খুঁজুন
, ,

ডিপ ফ্রিজ ব্যবহারের নিয়ম, যা জানলে ফ্রিজ টিকবে অনেকদিন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
ডিপ ফ্রিজ ব্যবহারের নিয়ম, যা জানলে ফ্রিজ টিকবে অনেকদিন?

এক সময় প্রতিদিনের রান্নার জন্য মাছ-মাংস সংগ্রহ করতে হতো বাজার, নদী কিংবা পুকুরের ওপর নির্ভর করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রা বদলেছে, বেড়েছে ব্যস্ততা।

এখন আর প্রতিদিন বাজারে যাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়। ঠিক এই জায়গাতেই আধুনিক সংসারে ডিপ ফ্রিজ হয়ে উঠেছে এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী।

মাছ, মাংস, সবজি বা রান্না করা খাবার—সবকিছু দীর্ঘদিন সংরক্ষণে ডিপ ফ্রিজ আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।

তবে এই সুবিধাজনক যন্ত্রটি সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে সহজেই নষ্ট হতে পারে বা নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

অনেক সময় দেখা যায়, ডিপ ফ্রিজ থেকে অতিরিক্ত শব্দ হচ্ছে, ঠিকমতো ঠান্ডা হচ্ছে না, বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাচ্ছে কিংবা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এসব সমস্যার মূল কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুল ব্যবহার ও যত্নের অভাব। তাই ডিপ ফ্রিজ দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জানা ও মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা

ডিপ ফ্রিজ ব্যবহারের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা। সাধারণভাবে ডিপ ফ্রিজ -১৮° সেলসিয়াস থেকে -২৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পরিচালনা করা উচিত। এই তাপমাত্রায় খাবারের ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির গতি কমে যায় এবং খাবার দীর্ঘদিন সতেজ থাকে।

অনেকে মনে করেন, তাপমাত্রা যত কম রাখা যাবে তত ভালো। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত কম তাপমাত্রা ফ্রিজের কম্প্রেসরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, ফলে যন্ত্রের আয়ু কমে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আদর্শ তাপমাত্রায় ফ্রিজ ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

খাবার সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি জানা

ডিপ ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের সময় সবচেয়ে বড় ভুল হলো খোলা অবস্থায় খাবার রাখা। মাছ বা মাংস সংরক্ষণের আগে অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর ছোট ছোট টুকরো করে এয়ারটাইট ব্যাগ বা কন্টেইনারে রাখতে হবে।

এয়ারটাইট প্যাকেটে খাবার রাখলে খাবারের ভেতরের আর্দ্রতা বজায় থাকে, ফ্রিজে দুর্গন্ধ ছড়ায় না এবং ফুড বার্ন হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। একই সঙ্গে ফ্রিজের ভেতরের অন্যান্য খাবারও নিরাপদ থাকে।

লেবেল ও তারিখ লিখে রাখা

ডিপ ফ্রিজে একবারে অনেক ধরনের খাবার রাখা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই ভুলে যান কোন খাবার কবে রাখা হয়েছে। এতে করে পুরোনো খাবার ফ্রিজে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

এই সমস্যা এড়াতে প্রতিটি প্যাকেট বা কন্টেইনারের ওপর খাবারের নাম ও সংরক্ষণের তারিখ লিখে রাখা উচিত। এতে করে সহজেই বোঝা যায় কোন খাবার আগে ব্যবহার করা দরকার। এটি শুধু খাবার ব্যবস্থাপনাই সহজ করে না, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমায়।

ডিপ ফ্রিজ অতিরিক্ত বোঝাই না করা

অনেক পরিবারেই দেখা যায়, সুযোগ পেলে ডিপ ফ্রিজ পুরোপুরি ভরে ফেলা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত বোঝাই করা ডিপ ফ্রিজের জন্য ক্ষতিকর। এতে ফ্রিজের ভেতরের ঠান্ডা বাতাস সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না।

বাতাস চলাচল ব্যাহত হলে কিছু অংশ অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়, আবার কিছু অংশ ঠিকমতো ঠান্ডা হয় না। এর ফলে খাবার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ফ্রিজের কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই ডিপ ফ্রিজে সবসময় কিছুটা খালি জায়গা রাখা উচিত।

গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে না রাখা

রান্না করা খাবার গরম অবস্থায় সরাসরি ডিপ ফ্রিজে রাখা একটি বড় ভুল। এতে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়, যার ফলে অন্য খাবার আংশিক গলে যেতে পারে।

এ ছাড়া গরম খাবার রাখলে ফ্রিজকে আবার আগের তাপমাত্রায় ফিরতে বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। তাই রান্না করা খাবার আগে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে তারপর ডিপ ফ্রিজে রাখাই সঠিক নিয়ম।

ঘনঘন দরজা খোলা থেকে বিরত থাকা

ডিপ ফ্রিজের দরজা যত কম খোলা যায়, তত ভালো। ঘনঘন দরজা খুললে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং বাইরের গরম বাতাস ঢুকে পড়ে। এতে ফ্রিজকে বারবার ঠান্ডা হতে হয়, যা বিদ্যুৎ খরচ বাড়ায় এবং যন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

বিশেষ করে শিশুদের অকারণে ডিপ ফ্রিজের দরজা খোলা থেকে বিরত রাখতে হবে। দরজা সবসময় ঠিকমতো বন্ধ হয়েছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখা জরুরি।

সঠিক স্থানে ডিপ ফ্রিজ বসানো

ডিপ ফ্রিজ বসানোর স্থানও এর কার্যকারিতার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। ফ্রিজ কখনোই দেয়ালের গা ঘেঁষে রাখা উচিত নয়। দেয়াল থেকে অন্তত ১০ সেন্টিমিটার দূরে রাখলে পেছনের ক্যাপাসিটর পর্যাপ্ত বাতাস পায়।

যদি ফ্রিজ দেয়ালের খুব কাছে রাখা হয়, তাহলে ক্যাপাসিটর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, ফলে শব্দ হওয়া, ঠান্ডা কম হওয়া কিংবা যন্ত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নিয়মিত পরিষ্কার ও ডিফ্রস্ট করা

ডিপ ফ্রিজে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বরফ জমে যায়। এই বরফ জমে থাকলে ফ্রিজের কার্যকারিতা কমে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত ডিফ্রস্ট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাসে অন্তত একবার কুসুম গরম পানি দিয়ে ফ্রিজের ভেতর পরিষ্কার করা উচিত। লেবু মেশানো পানি ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ ও ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। পানি নিষ্কাশনের নল বা ছিদ্র পরিষ্কার রাখাও খুব জরুরি, নইলে ফ্রিজের ভেতরে পানি জমে থাকতে পারে।

বর্তমানে বাজারে নানা ব্র্যান্ড ও মডেলের ডিপ ফ্রিজ সহজলভ্য, এবং ফ্রিজের দাম যাচাই করে বাজেট অনুযায়ী নতুন ফ্রিজ নেওয়াও এখন অনেক সহজ।

ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে বিছানায় গেলেও অনেকের চোখে ঘুম আসে না। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করেন, আবার কারও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এমন সমস্যা এক-দুদিন হলে চিন্তার কারণ না হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা হতে পারে অনিদ্রা (ইনসমনিয়া)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে পরদিন ক্লান্তি, কাজে অমনোযোগ, খিটখিটে মেজাজ, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অনেকেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ সেবন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে প্রাকৃতিকভাবেই অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন হয় অনিদ্রা?

অনিদ্রার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা

বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন)

আশপাশের অতিরিক্ত শব্দ

অস্বস্তিকর বিছানা বা ঘুমের পরিবেশ

মদ্যপানের অভ্যাস

অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ

রাতের শিফটে কাজ করার অভ্যাস

অনিদ্রা দূর করতে যা করবেন

১. নিয়মিত মেডিটেশন করুন

মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতে কার্যকর। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট মেডিটেশন করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।

২. ল্যাভেন্ডার অয়েলের ব্যবহার

ল্যাভেন্ডার অয়েল দীর্ঘদিন ধরে অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মানসিক প্রশান্তি এনে ঘুমে সহায়তা করতে পারে। বালিশে সামান্য স্প্রে করা বা ঘাড় ও কাঁধে অল্প পরিমাণে ম্যাসাজ করেও ব্যবহার করা যায়।

৩. নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর অভ্যাস

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের ‘বডি ক্লক’ বা সার্কাডিয়ান রিদমকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে ধীরে ধীরে ঘুমের সমস্যা কমতে পারে।

৪. ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান

ম্যাগনেসিয়াম পেশি শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। ডার্ক চকলেট, বাদাম, অ্যাভোকাডোসহ ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ভালো।

৫. মেলাটোনিন বাড়ায় এমন খাবার

মেলাটোনিন হলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। ডিম, দুধ, মাছ, কলা, মাশরুম, বাদাম ও আখরোটের মতো খাবার শরীরে মেলাটোনিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমানোও জরুরি।

৬. নিয়মিত শরীরচর্চা

প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম না করে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে শরীরচর্চা শেষ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৭. ৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি

অনিদ্রা কমাতে ‘৪-৭-৮’ শ্বাস-প্রশ্বাস কৌশল বেশ জনপ্রিয়। এ পদ্ধতিতে চার সেকেন্ড শ্বাস নিতে হবে, সাত সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখতে হবে এবং আট সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। কয়েকবার অনুশীলন করলে শরীর ও স্নায়ু শিথিল হতে পারে।

আরও কিছু অভ্যাস বদলাতে হবে

ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ পান করা উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, ভারী খাবার ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখলে ভালো ঘুমের সম্ভাবনা বাড়ে।

তবে জীবনযাপনের পরিবর্তনের পরও যদি দীর্ঘদিন অনিদ্রা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, অনিদ্রা অনেক সময় অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।

ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জব্দ করা হাতিটি এখনো সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। হাতিটির মালিকানা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, নাকি বন বিভাগের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে -তা নির্ধারণ হবে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাতিটি সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিক পক্ষ থেকে দুইজন মাহুতকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তারাই নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রতিদিন একটি হাতির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার সংগ্রহ করতে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ ও মাহুতদের। থানা প্রাঙ্গণে হাতির জন্য স্থায়ীভাবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

থানায় অবস্থানকালে হাতিটি প্রায়ই মাহুতদের সঙ্গে থানা চত্বরে হেঁটে বেড়ায়। বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটিকে দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন অপ্রত্যাশিত এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সদরপুর থানার পলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকলেসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই থাকবে। আদালত যদি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে। আর বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, হাতিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, পুলিশ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে আটক এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে হাতিটি থানার হেফাজতেই রয়েছে।