খুঁজুন
, ,

তরুণ ভোট টানতে কোন বাক্সে নজর, কী কৌশল বিএনপি-জামায়াতের?

সানজানা চৌধুরী
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ
তরুণ ভোট টানতে কোন বাক্সে নজর, কী কৌশল বিএনপি-জামায়াতের?

বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের প্রায় এক তৃতীয়াংশই তরুণ। জয়-পরাজয়ে তাদের ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীরও নজর তরুণদের ভোটে। সেই ভোট নিজেদের বাক্সে ফেলতে নানা কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে দলগুলো।

নতুন এই ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহের কমতি নেই, তাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।

দশ বছর আগে ভোটার হয়েছেন তুনাজ্জিনা জাহান। ভোটার হওয়ার পর আওয়মী লীগের শাসনে দুটি একতরফা, বিতর্কিত নির্বাচন দেখেছেন মিজ জাহান; ভোটকেন্দ্রেই যাননি তিনি।

এখন এই তরুণীর বয়স আঠাশ বছর। বয়স অনেকটা এগিয়ে গেলেও এবার নতুন ভোটার হিসেবে ভোট দিতে পারবেন বলে মনে করছেন তিনি।

প্রথম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা পাওয়ার অপেক্ষায় এখন তুনাজ্জিনা জাহান।

তিনি বলছিলেন, যারা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ও দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান নিবে, তাদের বাক্সেই ব্যালট ফেলবেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৬ লাখ। এর মধ্যে জাতীয় যুবনীতি অনুযায়ী ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী তরুণ ভোটার প্রায় চার কোটি ৩২ লাখ। অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এবারের নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বিএনপি ও তাদের পুরোনো জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী।

এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিও রয়েছে ভোটের মাঠে। তারা অবশ্য জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে শরিক হয়েছে।

রাজনীতির নতুন বিন্যাসে তরুণদের ভোট কোনদিকে যাবে, সেটা আগে থেকেই ধারণা করা যাচ্ছে না বলে বলছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে তাদের ধারণা, তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্ত জয়-পরাজয়ের সমীকরণে প্রভাব ফেলবে।

কোন বাক্সে তরুণ ভোট

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, বড় একটি অংশের তরুণ ভোটার গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি।

ফলে অনেক তরুণের কাছেই এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের দৃশ্যমান ভূমিকা।

বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় তরুণ ভোটাররা রাজনৈতিকভাবে সচেতন, সেইসাথে তারা তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। এছাড়া তারা দ্রুত মত বদলাতে সক্ষম এবং সামাজিক প্রভাবের দিক থেকেও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে।

তাই এই তরুণরা কি সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাও আগেভাগে বলা যাচ্ছে না। তাদের মন বোঝা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সহজ হবে না বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

তারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র বা ইতিহাসের ভূমিকা অস্বীকার না করলেও তরুণদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আগামীতে তাদের জীবনে কী পরিবর্তন আসবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ঋদ্ধি দাস জানান, “আমি অতীত দেখলে প্রার্থীর অতীত দেখবো। তারা আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো পূরণ করেছে কিনা। কথার সাথে কাজের মিল আছে কিনা। ভবিষ্যতে তারা আমাদের জন্য কী করবে সেটাকেই আমি প্রাধান্য দিব।”

মূলত, কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি হবে, শিক্ষা কতটা কর্মমুখী হবে, দক্ষতা কিভাবে বাড়বে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কতটা জবাবদিহিমূলক হবে, মতপ্রকাশ কতটা সুরক্ষিত থাকবে, সেইসাথে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, পরিবেশ, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান- এই বিষয়গুলো তরুণদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিগত অবস্থান, সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের রূপরেখার দিকেই তরুণদের নজর থাকবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, “তরুণদের সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে না। এর বাইরে যে তরুণ জনগোষ্ঠী আছে তারাও হাওয়া বদলে দিতে পারে। তাই বলা মুশকিল তরুণরা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে”।

শহর ও গ্রামের তরুণদের চালচিত্র

বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে তরুণদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো।

ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মে তরুণরা দল ও প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, মতামত জানাচ্ছেন এবং সমালোচনা করছেন।

এবারে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আগ্রহী তুনাজ্জিনা জাহান বলেন, “আমরা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একজন প্র্থীর সবটা জানতে পারছি। তার পারসোনাল লাইফে কেমন, তার ওপর বিশ্বাস রাখা যায় কিনা। যে প্র্থী তরুণদের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দেবে, যার ব্যাকগ্রাউন্ড ক্লিন আমি তাকেই ভোট দেবো। সে যে দলেরই হোক।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ ভোটারদের আচরণ ও সিদ্ধান্ত এখনও ভিন্ন বাস্তবতায় পরিচালিত হচ্ছে।

সেখানকার তরুণ তরুণীদের বড় অংশ পরিবারের প্রবীণ সদস্য, স্বামী, সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংগঠনের বেঁধে দেয়া সিদ্ধান্তের পথেই চলেন।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ২০ বছর বয়সী শারমিন আক্তার এবারই প্রথম ভোট দেবেন। কিন্তু কাকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।

তিনি বলেন, “ভোট কিভাবে দিতে হয়, আমি তো জানি না। কাকে ভোট দেয়া লাগবে বলতে পারি না। দেখি আমার বাবা মা কি বলে। দশজন যাকে ভোট দিবে আমি তাকেই দিবো।”

তরুণদের নিয়ে বিএনপির কৌশল

দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনের মাঠে সক্রিয়ভাবে ফিরেছে বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলটি এবার গুরুত্ব দিচ্ছে ইতিবাচক রাজনীতি ও ভবিষ্যতমুখী প্রতিশ্রুতির ওপর।

গত ২৫ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকেই বিএনপির রাজনৈতিক আচরণে একটি ভিন্নতা লক্ষ করা যাচ্ছে। মিছিল-মিটিং করে জনভোগান্তি না বাড়ানো, প্রতিশোধ ও কটূক্তির রাজনীতি থেকে সরে এসে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল রাজনীতি করার কথা বলছে দলটি।

তরুণ ভোটারদের টানতে বিএনপি স্লোগানও ঠিক করেছে, “তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের পক্ষে হোক।” এই লক্ষ্য সামনে রেখে দলের শীর্ষ নেতারাও তরুণদের উদ্দেশে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেনি বিএনপি, তবে দলটি ক্ষমতায় এলে ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য এক বছরের ভাতা চালুর কথা জানিয়েছে।

পাশাপাশি আইটি পার্ক ব্যবহার করে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অফিস স্পেস বরাদ্দ, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা, এবং ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের অর্থ দেশে আনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।

দক্ষ ও যোগ্য তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং আউটসোর্সিংয়ের সুযোগ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে বিএনপি।

তরুণদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে দলটি তাদের ভ্যারিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত থিম সং, ফটো কার্ড, ভিডিও ও রিলস প্রকাশ করছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন কোনোভাবেই অপপ্রচার, গুজব বা ‘অপরাজনীতির’ হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়েই দলের মূল নজর বলে জানিয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার-প্রচারণায় বিএনপি কোনো অপতথ্য, অপপ্রচার বা চরিত্রহননের সঙ্গে থাকবে না। আমরা দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক রাজনীতি করতে চাই। দলের ভালো দিক, নীতি ও পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরাই বিএনপির লক্ষ্য। তরুণদের কাছে আমাদের বার্তা, আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বাস্তবসম্মত সংস্কার চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদের মতে, বিএনপির দীর্ঘদিনের নিপীড়িত হওয়ার ইতিহাসও তরুণ ভোটারদের একটি অংশকে দলটির দিকে আকৃষ্ট করতে পারে।

তরুণদের উদ্দেশে জামায়াতের প্রতিশ্রুতি

সাম্প্রতিক বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরের প্রভাব দৃশ্যমান হয়েছে।

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় রাজনৈতিক চাপে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনকে তাদের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের সুযোগ হিসেবে দেখছে।

ভোটের প্রচারে জুলাইয়ের চেতনাকে প্রাধান্য দেয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করছে।

দলের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত কনটেন্ট আপলোড করে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে জামায়াত।

জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি তাদের পলিসি ডায়ালগে তরুণদের জন্য দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রিক বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

যার মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে প্রশিক্ষণ, ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ গঠন, জেলা পর্যায়ে জব ইয়ুথ ব্যাংক গঠন, উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলা এবং স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করা।

জামায়াতে ইসলাম মূলত কল্যাণমূলক রাজনীতির কথা বলে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

তবে দলটির নারী নীতি এবং তাদের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তরুণদের একটি অংশের মধ্যে ভীতি ও প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এনসিপির বড় ভরসা তরুণদের ভোটে

এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের অংশ নিতে যাচ্ছে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতৃত্ব ও প্রার্থীদের বড় অংশই তরুণ। ফলে তাদের প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তরুণদের প্রত্যাশা।

নির্বাচনের মাঠে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে মাঠপর্যায়ের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি সোশ্যাল মিডিয়াকে অন্যতম প্রচার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে।

ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স এবং টিকটকে ভিডিও কনটেন্ট, গ্রাফিকস ও লাইভ কার্যক্রম চালাচ্ছে দলটি।

র‍্যাপ, ফোক ও আধুনিক সুরের মিশ্রণে থিম সং, শর্ট ভিডিও ও লাইভ কনটেন্ট ও রিলস প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জেন–জি প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন তারা।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেন, “আমরা গণভোটে হ্যা এর পক্ষে আর শাপলা কলি নিয়ে দুটো থিম সং করেছি। এই দুটো গান নিয়ে রিলস কম্পিটিশন করা হবে যেন তরুণদের মুখে মুখে গানটা থাকে। আর ৩০টি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে আলাদা ভিডিও করে সোশ্যার মিডিয়ায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যেন তরুণরা ‌আমাদের বিষয়ে জানতে পারে।”

এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানান, ইশতেহারে কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে, কর্মমূখী শিক্ষা, বেকার ভাতা, নিরাপত্তা এমন নানা বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হবে।

তবে এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা আর শুধু একটি ভোটব্যাংক নয়। তারা রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠেছেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ ৪ বছরেও শেষ হয়নি, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ ৪ বছরেও শেষ হয়নি, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে জাইকার অর্থায়নে নির্মিতব্য একটি এইচবিবি (হেরিংবোন বন্ড) সড়কের কাজ সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের সামান্য কিছু অংশ করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল তুলে নিয়েছে প্রায় অর্ধেক টাকা। দীর্ঘসূত্রতায় চরম ভোগান্তিতে পড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

​দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি পায় ‘এম এস মোল্যা কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইউনিয়নের নন্দলালপুর ঘাট থেকে ওয়াহেদ মোল্যার কান্দি (কালা মিয়া শিকদারের দোকান) পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার (৪,৭১২ মিটার) দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

​উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নির্ধারিত মেয়াদের দীর্ঘ সময় পার হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৭০০ মিটার কাজ সম্পন্ন করেছে। অথচ এরই মধ্যে তারা তুলে নিয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। বাকি কাজ ফেলে রাখায় থমকে আছে পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি।

​পদ্মাবেষ্টিত এই ইউনিয়নটি যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত দিক থেকে এমনিতেই পিছিয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয়দের আশা ছিল, সড়কটি নির্মিত হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। কিন্তু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সেই আশা ম্লান হয়ে গেছে।

​বিশ্বনাথপুর আকন গ্রামের বাসিন্দা আমিন শেখ বলেন, ‘সড়কটির কাজ শুরু হওয়ায় আমরা অনেক আশাবাদী হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, আমাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার অবসান হবে। কিন্তু সাড়ে চার বছর পার হলেও কাজ শেষ হয়নি। সামান্য কিছু কাজ করে ফেলে রাখা হয়েছে। বর্ষার সময় আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।’

​দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সড়কটি এই ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাজটি দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত থাকায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

​এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস মোল্যা কনস্ট্রাকশনের মালিক মো. কামরুজ্জামান টিটুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু এহসান মিয়া বলেন, ‘আমার দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল। প্রকল্পের অগ্রগতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দেখে বিস্তারিত বলা যাবে।’

​বর্তমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বেগম জানান, ‘প্রকল্পটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কাজের অগ্রগতি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ এবং বাকি কাজের বিষয়ে নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. শরিফুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

​মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ অক্টোবর নগরকান্দা উপজেলার বাড়ি থেকে কসমেটিকস কেনার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পথে ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করেন আসামি শরিফুল ইসলাম। পরে তাকে আটকে রেখে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, ‘দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট। আমরা আশা করি, এ রায়ের মধ্য দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছাবে। অপরাধ করে কেউ আইনের শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না।’

শীতকালে কলা খেলে কি আসলেই ক্ষতি হয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
শীতকালে কলা খেলে কি আসলেই ক্ষতি হয়?

শীতের আগমন ঘটলেই খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানাবিধ প্রশ্ন ও ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়। এর মধ্যে অন্যতম বহুল প্রচলিত একটি ধারণা হলো, শীতের দিনে বা রাতে কলা খেলে ঠান্ডা লাগা বা সর্দি-কাশির সমস্যা বেড়ে যায়। কিন্তু আধুনিক পুষ্টি বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য কি এই ধারণাকে সমর্থন করে?

দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, শীতকালে খাদ্যতালিকা থেকে কলাকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া একদমই উচিত নয়। যদিও সর্দি-কাশি, সাইনাস বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা প্রয়োজন, তবুও শীতকালীন প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে কলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণার ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত এই ফিচারে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো শীতকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা, সতর্কতা এবং এর পিছনের বিজ্ঞান।১. পুষ্টির উপাদান ও শীতকালীন স্বাস্থ্য রক্ষা শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ায় অনেকেরই হাড়ের নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে এবং তা মজবুত করতে নিয়মিত ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় খনিজ গ্রহণ করা জরুরি।

দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলা হলো পুষ্টির একটি অন্যতম শক্তিশালী উৎস। কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ফোলেট, নিয়াসিন, রিবোফ্লাভিন এবং ভিটামিন বি৬। এই সকল পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে এবং শীতকালে সুস্থ রাখতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে।

২. হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য

নিয়মিত কলা খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কলায় বিদ্যমান আঁশ বা ফাইবার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিডস-এর একটি গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ বাড়ালে তা কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ এবং করোনারি হার্ট ডিজিজ—উভয় ধরণের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া কলায় থাকা পটাশিয়াম হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে এবং মস্তিষ্ককে সতেজ ও সতর্ক রাখতে সাহায্য করে।

৩. হজম প্রক্রিয়া ও দীর্ঘক্ষণ শক্তি বজায় রাখা

কলায় দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয়—দুই ধরনের ফাইবারই প্রচুর পরিমাণে থাকে। দ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয়। এই কারণেই সকালের নাস্তায় কলা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে সারাদিনের শুরুতে প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া যায় এবং বারবার ক্ষুধা না লাগে।

৪. শীতের রাতে কলা খাওয়া: সম্ভাবনা ও বিতর্ক

শীতের রাতে কলা খাওয়া যাবে কি না—তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় থাকে। প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাতে মিষ্টি বা অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগলে তার একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে কলা। এছাড়া সন্ধ্যায় বা জিম করার পর কলা খেলে এতে থাকা পটাশিয়াম পেশির ক্লান্তি দূর করে এবং রাতে দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে।

তবে আয়ুর্বেদিক মতামত অনুযায়ী, রাতে কলা খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো; কারণ এটি হজম হতে বেশি সময় নেয়, কাশির প্রকোপ বাড়াতে পারে এবং শরীরে কিছুটা অলসতা তৈরি করতে পারে।

৫. কারা সতর্ক থাকবেন এবং কখন কলা এড়িয়ে চলবেন?

শীতকালে কলা অত্যন্ত উপকারী হলেও কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা আবশ্যক। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যারা সাধারণ সর্দি-কাশি, সাইনাস বা অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত, তাদের শীতকালে রাতে কলা খাওয়া সীমিত করা বা এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ শ্লেষ্মা বা মিউকাসের সংস্পর্শে এলে এটি কিছুটা ইরিটেশন বা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।