খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

প্রেম ভাঙার কষ্ট ভুলতে কতদিন লাগে—যে চমকপ্রদ তথ্য দিলো বিশেষজ্ঞরা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৮ এএম
প্রেম ভাঙার কষ্ট ভুলতে কতদিন লাগে—যে চমকপ্রদ তথ্য দিলো বিশেষজ্ঞরা?

জীবনের বাস্তবতায় মৃত্যু যেমন অনিবার্য, ঠিক তেমনি সম্পর্কের জগতে বিচ্ছেদও এক নির্মম বাস্তবতা। তবু এই বিচ্ছেদ যখন নিজের জীবনে এসে দাঁড়ায়, তখন পুরো পৃথিবীটাই যেন হঠাৎ থমকে যায়। প্রতিদিনের পরিচিত মানুষটি—যার সঙ্গে সকাল শুরু হতো, যার কণ্ঠে রাত শেষ হতো, হঠাৎ করে একদিন সে আর থাকে না। সেই শূন্যতা শুধু সম্পর্ক ভাঙার নয়, নিজের জীবনের একটা বড় অংশ হারানোরও।

বিচ্ছেদের যন্ত্রণা এমন এক ব্যথা, যা চিৎকার করে নয়; নীরবে, ধীরে ধীরে মনটাকে কুরে কুরে খায়। কেউ সেই কষ্ট ভুলতে ডুবে যান বইয়ের পাতায়, কেউ গানের সুরে খুঁজেন স্বস্তি। কেউ আবার নিজেকে ব্যস্ত রাখেন কাজের ভিড়ে, যেন ভাবার সময় না থাকে। কিন্তু সত্যি বলতে, এসব কিছুই সাময়িক। তাতে যে পুরোপুরি যন্ত্রণামুক্তি হয়, তা বলা যায় না। কিছু কষ্ট থাকে, যা মানুষ আজীবন মনের গভীরে যত্ন করে লালন করে।

তবু আশপাশে তাকালেই দেখা যায়, কেউ তুলনামূলকভাবে সহজেই বিচ্ছেদের যন্ত্রণা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান, আবার কেউ দীর্ঘ সময় ধরে সেই ব্যথা বয়ে বেড়ান। প্রশ্ন একটাই, একজন মানুষকে ভুলে নতুন করে এগিয়ে যেতে আসলে কতটা সময় লাগে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যেক মানুষের জন্যই একটি নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন হয়। তার আগে কোনোভাবেই পুরোপুরি পিছু ছাড়ে না বিচ্ছেদের কষ্ট।

বিচ্ছেদ মানে শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়

চিকিৎসকদের মতে, বিচ্ছেদ মানে কেবল একজন মানুষ জীবন থেকে সরে যাওয়া নয়। ছোট্ট এই শব্দের ভেতর লুকিয়ে থাকে বিশাল এক পরিবর্তন। একটি বিচ্ছেদ পুরো জীবনটাকেই নতুন করে সাজাতে বাধ্য করে—প্রতিদিনের অভ্যাস, রুটিন, এমনকি ভাবনার ধরনও বদলে যায়।

যার সঙ্গে প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতের বিছানায় যাওয়া পর্যন্ত কথা হতো, হঠাৎ করে সে নেই; এই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া ভীষণ কষ্টের। এক লহমায় বদলে যায় চারপাশ। যদিও সময়ের নিয়মে বদলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সেই পরিবর্তনকে মেনে নেওয়া সহজ হয় না কারও পক্ষেই।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, বিচ্ছেদ মানে দৈনন্দিন রুটিন ভেঙে যাওয়া, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা স্বপ্নগুলোর চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়া। আর এই ভাঙন থেকেই জন্ম নেয় গভীর মানসিক যন্ত্রণা।

কেন কারও বেশি, কারও কম সময় লাগে?

বিচ্ছেদের যন্ত্রণা ভুলতে একেক জন একেক রকম সময় নেন। কেউ কয়েক মাসের মধ্যেই নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নিতে পারেন। আবার কেউ বছরের পর বছর প্রাক্তনের স্মৃতির হাতছানি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না।

এক্ষেত্রে বিচ্ছেদের পেছনের কারণটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব, ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা অপূর্ণ স্বপ্ন; এসবই সামনে এগোনোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই যারা বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেন না, তারা নিজেদের চেয়ে সঙ্গীকে বেশি ভালোবেসেছেন।

তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। যে সম্পর্ক কোনো ক্লোজার ছাড়াই শেষ হয়ে যায়—অর্থাৎ যেখানে অনেক কথা, অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত থেকে যায়; সেখান থেকে বেরিয়ে আসা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি কষ্টের।

সময় কি সব ঠিক করে দেয়?

বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে স্বীকার করছেন, সময় নিজের নিয়মেই সবকিছু সহজ করে দেয়। কারও ক্ষেত্রে সেই সময় কম লাগে, কারও ক্ষেত্রে বেশি। কিন্তু একটা সময়ের পর প্রাক্তনের স্মৃতি ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়, জীবন এগিয়ে যায় নিজের গতিতে।

তবু সত্যিটা হলো, মনের এক কোণে প্রাক্তনের অস্তিত্ব থেকে যায় আজীবন। কোনো এক মেঘলা বিকেলে, কোনো মন খারাপের রাতে হঠাৎ করেই তারা উঁকি দেন স্মৃতির জানালায়। সেটাই হয়তো বিচ্ছেদের সবচেয়ে মানবিক দিক; ভুলে যাওয়া নয়, বরং নিয়ে বেঁচে থাকা।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।