খুঁজুন
, ,

বাঁধা দিয়ে আমি কেন চাকরি হারাবো!

সোহানুর রহমান
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ণ
বাঁধা দিয়ে আমি কেন চাকরি হারাবো!

২০২১ সালের কোন একদিন ঢাকা-গোপালগঞ্জ হাইওয়েতে ডিউটি করছিলাম। স্পীডগান ধরে দেখি একটি হ্যারিয়ার প্রাইভেট কার ১২০-১২৫ কিমি গতিতে আসছে। সিগনাল দিয়ে দাড় করাতেই ড্রাইভারের ডানপাশে বসা এক ভদ্রলোক আমার সাথে ডিউটি করা কনস্টেবল ভাইকে ধমক দিয়ে বললো আপনার ইনচার্জ কে এদিকে আসতে বলেন। আমি এগিয়ে গেলেই উনি আমাদের পুলিশের এক সিনিয়র স্যারের নাম নিয়ে বললেন সে তার আত্মীয় এবং তিনি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

আমি বোঝাতে চেষ্টা করলাম যে এই রোডে বিআরটিএ নির্ধারিত গতি ৬০ কিমি. কিন্তু আমাদের সিনিয়র স্যারেরা ৮০ কিমি গতি ক্রস করল ওভারস্পীডের সেকশনে প্রসিকিউশন দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। উনি আমাকে ইচ্ছেমত তিরস্কার করলেন এবং উনার আত্মীয়কে ফোন দিয়ে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বলে আমাকে ফোন ধরিয়ে দিলেন।

সিনিয়র স্যারও আমাকে তিব্রভাষায় তিরস্কার করলেন এবং এসপিকে বলে আমাকে সাইজ করার হুমকি দিলেন!! আমি ভদ্রলোক কে জিজ্ঞেস করলাম,” আচ্ছা স্যার, আপনি চলে যান সমস্যা নাই, কিন্তু শুধু বলে যান আপনার গাড়ি ওভারস্পীডে ছিল কি না; উনি কুকুরের মত মুখ করে (আল্লাহ ক্ষমা কর) বললেন, No Never. তখন উনার ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে দেখি ড্রাইভার মুসকি মুসকি হাসছেন!!

৩০ মিনিট পরেই এসপি অফিস থেকে কল এলো ৩০ মধ্যে মিনিটের এসপি স্যারের সামনে হাজির হতে হবে। যথারিতি এসপি স্যারের অফিসে উপস্থিত হলাম। এসপি স্যার প্রায় ১ ঘন্টা ধরে এটা-সেটা জিজ্ঞেস করলেন; মৃদু ভাষায় অনেক তিরস্কার করলেন!! Last Warning দিলেন! এমন কিছু দ্বিতীয়বার শুনলে চাকরির ১২ টা বাজানোর হুমকি দিলেন!!

সেদিন এতটাই খারাপ লেগেছিল যে ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চালিয়ে যেতে ৩/৪ বার থামছি আর ভাবছি আমার কি দোষ ছিল!! এত এত তিরস্কার এত অপমান এত হুমকি!!
সেদিনের পর চাকরির Rule of thumb শিখে গেলাম!! যতদিন ডিউটি করেছি (ঘ) সিরিয়ালের কোন গাড়িকে সিগনাল দেই নাই। কাউকে বড়লোক লাগলেই তার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতাম!!

টাঙ্গাইলে যে রডবাহী ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ জন মারা গেল। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর একাধিক ধারা অনুযায়ী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ, মালামালের উপর যাত্রী পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু কে তাদেরকে থামাতে যাবে? ঐ ট্রাক কে যদি হাইওয়ে পুলিশ দাঁড় করিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দিত তাহলে কি ঐ পুলিশের চাকরি রাখতো সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষ?? কত টা অমানবিক দেখাতো!!

যে পুলিশ ঐ ট্রাক থেকে যাত্রী নামাতো; তারা এখন লাইনে সংযুক্ত হইতো, এমনকি মিডিয়ার বেশি চাপাচাপি থাকলে সাসপেন্ড হইতো!!

লেখক: পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই)

ভাঙ্গায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে অজ্ঞাতনামা গাড়ির ধাক্কায় সালাউদ্দিন মোল্লা (২২) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই আরোহী।

​সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত সালাউদ্দিন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কুমারদিয়া গ্রামের আদম মোল্লার ছেলে। দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন একই এলাকার সাব্বির শেখ (১৮) ও তামিম হোসেন (২৮)। তাঁরা নিহত সালাউদ্দিনের বন্ধু।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা থেকে এক মোটরসাইকেলে তিন বন্ধু ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকাগামী লেন দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত গাড়ি তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সালাউদ্দিনের মৃত্যু হয় এবং অপর দুই বন্ধু মারাত্মক আহত হন।

​পরে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত সালাউদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে এবং গুরুতর আহত সাব্বির ও তামিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবচর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও লাশ উদ্ধার করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ফরিদপুরের মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে পরিকল্পনা কমিশনের দুই সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে পরিকল্পনা কমিশনের দুই সচিব

মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুর (এমসিএসএফ) পরিদর্শন করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরিন জাহান এবং আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) ড. শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

​রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে তারা প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে আসেন। এসময় তাদের ফুলেল অভ্যর্থনা জানানো হয়।

​পরিদর্শনকালে সচিব নাসরিন জাহান, অতিরিক্ত সচিব ড. শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং সচিবের একান্ত সচিব (উপসচিব) মো. মাসজানুল ইসলাম তৌহিদ মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় সামরিক বাহিনীর কর্নেল এডমিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

​সফরকালে অতিথিরা ক্যাডেটদের কাছ থেকে সালাম গ্রহণ করেন এবং স্কুল প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে তারা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সুবিধা, সুসংহত শিক্ষার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে সফররত অতিথিদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

​উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সূচনা লগ্ন থেকেই মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে সুশিক্ষিত, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় জ্ঞান, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন নাগরিক গড়ার লক্ষ্যে ‘মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল খুলনা (এমসিএসকে)’-এর আদলে ফরিদপুরে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে।

​এর আগে রোববার সকালেই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আনুষ্ঠানিকভাবে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুর (এমসিএসএফ) এবং সেনা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ রাজবাড়ী (এসপিএসসি)-এর উদ্বোধন করেন।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আগুনে পুড়ল ৭টি ছাগল

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আগুনে পুড়ল ৭টি ছাগল

রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বাড়ির সবাই। এদিকে ছাগল রাখার ছাপড়া ঘরে কয়েল থেকে আগুন ধরে পুড়ে গেল সাতটি ছাগল। এমনকি পাড়া প্রতিবেশীরাও টের পায়নি। যখন সবাই টের পেল তখন সব পুড়ে শেষ। এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায়।

রবিবার (২৩ আগস্ট) ভোর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিলারচর গ্রামের বাসিন্দা শেখ আদেল (৬১) এর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

আগুনে ছাপড়া ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় এবং রান্নাঘরের অর্ধেক অংশ পুড়ে যায়। এতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি।

অগ্নিকান্ডের বিষয়ে দিনমুজুর আদেল জানায়, ঘটনার রাতে প্রতিদিনের মতন ছাগল থাকার ঘরে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রেখে তিনি ও তার স্ত্রী রাত এগারোটার দিকে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে পরেন। পুড়ে যাওয়া ঘরটি তাদের বসত ঘরের পাশে ছাপড়া ঘর ছিল। ওই ঘরে তারা সাতটি ছাগল রাখত। রাত আনুমানিক একটার দিকে তারা অগ্নিকান্ডের বিষটি বুঝতে পেরে ঘরের দরজা খুলে বাহিরে বের হন। পরে তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আগুন নেভায়। মশার কয়েল থেকে এই অগ্নিকান্ড ঘটেছে বলে ধারনা করছে ওই পরিবার।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান যাচাই বাছাইয়ের পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হবে।