খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে কৃষকের ফসলের ক্ষেত বিনষ্ট করে দেয়ার অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কৃষকের ফসলের ক্ষেত বিনষ্ট করে দেয়ার অভিযোগ
ফরিদপুরের মধুখালীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে মোহন শেখ (৫০) নামে এক কৃষকের ২৮ শতাংশ জমিতে বপন করা গম ও সরিষা ফসল নষ্ট করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে প্রতিপক্ষের দাবি, নিজেদের জমি থেকে ফসল কেটে নিয়েছেন।
রোববার সকালে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বিদ্যুৎ সাব স্টেশন সংলগ্ন আমুরদী মৌজায় ৭২৬ নং দাগের ওই জমিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে জমিতে ছুটে গিয়ে দিশেহারা হয়ে থানা পুলিশকেও অবগত করেন। কৃষক মোহন শেখ ওই ইউনিয়নের পাইককান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তার অভিযোগ, পাশ্ববর্তী তেলিকান্দি গ্রামের প্রভাবশালী গ্রাম্য মাতুব্বর মো. ফরিদ মোল্যার (৪০) নেতৃত্বে ফসল নষ্ট করে দেয়া হয়েছে।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ওই জমিতে সরিষা ও গমের চাষ করা হয়েছে। ফলন আসলেও এখনও ঘরে তোলার উপযুক্ত হয়ে উঠেনি। বপনকৃত ফসল কাঁচা রয়েছে। এ অবস্থায় এবড়ো থেবড়ো ভাবে ফসলের মাথা কেটে নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় অনেকে সেখানে ভিড় করেন। এমন ঘটনা দেখে বিস্মিত স্থানীয়রাও।
স্থানীয় আব্দুর রহমান মোল্যা বলেন, গত ৪০ থেকে ৫০ বছর যাবৎ এই জমি মোহন শেখ চাষাবাদ করছে। প্রতিবছরের মতো এবাবরও সে চাষ করছে। রোববার সকালে শুনি কাঁচা ফসল কেটে নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। যারা কেটে নিছে তারা অনেক শক্তিশালী। ওদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে চায় না। এর আগে গত বছরও কেটে নিয়েছে। এভাবে অন্যের জমি থেকে জোড়জবর করে কেটে নেয়া সমাজ ও আইনের কাছেও খারাপ কাজ। কিন্তু কোনো বিচার হয় না বা কোনো সমাধানও হয় না।
কৃষক মোহন শেখ জানান, পৈত্রিক সম্পত্তিমূলে পাশাপাশি তিনটি দাগের ১২২ শতাংশ জমির মালিক তারা তিন ভাই। এই জমি নিয়ে গত ৪০ বছরের বেশি সময় মামলা মোকাদ্দমা চলে আসতেছে। বর্তমানে তাদের নামে রেকর্ডও হয়েছে। তবে সম্প্রতিকালে বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন ওই জমির জাল কাগজপত্র করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া জমি শুরু থেকেই আমরা চাষ করে আসতেছি। আজ সকালে ফরিদ মোল্যা তার লোকজন নিয়ে ওই জমির কাঁচা কম ও সরিষার গাছ ভাবে কেটে নিয়ে যায়। অন্যান্য ফসল বিনষ্ট করে রেখে যায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
অপরদিকে ওই জমি নিজের দাবি করে জমি থেকে নিজেই বপন করা ফসল কেটে এনেছেন বলে জানান ফসল কর্তনকারী ফরিদ মোল্যা। তিনি দাবি করেন, এসএ রেকর্ডমূলে তার পিতা মজিদ মোল্যা স্থানীয় মোবারক মোল্যা নামে এক ব্যক্তির নিকট থেকে ওই জমি ক্রয় করেন। পিতার ক্রয় সূত্রে ওই জমির মালিক হয়েছেন।
তবে কাঁচা ফসল নষ্ট করার প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিপক্ষ লোকজন ফসল কেটে নিয়ে যেতে পারে এমন শঙ্কায় তিনি ফসল কেটে নিয়েছেন। এছাড়া একই জমির পৃথক দুটি বিএস রেকর্ড হয়েছে এবং পরবর্তীতে রেকর্ড সংশোধনী মামলায় তাঁদের পক্ষে রায় এসেছেও বলে জানান।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. ইমরুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। এছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত কাজ আদালতের বিষয়, আমাদের কোনো বিষয় না। তারপরও অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।

ফরিদপুরের পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে শুভ্রতার চাদর, শরতের কাশবনে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে শুভ্রতার চাদর, শরতের কাশবনে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল

​“শরৎ রানী যেন কাশের বোরখাখানি খুলে, কাশবনের ওই আড়াল থেকে নাচছে দুলে দুলে”—কবি নির্মলেন্দু গুণের পঙ্‌ক্তির মতোই শরতের স্নিগ্ধ শুভ্রতায় রূপসী রূপ ধারণ করেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল। চারদিকে এখন হাজার হাজার কাশফুলের শুভ্র সমারোহ।

পদ্মার মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের সারি যেন দিগন্তজোড়া এক সাদা সমুদ্রের ঢেউ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পলিমাটির বিশাল বুকে প্রকৃতি আপন হাতে বিছিয়ে দিয়েছে ধবধবে শুভ্র চাদর। মাথার ওপর নীল আকাশ, তুলোর মতো ভেসে যাওয়া সাদা মেঘ আর নিচে থোকা থোকা কাশফুলের এই মিতালি পদ্মার চরে সৃষ্টি করেছে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের ক্যানভাস।

​ঋতুচক্রের আবর্তনে শরৎ এলেই বদলে যায় রূপসী বাংলার প্রকৃতি। নীল আকাশের ক্যানভাসে শুভ্র মেঘের ভেলা আর মেঠোপথের ধারে ধানের পাতার ওপর শিশিরের আলতো ছোঁয়া জানান দেয় প্রকৃতির পরিবর্তনের সুর। তবে শরতের সেই চিরচেনা রূপ এবার যেন পূর্ণতা পেয়েছে সদরপুরের আকোটেরচর ইউনিয়নের পদ্মার বুকে জেগে ওঠা বিশাল চরে।

​সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সদরপুর উপজেলার ২ নং আকোটেরচর ইউনিয়নের আকোট বাজারসংলগ্ন পদ্মার বিশাল চরাঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে সুবিশাল এক কাশবন। যতদূর চোখ যায়—শুধু সাদা কাশের দোলাচলা। বাতাসের আলতো স্পর্শে যখন হাজার হাজার কাশফুল একসাথে দুলতে থাকে, তখন পুরো প্রান্তরজুড়ে যেন সৃষ্টি হয় ক্ষণে ক্ষণে রুপালি ঢেউ। কাশবনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে স্বাভাবিক নিয়মেই। কোথাও কাশফুল কোমরসমান উঁচু, আবার কোথাও তা মানুষকেও ছাড়িয়ে গেছে। মাথার ওপর নীল আকাশের সঙ্গে কচি কাশের এই অপূর্ব মেলবন্ধন যেকোনো পথিকের মনকে এক নিমেষে ব্যাকুল করে তোলে।

​স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় সদরপুরের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে ফুটে উঠত এমন অজস্র কাশফুল। নদীর পার, ফসলের আইল, খালের ধার কিংবা পড়ে থাকা পতিত জমিতে শরতের হাওয়ায় মেতে উঠত শুভ্র কাশবন। তবে সময়ের বিবর্তনে বাড়ন্ত জনসংখ্যা, নগরায়ণ, ফসলের নিবিড় চাষাবাদ আর বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকা থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে বসেছে এই রূপসী কাশবন। ফলে ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়া এই সময়ে আকোট বাজারের পদ্মার চরে প্রাকৃতিক উপায়ে গড়ে ওঠা বিশাল এই কাশবন এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয়দের কাছে এক পরম বিস্ময় ও আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

​প্রকৃতির এই রূপময় আয়োজনের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনমুখে ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শুভ্রতার এই মেলায়। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে একটুখানি শান্তির খোঁজে কেউ আসছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউবা সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে। তরুণ-তরুণীদের আড্ডা, শুভ্র কাশের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, টিকটক ও রিলস ভিডিও তৈরির হাসিমুখের ভিড়ে মূখরিত পুরো চর। রূপসী কাশের স্পর্শ নিয়ে অনেকেই স্মৃতির অ্যালবামে ধরে রাখছেন শরতের এই স্নিগ্ধতা।

​বিশেষ করে, গোধূলিলগ্নে পদ্মার চরের কাশবন ধারণ করে এক মায়াবী রূপ। পশ্চিমাকাশে দিনমণি যখন হেলে পড়ে, গোধূলির নরম আলো যখন আছড়ে পড়ে কাশফুলের গায়ে, তখন যেন সোনালি আর শুভ্রতার এক অন্যরকম আভা ছড়িয়ে পড়ে পুরো প্রান্তরে। একদিকে পদ্মার শান্ত জলরাশির হাওয়ায় কাশের নুয়ে পড়া, অন্যদিকে সূর্যাস্তের রক্তিম আলো—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তিময় পরিবেশ গড়ে ওঠে এখানে।

​ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী আবেগপ্লুত হয়ে জানান, ইট-কাঠের যান্ত্রিক ব্যস্ততা থেকে কিছু সময়ের জন্য মুক্তি পেতে তিনি পরিবার নিয়ে পদ্মার চরে এসেছেন। তাঁর মতে, শহরের ইট-পাথরের দেয়াল ঘেরা জীবনে আমাদের শিশুরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের মানসিক প্রশান্তি ও প্রকৃতির শুভ্রতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এমন মনোরম চরাঞ্চলের জুড়ি নেই।

​আরেক দর্শনার্থী বলেন, আধুনিকতার আগ্রাসনে আর নদীভাঙনে চরাঞ্চল ও নদীপাড়ের প্রকৃতি আগের মতো নেই। একসময় যেখানে মাইলের পর মাইল শুভ্রতা ছড়িয়ে থাকত, এখন সেখানে হঠাৎ দু-একটি কচি কাশের গোছা চোখে পড়ে। সদরপুরের পদ্মার চরের এই কাশবনটি কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্র বা সৌন্দর্যের জায়গা নয়, এটি আমাদের দেশীয় প্রকৃতির এক অমূল্য ঐতিহ্য। একে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব।

​স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করেন, পদ্মার চরের এই কাশবনটিকে কোনোভাবেই বিনষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। মানুষ যেন সচেতনভাবে কাশফুল না ছিঁড়ে কিংবা গাছ না ভেঙে এর স্বাভাবিক বিকাশ বজায় রাখতে সহায়তা করে, সে বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন। নদীর চরের এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষা করা গেলে প্রতি বছরই শরৎ মৌসুমে এটি সদরপুরের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক আকর্ষণ ও ভ্রমণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে।

​শরতের শুভ্রতা নিয়ে জেগে থাকা পদ্মার এই বিস্তৃত কাশবন কেবল একটি প্রজন্মের বিনোদনের কেন্দ্র না হয়ে উঠুক, নদীপাড়ের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষা করে এটি বেঁচে থাকুক যুগের পর যুগ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও যেন এভাবেই শরতের নীল আকাশের নিচে পদ্মার চরে এসে দিগন্তজোড়া কাশফুলের নাচন ও প্রশান্তি উপভোগ করতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা চর দেখতে আসা সকল প্রকৃতিপ্রেমীর।

ফরিদপুরে চুরির বেঞ্চ বিক্রি করতে গিয়ে ধরা, যুবকের চুল-গোঁফ কেটে দিল জনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চুরির বেঞ্চ বিক্রি করতে গিয়ে ধরা, যুবকের চুল-গোঁফ কেটে দিল জনতা

ফরিদপুর সদর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চুরি হওয়া বেঞ্চের লোহার ফ্রেম ও সাইনবোর্ড বিক্রি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন সাব্বির খান (২৫) নামের এক যুবক। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে আটকে রেখে তাঁর মাথার চুল ও গোঁফ কেটে দিয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সাব্বির ওই এলাকার আবুল খানের ছেলে এবং বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

​স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার স্কুল বন্ধ হওয়ার পর সুযোগ বুঝে বিদ্যালয়ের চারটি বেঞ্চের লোহার ফ্রেম, স্টিলের সাইনবোর্ড ও লোহার গ্রিল চুরি করে সাব্বির। বৃহস্পতিবার সকালে এসব মালামাল কানাইপুর বাজারের একটি ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করতে যান তিনি। সেখানে বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের খবর দেন।

​পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকরা এসে মালামালসহ সাব্বিরকে হাতেনাতে আটক করেন। সেখান থেকে একটি নছিমন গাড়িতে করে তাঁকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাব্বিরকে বসিয়ে ব্লেড দিয়ে তাঁর চুল ও গোঁফ কেটে দেয়। এ সংক্রান্ত কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

​খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আটক ঘর থেকে কৌশলে পালিয়ে যান ওই যুবক।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বাসন্তী দত্ত বলেন, “বন্ধের সুযোগে মালামালগুলো চুরি হয়েছিল। আমরা সকালে চুরির বিষয়টি জানতে পারি। পরে স্থানীয়রা চোরকে আটক করলে তাঁকে এনে একটি কক্ষে আটকে রেখে ৯৯৯-এ পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ আসার আগেই তিনি পালিয়ে যান। তবে এর মাঝে এলাকার কিছু লোক তাঁর চুল ও গোঁফ কেটে দেয়। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”

​ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে যায়। লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে অবৈধ ওষুধ কারখানায় সাজা, এনসিপি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার বায়েজিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অবৈধ ওষুধ কারখানায় সাজা, এনসিপি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার বায়েজিদ

অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সিদ্ধান্তে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলটির সকল পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

​জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় অবস্থিত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’ নামের কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। অভিযানে অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ উপায়ে শিশুদের বেবি জেল এবং প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন উত্তেজক আয়ুর্বেদিক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

​অভিযান পরিচালনা করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ইনসানা তানজীন ইকো। ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/১ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডাদেশ ঘোষণার পরপরই তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি।

​এদিকে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পরপরই কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে এনসিপি। কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে দলটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে (স্মারক: এনসিপি/কেন্দ্র/শোকজ/২০২৫-২০২৬/৬৩) বায়েজিদ হোসেনকে স্থায়ী বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বায়েজিদ হোসেনকে অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।

​এর আগে ফরিদপুর জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সাইফ হাসান খাঁন জানিয়েছিলেন, অন্যায়ের সঙ্গে দলের কোনো আপস নেই এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বার্তা কেন্দ্রে জানানো হয়েছে।

​দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করছেন।