খুঁজুন
, ,

ভোটের মাঠে উত্তেজনার পারদ: কেন এতো ডিম, হাতাহাতি ও ভাঙচুর?

সজল দাস
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ভোটের মাঠে উত্তেজনার পারদ: কেন এতো ডিম, হাতাহাতি ও ভাঙচুর?

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দলের শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আর বিভিন্ন জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচনের আগেই ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কি না এমন প্রশ্ন সামনে আসছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকবে–– এ নিয়ে বেশ আগে থেকেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর কদিন আগে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর এই শঙ্কা বাড়তি মাত্রা পেয়েছিল।

বিভিন্ন জেলার সাংবাদিক ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এবং গণমাধ্যমে আসা খবর থেকে জানা যাচ্ছে, অন্তত ১০টি জেলায় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ডিম হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা- ৮ সংসদীয় আসনের জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যা নিয়ে তিনি অভিযোগ তুলেছেন তার প্রতিপক্ষ বিএনপির দিকে।

বুধবার শেরপুরে ‘নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে’ চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টের জেরে সম্প্রতি সংঘর্ষে জড়ান শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিএনপি ও জামায়াত কর্মী-সমর্থকরা।

ভোটের প্রচারণায় কথার লড়াই নতুন কিছু নয়। তবে সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে যে আশঙ্কা-সাবধানবাণী উচ্চারণ করা হয়েছিল, নির্বাচনের মাঠে সেই পরিবেশই তৈরি হচ্ছে কি না সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সংঘাতের শঙ্কাও ততই বাড়ছে কি না এবং শেষ পর্যন্ত ভোটে তার প্রভাব পড়বে কি না সেই শঙ্কাও জানাচ্ছেন পর্যবেক্ষক-বিশ্লেষকরা।

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতা কিংবা দলীয় প্রার্থীদের হুমকি-ধামকি ও বিশোদগারমূলক বক্তব্য নির্বাচনকে সংঘাতপূর্ণ করে তুলতে পারে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

প্রচারণা ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণ কিংবা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, শরীয়তপুর, সিরাজগঞ্জসহ অন্তত ১০ জেলায় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব সংঘাতের বেশিরভাগই ঘটেছে বিএনপি এবং জামায়াত-এনসিপি জোটের সমর্থকদের মধ্যে।

ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সম্প্রতি ডিম হামলার শিকার হন ঢাকা- ৮ সংসদীয় আসনের জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এই ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

অন্যদিকে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘উসকানিমূলক ও অশালীন’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে বিএনপি।

সব মিলিয়ে এই আসনে বিএনপি এবং জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ভোটের মাঠে উত্তেজনা রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী আমবাগান এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বুধবার বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

প্রচারণার সময় স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার এই ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে। পরদিন দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে দুই দলই।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারণার সময় মুখোমুখি হয়েছিল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা। ওইদিন পুলিশের হস্তক্ষেপে উত্তেজনা না বাড়লেও পরদিন আবারও সংঘাতে জড়ায় তারা।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টের জেরে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকরা।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহার মিয়া বিবিসি বাংলাকে জানান, বিএনপি কর্মী গণভোটে ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এমন দাবি করে জামায়াতে ইসলামীর এক নারী কর্মীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করেই সংঘাতে জড়াই দুই পক্ষ।

মি. বাহার বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জ সদর সংসদীয় আসনে। এই ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংঘাত যাতে আর না বাড়ে সেজন্য বিবাদমান দুই পক্ষের সঙ্গেই প্রশাসন কথা বলেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া, নাটোর-১ লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ব্যানার পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। নড়াইলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করছেন একজন প্রার্থী।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় গত রোববার বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন।

একই দিনে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

ময়মনসিংহে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এখনো স্বাভাবিক, তবে শঙ্কা আছে

‘আর দোষারোপের রাজনীতিতে ফিরবেন না’ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা অতীতে এমন কথা বললেও প্রচারণার শুরু থেকেই একে অন্যকে দোষারোপ এবং ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, হুমকিসহ নানা অভিযোগ যেমন আনছেন, তেমনি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অতীতের নানা বিষয়ও সামনে আনছেন কেউ কেউ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই কথার লড়াইয়ে ছাড় দিচ্ছে না বিএনপি, জামায়াতসহ কোনো দলই।

এমন প্রেক্ষাপটে সব দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও সহনশীল হতে বলছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশনকেও সতর্ক থাকতে বলছেন তারা।

নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো ছোট ঘটনায়ও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলছেন নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম। তিনি বলছেন, নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা বা নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে সেটিও কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জ।

“ছোট ছোট ঘটনাগুলোও কমিশনকে অ্যাড্রেস করতে হবে, যাতে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের শঙ্কাটা আস্থায় পরিণত হয়,” বলেন তিনি।

নির্বাচন সুষ্ঠু এবং সংঘাতমুক্ত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ভূমিকা রাখার কথা বলছেন মি. আলীম।

“ইলেকশন কমিশন একা নির্বাচন করতে পারে না, সম্ভব না। প্রার্থীরা যদি নিয়ম না মানে তখন নির্বাচন কমিশন যদি সবাইকেও মাঠ থেকে বের করে দেয়, লাল কার্ড দেখায় তাহলে তো ইলেকশনই হবে না,” বলেন তিনি।

রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযত থাকার পরামর্শ বিশ্লেষকদের। মি. আলীম বলছেন, “কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্যে উসকানির একটা আবহ আমি পাচ্ছি, তবে এটা পরিহার করা প্রয়োজন।”

প্রচারণা ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষের কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচনের আগে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেই মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ সাহান।

তিনি বলছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রচারণায় বাধাসহ যেসব অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে আসছে সেগুলো নজরে রাখা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলছেন, “আক্রমণাত্মক যে সমস্ত প্রচার-প্রচারণ চলছে সেটি যদি চলতে থাকে এবং ছোটখাটো যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলোতে যদি সরকার কোনো ধরনের উদাহরণ সৃষ্টি করতে না পারে, যদি মনে হয় যে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে আপনি সহজে পার পেয়ে যাবেন, তাহলে পরিস্থিতি সামনের দিকে অনেক বেশি ভয়াবহ হবে,” বলেন মি. সাহান।

তবে নতুন ধারার রাজনীতির কথা বললেও ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে রাজনৈতিক নেতারা আবারও পুরনো ধারাই অনুসরণ করছেন বলে মত এই বিশ্লেষকের।

অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচন নিয়ে অনেক কিছু পরিবর্তনের আশা থাকলেও “ট্রাডিশনালি ২০০১, ২০০৮ কিংবা ১৯৯৬ সালে যেমন হতো, এখনো প্রচারণা তেমনই হচ্ছে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”