খুঁজুন
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে অভিযান: ১৯ জন নারী-পুরুষকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে অভিযান: ১৯ জন নারী-পুরুষকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার কৃষাণ হাটায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা প্রশাসন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৭ জন নারী ও ১২ জন পুরুষ রয়েছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে গোয়ালচামট এলাকার কৃষাণ হাটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটিতে কিছু অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়।

এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ জন নারী ও ১২ জন পুরুষ রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সাজা ঘোষণার পর তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অসামাজিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এলাকার পরিবেশ আরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ হবে।

প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে ৩০ হাজার পিচ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৩০ হাজার পিচ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে ৩০ হাজার পিচ ইয়াবাসহ আশরাফুজ্জামান ওরফে লিটু (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের আতাদি নামক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই মাদক ব্যবসায়ী সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার ভবানীপুর গ্রামের ফজলুল হক গাজীর ছেলে ।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে সাতক্ষীরা লাইন নামে একটি বাসে সাতক্ষীরা যাওয়ার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তাকে তল্লাসি করলে তার সাথে থাকা একটি ব্যাগ থেকে ত্রিশ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ফরিদপুর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের প্রবেশদ্বার ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। মাদক ব্যবসায়ীরা এই রুটকে ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করে আসছিল। গত একমাসে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে বিপুল পরিমান মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়। আজ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আশরাফুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় মাদক আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।

শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে জয়, প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ফরিদপুর জেলা স্কুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে জয়, প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ফরিদপুর জেলা স্কুল

উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬-এর ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জমজমাট ফাইনাল ম্যাচে দারুণ লড়াই শেষে ফরিদপুর জেলা স্কুল ৩ উইকেটে ফরিদপুর হাই স্কুলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

খেলার শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রতিটি রান ও উইকেটের জন্য লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে স্নায়ুচাপ সামলে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে জয় নিশ্চিত করে ফরিদপুর জেলা স্কুল।

ফাইনালে ব্যাট-বলে অনবদ্য নৈপুণ্য দেখিয়ে ফরিদপুর জেলা স্কুলের খেলোয়াড় শান্ত ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ নির্বাচিত হন।

খেলা শেষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন ফরিদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান চুন্নু।

এ সময় ক্রীড়া সংগঠক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিপুল সংখ্যক দর্শক উপস্থিত থেকে ম্যাচটি উপভোগ করেন।

ফরিদপুরে পানি সংকটে চরম দুর্ভোগ, বিপাকে হাজারো পরিবার

আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পানি সংকটে চরম দুর্ভোগ, বিপাকে হাজারো পরিবার

ফরিদপুর পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। টানা কয়েক দিন ধরে শহরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিয়মিত পানি সরবরাহ বন্ধ বা অনিয়মিত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার-হাজার বাসিন্দা। বিশেষ করে শান্তিবাগ, চরকমলাপুর, সিংপাড়া, পশ্চিম খাবাসপুর এবং গোয়ালচামটসহ আশপাশের এলাকাগুলোর মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পৌরসভার সরবরাহ করা পানি ঠিকমতো পাচ্ছেন না তারা। কোথাও একেবারেই পানি আসছে না, আবার কোথাও দিনে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হচ্ছে—যা দিয়ে একটি পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। ফলে রান্নাবান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পানির এই সংকট শুধু বাসাবাড়িতেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও। অনেক মসজিদে পানি না থাকায় মুসল্লিরা ঠিকমতো অজু করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে অনেক মসজিদে মাইকিং করে বাসা থেকে অজু করে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এতে করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে অস্বস্তি ও ক্ষোভ।

চরকমলাপুর এলাকার বাসিন্দা উম্মে হাবিবা মৌ বলেন, “আমাদের এলাকায় পানির সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে। বাসার রিজার্ভ ট্যাংক একেবারেই খালি হয়ে গেছে। প্রতিদিন দূর থেকে পানি এনে কোনোভাবে দিন পার করছি।”

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মামুনার রশিদ মামুন জানান, “প্রায় আট দিন ধরে আমাদের এলাকায় পানি নেই। এই অবস্থায় জনসাধারণ চরম কষ্টে আছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান জরুরি।”

পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবী মেহেরুননেসা স্বপ্না ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাঁচ দিন ধরে পৌরসভার কোনো পানি সরবরাহ নেই। কোথায় অভিযোগ করবো, কীভাবে সমাধান পাবো—কোনো দিকনির্দেশনা নেই। আমরা যেন পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছি।”

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দূরবর্তী টিউবওয়েল, পুকুর কিংবা প্রতিবেশী এলাকার পানির ওপর নির্ভর করছে। এতে করে বাড়ছে সময় ও শ্রমের অপচয়, পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়া, আমাশয়, ত্বকের রোগসহ নানা পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে—যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের কিছু এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ থাকলেও অন্য অনেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংকট চললেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এতে করে বৈষম্যের অভিযোগও উঠছে। তারা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন) সৈয়দ মো. আশরাফ বলেন, “মূলত বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে পানি উত্তোলন ও পরিশোধন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যেসব এলাকায় সংকট বেশি, সেখানে দুটি পানির রিজার্ভ রয়েছে—একটি পরিচর্যা হাসপাতালের পাশে এবং অন্যটি শিশু পার্ক সংলগ্ন। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি উত্তোলন করতে পারছি না।”

তিনি আরও জানান, “এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের তিন ঘণ্টা পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে হয়। এছাড়া বর্তমানে শুষ্ক মৌসুম চলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, ফলে উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।”

সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান হলে পানি সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আমরা আশা করছি। পাশাপাশি বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা, সেটিও আমরা খতিয়ে দেখছি।”

এদিকে সচেতন মহল বলছে, দ্রুত এই সংকট সমাধানে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে পানি সরবরাহের জন্য মোবাইল ট্যাংকার, গভীর নলকূপ স্থাপন কিংবা অস্থায়ী পানির উৎস চালু করার মতো উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

শহরের বাসিন্দারা বলছেন, পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই এ ধরনের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তা জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।