খুঁজুন
, ,

জামায়াতের বিরোধিতায় কেন হঠাৎ মুক্তিযুদ্ধকে সামনে আনছে বিএনপি?

মরিয়ম সুলতানা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতের বিরোধিতায় কেন হঠাৎ মুক্তিযুদ্ধকে সামনে আনছে বিএনপি?

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি, প্রচারণা চালানোর সময় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রসঙ্গ টানছেন; করছেন সমালোচনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ভূমিকা বাংলাদেশে বহুল আলোচিত বিষয়। অপরদিকে, বিএনপি সবসময় বলে আসছে যে তারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল।

এদিকে, ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় জামায়াতে ইসলামী-ই হলো এবারের নির্বাচনে বিএনপি’র সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। যদিও ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, একটা দীর্ঘ সময় ধরে দুই দল জোটবদ্ধ হয়ে রাজনীতি করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে অবস্থান করার পরও বিএনপি এর আগে একাধিকবার জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট বেঁধে নির্বাচন করেছে, আন্দোলন করেছে, সরকার গঠন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের বিরোধিতা করার জন্য এখন মুক্তিযুদ্ধকে সামনে আনার পেছনে বিএনপি’র রাজনৈতিক কৌশল, ভোটের অঙ্ক ও বর্তমান বাস্তবতা – সবকিছুই কাজ করছে।

তবে এটি আদর্শগত পুনর্মূল্যায়ন, নাকি নির্বাচনের প্রয়োজনে অবস্থান বদল?

এর উত্তরে বিএনপি বলছে, একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দলের “নীতিগত অবস্থান”। তবে জামায়াতের মতে, একটা “মীমাসিংত বিষয়” নিয়ে কথা বলাটা এখন অবান্তর।

নির্বাচনী প্রচারণায় মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে জোর

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত তিনটি রাজনৈতিক দল হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

এর মাঝে এনসিপি এবার জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। সুতরাং, স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি’র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এখন ভোটের মাঠে রয়ে যাচ্ছে দলটির এক সময়ের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

কিন্তু নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দুই দলের মাঝে বাগযুদ্ধ ও তিক্ততা তত বেড়ে চলেছে। যদিও এর আগে দুই দলের নেতারা বলেছিলেন যে, তারা দোষারোপের রাজনীতি করবেন না।

একদিকে জামায়াত যেমন অতীতে বিএনপির আমলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির নানা অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করার বিষয়টি সামনে আনছে।

গত ২২শে জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হলে সেদিনই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটের এক নির্বাচনী সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বলেছেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে “মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি।”

তিনি বলেছেন, “আরে ভাই, আপনাদেরকে তো মানুষ একাত্তরে দেখেছে; ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। একাত্তরে মানুষ দেখেছে আপনারা কীভাবে দেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।”

ওইদিনের আগে-পরে তারেক রহমান তার বিভিন্ন বক্তব্যে এ প্রসঙ্গে একই কথা বলেছেন।

শুধু তিনি নন, বিএনপি’র শীর্ষ নেতাও একাত্তর ও জামায়াত প্রসঙ্গে একই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।

বুধবার, ২৮শে জানুয়ারিও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এই দলটা ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। এই দলটা সেই দল, যারা আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে নাই।”

”যারা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের হাতে কি দেশ চালানোর দায়িত্ব দেওয়া যায়?” – ঠাকুরগাঁওয়ের ওই সভায় তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে এই প্রশ্ন করেন।

জামায়াত ও বিএনপি’র দীর্ঘদিনের পথচলা

২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের এই দীর্ঘ শাসনামলে রাজনীতির মাঠে বিএনপি ও জামায়াত, দুই দলই অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় ছিল। এই সময়ের মাঝে বিএনপি চেয়ারপার্সন প্রয়াত খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য বিএনপি নেতারাও হামলা, মামলা, কারাবরণের শিকার হয়েছেন।

অপরদিকে, মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গোলাম আযমসহ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযুক্তদের তখন বিচার শুরু হয়। অনেক শীর্ষ জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ডও হয়।

সুতরাং, সেই পরিস্থিতির কারণে এই পুরোটা সময়ে সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে দুই দলকে পাশাপাশি দেখা গেছে। কিন্তু তার আগেও তাদের বন্ধুত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো।

অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতে ইসলামীসহ যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো, তাদের পুনর্বাসন করেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

বিশ্লেষকদের মতে, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বলে তখন স্বাধীনতাবিরোধীদের সুযোগ দিয়েছিলেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল, আওয়ামী লীগ বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, আওয়ামী লীগ বিরোধিতার দিক থেকে আদর্শিকভাবে এই দুই দল এক এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতকে পুনর্বাসন করার ক্ষেত্রে “প্রধান ক্রেডিট” বিএনপি’র।

মূলত, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৩৮ ধারা অনুযায়ী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। যেহেতু জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির মূল উপজীব্য ধর্ম; তাই বাংলাদেশে তখন তাদের অস্তিত্ব দৃশ্যত বিলীন হয়ে যায়।

কিন্তু শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে। তার মৃত্যুর পর ১৯৭৬ সালে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

এরপর জামায়াতে ইসলামীর আত্মপ্রকাশ করা ছিল শুধুই সময়ের ব্যাপার। কিন্তু জামায়াত ইসলামী সাথে সাথে আত্মপ্রকাশ করেনি। তারা কিছুটা কৌশলী ভূমিকা অবলম্বন করে।

যেহেতু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধচারণ তখনো সবার মনে টাটকা ছিল, সেজন্য দলটি তাৎক্ষণিকভাবে জামায়াতে ইসলামী নামে আত্মপ্রকাশ করেনি।

এজন্য তারা ভিন্ন একটি রাজনৈতিক দল বেছে নেয়। ১৯৭৬ সালের ২৪শে অগাস্ট জামায়াতে ইসলামী ও আরো কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল মিলে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আই.ডি.এল) নামের একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গঠন করে।

জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা এই দলটির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসেন। আই.ডি.এল’র ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জয়লাভ করেন।

সেবারই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর নেতারা স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদে আসেন। এরপর থেকে জামায়াতে ইসলামী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশও করেছে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক তৎপরতা প্রকাশ্যে ছিল।

সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো, সেখানে জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়লাভ করে।

সেই নির্বাচনে বিএনপি বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের ছিল না। ফলে জামায়াতে ইসলামী’স সাথে জোট বেঁধে তখন সরকার গঠন করে বিএনপি। এরপর ২০০১ সালেও বিএনপি-জামায়াত জোট বেঁধে নির্বাচন করেছিল ও সরকার গঠন করেছিল।

সেই সময়ের চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন তৎকালীন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ।

এ দুজনকেই পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

‘জামায়াত সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে হয় জঙ্গী’

মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বিএনপি হঠাৎ করে যেভাবে সমালোচনা করছে, এটিকে জামায়াত বলছে – আর কোনোভাবে না পেরে বিএনপি এখন “ভোঁতা হাতিয়ার” ব্যবহার করছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষায়, “জামায়াতে ইসলামীকে আদর্শিক, রাজনৈতিক, নৈতিক, চারিত্রিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এই ভোঁতা হাতিয়ারকে ব্যবহার করছে; যা এই জাতি এখন আর গ্রহণ করতে চায় না।”

তার মতে, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাদের জীবদ্দশায় “যে বিষয়টি জাতীয় ঐক্যের আলোকে মীমাংসা করে গেছেন, সকলকে নিয়ে একসাথে দেশ গড়ার উদাহরণ তৈরি করেছেন”, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র উত্তরসূরীরা পরবর্তীতে সেই মীমাংসিত ইস্যুকে “দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে।”

১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াত যুগপৎভাবে আন্দোলন করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তারা জোট বেঁধেছিল ছিলো শুধু বিএনপি’র সাথেই।

বিএনপি’র সাথে জামায়াতের এই দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, “প্রত্যেকের সঙ্গে জামায়াত যখন থাকে, তখন জামায়াত সঙ্গী হয়, আর যখন থাকে না, তখন জঙ্গী হয়। এটাই হলো তাদের ন্যারেটিভ। এটা ব্যাড পলিটিক্যাল মোটিফ।”

“১৯৯১ সালে বিএনপি কেন কেন জামায়াতের সাহায্য নিলো?” প্রশ্ন করে তিনি আরও জানতে চান, “তখন বেগম জিয়ার পক্ষে তার নেতৃবৃন্দ গোলাম আজমের কাছে সরকার গঠনে সাহায্যের জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন…তখন কোন ব্যাখ্যায় তারা এলেন?”

এদিকে, এই জামায়াত নেতা যদিও বলছেন যে তাদের মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা মীমাংসিত।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “মীমাংসিত হলে তো আর আলোচনা হতো না। আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে তো এরকম আলোচনা নাই। এটাই প্রমাণ করে যে মীমাংসিত না, অমীমাংসিত ইস্যু।”

“এখানে গণহত্যার মতো বিষয় আছে। কিন্তু সেটা যদি কেউ ডিনায়ালের মাঝে থাকে আর বলে যে মীমাংসা হয়ে গেছে, সেখানে বিচার ও সত্যের বিষয় চলে আসে,” যোগ করেন তিনি।

‘কলঙ্ক মোছার দায়িত্ব তো আমরা নেই নাই তখন’

জামায়াতের সাথে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আন্দোলন করা এবং দলটির সাথে মিলে জোট সরকার গঠনের পর হঠাৎ করে বিএনপি এখন মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে জামায়াতের সমালোচনা করছে কেন?

জানতে চাইলে বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিবিসি বাংলাকে বলেন, “সেসময় জামায়াত বাংলাদেশে লিগ্যাল পার্টি ছিল। জামায়াতকে নিয়ে আওয়ামী লীগও আন্দোলন করছে। আর আমরা একটা স্ট্র্যাটেজিক ইলেকশন পার্টনার তৈরি করেছি।”

তিনি বলেন, ওই জোট করা হয়েছিলো শুধুমাত্র “নির্বাচনে ভোটের সমীকরণের জন্য।”

“এর অর্থ এই না যে তাদের (জামায়াত) কলঙ্ক মুছে গেছে। কলঙ্ক মোছার দায়িত্ব তো আমরা নেই নাই তখন। আমরা স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার তৈরি করেছিলাম কেবল,” ফের বলেন তিনি।

নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বড় দল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “যারা দেশকেই বিশ্বাস করে নাই, তারা সেই দেশের শাসন ক্ষমতা হাতে নিবে? জাতিকে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে তাদের ভূমিকা কী ছিল?”

তার ভাষ্য, বিএনপি মনে করে না ওই সময়ে নির্বাচনের প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট বেঁধেছিলো বলে বিএনপি এখন তাদেরকে কিছু বলতে পারবে না।

মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে জামায়াতের সমালোচনা করতে বিএনপিকে আগে কখনো দেখা যায়নি কেন?

জানতে চাইলে এই বিএনপি নেতা বলেন, “এখনও আসতো না। যদি না তারা আস্ফালন করতো, মুক্তিযুদ্ধের ন্যারেশনকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করতো, যদি তারা ক্ষমা চাইতো। তারা এগুলোর কিছুই করেনি। বরং, জামায়াতের নেতারা মুক্তিযুদ্ধের ন্যারেশনকে চেঞ্জ করতে চায়। তাই, প্রতিবাদটা সরব রাখতে হবে, যাতে তারা যেন-তেনভাবে এই প্রজন্মকে বোঝাতে না পারে।”

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করাটা বিএনপি’র এবং মুক্তিযোদ্ধাদের “নীতিগত অবস্থান” বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপি’র উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক?

বিএনপি যদিও বলছে যে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তাদের সাথে জামায়াতের আদর্শিক ভিন্নতা আছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপি’র এই সমালোচনার মূল কারণ আসন্ন নির্বাচন। বিশেষ করে, বিএনপি চাইছে আওয়ামী লীগের ভোটগুলো যেন তাদের পক্ষে যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীনের ব্যাখ্যায়, “বাংলাদেশের অনেক মানুষের আবেগের জায়গা মুক্তিযুদ্ধ। বিএনপির অনেকেও মুক্তিযুদ্ধকে ধারণা করে। আর, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের অনেকে এবং অনেক আওয়ামীলীগ বিরোধীও মুক্তিযুদ্ধকে ধারণা করে। সুতরাং, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জামায়াতকে আক্রমণ করাটাকে একটা কৌশল হিসেবে নিয়েছে বিএনপি।”

“শুধুমাত্র জামায়াতকে কেন্দ্র করে বিএনপি কিছু করছে না এখানে। আওয়ামী লীগ যেহেতু নাই এবং প্রতিপক্ষ জামায়াত, তাই বিএনপি’র সাথে এখন দু’টো অস্ত্র। মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্ম। আর মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের তো বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, তাই আওয়ামী লীগের ভোটার টানতে এটা করছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক সাব্বির আহমেদও এই ভোটব্যাংক প্রসঙ্গে একই কথা বলেন।

তবে তিনি এও বলেন, “জামায়াত বিএনপি থেকে আলাদা হয়ে গেছে, এটা বিএনপি মানতে পারছে না। এটা তারা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছে। আর নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্ক হলো শত্রু-শত্রু। তখন এটা হবেই, কিছু করার নেই। প্রচারণায় জামায়াতের দুর্বলতা বিএনপি ব্যবহার করবে, আবার জামায়াত বিএনপির দুর্বলতাকে ব্যবহার করবে।”

যদিও বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে বিএনপি’র জামায়াতের সমালোচনা নির্বাচনী প্রচারণার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

কারণ “এটা ইউনিভার্সাল, এটা চিরকাল থাকবে। জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায় নাই, বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করেছে, এটা আমরা বারেবারে বলবো,” যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র প্রকল্পের একজন গবেষক ছিলেন আফসান চৌধুরী। একাত্তরের ঘটনাবলী নিয়ে অনেকগুলো বইও লিখেছেন তিনি।

মি. চৌধুরীর মতে, “আমাদের দেশে আমরা ইতিহাসকে রাজনীতি বানিয়ে ফেলেছি। এটা শুধু (জামায়াতের সমালোচনা) নির্বাচনের বিষয় না। এটা সকল কালে হয়ে গেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এটা (সমালোচনা করছে) এবং নির্বাচনের পরেও এটা করবে।”

তবে অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, এখন এক দল আরেক দলকে বিষেদগার করলেও শেষমেশ এদের “জোটে ফাটল ধরার সম্ভাবনা কম। কারণ আগের মতো এখনও বাংলাদেশে জামায়াতের শক্ত অবস্থানের পেছনে বিএনপি’র ভূমিকা রয়েছে।”

পাঁচই অগাস্টের পরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের বেশ শক্ত প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনে জামায়াতের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছাত্র শিবির বিশাল জয় পেয়েছে।

ফলে সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের অবর্তমানে জামায়াতকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছে বিএনপি। এ কারণেই দুই দলই তাদের বক্তব্যে নানাভাবে একে অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

‘জুলাইয়ের বিজয় কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের বিজয়’ —পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
‘জুলাইয়ের বিজয় কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের বিজয়’ —পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, “জুলাইয়ের যোদ্ধারা শুধু কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নামেননি। তারা দীর্ঘ ১৭ বছরের গুম, খুন, সন্ত্রাস, নির্যাতন ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই আন্দোলন করেছিলেন। এই বিজয় কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, এটি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত বিজয়।”

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শহীদ আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, “গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকার, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। তাই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে মানুষের আত্মত্যাগ, সাহস এবং গণতন্ত্রের প্রতি অটল অঙ্গীকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। শহীদদের এই আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করবে।”

তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করেই একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে বিভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেস আলী ইছা, নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহিনুজ্জামান শাহিন, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান ওহিদ, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহাবুব আলী মিয়া এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করেন এবং গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করলে কী হয়, কীভাবে এগুলো এড়ানো যায়?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করলে কী হয়, কীভাবে এগুলো এড়ানো যায়?

সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ফুড-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমাদের পানীয় জল, সামুদ্রিক খাবার, ফলমূল, শাকসবজি, লবণ, মধু, চা, চাল, এমনকি শ্বাস নেওয়ার বাতাসেও এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা খুঁজে পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা এমনকি মানুষের রক্ত, ফুসফুস, হৃদযন্ত্রের ধমনী এবং গর্ভফুলের মধ্যেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন।

যদিও এই কণাগুলো আমাদের শরীরে ঠিক কতটা ক্ষতিকর তা নিয়ে গবেষণা চলছে, তবে প্রাথমিক ফলাফলগুলো যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক আসলে কী?

৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের প্লাস্টিকের কণাগুলোকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। বড় প্লাস্টিক পণ্য যেমন বোতল, প্যাকেট বা সিন্থেটিক কাপড় সময়ের সাথে সাথে ভেঙে এই ক্ষুদ্র কণা তৈরি করে। এর চেয়েও ক্ষুদ্র কণা হলো ন্যানোপ্লাস্টিক, যা খালি চোখে দেখা যায় না এবং এগুলো মানবদেহের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়।

কীভাবে এগুলো আমাদের খাদ্যে প্রবেশ করে?

খাদ্যশৃঙ্খলের প্রায় প্রতিটি স্তরেই মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করতে পারে:

দূষিত মাটি ও পানির মাধ্যমে উদ্ভিদ ও মাছের শরীরে।

প্লাস্টিক প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সময়।

রান্না বা খাবার সংরক্ষণের সময় বাতাসের মাধ্যমে ধুলোবালি হিসেবে খাবারের ওপর জমে।

মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বড় মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলো সাধারণত পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়, কিন্তু ক্ষুদ্রতম কণা বা ন্যানোপ্লাস্টিকগুলো রক্ত ও টিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে। এর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবগুলো হলো:

প্রদাহ ও দীর্ঘমেয়াদী রোগ: মাইক্রোপ্লাস্টিক কোষকে উত্তেজিত করে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস: এটি শরীরের কোষ, প্রোটিন এবং ডিএনএ-র ক্ষতি করতে পারে।

পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট: গবেষণা বলছে, এটি আমাদের অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

রাসায়নিক ঝুঁকি: প্লাস্টিকে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর অ্যাডিটিভ বা পরিবেশ থেকে শোষিত ভারী ধাতু আমাদের শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি এড়ানোর উপায়

পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সবখানে বিদ্যমান থাকায় একে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা অসম্ভব, তবে কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে এর সংস্পর্শ কমিয়ে আনা সম্ভব:

১. প্লাস্টিকে গরম করা বন্ধ করুন: প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার রেখে মাইক্রোওয়েভে গরম করবেন না; পরিবর্তে কাঁচ বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করুন।

২. কাঁচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার: পানির বোতল, টিফিন বক্স বা খাবার সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের বদলে কাঁচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা নিরাপদ।

৩. অতিরিক্ত গরম খাবার থেকে সাবধান: খুব গরম চা বা কফি প্লাস্টিকের কাপে পান করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ তা প্লাস্টিক কণা নিঃসরণ বাড়ায়।

৪. ফল ও সবজি ভালো করে ধোয়া: খাওয়ার আগে ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিলে উপরিভাগে জমে থাকা প্লাস্টিক কণা বা ধুলো পরিষ্কার হয়।

৫. ফিল্টার করা পানি পান: বোতলজাত পানির তুলনায় ফিল্টার করা কলের পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক কম থাকার সম্ভাবনা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সচেতন থাকা এবং প্লাস্টিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে আনাই বুদ্ধিমানের কাজ।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড

বাঙ্গালী আমৃত্য জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে : শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
বাঙ্গালী আমৃত্য জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে : শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ও ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ পতন উপলক্ষে বিএনপির বিজয় র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোয়ালমারী উপজেলা ও পৌর বিএনপির(একাংশ) আয়োজনে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বোয়ালমারী রেলস্টেশন থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে পৌরসদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বোয়ালমারী চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

র‍্যালীতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে র‍্যালিটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। র‍্যালী শেষে বোয়ালমারী চৌরাস্তায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

র‌্যালী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে বাঙালি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে। জুলাই আন্দোলনে ছাত্রজনতা জীবন দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি কোনোদিন ভুলবে না। আর কোনোদিন যাতে জুলাইয়ের জঘন্যতম দিন না আসে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, মফিজুর কাদের খান মিল্টন, জাহাঙ্গীর আলম কালা মিয়া, সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মিনাজুর রহমান লিপন, পৌর সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মনির হোসেন, জাসাসের সাবেক সভাপতি শাইন আনোয়ার, যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব হাসান সজীব, ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক যাকারিয়া মোল্লা সুমন, জুয়েল প্রমুখ।