খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ডিপ ফ্রিজ ব্যবহারের নিয়ম, যা জানলে ফ্রিজ টিকবে অনেকদিন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫০ এএম
ডিপ ফ্রিজ ব্যবহারের নিয়ম, যা জানলে ফ্রিজ টিকবে অনেকদিন?

এক সময় প্রতিদিনের রান্নার জন্য মাছ-মাংস সংগ্রহ করতে হতো বাজার, নদী কিংবা পুকুরের ওপর নির্ভর করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রা বদলেছে, বেড়েছে ব্যস্ততা।

এখন আর প্রতিদিন বাজারে যাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়। ঠিক এই জায়গাতেই আধুনিক সংসারে ডিপ ফ্রিজ হয়ে উঠেছে এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী।

মাছ, মাংস, সবজি বা রান্না করা খাবার—সবকিছু দীর্ঘদিন সংরক্ষণে ডিপ ফ্রিজ আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।

তবে এই সুবিধাজনক যন্ত্রটি সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে সহজেই নষ্ট হতে পারে বা নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

অনেক সময় দেখা যায়, ডিপ ফ্রিজ থেকে অতিরিক্ত শব্দ হচ্ছে, ঠিকমতো ঠান্ডা হচ্ছে না, বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাচ্ছে কিংবা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এসব সমস্যার মূল কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুল ব্যবহার ও যত্নের অভাব। তাই ডিপ ফ্রিজ দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জানা ও মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা

ডিপ ফ্রিজ ব্যবহারের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা। সাধারণভাবে ডিপ ফ্রিজ -১৮° সেলসিয়াস থেকে -২৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পরিচালনা করা উচিত। এই তাপমাত্রায় খাবারের ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির গতি কমে যায় এবং খাবার দীর্ঘদিন সতেজ থাকে।

অনেকে মনে করেন, তাপমাত্রা যত কম রাখা যাবে তত ভালো। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত কম তাপমাত্রা ফ্রিজের কম্প্রেসরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, ফলে যন্ত্রের আয়ু কমে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আদর্শ তাপমাত্রায় ফ্রিজ ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

খাবার সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি জানা

ডিপ ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের সময় সবচেয়ে বড় ভুল হলো খোলা অবস্থায় খাবার রাখা। মাছ বা মাংস সংরক্ষণের আগে অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর ছোট ছোট টুকরো করে এয়ারটাইট ব্যাগ বা কন্টেইনারে রাখতে হবে।

এয়ারটাইট প্যাকেটে খাবার রাখলে খাবারের ভেতরের আর্দ্রতা বজায় থাকে, ফ্রিজে দুর্গন্ধ ছড়ায় না এবং ফুড বার্ন হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। একই সঙ্গে ফ্রিজের ভেতরের অন্যান্য খাবারও নিরাপদ থাকে।

লেবেল ও তারিখ লিখে রাখা

ডিপ ফ্রিজে একবারে অনেক ধরনের খাবার রাখা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই ভুলে যান কোন খাবার কবে রাখা হয়েছে। এতে করে পুরোনো খাবার ফ্রিজে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

এই সমস্যা এড়াতে প্রতিটি প্যাকেট বা কন্টেইনারের ওপর খাবারের নাম ও সংরক্ষণের তারিখ লিখে রাখা উচিত। এতে করে সহজেই বোঝা যায় কোন খাবার আগে ব্যবহার করা দরকার। এটি শুধু খাবার ব্যবস্থাপনাই সহজ করে না, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমায়।

ডিপ ফ্রিজ অতিরিক্ত বোঝাই না করা

অনেক পরিবারেই দেখা যায়, সুযোগ পেলে ডিপ ফ্রিজ পুরোপুরি ভরে ফেলা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত বোঝাই করা ডিপ ফ্রিজের জন্য ক্ষতিকর। এতে ফ্রিজের ভেতরের ঠান্ডা বাতাস সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না।

বাতাস চলাচল ব্যাহত হলে কিছু অংশ অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়, আবার কিছু অংশ ঠিকমতো ঠান্ডা হয় না। এর ফলে খাবার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ফ্রিজের কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই ডিপ ফ্রিজে সবসময় কিছুটা খালি জায়গা রাখা উচিত।

গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে না রাখা

রান্না করা খাবার গরম অবস্থায় সরাসরি ডিপ ফ্রিজে রাখা একটি বড় ভুল। এতে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়, যার ফলে অন্য খাবার আংশিক গলে যেতে পারে।

এ ছাড়া গরম খাবার রাখলে ফ্রিজকে আবার আগের তাপমাত্রায় ফিরতে বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। তাই রান্না করা খাবার আগে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে তারপর ডিপ ফ্রিজে রাখাই সঠিক নিয়ম।

ঘনঘন দরজা খোলা থেকে বিরত থাকা

ডিপ ফ্রিজের দরজা যত কম খোলা যায়, তত ভালো। ঘনঘন দরজা খুললে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং বাইরের গরম বাতাস ঢুকে পড়ে। এতে ফ্রিজকে বারবার ঠান্ডা হতে হয়, যা বিদ্যুৎ খরচ বাড়ায় এবং যন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

বিশেষ করে শিশুদের অকারণে ডিপ ফ্রিজের দরজা খোলা থেকে বিরত রাখতে হবে। দরজা সবসময় ঠিকমতো বন্ধ হয়েছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখা জরুরি।

সঠিক স্থানে ডিপ ফ্রিজ বসানো

ডিপ ফ্রিজ বসানোর স্থানও এর কার্যকারিতার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। ফ্রিজ কখনোই দেয়ালের গা ঘেঁষে রাখা উচিত নয়। দেয়াল থেকে অন্তত ১০ সেন্টিমিটার দূরে রাখলে পেছনের ক্যাপাসিটর পর্যাপ্ত বাতাস পায়।

যদি ফ্রিজ দেয়ালের খুব কাছে রাখা হয়, তাহলে ক্যাপাসিটর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, ফলে শব্দ হওয়া, ঠান্ডা কম হওয়া কিংবা যন্ত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নিয়মিত পরিষ্কার ও ডিফ্রস্ট করা

ডিপ ফ্রিজে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বরফ জমে যায়। এই বরফ জমে থাকলে ফ্রিজের কার্যকারিতা কমে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত ডিফ্রস্ট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাসে অন্তত একবার কুসুম গরম পানি দিয়ে ফ্রিজের ভেতর পরিষ্কার করা উচিত। লেবু মেশানো পানি ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ ও ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। পানি নিষ্কাশনের নল বা ছিদ্র পরিষ্কার রাখাও খুব জরুরি, নইলে ফ্রিজের ভেতরে পানি জমে থাকতে পারে।

বর্তমানে বাজারে নানা ব্র্যান্ড ও মডেলের ডিপ ফ্রিজ সহজলভ্য, এবং ফ্রিজের দাম যাচাই করে বাজেট অনুযায়ী নতুন ফ্রিজ নেওয়াও এখন অনেক সহজ।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর