যাড্রেস করতে হবে, যাতে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের শঙ্কাটা আস্থায় পরিণত হয়,” বলেন তিনি।

নির্বাচন সুষ্ঠু এবং সংঘাতমুক্ত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ভূমিকা রাখার কথা বলছেন মি. আলীম।

“ইলেকশন কমিশন একা নির্বাচন করতে পারে না, সম্ভব না। প্রার্থীরা যদি নিয়ম না মানে তখন নির্বাচন কমিশন যদি সবাইকেও মাঠ থেকে বের করে দেয়, লাল কার্ড দেখায় তাহলে তো ইলেকশনই হবে না,” বলেন তিনি।

রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযত থাকার পরামর্শ বিশ্লেষকদের। মি. আলীম বলছেন, “কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্যে উসকানির একটা আবহ আমি পাচ্ছি, তবে এটা পরিহার করা প্রয়োজন।”

প্রচারণা ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষের কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচনের আগে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেই মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ সাহান।

তিনি বলছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রচারণায় বাধাসহ যেসব অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে আসছে সেগুলো নজরে রাখা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলছেন, “আক্রমণাত্মক যে সমস্ত প্রচার-প্রচারণ চলছে সেটি যদি চলতে থাকে এবং ছোটখাটো যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলোতে যদি সরকার কোনো ধরনের উদাহরণ সৃষ্টি করতে না পারে, যদি মনে হয় যে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে আপনি সহজে পার পেয়ে যাবেন, তাহলে পরিস্থিতি সামনের দিকে অনেক বেশি ভয়াবহ হবে,” বলেন মি. সাহান।

তবে নতুন ধারার রাজনীতির কথা বললেও ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে রাজনৈতিক নেতারা আবারও পুরনো ধারাই অনুসরণ করছেন বলে মত এই বিশ্লেষকের।

অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচন নিয়ে অনেক কিছু পরিবর্তনের আশা থাকলেও “ট্রাডিশনালি ২০০১, ২০০৮ কিংবা ১৯৯৬ সালে যেমন হতো, এখনো প্রচারণা তেমনই হচ্ছে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না মাদক মামলার পলাতক আসামির

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না মাদক মামলার পলাতক আসামির

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

 

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।