খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

প্রেম ভাঙার কষ্ট ভুলতে কতদিন লাগে—যে চমকপ্রদ তথ্য দিলো বিশেষজ্ঞরা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৮ এএম
প্রেম ভাঙার কষ্ট ভুলতে কতদিন লাগে—যে চমকপ্রদ তথ্য দিলো বিশেষজ্ঞরা?

জীবনের বাস্তবতায় মৃত্যু যেমন অনিবার্য, ঠিক তেমনি সম্পর্কের জগতে বিচ্ছেদও এক নির্মম বাস্তবতা। তবু এই বিচ্ছেদ যখন নিজের জীবনে এসে দাঁড়ায়, তখন পুরো পৃথিবীটাই যেন হঠাৎ থমকে যায়। প্রতিদিনের পরিচিত মানুষটি—যার সঙ্গে সকাল শুরু হতো, যার কণ্ঠে রাত শেষ হতো, হঠাৎ করে একদিন সে আর থাকে না। সেই শূন্যতা শুধু সম্পর্ক ভাঙার নয়, নিজের জীবনের একটা বড় অংশ হারানোরও।

বিচ্ছেদের যন্ত্রণা এমন এক ব্যথা, যা চিৎকার করে নয়; নীরবে, ধীরে ধীরে মনটাকে কুরে কুরে খায়। কেউ সেই কষ্ট ভুলতে ডুবে যান বইয়ের পাতায়, কেউ গানের সুরে খুঁজেন স্বস্তি। কেউ আবার নিজেকে ব্যস্ত রাখেন কাজের ভিড়ে, যেন ভাবার সময় না থাকে। কিন্তু সত্যি বলতে, এসব কিছুই সাময়িক। তাতে যে পুরোপুরি যন্ত্রণামুক্তি হয়, তা বলা যায় না। কিছু কষ্ট থাকে, যা মানুষ আজীবন মনের গভীরে যত্ন করে লালন করে।

তবু আশপাশে তাকালেই দেখা যায়, কেউ তুলনামূলকভাবে সহজেই বিচ্ছেদের যন্ত্রণা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান, আবার কেউ দীর্ঘ সময় ধরে সেই ব্যথা বয়ে বেড়ান। প্রশ্ন একটাই, একজন মানুষকে ভুলে নতুন করে এগিয়ে যেতে আসলে কতটা সময় লাগে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যেক মানুষের জন্যই একটি নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন হয়। তার আগে কোনোভাবেই পুরোপুরি পিছু ছাড়ে না বিচ্ছেদের কষ্ট।

বিচ্ছেদ মানে শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়

চিকিৎসকদের মতে, বিচ্ছেদ মানে কেবল একজন মানুষ জীবন থেকে সরে যাওয়া নয়। ছোট্ট এই শব্দের ভেতর লুকিয়ে থাকে বিশাল এক পরিবর্তন। একটি বিচ্ছেদ পুরো জীবনটাকেই নতুন করে সাজাতে বাধ্য করে—প্রতিদিনের অভ্যাস, রুটিন, এমনকি ভাবনার ধরনও বদলে যায়।

যার সঙ্গে প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতের বিছানায় যাওয়া পর্যন্ত কথা হতো, হঠাৎ করে সে নেই; এই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া ভীষণ কষ্টের। এক লহমায় বদলে যায় চারপাশ। যদিও সময়ের নিয়মে বদলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সেই পরিবর্তনকে মেনে নেওয়া সহজ হয় না কারও পক্ষেই।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, বিচ্ছেদ মানে দৈনন্দিন রুটিন ভেঙে যাওয়া, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা স্বপ্নগুলোর চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়া। আর এই ভাঙন থেকেই জন্ম নেয় গভীর মানসিক যন্ত্রণা।

কেন কারও বেশি, কারও কম সময় লাগে?

বিচ্ছেদের যন্ত্রণা ভুলতে একেক জন একেক রকম সময় নেন। কেউ কয়েক মাসের মধ্যেই নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নিতে পারেন। আবার কেউ বছরের পর বছর প্রাক্তনের স্মৃতির হাতছানি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না।

এক্ষেত্রে বিচ্ছেদের পেছনের কারণটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব, ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা অপূর্ণ স্বপ্ন; এসবই সামনে এগোনোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই যারা বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেন না, তারা নিজেদের চেয়ে সঙ্গীকে বেশি ভালোবেসেছেন।

তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। যে সম্পর্ক কোনো ক্লোজার ছাড়াই শেষ হয়ে যায়—অর্থাৎ যেখানে অনেক কথা, অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত থেকে যায়; সেখান থেকে বেরিয়ে আসা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি কষ্টের।

সময় কি সব ঠিক করে দেয়?

বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে স্বীকার করছেন, সময় নিজের নিয়মেই সবকিছু সহজ করে দেয়। কারও ক্ষেত্রে সেই সময় কম লাগে, কারও ক্ষেত্রে বেশি। কিন্তু একটা সময়ের পর প্রাক্তনের স্মৃতি ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়, জীবন এগিয়ে যায় নিজের গতিতে।

তবু সত্যিটা হলো, মনের এক কোণে প্রাক্তনের অস্তিত্ব থেকে যায় আজীবন। কোনো এক মেঘলা বিকেলে, কোনো মন খারাপের রাতে হঠাৎ করেই তারা উঁকি দেন স্মৃতির জানালায়। সেটাই হয়তো বিচ্ছেদের সবচেয়ে মানবিক দিক; ভুলে যাওয়া নয়, বরং নিয়ে বেঁচে থাকা।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর