খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে পানি সংকটে চরম দুর্ভোগ, বিপাকে হাজারো পরিবার

আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পানি সংকটে চরম দুর্ভোগ, বিপাকে হাজারো পরিবার

ফরিদপুর পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। টানা কয়েক দিন ধরে শহরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিয়মিত পানি সরবরাহ বন্ধ বা অনিয়মিত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার-হাজার বাসিন্দা। বিশেষ করে শান্তিবাগ, চরকমলাপুর, সিংপাড়া, পশ্চিম খাবাসপুর এবং গোয়ালচামটসহ আশপাশের এলাকাগুলোর মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পৌরসভার সরবরাহ করা পানি ঠিকমতো পাচ্ছেন না তারা। কোথাও একেবারেই পানি আসছে না, আবার কোথাও দিনে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হচ্ছে—যা দিয়ে একটি পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। ফলে রান্নাবান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পানির এই সংকট শুধু বাসাবাড়িতেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও। অনেক মসজিদে পানি না থাকায় মুসল্লিরা ঠিকমতো অজু করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে অনেক মসজিদে মাইকিং করে বাসা থেকে অজু করে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এতে করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে অস্বস্তি ও ক্ষোভ।

চরকমলাপুর এলাকার বাসিন্দা উম্মে হাবিবা মৌ বলেন, “আমাদের এলাকায় পানির সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে। বাসার রিজার্ভ ট্যাংক একেবারেই খালি হয়ে গেছে। প্রতিদিন দূর থেকে পানি এনে কোনোভাবে দিন পার করছি।”

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মামুনার রশিদ মামুন জানান, “প্রায় আট দিন ধরে আমাদের এলাকায় পানি নেই। এই অবস্থায় জনসাধারণ চরম কষ্টে আছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান জরুরি।”

পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবী মেহেরুননেসা স্বপ্না ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাঁচ দিন ধরে পৌরসভার কোনো পানি সরবরাহ নেই। কোথায় অভিযোগ করবো, কীভাবে সমাধান পাবো—কোনো দিকনির্দেশনা নেই। আমরা যেন পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছি।”

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দূরবর্তী টিউবওয়েল, পুকুর কিংবা প্রতিবেশী এলাকার পানির ওপর নির্ভর করছে। এতে করে বাড়ছে সময় ও শ্রমের অপচয়, পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়া, আমাশয়, ত্বকের রোগসহ নানা পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে—যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের কিছু এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ থাকলেও অন্য অনেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংকট চললেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এতে করে বৈষম্যের অভিযোগও উঠছে। তারা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন) সৈয়দ মো. আশরাফ বলেন, “মূলত বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে পানি উত্তোলন ও পরিশোধন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যেসব এলাকায় সংকট বেশি, সেখানে দুটি পানির রিজার্ভ রয়েছে—একটি পরিচর্যা হাসপাতালের পাশে এবং অন্যটি শিশু পার্ক সংলগ্ন। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি উত্তোলন করতে পারছি না।”

তিনি আরও জানান, “এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের তিন ঘণ্টা পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে হয়। এছাড়া বর্তমানে শুষ্ক মৌসুম চলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, ফলে উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।”

সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান হলে পানি সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আমরা আশা করছি। পাশাপাশি বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা, সেটিও আমরা খতিয়ে দেখছি।”

এদিকে সচেতন মহল বলছে, দ্রুত এই সংকট সমাধানে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে পানি সরবরাহের জন্য মোবাইল ট্যাংকার, গভীর নলকূপ স্থাপন কিংবা অস্থায়ী পানির উৎস চালু করার মতো উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

শহরের বাসিন্দারা বলছেন, পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই এ ধরনের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তা জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

সালথায় রক্তপাতের পথ ছেড়ে শান্তির পথে, অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুল দিল প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
সালথায় রক্তপাতের পথ ছেড়ে শান্তির পথে, অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুল দিল প্রশাসন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও সহিংসতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশীয় অস্ত্র জমা দেন। পরে অস্ত্র হস্তান্তরকারীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানিয়ে মানবিক ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রশাসন।

অনুষ্ঠানে অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের ইতিবাচক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। উপস্থিত বক্তারা বলেন, ভয়ভীতি বা শাস্তির পরিবর্তে সম্মান ও সামাজিক স্বীকৃতির মাধ্যমে মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা সম্ভব। এই উদ্যোগ সেই বিশ্বাসেরই বাস্তব প্রতিফলন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ, পুলিশ পরিদর্শক ইন্দ্রজিৎ মল্লিক এবং সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম।

এছাড়া মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফসার মাতুব্বর, সাবেক চেয়ারম্যান শাহিদুজ্জামান শাহিদ, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আ. রাজ্জাক মোল্লা, মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবি, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মাতুব্বর, যুবদল নেতা ইমরান হোসেন, সজিব মাতুব্বরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন, “শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনগণের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন, তারা সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”

বক্তারা আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার সমাজে সহিংসতা, অপরাধ ও অস্থিরতা বাড়ায়। তাই অস্ত্রমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দেওয়ার এই উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক স্বীকৃতি মানুষের আচরণ পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অস্ত্র জমাদানকারীদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে প্রশাসন একটি ইতিবাচক, মানবিক ও দূরদর্শী বার্তা দিয়েছে, যা এলাকায় শান্তির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে উপস্থিত সবাই ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসম্পৃক্ত ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। মাঝারদিয়া ইউনিয়নের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আলফাডাঙ্গায় টিটা বাঁওড়ে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত, বাড়বে দেশীয় মাছের উৎপাদন

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় টিটা বাঁওড়ে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত, বাড়বে দেশীয় মাছের উৎপাদন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টিটা বাঁওড়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এবং ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর অর্থায়নে পাবদা, গুলশা, টেংরা ও শিং জাতের মাছের পোনা টিটা বাঁওড়ে অবমুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক ময়েদুজ্জামান।

এসময় বক্তারা বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ বাংলাদেশের জলজ জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নানা কারণে এসব মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। টিটা বাঁওড়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণের ফলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জেলেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া আসাদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস, জামায়াতে ইসলামী আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এস. এম. হাফিজুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা এস. এম. রিদওয়ানুন্নবী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম দাউদ, উপজেলা মৎস্য অফিসের সহকারী রিফাত মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু জানান, দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষা ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জলাশয়ের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরে পদ্মায় স্পিডবোট থামিয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতি, যাত্রীকে কুপিয়ে ইঞ্জিন লুট

মো. মোস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পদ্মায় স্পিডবোট থামিয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতি, যাত্রীকে কুপিয়ে ইঞ্জিন লুট

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী একটি স্পিডবোটে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতরা এক যাত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তার কাছে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন এবং স্পিডবোটের ইঞ্জিন লুট করে নিয়ে যায়। নদীপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এ ঘটনা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বালুরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর খবর পেয়ে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নদীর মাঝের একটি চরসংলগ্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিনবিহীন স্পিডবোট ও এর চালককে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া চালক সঞ্জিব (২২) সদর ইউনিয়নের খালাশিডাঙ্গী গ্রামের অভিমান্যুর ছেলে।

স্পিডবোট চালক সঞ্জিব জানান, সন্ধ্যার আগে তিনি গোপালপুর ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে যান। পরে একজন যাত্রী নিয়ে ফের গোপালপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর পদ্মার বালুরটেক এলাকায় মাওয়ার দিক থেকে আসা ১০ থেকে ১৫ জন লোক বহনকারী একটি বড় স্পিডবোট তাদের ধাওয়া করে।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তিনি দ্রুত একটি চরে স্পিডবোট ভিড়িয়ে যাত্রীকে রেখে নিজের প্রাণ রক্ষার্থে চরের ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে ডাকাতরা স্পিডবোটটি দখলে নিয়ে যাত্রীর ওপর হামলা চালায়।

আহত যাত্রী মো. লিটন (৩৫) জানান, বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকায় প্রয়োজনীয় কাজ শেষে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় গোপালপুর ঘাট থেকে একটি ফিরতি স্পিডবোটে ওঠেন। কিছুদূর যাওয়ার পর একটি স্পিডবোট তাদের ধাওয়া করে। চালক নেমে যাওয়ার পর ডাকাতরা তাকে ঘিরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

তিনি আরও জানান, ডাকাতরা তার কাছে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং স্পিডবোটের প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যায়। হামলায় তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপর গুরুতর জখম হয়। পরে ডাকাতদের অনুরোধ করলে তারা তাকে একটি জেলে নৌকায় তুলে দেয়। সেখান থেকে তিনি মৈনট ঘাটে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং দোহার নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

তবে এ ঘটনায় তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “সন্ধ্যার পর পদ্মা নদীতে ডাকাতির খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে নদীর মাঝের একটি চরসংলগ্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিনবিহীন স্পিডবোট ও চালককে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নৌ পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”

ফরিদপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাসিম আহাম্মেদ জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।