খুঁজুন
শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

“সাংবাদিকতা”

শ্রাবণ হাসান
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
“সাংবাদিকতা”

যখন যার বিরুদ্ধে অভিযোগ পান, সেই এভিডেন্সগুলোর ১০০% সত্যতা নিশ্চিত করে সংগ্রহে রাখুন। দেন, এভিডেন্স অনুযায়ী নিউজটি সাজিয়ে রাখুন। সর্বশেষ, অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করুন। সে কথা না বললে, লিখে দেন- বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। অথবা যা বলবে তাই লিখে সংবাদ প্রকাশ করুন। এটাই সাংবাদিকতার এথিকস।

এবার আসি- যদি সে কথা না বলতে চায়, তাহলে বার বার তাঁর কাছে জানাও জরুরি না। কিন্তু, সংবাদ প্রকাশের আগেই যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে দেন- রহিমের বিরুদ্ধে পুকুর চুরির অভিযোগ৷ বিস্তারিত আসছে..- তখন বিষয়টি দৃষ্টিতে চলে যায়।

হ্যাঁ, সাংবাদিকদের কাজ অনিয়মের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বা টেলিভিশনে তুলে ধরা। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফোর্স করা মানেই ধান্দাবাজি৷

এটাও আমরা জানি- বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, ভূমি অফিস- মানুষ হয়রানির কারখানা। অধিকাংশই টাকা ছাড়া কাজ হয় না৷ আর সেক্ষেত্রে কর্মকর্তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকেন। তাঁরা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ব্যবহার করে থাকেন।

মূল কথায় আসা যাক, ইদানীং যে কেউ সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকেন- এটা অশনিসংকেত। গলায় একটি কার্ড, হাতে বুম আর স্টিক, সাথে মোবাইল নিয়েই সাংবাদিক হয়ে যাচ্ছে। এরপর কোনো এথিকস না জেনেই হুটহাট কোথাও চলে যান। এরপর যা হওয়ার তা হয়ে যায়৷

হ্যাঁ- আপনি সাংবাদিকতায় আসুন- সাধুবাদ জানাই। তবে কোনো বাটপারের হাত ধরে নয়৷ ধরলাম, আপনার সাংবাদিকতা নিয়ে জ্ঞান নেই বা বিন্দুমাত্র ধারণা নেই- সেক্ষেত্রে অন্তত এক বছর একজন সিনিয়রের সঙ্গে কাজ করুন, সবকিছু বুঝে নেন বা সাংবাদিকতার জ্ঞান অর্জন করুন৷ এরপর না হয়- ফিল্ডে সাংবাদিকতা শুরু করুন৷

আমার কথাই বলি- আমি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। এরমধ্যে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিনিয়রদের কাছে থেকেছি, তাঁদের সাথে চলেছি, তাঁদের নিউজের প্যাটার্ন দেখেছি। কিছু না বুঝলেও তাঁদের সহযোগিতা চেয়েছি। এই সময়ে স্থানীয় দৈনিক বাঙ্গালী খবর পত্রিকায় অফিসে বা ডেস্কে কাজ করেছি।

এরপর ২০১৮ সাল থেকে মোটামুটি ফিল্ডে প্রবেশ করি, তবে খুব কম। এই সময়ে দৈনিক বাঙ্গালী সময় পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করি৷ ২০১৯ এবং ২০২০ সাল থেকে পত্রিকাটিতে পুরোদস্তুর লেখালেখি করি। অনেক অনিয়মের নিউজও তুলে ধরেছি।

এরপর ২০২২ সাল থেকে শ্রদ্ধেয় একজন সিনিয়র সাংবাদিকের সহযোগিতায় প্রথম সারির দৈনিক “আজকের পত্রিকায়” কাজ করার সুযোগ হয়৷ শুরুতে তাঁরা আমার সাংবাদিকতায় মেধা যাচাইয়ে অনুসন্ধানীসহ ভিন্ন ভিন্ন আইটেমের সংবাদ করার অ্যাসাইনমেন্ট দেন (জেলায় ফিল্ড পর্যায়ে সকল সংবাদ করার জ্ঞান থাকতে হয়)। ইনশাআল্লাহ, সকলের দোয়া ও সহযোগিতায় ৬ মাসে সেই মেধা প্রমাণে সক্ষম হই।

সবশেষে তাঁরা অফিসিয়ালি ডেকে আরও মৌখিক পরীক্ষা নেন। এরপর আমাকে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র তুলে দেন। এরমধ্যে ২০২৪ সালে ডিসি অফিসের এলএ শাখার এক ট্রেসারের বিরুদ্ধে তিন মাসের অনুসন্ধানে- “অধিগ্রহণ কৌসল ট্রেসারের আছে আবাসন ব্যবসাও, ডিসি অফিসের চাকরিতেই আলাদিনের চেরাগ হাতে হাসেমের”- শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করি। এটি নিয়ে আমাকে অপবাদ দেয়ার চেষ্টা কম হয়নি কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ হয়েছে৷ কারন, এ টু জেড ডকুমেন্ট নিয়েই সংবাদটি প্রকাশ করেছিলাম। এই অনুসন্ধানকালীন বিষয়টি তাকে বুঝতেও দেইনি৷

ইনশাল্লাহ, সকলের দোয়ায় এখনও পত্রিকাটিতে আছি। তবে, এখনও সিনিয়রদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে থাকি। কারণ, সাংবাদিকতায় প্রতিনিয়ত শিখতে হয়- এই পেশা জ্ঞান আহরণের অন্যতম মাধ্যম।

এছাড়া ২০১৪-২০২৬ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকতায় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় অন্তত ৭ বার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কোর্স করেছি। এরপর থেকেই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আসছি। তবে, সংবাদ সংশ্লিষ্টতার বাইরে কখনও সাংবাদিক পরিচয় দেইনি, দিতেও চাই না।

কিন্তু বর্তমানে যে কেউ এসেই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকে। এরপর শুরু হয়, হ-য-ব-র-ল৷ মাঝে মাঝে সাংবাদিক পরিচয় দিতেও ভাবতে হয়, ছেড়ে দিতেও মন চায়।

লেখক: ফরিদপুর প্রতিনিধি, দৈনিক আজকের পত্রিকা 

কারা বেশি হাসে, পুরুষ নাকি নারী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
কারা বেশি হাসে, পুরুষ নাকি নারী?

হাসি মানুষের একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য হলেও নারী ও পুরুষের হাসির ধরণ এবং হাসানোর ক্ষমতার মধ্যে কিছু চমৎকার পার্থক্য রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যদিও আমরা সবাই হাসতে ভালোবাসি, তবুও কে হাসছেন আর কে হাসাচ্ছেন—এই ক্ষেত্রে লিঙ্গভেদে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

কে বেশি হাসেন?

রবার্ট প্রোভাইন নামক একজন গবেষকের ১২০০টি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ ও নারী উভয়ই হাসলেও নারীরাই বেশি হাসেন। বিশেষ করে যখন দুই বা ততোধিক নারী একত্রে কথা বলেন, তখন হাসির মাত্রা থাকে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, পুরুষরা নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় নারীদের তুলনায় প্রায় অর্ধেক পরিমাণ কম হাসেন। এমনকি নারী-পুরুষের মিশ্র আড্ডায় দেখা গেছে, নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রায় ১২৬ শতাংশ বেশি হাসেন। সহজ কথায়, পুরুষরা হাসানোর ভূমিকা পালন করেন আর নারীরা সেই হাসির মূল দর্শক হিসেবে আবির্ভূত হন।

হাসানোর কারিগর কে?

গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা সাধারণত কৌতুক বা রসিকতার মাধ্যমে অন্যকে হাসাতে বেশি পছন্দ করেন। শৈশবের ‘ক্লাস ক্লাউন’ বা ক্লাসের কৌতুকপ্রিয় ছাত্রটি সাধারণত একজন ছেলেই হয়ে থাকে। সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটও এখানে ভূমিকা রাখে। যেমন: কমেডি শো বা লাইভ সার্কিটগুলোতে পুরুষ কমেডিয়ানদের আধিপত্য বেশি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা রসবোধ সম্পন্ন পুরুষদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন এবং পুরুষরাও এমন নারীদের পছন্দ করেন যারা তাদের রসিকতার প্রশংসা করেন।

মস্তিষ্কের রসায়ন কী বলে?

নারীদের এই বেশি হাসার পেছনে মস্তিষ্কের গঠন ও নিউরোকেমিস্ট্রির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মজার কোনো কার্টুন বা কৌতুক শোনার সময় নারীদের মস্তিষ্কের ‘ডোপামিন’ বা রিওয়ার্ড সেন্টার এবং শব্দ তৈরির অঞ্চলগুলো পুরুষদের তুলনায় বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। জোকসটি যত বেশি মজার হয়, নারীদের মস্তিষ্কের কোষগুলো তত বেশি আনন্দিত হয়। অন্যদিকে, পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সক্রিয়তা মাঝারি মানের থাকে। ধারণা করা হয়, নারীরা অনেক বেশি খোলা মনে রসিকতা গ্রহণ করেন, যেখানে পুরুষরা কৌতুক বলার সময় প্রত্যাশার চাপে থাকেন বলে নিজেরা ততটা আনন্দ পান না।

সম্পর্কের সেতুবন্ধনে হাসি

হাসি কেবল বিনোদন নয়, এটি দুজনের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন দম্পতির মধ্যে ৯ জনই মনে করেন সুস্থ সম্পর্কের জন্য রসবোধ অত্যন্ত জরুরি।

সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী দম্পতিরা (যারা ৪৫ বছরের বেশি সময় একসাথে আছেন) মনে করেন, তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো একসাথে হাসতে পারা।

মানুষ একা থাকলে কেবল মুচকি হাসে, কিন্তু প্রাণ খুলে হাসার জন্য অন্য একজনের সঙ্গ প্রয়োজন হয়। পরিশেষে বলা যায়, নারী ও পুরুষের হাসির এই বৈচিত্র্য আসলে একে অপরের পরিপূরক। পুরুষরা হাসির খোরাক জোগাতে ভালোবাসেন আর নারীরা সেই হাসিতে মেতে উঠে সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলেন।

তথ্যসূত্রসাইকোলজি টুডে.কম

“ভেজা চাদরের নিচে চাপা পড়ে থাকা এক পৃথিবীর কান্না”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
“ভেজা চাদরের নিচে চাপা পড়ে থাকা এক পৃথিবীর কান্না”

ফরিদপুর রেলস্টেশন। গভীর রাতের এক অদ্ভুত নিরবতা চারপাশে ছড়িয়ে আছে। দিনের কোলাহল, মানুষের ব্যস্ততা, ট্রেনের শব্দ—সব যেন কোথাও মিলিয়ে গেছে।

প্ল্যাটফর্মের লাইটগুলো মৃদু আলো ছড়াচ্ছে, যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তারাও। দূরে কোথাও একটি কুক চড়ুই ডাকছে, তার সেই একঘেয়ে শব্দ যেন রাতের নিস্তব্ধতাকে আরও গভীর করে তুলছে। আর মাঝেমধ্যে কয়েকটি কুকুর ঘেউ ঘেউ করে উঠছে, যেন তারা এই নির্জনতার একমাত্র প্রহরী।

আমি হাঁটছিলাম আনমনে। কোনো গন্তব্য ছিল না, কোনো তাড়া ছিল না। শুধু হাঁটছিলাম, নিজের ভেতরের অজানা ভাবনাগুলোর সঙ্গে। হঠাৎ চোখ পড়লো স্টেশনের এক কোণের পুরোনো একটি বেঞ্চে। সেখানে শুয়ে আছে একজন মানুষ। উসকোখুসকো চুল, এলোমেলো দাড়ি, শরীরজুড়ে একটি মলিন চাদর। প্রথমে মনে হলো তিনি হয়তো ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ পড়ে থাকা ভঙ্গি যেন অন্য কিছু বলছিল।

আকাশে তখন মেঘ জমেছে। দূরে কোথাও বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। মনে হচ্ছিল, বৃষ্টি নামতে আর দেরি নেই। অথচ মানুষটি তবুও নিশ্চুপ। যেন এই পৃথিবীর কোনো পরিবর্তনই তার কাছে আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। তার শরীরের উপর জড়ানো চাদরটি বাতাসে একটু নড়ছে, কিন্তু তার ভেতরের মানুষটি যেন স্থির—একেবারে পাথরের মতো।

মনে হলো, তার কোনো ঘর নেই। মাথা গোঁজার মতো একটুখানি আশ্রয়ও নেই। তাই হয়তো এই রেলস্টেশনই তার ঠিকানা হয়ে গেছে। এই বেঞ্চই তার বিছানা, এই খোলা আকাশই তার ছাদ। রাতে সে খেয়েছে কি না—তার খবর রাখার মতো কেউ নেই। তার জীবনের হিসাব রাখারও কেউ নেই।

একটু দূরে দাঁড়িয়ে আমি তাকে দেখছিলাম। মনে হচ্ছিল, এই মানুষটির জীবন যেন এক অজানা গল্পে ভরা। হয়তো একসময় তারও একটা পরিবার ছিল। কেউ তাকে ভালোবাসতো, কেউ তার জন্য অপেক্ষা করতো। হয়তো তারও ছিল স্বপ্ন—একটা ঘর, একটু শান্তি, একটু নিশ্চিন্ত জীবন। কিন্তু সময়ের নির্মমতায় সেই সবকিছুই হারিয়ে গেছে।

হঠাৎ ঝুমঝুম করে বৃষ্টি নামলো। বড় বড় ফোঁটা এসে পড়তে লাগলো প্ল্যাটফর্মে। কিছু মানুষ দৌড়ে আশ্রয় নিলো ছাদের নিচে। কিন্তু সেই মানুষটি—তিনি নড়লেন না। বৃষ্টির পানি ধীরে ধীরে ভিজিয়ে দিলো তার চাদর, তার শরীর, তার চুল। তবুও কোনো শব্দ নেই, কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

আমি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইলাম। একজন মানুষ কতটা কষ্ট পেলে এমন নির্বিকার হয়ে যেতে পারে? কতটা অভিমান জমে থাকলে নিজের ভিজে যাওয়াটাও আর গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না? মনে হলো, তার ভেতরের অনুভূতিগুলো যেন অনেক আগেই মরে গেছে। অথবা হয়তো এতটাই ব্যথা জমেছে যে, আর নতুন করে কোনো অনুভূতি জাগে না।

বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিলো তার নীরবতা। আশেপাশে কিছু মানুষ তাকে দেখে গেলো, কেউ একটু তাকালো, কেউ আবার তাকানোরও প্রয়োজন বোধ করলো না। যেন সে এই পৃথিবীর একজন মানুষ নয়—একটি অবহেলিত ছায়ামাত্র।

আমি ভাবলাম, আমরা কত সহজেই এমন মানুষদের পাশ কাটিয়ে যাই। তাদের কষ্ট, তাদের ক্ষুধা, তাদের অভাব—এসব যেন আমাদের চোখেই পড়ে না। অথচ তারাও আমাদের মতোই মানুষ। তাদেরও আছে অনুভূতি, আছে স্বপ্ন, আছে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা।

বৃষ্টি থামলো কিছুক্ষণ পর। প্ল্যাটফর্মে জমে থাকা পানিতে আলো পড়ে চিকচিক করছে। সেই মানুষটি তখনো শুয়ে আছেন, ভেজা শরীর নিয়ে। হয়তো তিনি ঠান্ডায় কাঁপছেন, হয়তো তার শরীর ক্লান্তিতে অবশ হয়ে গেছে। কিন্তু তার মুখে কোনো অভিযোগ নেই, কোনো চাওয়া নেই।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাত আরও গভীর হলো। ট্রেনের কোনো শব্দ নেই, মানুষের কোলাহল নেই। শুধু সেই মানুষটি, আর তার নিঃসঙ্গতা। মনে হচ্ছিল, এই পুরো স্টেশনটাই যেন তার জীবনের প্রতিচ্ছবি—শূন্য, নির্জন, আর অবহেলায় ভরা।

হয়তো মাঝেমধ্যে তার মনে প্রশ্ন জাগে—কেন এমন হলো জীবন? কোথায় হারিয়ে গেলো সবকিছু? কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো কেউ নেই। কেউ তার পাশে বসে শোনে না তার গল্প, কেউ তার চোখের জল দেখে না।

তার জীবনের মানে এখন হয়তো খুব ছোট হয়ে গেছে—এক মুঠো ভাত, এক মগ পানি, আর একটি রাত পার করার মতো একটি আশ্রয়। তবুও সে বেঁচে আছে। কারণ মানুষ বাঁচতে চায়, যত কষ্টই থাকুক না কেন।

আমি ধীরে ধীরে সেখান থেকে চলে আসছিলাম। কিন্তু সেই দৃশ্যটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। মনে হচ্ছিল, আমরা কতটা ভাগ্যবান—যাদের মাথার ওপর একটা ছাদ আছে, যাদের পাশে কিছু মানুষ আছে, যারা খোঁজ নেয়।

আর সেই মানুষটি? তিনি হয়তো এখনো শুয়ে আছেন সেই বেঞ্চে, আরেকটি রাত পার করার অপেক্ষায়। হয়তো আগামীকালও একইভাবে কাটবে তার দিন, একইভাবে কাটবে তার রাত।

এই পৃথিবীতে কত গল্পই না ছড়িয়ে আছে—যেগুলো আমরা দেখি, কিন্তু বুঝি না। অনুভব করি না। অথচ সেই গল্পগুলোই আমাদের মানুষ হতে শেখায়, আমাদের হৃদয়কে নরম করে, আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটু ভালোবাসা, একটু যত্ন, আর সামান্য সহানুভূতি একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।

হয়তো আমরা সবাই মিলে একটু করে এগিয়ে এলে, সেই মানুষটির মতো আর কেউ একা পড়ে থাকবে না কোনো রেলস্টেশনের বেঞ্চে। হয়তো কোনো একদিন, এই পৃথিবীটা একটু হলেও বেশি মানবিক হয়ে উঠবে।

লেখক: হারুন-অর-রশীদ, সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

আলফাডাঙ্গায় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস”

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস”

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস–২০২৬”।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আলফাডাঙ্গা মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত এই কংগ্রেসে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে হবে। কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ তুষার সাহা বলেন, কৃষকদের মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত নূর মৌসুমী। তিনি বলেন, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ ধরনের আয়োজন কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

কংগ্রেসে কৃষকদের সফলতার গল্প উপস্থাপন, অভিজ্ঞতা বিনিময়, কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে মতবিনিময় করেন এবং আধুনিক কৃষি চর্চা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভুবেন বাইনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক-কৃষাণী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কংগ্রেস কৃষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে এটি কার্যকর অবদান রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।