খুঁজুন
, ,

“সাংবাদিকতা”

শ্রাবণ হাসান
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
“সাংবাদিকতা”

যখন যার বিরুদ্ধে অভিযোগ পান, সেই এভিডেন্সগুলোর ১০০% সত্যতা নিশ্চিত করে সংগ্রহে রাখুন। দেন, এভিডেন্স অনুযায়ী নিউজটি সাজিয়ে রাখুন। সর্বশেষ, অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করুন। সে কথা না বললে, লিখে দেন- বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। অথবা যা বলবে তাই লিখে সংবাদ প্রকাশ করুন। এটাই সাংবাদিকতার এথিকস।

এবার আসি- যদি সে কথা না বলতে চায়, তাহলে বার বার তাঁর কাছে জানাও জরুরি না। কিন্তু, সংবাদ প্রকাশের আগেই যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে দেন- রহিমের বিরুদ্ধে পুকুর চুরির অভিযোগ৷ বিস্তারিত আসছে..- তখন বিষয়টি দৃষ্টিতে চলে যায়।

হ্যাঁ, সাংবাদিকদের কাজ অনিয়মের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বা টেলিভিশনে তুলে ধরা। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফোর্স করা মানেই ধান্দাবাজি৷

এটাও আমরা জানি- বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, ভূমি অফিস- মানুষ হয়রানির কারখানা। অধিকাংশই টাকা ছাড়া কাজ হয় না৷ আর সেক্ষেত্রে কর্মকর্তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকেন। তাঁরা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ব্যবহার করে থাকেন।

মূল কথায় আসা যাক, ইদানীং যে কেউ সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকেন- এটা অশনিসংকেত। গলায় একটি কার্ড, হাতে বুম আর স্টিক, সাথে মোবাইল নিয়েই সাংবাদিক হয়ে যাচ্ছে। এরপর কোনো এথিকস না জেনেই হুটহাট কোথাও চলে যান। এরপর যা হওয়ার তা হয়ে যায়৷

হ্যাঁ- আপনি সাংবাদিকতায় আসুন- সাধুবাদ জানাই। তবে কোনো বাটপারের হাত ধরে নয়৷ ধরলাম, আপনার সাংবাদিকতা নিয়ে জ্ঞান নেই বা বিন্দুমাত্র ধারণা নেই- সেক্ষেত্রে অন্তত এক বছর একজন সিনিয়রের সঙ্গে কাজ করুন, সবকিছু বুঝে নেন বা সাংবাদিকতার জ্ঞান অর্জন করুন৷ এরপর না হয়- ফিল্ডে সাংবাদিকতা শুরু করুন৷

আমার কথাই বলি- আমি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। এরমধ্যে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিনিয়রদের কাছে থেকেছি, তাঁদের সাথে চলেছি, তাঁদের নিউজের প্যাটার্ন দেখেছি। কিছু না বুঝলেও তাঁদের সহযোগিতা চেয়েছি। এই সময়ে স্থানীয় দৈনিক বাঙ্গালী খবর পত্রিকায় অফিসে বা ডেস্কে কাজ করেছি।

এরপর ২০১৮ সাল থেকে মোটামুটি ফিল্ডে প্রবেশ করি, তবে খুব কম। এই সময়ে দৈনিক বাঙ্গালী সময় পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করি৷ ২০১৯ এবং ২০২০ সাল থেকে পত্রিকাটিতে পুরোদস্তুর লেখালেখি করি। অনেক অনিয়মের নিউজও তুলে ধরেছি।

এরপর ২০২২ সাল থেকে শ্রদ্ধেয় একজন সিনিয়র সাংবাদিকের সহযোগিতায় প্রথম সারির দৈনিক “আজকের পত্রিকায়” কাজ করার সুযোগ হয়৷ শুরুতে তাঁরা আমার সাংবাদিকতায় মেধা যাচাইয়ে অনুসন্ধানীসহ ভিন্ন ভিন্ন আইটেমের সংবাদ করার অ্যাসাইনমেন্ট দেন (জেলায় ফিল্ড পর্যায়ে সকল সংবাদ করার জ্ঞান থাকতে হয়)। ইনশাআল্লাহ, সকলের দোয়া ও সহযোগিতায় ৬ মাসে সেই মেধা প্রমাণে সক্ষম হই।

সবশেষে তাঁরা অফিসিয়ালি ডেকে আরও মৌখিক পরীক্ষা নেন। এরপর আমাকে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র তুলে দেন। এরমধ্যে ২০২৪ সালে ডিসি অফিসের এলএ শাখার এক ট্রেসারের বিরুদ্ধে তিন মাসের অনুসন্ধানে- “অধিগ্রহণ কৌসল ট্রেসারের আছে আবাসন ব্যবসাও, ডিসি অফিসের চাকরিতেই আলাদিনের চেরাগ হাতে হাসেমের”- শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করি। এটি নিয়ে আমাকে অপবাদ দেয়ার চেষ্টা কম হয়নি কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ হয়েছে৷ কারন, এ টু জেড ডকুমেন্ট নিয়েই সংবাদটি প্রকাশ করেছিলাম। এই অনুসন্ধানকালীন বিষয়টি তাকে বুঝতেও দেইনি৷

ইনশাল্লাহ, সকলের দোয়ায় এখনও পত্রিকাটিতে আছি। তবে, এখনও সিনিয়রদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে থাকি। কারণ, সাংবাদিকতায় প্রতিনিয়ত শিখতে হয়- এই পেশা জ্ঞান আহরণের অন্যতম মাধ্যম।

এছাড়া ২০১৪-২০২৬ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকতায় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় অন্তত ৭ বার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কোর্স করেছি। এরপর থেকেই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আসছি। তবে, সংবাদ সংশ্লিষ্টতার বাইরে কখনও সাংবাদিক পরিচয় দেইনি, দিতেও চাই না।

কিন্তু বর্তমানে যে কেউ এসেই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকে। এরপর শুরু হয়, হ-য-ব-র-ল৷ মাঝে মাঝে সাংবাদিক পরিচয় দিতেও ভাবতে হয়, ছেড়ে দিতেও মন চায়।

লেখক: ফরিদপুর প্রতিনিধি, দৈনিক আজকের পত্রিকা 

ফরিদপুরে গভীর রাতে জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গভীর রাতে জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের পর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে আটক দুই যুবককে মোটরসাইকেলসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর চাচা আবু তালেব জানান, কিশোরীর মা তার দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। এ সময় বাড়িতে কিশোরী, তার অপর বোন ও ছোট ভাই অবস্থান করছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে গণপিটুনি দিয়ে সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
আটকরা হলেন হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।

ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “শাশুড়ির অপারেশনের কারণে আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমার মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে
নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর হাতে আটক দুইজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।”

‘ভালোবাসার গল্প’

শরীফ খান
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
‘ভালোবাসার গল্প’

আজও যখন বকুল ফুল নীরবে ঝরে পড়ে, মনে হয় সময় তার অদৃশ্য ডানায় ভর করে দুই যুগ পেছনে ফিরে যায়। বাতাসে ভেসে আসে বেলী ফুলের মৃদু সুবাস, আর পুকুরপাড়ের সেই পুরোনো হিজল গাছটি আজও নীরব প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকে। সে যেন জানে—সব গল্পের শেষ অধ্যায় লেখা হয় না; কিছু গল্প অসমাপ্ত থাকাই তাদের নিয়তি।

যুগ যুগ আগে আমাদের ভালোবাসার সূচনা হয়েছিল। কত স্বপ্ন, কত প্রতীক্ষা, কত অদেখা পথের আহ্বান ছিল সেই দিনগুলোতে। মনে হয়েছিল, জীবনের দীর্ঘ নদী আমরা পাশাপাশি হেঁটেই পার হব। কিন্তু সময়ের নিজস্ব এক নির্মম ব্যাকরণ আছে; সে সব প্রতিশ্রুতিকে পূর্ণতার ঠিক আগে থামিয়ে দিতে জানে।

জীবন আমাদের ভিন্ন ভিন্ন তীরে পৌঁছে দিয়েছে। অথচ হৃদয়ের গভীরতম কক্ষে একটি প্রদীপ আজও জ্বলে আছে—নিভৃত, নির্মল, অবিচল। সেই আলোয় এখনো বেঁচে আছে আমাদের প্রথম ভালোবাসা; কোনো দাবি নেই, কোনো অভিমান নেই, শুধু নীরব অস্তিত্ব।

আজ তোমার ৪৩তম জন্মদিন। বহুদিন ধরে মনে ছিল, তোমাকে কিছু দেব। এমন কিছু, যার মূল্য অর্থে নয়, অনুভূতিতে; যা বহন করবে বহু বছরের মমতা, নীরব অপেক্ষা আর অক্ষয় শুভকামনা। তাই তোমার জন্য আমার এই হালকা বেগুনি শাড়ি।

এই কোমল বেগুনি রঙে মিশে আছে গোধূলির নিস্তব্ধতা, শ্রাবণের ভেজা আকাশের মায়া, আর সেই অনুভূতিগুলোর মিষ্টি আলো, যাদের ভাষা নেই, অথচ গভীরতা আছে। এই রঙ যেন বলে—ভালোবাসা সবসময় কাছে পাওয়ার নাম নয়; কখনও কখনও দূরে থেকেও কারও জীবনের জন্য নিঃশব্দে আলো হয়ে থাকার নামই ভালোবাসা।

আমার প্রিয় ফুল বকুল, বেলী, হিজল। বকুল ফুল আমাকে শিখিয়েছে—ঝরে পড়েও সুবাস বিলিয়ে যেতে হয়। বেলী ফুল শিখিয়েছে—নির্মল অনুভূতির কোনো ক্যালেন্ডার নেই; সময় তার সৌন্দর্য কেড়ে নিতে পারে না। আর হিজল গাছ প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয়—জল, ঝড়, ঋতু কিংবা সময়—সবকিছুর পরও কিছু শিকড় মাটির গভীরে অটুট থেকে যায়।

আমাদের ভালোবাসা হয়তো পূর্ণতার গল্প হয়ে ওঠেনি। একই ছাদের নিচে জীবন কাটানোর স্বপ্ন বাস্তবের পৃষ্ঠায় লেখা হয়নি। কিন্তু তাই বলে সেই অনুভূতিগুলো কখনো মিথ্যে হয়ে যায়নি। বরং সময় তাদের অহংকার ধুয়ে দিয়েছে, ব্যথাকে পরিণত করেছে প্রার্থনায়, আর ভালোবাসাকে রূপ দিয়েছে এক নিঃস্বার্থ আশীর্বাদে।

আজ তোমার জন্মদিনে আমার একটাই প্রার্থনা—তুমি ভালো থেকো। তোমার প্রতিটি সকাল বকুলের সুবাসে ভরে উঠুক। প্রতিটি বিকেল হোক বেলী ফুলের কোমল প্রশান্তিতে আলোকিত। প্রতিটি পথচলায় হিজল গাছের মতো দৃঢ়তা তোমার সঙ্গী হোক। জীবনের প্রতিটি ঋতু তোমাকে দিক শান্তি, প্রাপ্তি আর অনন্ত আলো।

কোনো একদিন যখন এই হালকা বেগুনি শাড়িটি পরবে, হয়তো এক মুহূর্তের জন্য তোমার মনে ভেসে উঠবে বহু বছর আগের একটি বিকেল। হয়তো মনে পড়বে—একটি ভালোবাসার গল্প, যার কোনো সমাপ্তি লেখা হয়নি, তবু যা কখনো শেষ হয়ে যায়নি। কারণ কিছু সম্পর্ক মিলনের মধ্য দিয়ে নয়, স্মৃতির মধ্য দিয়েই অনন্ত হয়ে থাকে।

এতো বছর পরেও তোমার জন্য আমার ভালোবাসা কোনো প্রাপ্তির ইতিহাস নয়, কোনো অপূর্ণতার অভিযোগও নয়। এটি এক নীরব প্রার্থনা, এক অনন্ত শুভকামনা—যেখানে তুমি সবসময় সুখী থাকবে, সুস্থ থাকবে, হাসিমুখে বাঁচবে।

হয়তো এটাই ভালোবাসার সবচেয়ে নির্মল রূপ—যেখানে অধিকার নেই, আছে শুধু আশীর্বাদ; যেখানে প্রাপ্তি নেই, আছে শুধু অন্তহীন মঙ্গলকামনা।

আর সেই মঙ্গলকামনার ভেতরেই আমার ভালোবাসা আজও নিঃশব্দে বেঁচে আছে।

ফরিদপুরে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার পর দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার পর দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের কুজুরদিয়া গ্রামের দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ভাইরাসজনিত অসুস্থতার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

শিশুটির বাবা মো. আলিম শেখ জানান, তার একমাত্র ছেলে আয়তুল্লাহ (১ বছর ৬ মাস) গত ২০ থেকে ২১ দিন আগে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়ার পর সে সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে গত ২৯ জুলাই আবারও তার নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়।

এলাকাবাসী জানান, ওই রাতে শিশুটির মা জুই আক্তার তাকে বুকের দুধ পান করিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন। পরে ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে শিশুটির হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির মরদেহ বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভাইরাসজনিত কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি অপমৃত্যু হিসেবে আইনগত প্রক্রিয়ায় নথিভুক্ত করা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”