খুঁজুন
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

ফাঁকা বেঞ্চ, স্তব্ধ পাঠদান: সংকটে ঐতিহ্যবাহী সরকারি নগরকান্দা কলেজ

এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
ফাঁকা বেঞ্চ, স্তব্ধ পাঠদান: সংকটে ঐতিহ্যবাহী সরকারি নগরকান্দা কলেজ

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি নগরকান্দা কলেজ এখন গভীর সংকটের মুখে। একসময় যে প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলের শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ছিল, বর্তমানে সেখানে শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রশাসনিক দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে কলেজটি ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি দীর্ঘ পথচলায় বহু মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তুলেছে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে জাতীয়করণের মাধ্যমে এটি সরকারি মর্যাদা লাভ করে। জাতীয়করণের পর শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধায় দৃশ্যমান উন্নতি এলেও শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সেই তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয়করণের পরপরই অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষক ভালো প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন, ফলে কলেজটিতে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়।

এই শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ভেঙে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে কলেজে এক ধরনের জবাবদিহিতাহীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, যা আজও পুরোপুরি কাটেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় ক্লাস সূচি থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি, ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হয়।

বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বিসিএসের মাধ্যমে কয়েকজন নতুন শিক্ষক এই কলেজে যোগদান করেছেন, তবুও শিক্ষার পরিবেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। অনেক শ্রেণিকক্ষে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও শিক্ষার্থী কম থাকায় ক্লাসই নেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত ও মানসম্মত ক্লাস না হওয়ায় তারা ধীরে ধীরে কলেজমুখী হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকেই কোচিং সেন্টার বা অন্য প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ ভালো শিক্ষার আশায় অন্য কলেজে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে কলেজের সামগ্রিক পরিবেশও স্থবির হয়ে পড়ছে।

অভিভাবকদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা মনে করছেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি অগ্রহণযোগ্য। তাদের দাবি, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষার মান উন্নয়ন, নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর প্রশাসনিক তদারকি এখন সময়ের দাবি।

কলেজের এই অব্যবস্থাপনার প্রভাব ইতোমধ্যেই একাডেমিক ফলাফলেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট ৪২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৫৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, আর ২৬৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে পাশের হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশে, যা একটি সরকারি কলেজের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এমন ফলাফল কেবল শিক্ষার্থীদের দায় নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন।

এ বিষয়ে নগরকান্দা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আলী আকবার শরীফ আরমান বলেন, “নগরকান্দার একমাত্র সরকারি কলেজ আজ অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও উদাসীনতার চাপে ধুঁকছে। নেই কোনো কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা, নেই জবাবদিহিতা। শিক্ষক থাকলেও ক্লাস হয় না, শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। শিক্ষা সফরের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় দিবস ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও দেখা যায় চরম অবহেলা। সব মিলিয়ে কলেজটি ধীরে ধীরে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ কলেজ তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলবে এবং শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়বে।

অন্যদিকে কলেজ প্রশাসনও সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে, তবে তারা এর পেছনে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিকেও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখছে। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে না এলে শিক্ষকদের পক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। আমরা ইতোমধ্যে উপস্থিতি বাড়াতে নোটিশ জারি করেছি, যেখানে বলা হয়েছে ন্যূনতম ৭০ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে না এবং নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগও দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করতে শিগগিরই অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনিকভাবে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে। নিয়মিত ক্লাস মনিটরিং, একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ এবং ফলাফল উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সংকট উত্তরণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু প্রশাসন বা শিক্ষক নয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা, শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি চালু করা—এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রয়োজনে বিশেষ অডিট, একাডেমিক পরিদর্শন এবং কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সরকারি নগরকান্দা কলেজ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে একসময়কার গৌরবময় এই প্রতিষ্ঠানটি তার স্বকীয়তা ও অবস্থান হারাতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা, আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এখনও এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব—এমনটাই আশা করছেন স্থানীয়রা।

কসম করে তা রক্ষা করতে না পারলে করণীয় কী?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ
কসম করে তা রক্ষা করতে না পারলে করণীয় কী?

জীবন চলার পথে মানুষ রাগ করে, অভিমান করে। এটা মানবজাতির সহজাত। তবে মাঝে মাঝে আমাদের অভিমানের মাত্রা এত তীব্র হয় যে, আমরা কসম (শপথ) কেটে বলি, ‘আজ থেকে এটা করব না, ওইটা খাব না’। কিন্তু জীবনের বাস্তবতায় আমরা অনেকক্ষেত্রে সেই কসম ধরে রাখতে পারি না। কোনো না কোনোভাবে সেটা ভেঙে যায়। কখনো প্রিয়জনদের আবদারে, আবার কখনো আমরা নিজে থেকেই কসম ভঙ্গ করি। তাই প্রশ্ন জাগে, এভাবে কসম ভাঙার বিধান কী?

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য পাকড়াও করবেন না। কিন্তু তোমরা যে শপথ পরিপক্কভাবে করে থাকো, সেজন্য তিনি তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন। সুতরাং তার কাফফারা হলো, দশজন মিসকিনকে মধ্যম ধরনের খাবার দেবে, যা তোমরা তোমাদের পরিবারবর্গকে খাইয়ে থাকো। অথবা তাদেরকে বস্ত্র দান করবে কিংবা একজন গোলাম আজাদ করবে।

তবে কারও কাছে যদি (এসব জিনিসের মধ্য হতে কিছুই) না থাকে, সে তিন দিন রোজা রাখবে। এটা তোমাদের শপথের কাফফারা যখন তোমরা শপথ করবে (এবং তারপর তা ভেঙ্গে ফেলবে)। তোমরা নিজেদের শপথকে রক্ষা করো। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের সামনে নিজ আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় করো। (সুরা মায়িদা: ৮৯)

উল্লিখিত আয়াতের আলোকে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি কসম রক্ষা করতে না পেরে ভেঙে ফেলার কারণে আপনাকে কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে। আর কসমের কাফফারা হলো, দশজন মিসকিনকে পেট ভরে দুবেলা খাবার খাওয়ানো, অথবা তাদেরকে এক জোড়া করে কাপড় দেওয়া। এ দুটির কোনোটি যদি সম্ভব না হয়, তাহলে টানা তিনদিন রোজা রাখা।

উল্লেখ্য, রাগ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় অনেক সময় এমন বিপদে পড়তে হয় যার থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রকৃত বীর সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (বোখারি: ৫৭৬৩, মুসলিম: ২৬০৯)

সূত্র : কালবেলা

যে ৫ ভুল নীরবে সম্পর্ক ভেঙে দেয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৬:২১ পূর্বাহ্ণ
যে ৫ ভুল নীরবে সম্পর্ক ভেঙে দেয়?

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং আধুনিক ডেটিং সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের সম্পর্কের সংজ্ঞাও বদলে যাচ্ছে। অনেক সময় আমরা এমন কিছু কাজকে ‘স্বাভাবিক’ মনে করি, যা আসলে তিলে তিলে ভালোবাসার সম্পর্ককে বিষিয়ে তোলে।

ভারতীয় সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. বর্তিকা বিশ্বানি এবং ড. সানি গার্গের মতে, অনেক সময় ভালোবাসা ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে সম্পর্ক ভাঙে না; বরং মানসিক ক্লান্তি, অতিরিক্ত উত্তেজনা এবং একে অপরের প্রতি মনোযোগের অভাবে ধৈর্য ও কোমলতা হারিয়ে যায়।

আপনার ভালোবাসার বন্ধন অটুট রাখতে হলে যে ৫টি ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. কথা বলা বা মেসেজ দিতে অনীহা

আজকের ডিজিটাল যুগে দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হলেও অনেকে ঝগড়ার পর বা মান-অভিমানের কারণে আগে যোগাযোগ করতে চান না। এই ইগো বা অহমিকা সম্পর্কের জন্য এক বড় হুমকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্ক মানে ‘আমি বনাম তুমি’ নয়; বরং হওয়া উচিত ‘আমরা দুজনে মিলে সমস্যার বিরুদ্ধে’। তাই প্রথম পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবেন না।

২. তর্কের সময় চিৎকার করা

ঝগড়া হওয়া সম্পর্কের একটি অংশ, কিন্তু তর্কের সময় সঙ্গীর ওপর চিৎকার করা বা কটু কথা বলা কেবল তিক্ততাই বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, সব ঝগড়া তৎক্ষণাৎ সমাধান করার প্রয়োজন নেই। আগে নিজেকে শান্ত করুন, তারপর নম্রভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন।

৩. মেসেজে রাগ প্রকাশ করা

রাগ বা অভিমান প্রকাশ করতে দীর্ঘ টেক্সট পাঠানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। কারণ টেক্সট মেসেজে গলার স্বর বা সঠিক অভিব্যক্তি প্রকাশ পায় না, ফলে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেকোনো গুরুতর সমস্যা বা মতপার্থক্য সরাসরি দেখা করে বা অন্তত ফোনে কথা বলে সমাধান করাই শ্রেয়।

৪. পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটা

বর্তমান কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলার সময় সঙ্গীর অতীত ভুলগুলো টেনে আনা একটি মারাত্মক ভুল। এতে তর্কের পরিধি আরও বাড়ে এবং মূল সমস্যাটি আড়ালে চলে যায়। সুস্থ সম্পর্কের জন্য বর্তমান সমস্যা সমাধানেই মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

৫. মনে মনে ধরে নেওয়া বা অনুমান করা

সঙ্গী আপনার মনের সব কথা না বলতেই বুঝে নেবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়। আপনার কী প্রয়োজন বা আপনি কী অনুভব করছেন, তা স্পষ্টভাবে সঙ্গীকে জানান। একে অপরের সাথে স্বচ্ছতা বজায় না রাখলে এবং নিস্তব্ধতার (silent treatment) মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করলে সম্পর্কের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।

শেষকথা

একটি সুস্থ সম্পর্ক কেবল রসায়নের ওপর গড়ে ওঠে না; এর জন্য প্রয়োজন মানসিক নিরাপত্তা, শান্ত যোগাযোগ এবং যেকোনো সংঘাতের পর পুনরায় মিলে যাওয়ার সদিচ্ছা। ইন্টারনেটে নিখুঁত ভালোবাসার অভিনয় না করে, একে অপরের জন্য সত্যিকারের মানসিক আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠাই হলো দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের চাবিকাঠি।

তথ্যসূত্রহিন্দুস্তান টাইমস

৩০ বছর বয়সের পর ত্বক ও চুল বদলে যায় কেন? আসল কারণ জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
৩০ বছর বয়সের পর ত্বক ও চুল বদলে যায় কেন? আসল কারণ জানুন

তিরিশের কোঠায় পা দেওয়া মানেই কেবল বয়সের সংখ্যা বাড়া নয়, এটি আমাদের শারীরিক উপস্থিতিতেও কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন নিয়ে আসে। বিশেষ করে ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই সময়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। তবে সঠিক জীবনযাত্রা এবং পুষ্টির মাধ্যমে এই পরিবর্তনগুলোকে সামাল দিয়ে সুন্দরভাবে বার্ধক্যকে গ্রহণ করা সম্ভব।

পরিবর্তনের নেপথ্যে আসল কারণ

ভারতীয় পুষ্টিবিদ মালবিকা সেহগালের মতে, ৩০ বছরের পর ত্বক ও চুলের পরিবর্তন কেবল বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ নয়, বরং এর পেছনে ঘুম, মানসিক চাপ, পুষ্টি, আর্দ্রতা এবং হরমোনের স্বাস্থ্যের বড় ভূমিকা থাকে। এই বয়সে শরীরে কোলাজেন উৎপাদন, আর্দ্রতা এবং পুষ্টি শোষণের ক্ষমতায় পরিবর্তন আসায় নিচের সমস্যাগুলো দেখা দেয়:

ত্বক তার স্থিতিস্থাপকতা হারায়।

চুল পাতলা হতে শুরু করে।

শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন বৃদ্ধি পায়।

ত্বকের কোনো ক্ষত বা সমস্যা সারিয়ে তোলার গতি ধীর হয়ে যায়।

ত্বক ও চুলের যত্নে ৫টি জরুরি পদক্ষেপ

উজ্জ্বল ত্বক ও প্রাণবন্ত চুলের জন্য বিশেষজ্ঞরা ৫টি জীবনধারা পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন:

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: আমাদের ত্বক ও চুল মূলত কোলাজেন এবং কেরাটিন নামক প্রোটিন কাঠামো দিয়ে তৈরি। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ত্বকের মেরামত প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। প্রতিদিনের তালিকায় ডিম, গ্রিক দই বা সাধারণ দই, পনির বা টফু এবং বিভিন্ন ধরণের ডাল রাখা জরুরি।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: ওমেগা-৩ শরীরে প্রদাহ কমায়, যা কোলাজেন রক্ষা করতে এবং চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে। এটি স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। তিসি (flaxseeds), চিয়া সিড এবং আখরোট ওমেগা-৩ এর চমৎকার উৎস, যা সকালে বা খাবারের সাথে গ্রহণ করা যেতে পারে।

ভিটামিন সি-এর জাদু: ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বককে টানটান রাখে এবং চুলের গঠন মজবুত করে। নিয়মিত আমলকী, কমলালেবু, পেয়ারা এবং ক্যাপসিকাম খেলে এর উপকার পাওয়া যায়। এটি শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকেও রক্ষা করে।

আয়রন এবং ফলেট: চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য আয়রন এবং ফলেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে আয়রনের অভাব হলে চুল পড়া বেড়ে যায়, শক্তি কমে যায় এবং ত্বক ম্লান দেখায়। পালং শাক, বিটরুট, ডাল এবং কুমড়ার বীজ আয়রনের ভালো উৎস। তবে ভালো ফলাফল পেতে আয়রন সমৃদ্ধ খাবারগুলো ভিটামিন সি যুক্ত খাবারের সাথে খাওয়া উচিত।

পর্যাপ্ত ঘুম বা ‘বিউটি রিসেট’: ঘুমকে বলা হয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুনরুদ্ধারের সময়। গভীর ঘুম ত্বক ও চুলের কোষ মেরামত করতে সাহায্য করে। ঘুমের অভাব হলে ব্রণের সমস্যা, চোখের নিচে ফোলাভাব এবং চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করা, শোয়ার আগে স্ক্রিন টাইম কমানো এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা প্রয়োজন।

বয়স বাড়লেও প্রতিদিনের ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে আপনি ধরে রাখতে পারেন আপনার ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস