খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

তরুণ ভোট টানতে কোন বাক্সে নজর, কী কৌশল বিএনপি-জামায়াতের?

সানজানা চৌধুরী
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৭ এএম
তরুণ ভোট টানতে কোন বাক্সে নজর, কী কৌশল বিএনপি-জামায়াতের?

বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের প্রায় এক তৃতীয়াংশই তরুণ। জয়-পরাজয়ে তাদের ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীরও নজর তরুণদের ভোটে। সেই ভোট নিজেদের বাক্সে ফেলতে নানা কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে দলগুলো।

নতুন এই ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহের কমতি নেই, তাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।

দশ বছর আগে ভোটার হয়েছেন তুনাজ্জিনা জাহান। ভোটার হওয়ার পর আওয়মী লীগের শাসনে দুটি একতরফা, বিতর্কিত নির্বাচন দেখেছেন মিজ জাহান; ভোটকেন্দ্রেই যাননি তিনি।

এখন এই তরুণীর বয়স আঠাশ বছর। বয়স অনেকটা এগিয়ে গেলেও এবার নতুন ভোটার হিসেবে ভোট দিতে পারবেন বলে মনে করছেন তিনি।

প্রথম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা পাওয়ার অপেক্ষায় এখন তুনাজ্জিনা জাহান।

তিনি বলছিলেন, যারা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ও দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান নিবে, তাদের বাক্সেই ব্যালট ফেলবেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৬ লাখ। এর মধ্যে জাতীয় যুবনীতি অনুযায়ী ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী তরুণ ভোটার প্রায় চার কোটি ৩২ লাখ। অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এবারের নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বিএনপি ও তাদের পুরোনো জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী।

এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিও রয়েছে ভোটের মাঠে। তারা অবশ্য জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে শরিক হয়েছে।

রাজনীতির নতুন বিন্যাসে তরুণদের ভোট কোনদিকে যাবে, সেটা আগে থেকেই ধারণা করা যাচ্ছে না বলে বলছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে তাদের ধারণা, তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্ত জয়-পরাজয়ের সমীকরণে প্রভাব ফেলবে।

কোন বাক্সে তরুণ ভোট

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, বড় একটি অংশের তরুণ ভোটার গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি।

ফলে অনেক তরুণের কাছেই এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের দৃশ্যমান ভূমিকা।

বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় তরুণ ভোটাররা রাজনৈতিকভাবে সচেতন, সেইসাথে তারা তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। এছাড়া তারা দ্রুত মত বদলাতে সক্ষম এবং সামাজিক প্রভাবের দিক থেকেও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে।

তাই এই তরুণরা কি সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাও আগেভাগে বলা যাচ্ছে না। তাদের মন বোঝা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সহজ হবে না বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

তারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র বা ইতিহাসের ভূমিকা অস্বীকার না করলেও তরুণদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আগামীতে তাদের জীবনে কী পরিবর্তন আসবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ঋদ্ধি দাস জানান, “আমি অতীত দেখলে প্রার্থীর অতীত দেখবো। তারা আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো পূরণ করেছে কিনা। কথার সাথে কাজের মিল আছে কিনা। ভবিষ্যতে তারা আমাদের জন্য কী করবে সেটাকেই আমি প্রাধান্য দিব।”

মূলত, কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি হবে, শিক্ষা কতটা কর্মমুখী হবে, দক্ষতা কিভাবে বাড়বে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কতটা জবাবদিহিমূলক হবে, মতপ্রকাশ কতটা সুরক্ষিত থাকবে, সেইসাথে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, পরিবেশ, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান- এই বিষয়গুলো তরুণদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিগত অবস্থান, সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের রূপরেখার দিকেই তরুণদের নজর থাকবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, “তরুণদের সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে না। এর বাইরে যে তরুণ জনগোষ্ঠী আছে তারাও হাওয়া বদলে দিতে পারে। তাই বলা মুশকিল তরুণরা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে”।

শহর ও গ্রামের তরুণদের চালচিত্র

বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে তরুণদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো।

ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মে তরুণরা দল ও প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, মতামত জানাচ্ছেন এবং সমালোচনা করছেন।

এবারে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আগ্রহী তুনাজ্জিনা জাহান বলেন, “আমরা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একজন প্র্থীর সবটা জানতে পারছি। তার পারসোনাল লাইফে কেমন, তার ওপর বিশ্বাস রাখা যায় কিনা। যে প্র্থী তরুণদের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দেবে, যার ব্যাকগ্রাউন্ড ক্লিন আমি তাকেই ভোট দেবো। সে যে দলেরই হোক।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ ভোটারদের আচরণ ও সিদ্ধান্ত এখনও ভিন্ন বাস্তবতায় পরিচালিত হচ্ছে।

সেখানকার তরুণ তরুণীদের বড় অংশ পরিবারের প্রবীণ সদস্য, স্বামী, সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংগঠনের বেঁধে দেয়া সিদ্ধান্তের পথেই চলেন।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ২০ বছর বয়সী শারমিন আক্তার এবারই প্রথম ভোট দেবেন। কিন্তু কাকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।

তিনি বলেন, “ভোট কিভাবে দিতে হয়, আমি তো জানি না। কাকে ভোট দেয়া লাগবে বলতে পারি না। দেখি আমার বাবা মা কি বলে। দশজন যাকে ভোট দিবে আমি তাকেই দিবো।”

তরুণদের নিয়ে বিএনপির কৌশল

দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনের মাঠে সক্রিয়ভাবে ফিরেছে বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলটি এবার গুরুত্ব দিচ্ছে ইতিবাচক রাজনীতি ও ভবিষ্যতমুখী প্রতিশ্রুতির ওপর।

গত ২৫ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকেই বিএনপির রাজনৈতিক আচরণে একটি ভিন্নতা লক্ষ করা যাচ্ছে। মিছিল-মিটিং করে জনভোগান্তি না বাড়ানো, প্রতিশোধ ও কটূক্তির রাজনীতি থেকে সরে এসে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল রাজনীতি করার কথা বলছে দলটি।

তরুণ ভোটারদের টানতে বিএনপি স্লোগানও ঠিক করেছে, “তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের পক্ষে হোক।” এই লক্ষ্য সামনে রেখে দলের শীর্ষ নেতারাও তরুণদের উদ্দেশে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেনি বিএনপি, তবে দলটি ক্ষমতায় এলে ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য এক বছরের ভাতা চালুর কথা জানিয়েছে।

পাশাপাশি আইটি পার্ক ব্যবহার করে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অফিস স্পেস বরাদ্দ, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা, এবং ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের অর্থ দেশে আনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।

দক্ষ ও যোগ্য তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং আউটসোর্সিংয়ের সুযোগ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে বিএনপি।

তরুণদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে দলটি তাদের ভ্যারিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত থিম সং, ফটো কার্ড, ভিডিও ও রিলস প্রকাশ করছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন কোনোভাবেই অপপ্রচার, গুজব বা ‘অপরাজনীতির’ হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়েই দলের মূল নজর বলে জানিয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার-প্রচারণায় বিএনপি কোনো অপতথ্য, অপপ্রচার বা চরিত্রহননের সঙ্গে থাকবে না। আমরা দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক রাজনীতি করতে চাই। দলের ভালো দিক, নীতি ও পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরাই বিএনপির লক্ষ্য। তরুণদের কাছে আমাদের বার্তা, আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বাস্তবসম্মত সংস্কার চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদের মতে, বিএনপির দীর্ঘদিনের নিপীড়িত হওয়ার ইতিহাসও তরুণ ভোটারদের একটি অংশকে দলটির দিকে আকৃষ্ট করতে পারে।

তরুণদের উদ্দেশে জামায়াতের প্রতিশ্রুতি

সাম্প্রতিক বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরের প্রভাব দৃশ্যমান হয়েছে।

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় রাজনৈতিক চাপে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনকে তাদের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের সুযোগ হিসেবে দেখছে।

ভোটের প্রচারে জুলাইয়ের চেতনাকে প্রাধান্য দেয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করছে।

দলের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত কনটেন্ট আপলোড করে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে জামায়াত।

জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি তাদের পলিসি ডায়ালগে তরুণদের জন্য দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রিক বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

যার মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে প্রশিক্ষণ, ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ গঠন, জেলা পর্যায়ে জব ইয়ুথ ব্যাংক গঠন, উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলা এবং স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করা।

জামায়াতে ইসলাম মূলত কল্যাণমূলক রাজনীতির কথা বলে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

তবে দলটির নারী নীতি এবং তাদের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তরুণদের একটি অংশের মধ্যে ভীতি ও প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এনসিপির বড় ভরসা তরুণদের ভোটে

এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের অংশ নিতে যাচ্ছে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতৃত্ব ও প্রার্থীদের বড় অংশই তরুণ। ফলে তাদের প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তরুণদের প্রত্যাশা।

নির্বাচনের মাঠে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে মাঠপর্যায়ের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি সোশ্যাল মিডিয়াকে অন্যতম প্রচার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে।

ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স এবং টিকটকে ভিডিও কনটেন্ট, গ্রাফিকস ও লাইভ কার্যক্রম চালাচ্ছে দলটি।

র‍্যাপ, ফোক ও আধুনিক সুরের মিশ্রণে থিম সং, শর্ট ভিডিও ও লাইভ কনটেন্ট ও রিলস প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জেন–জি প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন তারা।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেন, “আমরা গণভোটে হ্যা এর পক্ষে আর শাপলা কলি নিয়ে দুটো থিম সং করেছি। এই দুটো গান নিয়ে রিলস কম্পিটিশন করা হবে যেন তরুণদের মুখে মুখে গানটা থাকে। আর ৩০টি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে আলাদা ভিডিও করে সোশ্যার মিডিয়ায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যেন তরুণরা ‌আমাদের বিষয়ে জানতে পারে।”

এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানান, ইশতেহারে কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে, কর্মমূখী শিক্ষা, বেকার ভাতা, নিরাপত্তা এমন নানা বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হবে।

তবে এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা আর শুধু একটি ভোটব্যাংক নয়। তারা রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠেছেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর