খুঁজুন
, ,

তরুণ ভোট টানতে কোন বাক্সে নজর, কী কৌশল বিএনপি-জামায়াতের?

সানজানা চৌধুরী
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ
তরুণ ভোট টানতে কোন বাক্সে নজর, কী কৌশল বিএনপি-জামায়াতের?

বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের প্রায় এক তৃতীয়াংশই তরুণ। জয়-পরাজয়ে তাদের ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীরও নজর তরুণদের ভোটে। সেই ভোট নিজেদের বাক্সে ফেলতে নানা কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে দলগুলো।

নতুন এই ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহের কমতি নেই, তাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।

দশ বছর আগে ভোটার হয়েছেন তুনাজ্জিনা জাহান। ভোটার হওয়ার পর আওয়মী লীগের শাসনে দুটি একতরফা, বিতর্কিত নির্বাচন দেখেছেন মিজ জাহান; ভোটকেন্দ্রেই যাননি তিনি।

এখন এই তরুণীর বয়স আঠাশ বছর। বয়স অনেকটা এগিয়ে গেলেও এবার নতুন ভোটার হিসেবে ভোট দিতে পারবেন বলে মনে করছেন তিনি।

প্রথম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা পাওয়ার অপেক্ষায় এখন তুনাজ্জিনা জাহান।

তিনি বলছিলেন, যারা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ও দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান নিবে, তাদের বাক্সেই ব্যালট ফেলবেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৬ লাখ। এর মধ্যে জাতীয় যুবনীতি অনুযায়ী ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী তরুণ ভোটার প্রায় চার কোটি ৩২ লাখ। অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এবারের নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বিএনপি ও তাদের পুরোনো জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী।

এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিও রয়েছে ভোটের মাঠে। তারা অবশ্য জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে শরিক হয়েছে।

রাজনীতির নতুন বিন্যাসে তরুণদের ভোট কোনদিকে যাবে, সেটা আগে থেকেই ধারণা করা যাচ্ছে না বলে বলছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে তাদের ধারণা, তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্ত জয়-পরাজয়ের সমীকরণে প্রভাব ফেলবে।

কোন বাক্সে তরুণ ভোট

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, বড় একটি অংশের তরুণ ভোটার গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি।

ফলে অনেক তরুণের কাছেই এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের দৃশ্যমান ভূমিকা।

বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় তরুণ ভোটাররা রাজনৈতিকভাবে সচেতন, সেইসাথে তারা তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। এছাড়া তারা দ্রুত মত বদলাতে সক্ষম এবং সামাজিক প্রভাবের দিক থেকেও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে।

তাই এই তরুণরা কি সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাও আগেভাগে বলা যাচ্ছে না। তাদের মন বোঝা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সহজ হবে না বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

তারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র বা ইতিহাসের ভূমিকা অস্বীকার না করলেও তরুণদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আগামীতে তাদের জীবনে কী পরিবর্তন আসবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ঋদ্ধি দাস জানান, “আমি অতীত দেখলে প্রার্থীর অতীত দেখবো। তারা আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো পূরণ করেছে কিনা। কথার সাথে কাজের মিল আছে কিনা। ভবিষ্যতে তারা আমাদের জন্য কী করবে সেটাকেই আমি প্রাধান্য দিব।”

মূলত, কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি হবে, শিক্ষা কতটা কর্মমুখী হবে, দক্ষতা কিভাবে বাড়বে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কতটা জবাবদিহিমূলক হবে, মতপ্রকাশ কতটা সুরক্ষিত থাকবে, সেইসাথে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, পরিবেশ, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান- এই বিষয়গুলো তরুণদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিগত অবস্থান, সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের রূপরেখার দিকেই তরুণদের নজর থাকবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, “তরুণদের সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে না। এর বাইরে যে তরুণ জনগোষ্ঠী আছে তারাও হাওয়া বদলে দিতে পারে। তাই বলা মুশকিল তরুণরা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে”।

শহর ও গ্রামের তরুণদের চালচিত্র

বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে তরুণদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো।

ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মে তরুণরা দল ও প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, মতামত জানাচ্ছেন এবং সমালোচনা করছেন।

এবারে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আগ্রহী তুনাজ্জিনা জাহান বলেন, “আমরা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একজন প্র্থীর সবটা জানতে পারছি। তার পারসোনাল লাইফে কেমন, তার ওপর বিশ্বাস রাখা যায় কিনা। যে প্র্থী তরুণদের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দেবে, যার ব্যাকগ্রাউন্ড ক্লিন আমি তাকেই ভোট দেবো। সে যে দলেরই হোক।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ ভোটারদের আচরণ ও সিদ্ধান্ত এখনও ভিন্ন বাস্তবতায় পরিচালিত হচ্ছে।

সেখানকার তরুণ তরুণীদের বড় অংশ পরিবারের প্রবীণ সদস্য, স্বামী, সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংগঠনের বেঁধে দেয়া সিদ্ধান্তের পথেই চলেন।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ২০ বছর বয়সী শারমিন আক্তার এবারই প্রথম ভোট দেবেন। কিন্তু কাকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।

তিনি বলেন, “ভোট কিভাবে দিতে হয়, আমি তো জানি না। কাকে ভোট দেয়া লাগবে বলতে পারি না। দেখি আমার বাবা মা কি বলে। দশজন যাকে ভোট দিবে আমি তাকেই দিবো।”

তরুণদের নিয়ে বিএনপির কৌশল

দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনের মাঠে সক্রিয়ভাবে ফিরেছে বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলটি এবার গুরুত্ব দিচ্ছে ইতিবাচক রাজনীতি ও ভবিষ্যতমুখী প্রতিশ্রুতির ওপর।

গত ২৫ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকেই বিএনপির রাজনৈতিক আচরণে একটি ভিন্নতা লক্ষ করা যাচ্ছে। মিছিল-মিটিং করে জনভোগান্তি না বাড়ানো, প্রতিশোধ ও কটূক্তির রাজনীতি থেকে সরে এসে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল রাজনীতি করার কথা বলছে দলটি।

তরুণ ভোটারদের টানতে বিএনপি স্লোগানও ঠিক করেছে, “তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের পক্ষে হোক।” এই লক্ষ্য সামনে রেখে দলের শীর্ষ নেতারাও তরুণদের উদ্দেশে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেনি বিএনপি, তবে দলটি ক্ষমতায় এলে ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য এক বছরের ভাতা চালুর কথা জানিয়েছে।

পাশাপাশি আইটি পার্ক ব্যবহার করে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অফিস স্পেস বরাদ্দ, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা, এবং ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের অর্থ দেশে আনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।

দক্ষ ও যোগ্য তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং আউটসোর্সিংয়ের সুযোগ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে বিএনপি।

তরুণদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে দলটি তাদের ভ্যারিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত থিম সং, ফটো কার্ড, ভিডিও ও রিলস প্রকাশ করছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন কোনোভাবেই অপপ্রচার, গুজব বা ‘অপরাজনীতির’ হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়েই দলের মূল নজর বলে জানিয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার-প্রচারণায় বিএনপি কোনো অপতথ্য, অপপ্রচার বা চরিত্রহননের সঙ্গে থাকবে না। আমরা দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক রাজনীতি করতে চাই। দলের ভালো দিক, নীতি ও পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরাই বিএনপির লক্ষ্য। তরুণদের কাছে আমাদের বার্তা, আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বাস্তবসম্মত সংস্কার চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদের মতে, বিএনপির দীর্ঘদিনের নিপীড়িত হওয়ার ইতিহাসও তরুণ ভোটারদের একটি অংশকে দলটির দিকে আকৃষ্ট করতে পারে।

তরুণদের উদ্দেশে জামায়াতের প্রতিশ্রুতি

সাম্প্রতিক বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরের প্রভাব দৃশ্যমান হয়েছে।

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় রাজনৈতিক চাপে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনকে তাদের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের সুযোগ হিসেবে দেখছে।

ভোটের প্রচারে জুলাইয়ের চেতনাকে প্রাধান্য দেয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করছে।

দলের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত কনটেন্ট আপলোড করে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে জামায়াত।

জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি তাদের পলিসি ডায়ালগে তরুণদের জন্য দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রিক বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

যার মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে প্রশিক্ষণ, ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ গঠন, জেলা পর্যায়ে জব ইয়ুথ ব্যাংক গঠন, উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলা এবং স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করা।

জামায়াতে ইসলাম মূলত কল্যাণমূলক রাজনীতির কথা বলে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

তবে দলটির নারী নীতি এবং তাদের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তরুণদের একটি অংশের মধ্যে ভীতি ও প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এনসিপির বড় ভরসা তরুণদের ভোটে

এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের অংশ নিতে যাচ্ছে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতৃত্ব ও প্রার্থীদের বড় অংশই তরুণ। ফলে তাদের প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তরুণদের প্রত্যাশা।

নির্বাচনের মাঠে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে মাঠপর্যায়ের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি সোশ্যাল মিডিয়াকে অন্যতম প্রচার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে।

ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স এবং টিকটকে ভিডিও কনটেন্ট, গ্রাফিকস ও লাইভ কার্যক্রম চালাচ্ছে দলটি।

র‍্যাপ, ফোক ও আধুনিক সুরের মিশ্রণে থিম সং, শর্ট ভিডিও ও লাইভ কনটেন্ট ও রিলস প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জেন–জি প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন তারা।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেন, “আমরা গণভোটে হ্যা এর পক্ষে আর শাপলা কলি নিয়ে দুটো থিম সং করেছি। এই দুটো গান নিয়ে রিলস কম্পিটিশন করা হবে যেন তরুণদের মুখে মুখে গানটা থাকে। আর ৩০টি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে আলাদা ভিডিও করে সোশ্যার মিডিয়ায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যেন তরুণরা ‌আমাদের বিষয়ে জানতে পারে।”

এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানান, ইশতেহারে কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে, কর্মমূখী শিক্ষা, বেকার ভাতা, নিরাপত্তা এমন নানা বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হবে।

তবে এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা আর শুধু একটি ভোটব্যাংক নয়। তারা রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠেছেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”