নতুন প্রজন্মের হাতে ফিরল নকশি-পুলি, ফরিদপুরে স্কুলে গ্রাম-বাংলার পিঠা উৎসব
গ্রাম বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শীতের আবহকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ফরিদপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গঙ্গাবর্দীতে অবস্থিত ব্র্যাক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী পিঠা উৎসব। ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনে বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। রঙিন ব্যানার, সাজানো স্টল আর শিশুদের কোলাহলে পুরো এলাকা যেন পরিণত হয় এক গ্রামীণ মেলায়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়ি থেকে হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা নিয়ে আসে। ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা, চিতই, দুধ চিতই, পুলি, নকশি পিঠাসহ নানা স্বাদের পিঠায় ভরে ওঠে স্টলগুলো। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পিঠার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫ টাকা থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।
সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলা এ উৎসবে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে পিঠার স্বাদ গ্রহণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন।
অভিভাবকরা জানান, এমন আয়োজন শিশুদের শিকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে এবং বইয়ের বাইরের বাস্তব শিক্ষা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে শিশুদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও সামাজিক দক্ষতা বাড়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি এমন আনন্দঘন আয়োজন তাদের মানসিক প্রশান্তি দেয়। কেউ কেউ নিজ হাতে পিঠা তৈরি ও বিক্রির মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের ধারণা পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে তাদের আগ্রহ বাড়াবে বলে মনে করে তারা।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদরের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ইকবাল হাসান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির ম্যানেজার (ফিল্ড অপারেশন) প্রসেনজিৎ বিশ্বাস এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন ইসলাম।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চায় এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এমন কার্যক্রম আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক বিকাশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
দিনব্যাপী এই পিঠা উৎসব বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে পরিণত করে এক আনন্দঘন মিলনমেলায়, যেখানে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সুন্দর সমন্বয় নতুন প্রজন্মের মনে গেঁথে দেয় গ্রাম বাংলার চিরচেনা স্বাদ ও অনুভূতি।

আপনার মতামত লিখুন
Array