খুঁজুন
, ,

চাঁদাবাজ ধরে ভাইরাল, ফরিদপুর-৩ আসনে আলোচনায় আসিফ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজ ধরে ভাইরাল, ফরিদপুর-৩ আসনে আলোচনায় আসিফ

ফরিদপুর শহরকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে সম্প্রতি সময়ে ফের জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের সময় এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ। ঘটনার পর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা রুজু হওয়া নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী জুলাই যোদ্ধা মো. জনি বিশ্বাস। অনেকে এখানে আসিফকে নিরাপত্তা বাহিনীর মতো জনতার রক্ষাকারী হিসেবে দেখছেন, যার কারণে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মাঠে থাকায় বিভিন্ন সময়ের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তার।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াই করছেন মোরশেদুল ইসলাম আসিফ। তিনি ফরিদপুর-৩ (ফরিদপুর সদর উপজেলা) থেকে অংশ নিয়েছেন এবং রাজনৈতিকভাবে কোনো বড় দল সমর্থন না থাকলেও জনমুখে জনপ্রিয়তার ক্রমবর্ধমান ছাপ ফেলেছেন।

চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সরাসরি ভূমিকা:

সাম্প্রতিক ঘটনায় জানা যায়, শহরের ব্যস্ত এলাকায় ফুটপাত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছিল ইব্রাহিম শেখ নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাকে বাধা দিলে আসিফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যুবকটিকে আটক করেন এবং পুলিশকে হস্তান্তর করেন। পুলিশ পরে তাকে হেফাজতে নেয় এবং মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনাটি ফরিদপুরবাসীর মধ্যে তাৎক্ষণিক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি চাঁদাবাজি প্রতিরোধে প্রার্থী নিজেই সরাসরি মাঠে নামার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

মানুষের পাশে জনসেবামূলক কাজ:

চাঁদাবাজিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি আসিফ জনসেবামূলক কাজকেও গুরুত্ব করে চলেছেন, যা দীর্ঘসময় ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। সম্প্রতি তিনি ফরিদপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় জরুরি ফগিং এবং মশা নিধন কার্যক্রম জোরদারের দাবি উঠিয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। এতে তিনি পৌর প্রশাসককে লিখিতভাবে দ্রুত ফগিং, লার্ভিসাইড স্প্রে, ড্রেন ক্লিনিং এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালুর অনুরোধ জানান, বিশেষ করে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার্থে।

এছাড়া, স্থানীয় গণমাধ্যমেও তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে আসিফ মানবসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রবাসী হিসেবে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের দাতব্য সংস্থা “আসিফ ফাউন্ডেশন” এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “কুরাইশ নিউজ” এর মাধ্যমে অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের পাশে কাজ করে যাচ্ছেন। এতে তার মানবিক ও স্থানীয় উন্নয়নমূলক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

নির্বাচনী পরিবেশ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা:

ফরিদপুর-৩ আসনে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দলগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসিফের জনপ্রিয়তার ক্রমবিকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে ২৮ জন প্রার্থী লড়াইয়ে থাকলেও ভোটের প্রতীক বরাদ্দে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রতীক পেয়েছেন, আর আসিফ নিজের প্রতীক হরিণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গত নির্বাচনী পর্যায়ে (আগের নির্বাচনে) ফরিদপুর-৩ কেন্দ্রটি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল—কয়েকজন প্রার্থীর অফিস বা কর্মসূচিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যদিও তখনকার পরিস্থিতিতে পুলিশ তদন্ত করেছিল।

স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া:

ফরিদপুর শহরের ফুটপাত ব্যবসায়ীরা জনতার স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য মাঠে অবস্থান নেয়া প্রতি প্রার্থীর এই ধরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি সদস্যরা বারবার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ চাই—যা তারা মনে করেন কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়, বরং নেতৃত্বদাতা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত।

ভবিষ্যৎ শাসন ও ভোটের পরিশেষে প্রভাব:

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান, জনসেবামূলক যোগাযোগ এবং স্থানীয় সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের অনুরোধ—এসব পদক্ষেপ মোরশেদুল ইসলাম আসিফকে শুধুমাত্র ভাইরাল একজন প্রার্থী হিসেবে নয় বরং ‘জনগণের নেতা’ হিসেবে তুলে ধরছে। নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় আলোচনায় এই তথ্যগুলি সমর্থকদের মধ্যে সরবরাহ হলে নির্বাচনী মাঝে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ফরিদপুর-৩ আসনে ভোটাররা এখন চাঁদাবাজি বিরোধী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকা প্রার্থীর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন, এবং এই পরিস্থিতি আসিফের নির্বাচনী অভিযানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এমপি প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ বলেন— ফরিদপুর শহরকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করাই আমার প্রথম অঙ্গীকার। সাধারণ ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষের ঘামঝরা আয় কেউ জোর করে নিতে পারবে না। আমি কোনো দলের শক্তিতে নয়, জনগণের শক্তিতে রাজনীতি করছি। যেখানে অন্যায় দেখবো, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবো—এটাই আমার অবস্থান। ডেঙ্গু, মশক নিধন, ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতা—এসব মৌলিক সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই।

তিনি বলেন, নিম্নআয়ের মানুষ যেন সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি আমি গুরুত্ব দিচ্ছি। ফরিদপুর-৩ আসনকে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক রাজনীতির মডেল করতে চাই। হরিণ প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণ যদি সুযোগ দেন, তাহলে সবার জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করবো।

বোয়ালমারীতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ট্রেনের ধাক্কায় রহিমা বেগম (৯০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। 

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের শেখর বাজারসংলগ্ন অরক্ষিত রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রহিমা বেগম উপজেলার দিঘিরপাড় গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের স্ত্রী।

রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকালের দিকে রহিমা বেগম রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় পাংশা থেকে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়াগামী ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, রহিমা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং কানে কম শুনতেন।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সরল কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং রাজবাড়ী রেলওয়ে থানাকে বিষয়টি জানান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে রেলওয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সালথায় পাট শুকানোর আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

জাকির হোসেন, সালথা:
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
সালথায় পাট শুকানোর আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বশির মাতুব্বরের বসতবাড়ির পাশে একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশ দিয়ে আড়া বাঁধেন হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। পরে মুসল্লিরা বাঁশের ওই আড়া খুলে দেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবি মাতুব্বরের সমর্থকরা বশির মাতুব্বরকে আড়া খুলে ফেলার জন্য দায়ী করেন। একপর্যায়ে তারা বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি বাঁশের আড়া খোলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে

এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান (হবি মেম্বার) বলেন, পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। এর বাইরে আমি কিছু জানিনা। তবে আহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার সমর্থকদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছে।

বছির মাতুব্বর বলেন, বাঁশের আড়া খোলার সাথে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে দায়ী করে আমার বসতবাড়ীতে হামলা চালায়। এময় আমার স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হয়। বর্তমানে আমার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি আছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে ঐ এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে নগরকান্দাকে ভোক্তাবান্ধব উপজেলা গড়া সম্ভব’

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
‘সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে নগরকান্দাকে ভোক্তাবান্ধব উপজেলা গড়া সম্ভব’

ফরিদপুরের নগরকান্দায় কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নগরকান্দা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে ক্যাবের নবগঠিত উপজেলা কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ পণ্য ও সেবা নিশ্চিতকরণ, বাজারে স্বচ্ছতা এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ক্যাবের নগরকান্দা উপজেলা শাখার সভাপতি এহসানুল হক মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক তারেক আইয়ুব খাঁন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, খাদ্যে ভেজাল, কম ওজনে পণ্য বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতন ভোক্তা, দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী এবং সক্রিয় সামাজিক সংগঠন। ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে ক্যাবের উপজেলা কমিটিকে প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ক্যাব দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তার অধিকার, নিরাপদ পণ্য ও সেবা, ন্যায্যমূল্য, বাজারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে। নবগঠিত নগরকান্দা উপজেলা কমিটির সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জানাতে হবে।

এ সময় ব্যবসায়ীদের প্রতি ন্যায্য দামে মানসম্মত পণ্য বিক্রি এবং ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা না করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, একজন সন্তুষ্ট ভোক্তাই একজন ব্যবসায়ীর সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই ব্যবসা পরিচালনায় সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, ক্যাবের জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত কুমার নাগ, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ফরহাদ, কোষাধ্যক্ষ রবিউল হাসান রাজিব, নির্বাহী সদস্য মো. সেন্টু মিয়া, নগরকান্দা বাজার বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামছুল হুদা হুদু, নগরকান্দা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান, নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ, শহীদ আকরুমুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলী মিয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) একটি বেসরকারি, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী ও ভোক্তা অধিকারভিত্তিক নাগরিক সংগঠন। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তার অধিকার রক্ষা, বাজারদর পর্যবেক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য ও পণ্যের পক্ষে প্রচারণা, ভোক্তা শিক্ষা, গবেষণা, জরিপ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সুপারিশ ও অ্যাডভোকেসির কাজ করে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সংগঠনটি ভোক্তা অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।