খ্যাতির চেয়েও বড় পরিবার—শাহরুখ খানের জীবনের আসল গল্প
রুপালি পর্দার মত নিজের পরিবারেও ‘হিরো’ বলিউডি নায়ক শাহরুখ খান। তিনি যে কেবল একজন তারকা হিসেবে ‘অসাধারণ জীবন কাটাচ্ছেন’ তা নয়, পিতৃত্ব নিয়েও তৃপ্ত ‘বলিউড বাদশা’।
নিজেকে আরিয়ান, সুহানা ও আব্রামের ‘গর্বিত বাবা’ বলে মনে করেন। তার জীবন এবং পছন্দের ব্যাপারে সন্তানদের প্রভাব যে কতটুকু, তা নিয়েও অকপট শাহরুখ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনে সন্তানদের প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন ‘কিং খান’।
শাহরুখের ভাষ্য, এখনো ব্যক্তিগত এবং পেশাগত বিষয়ে পরিবার তাকে নির্দেশনা দেয়।
“সন্তানরাই আমার সেরা সমালোচক। পরিবারই আমাকে পথ দেখায়, যত ব্যস্তই থাকি না কেন, তারাই আমাকে মাটিতে রাখে আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মনে করিয়ে দেয়।”
উত্তরাধিকার নিয়ে নিজের ধারণাও তুলে ধরেন শাহরুখ।
‘পাঠান’ তারকার ভাষায়, “শুধু পেশাগত সাফল্য দিয়েই নয়, পরিবারের সাথে মূল্যবোধ এবং নানা স্মৃতি ভাগাভাগি করার মধ্যে দিয়েও আমি একে সংজ্ঞায়িত করতে পারি। উভয়ের ভারসাম্য রাখতে হবে। আমি আমার আবেগ আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বাবা হওয়ার নির্মল আনন্দগুলোকে কখনোই হারিয়ে ফেলি না।”
আরিয়ানের সাথে কাজ
‘দ্য ব্যাডস অব বলিউড’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে হাতেখড়ি হয়েছে শাহরুখ তনয় আরিয়ান খানের। এর আগে বাবা-ছেলে মিলে কাজ করেছেন ‘দ্য লায়ন কিং’য়ে। ১৯৯৩ সালের অ্যানিমেটেড এই ক্লাসিক নতুন করে জন ফ্যাব্রো নির্মাণ করেন ২০১৯ সালে। যেখানে মুফাসা চরিত্রে শাহরুখ আর সিমবা চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আরিয়ান।
সেই অভিজ্ঞতাও স্মরণ করেছেন শাহরুখ।
“‘দ্য লায়ন কিং’ যখন মুক্তি পায়, সময়টা এখনো মনে আছে আমার, কীভাবে এর চরিত্রগুলো আর সাউন্ডট্র্যাকে মুগ্ধ হয়েছিলাম। ছেলেমেয়েরা যখন বড় হচ্ছিল, তখন এটি আমাদের রাতে দেখার মতো অন্যতম সিনেমা হয়ে উঠেছিল। তাদের সাথে এর জাদু ভাগাভাগি করা আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি। তারপর থেকে, সম্পর্কটা আরো গভীর হয়েছে। আমার সন্তানরাই এই গল্পের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।”
সন্তানদের বেড়ে ওঠা নিয়েও তৃপ্ত শাহরুখ।
‘ডিডিএলজে’ (দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে) তারকা বলেন, “আমি সন্তানদের নিয়ে খুবই গর্বিত। পারফরমার এবং ব্যক্তি হিসেবে তাদের বেড়ে উঠতে দেখাটাও আমার জন্য সৌভাগ্যের।”
সৃজনশীর বিষয়ে সন্তানদের সঙ্গে কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, “কণ্ঠ দেওয়াটা সবসময়ই মজার। …আমি তাদের শুধু দেখিয়ে দিয়েছি, তারা নিজেদের কৌতুহল আর কল্পনার মাধ্যমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির দিকে আমার চোখ খুলে দিয়েছে।”
শৈশবের কথাও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে।
শাহরুখ বলেন, “আমার বাবা আমার প্রতি ভালোবাসা দেখাতে কার্পণ্য করেননি। আশা করি, আমি একইভাবে আমার সন্তানদের নিজস্ব পথে হাঁটার স্বাধীনতা ও সুযোগ তৈরির পথ দেখাতে পারব।”
মুম্বাইয়ের শুরুর দিনগুলো
মুম্বাইয়ের শুরুর দিনগুলোও ভোলেননি শাহরুখ।
“যখন আমি প্রথম মুম্বাইয়ে আসি, একদিন জলের ধারে দাঁড়িয়ে ছিলাম, অল্প নিশ্চয়তা আর বিশাল আশা নিয়ে। ভাবছিলাম, আমি কী হতে চাই। সেই মুহূর্তটা আমার এখনো মনে আছে।
“সমুদ্র আপনাকে নত হতে শেখাবে। আপনি অনুধাবন করতে পারবেন, সবকিছু আপনার নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন নেই। সেই বিশালতা মনে করিয়ে দেবে, আপনার চাইতে বিশাল অনেক কিছুই আছে। বড় স্বপ্ন দেখা এবং কিছু ছেড়ে দেওয়ার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই বছরের পর বছর ধরে চলছি।”
সামনে আসতে চলেছে শাহরুখ খানের ‘কিং’ সিনেমা। ডিসেম্বরে এটি প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা রয়েছে। এই সিনেমাতেই প্রথমবারের মত মেয়ে সুহানা খানের সঙ্গে দেখা যাবে শাহরুখকে।

আপনার মতামত লিখুন
Array