খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

গণভোট-২০২৬: ফরিদপুরে সুজনের উঠান বৈঠকে নারীদের কণ্ঠে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি

ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
গণভোট-২০২৬: ফরিদপুরে সুজনের উঠান বৈঠকে নারীদের কণ্ঠে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি

দেশব্যাপী গণসচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গণভোট-২০২৬ বিষয়ে ফরিদপুরে প্রচারণা চালাচ্ছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চৌকিঘাটা এলাকায় এক উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উঠান বৈঠকে স্থানীয় বিভিন্ন বয়সী নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সুজন বন্ধু ও সাংবাদিক সোহাগ মাতুব্বর।

উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গণভোট-২০২৬ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা তুলে ধরা হয়। লিফলেটের মাধ্যমে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং অন্যটি জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট। এই গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে জনগণ সরাসরি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানাতে পারবেন।

বক্তব্যে সোহাগ মাতুব্বর বলেন, গণভোটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ রাখা, যাতে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে কর্তৃত্ববাদী শাসনের সুযোগ না থাকে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যেন একসঙ্গে দলীয় প্রধান বা সংসদ নেতা হতে না পারেন, সে বিষয়েও প্রস্তাব রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সংসদ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য আনা, সংসদকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা এবং বিরোধী দলের ভূমিকা জোরদার করাও সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রে আলোচনা, বিতর্ক ও জবাবদিহি বাড়বে।

উঠান বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সোহাগ মাতুব্বর বলেন, “বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পায় না। তাই বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রস্তাব গণভোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।” একই সঙ্গে বড় ধরনের অপরাধে রাষ্ট্রপতির নির্বিচার ক্ষমা প্রদানের সুযোগ সীমিত করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে নীতিনির্ধারণে নারীদের কণ্ঠ আরও শক্তিশালী হবে। এতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর অধিকার সুরক্ষিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উঠান বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থানীয় নারীরা বলেন, এর আগে তারা গণভোট নিয়ে খুব বেশি জানতেন না। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো পরিষ্কার হওয়ায় এখন তারা ভোট দেওয়ার বিষয়ে সচেতন হয়েছেন। রেবা বেগম নামে এক নারী বলেন, “এই গণভোট শুধু রাজনীতিবিদদের বিষয় নয়, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িত।” সাথী আক্তার নামে আরেক নারী বলেন, “আমরা চাই দেশে সুশাসন থাকুক, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক। তাই আমরা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আমাদের মতামত জানাব।”

বৈঠকে ভোট প্রদানের নিয়মাবলিও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা, ভোটকক্ষে মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা ব্যবহার না করা এবং ব্যালটে সঠিকভাবে সিল দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। একই ব্যালটে একাধিক স্থানে সিল দিলে ভোট বাতিল হবে বলেও জানানো হয়।

সুজন সূত্র জানান, গণভোট-২০২৬ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভা অব্যাহত রয়েছে।

 

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।