খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন ঘিরে তোলপাড়, আসল কারণ কী?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন ঘিরে তোলপাড়, আসল কারণ কী?

বাংলাদেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্ব গভর্নর পদে আকস্মিক পরিবর্তন দেশটির অর্থনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, হঠাৎ কি কারণে মেয়াদ থাকার পরও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটির গভর্নরকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কযেকদিনের মধ্যে নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি ব্যাংকিং খাতের পেশাদারিত্ব এবং স্বায়ত্তশাসনের গতিপ্রকৃতি নিয়েও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলেই মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টদের অনেকে।

তারা বলছেন, নতুন সরকার এলে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু যেভাবে এটি করা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

সাবেক গভর্নরকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ভালো ইঙ্গিত নয় বলেই মনে করেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।

তিনি বলছেন, “একজনকে সরিয়ে আরেকজনকে নিয়োগ দেওয়া হলো, তার মানে আগে থেকেই সব প্রস্তুত ছিল। রাখতে না চাইলে ওনাকে আগে থেকেই বলে দিলে হতো।”

এছাড়া মি. মনসুর গভর্নর থাকা অবস্থায় আর্থিক খাতের সংস্কারে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো চলমান থাকবে কিনা- এ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইন পরিবর্তনের যে কাজগুলো সাবেক গভর্নর করেছেন, সেগুলো সংসদে পাশ না হলে এটি ব্যবহার করে বিগত সরকার যেসব কাজ করেছে তার সবই বৈধতা হারাবে বলেও মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পরিবর্তন কেবল একজন ব্যক্তির প্রস্থান বা আগমনের বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার সাথে জড়িত।

গভর্নর হিসেবে নতুন নিয়োগ পাওয়া মোস্তাকুর রহমানকে নিয়েও নানা আলোচনা সামনে আসছে।

বিশেষ করে মি. রহমানের ব্যবসায়িক পরিচয়ের সঙ্গে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে কিনা, এমন প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদদের অনেকে।

তবে এ নিয়ে বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নতুন সরকারের যে কর্মসূচি বা অগ্রাধিকার রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজনে আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হবে। এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয় বলেও মন্তব্য তার।

“একটা নতুন সরকার এসেছে। নতুন সরকারের অগ্রাধিকার আছে। পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকেই হয়নি। এটা অনেক জায়গায় হচ্ছে এবং হতেই থাকবে,” বলেও জানান মি. চৌধুরী।

পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা ইস্যুতে অস্থিরতা চলছিল বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে। গভর্নরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কর্মসূচি পালন করছিলেন ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানান, সরকার বদলের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র কর্মকর্তাদের অনেকে গভর্নরের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানাচ্ছিলেন।

গত ২৩ ও ২৪শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের নেতৃত্বে কয়েকশ কর্মকর্তা সাবেক গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিও করেছেন বলে জানান তিনি।

বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ ছিল, ড. আহসান এইচ মনসুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশাসনে ‘স্বৈরাচারী’ মনোভাব কায়েম করেছিলেন এবং ব্যাংকের নিজস্ব বিধি লঙ্ঘন করে বিলাসবহুল গাড়ি কেনাসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মে জড়িয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে সদ্য সাবেক গভর্নরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার সাড়া মেলেনি।

অবশ্য তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর আগে একটি সংবাদ সম্মেলনে মি. মনসুর দাবি করেছিলেন, কোনো গোষ্ঠীর ইঙ্গিতে প্রতিষ্ঠানের বিধিবিধান না মেনে এখতিয়ার বহির্ভুত বিষয়ে মন্তব্য করায় কয়েকজন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে।

“বাংলাদেশ ব্যাংকে যেটা ঘটছে সেটি অনভিপ্রেত। কোনো একটা বিশেষ মহল কিছু স্বল্প সংখ্যক কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা এবং অর্জনকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে কাজ করছে,” বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক ছিল না বলেই মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্টদের অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি বেসরকারি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে যদি বিক্ষোভের মুখে বিদায় নিতে হয়, তবে তা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে।

দেশের ব্যাংক খাতের ভবিষ্যতের জন্য এই ঘটনা মোটেই স্বস্তির নয় বলেও মনে করেন তারা।

নিয়োগ বাতিল ও নতুন নিয়োগের পুরো বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে যাওয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি এর গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলছেন, “অর্থনীতি নিয়ে সরকারের নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনা থাকতেই পারে কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এভাবে বিদায় জানাতে হবে। আগের গভর্নরকে কেন যেতে হলো, সেটার কারণই আমরা পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না।”

সংস্কার কার্যক্রমের কি হবে?

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিশাল অংকের খেলাপি ঋণ, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব বিদ্যমান রয়েছে।

অর্থনীতিবিদের অনেকেই বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে বেশ কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি কাঠামো সংস্কার এবং ব্যাংক পুনর্গঠনের মতো বেশ কিছু আলোচিত পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ এর পক্ষ থেকেও খেলাপি ঋণ কমানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপরও কড়া শর্ত দেওয়া হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারির দাবির প্রেক্ষিতে তাকে সরিয়ে দেওয়ার হঠাৎ সিদ্ধান্ত সংস্কার কাজগুলোকে অনিশ্চয়তায় ফেলবে বলেই মনে করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলছেন, “রিফর্ম সব সময়ই জটিল। কারণ অনেক পক্ষ এটা পছন্দ করে না, এতে নাখোশ হয়। সেটাতে যদি সরকার প্রভাবিত হয়ে থাকে, সেটা দুঃখজনক।”

বিগত সরকারের সময় নেওয়া আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রমগুলোও বাঁধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।

তিনি বলছেন, সাবেক গভর্নর অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে আইন পরিবর্তনের কিছু কাজ করেছেন যেগুলো সংসদের মাধ্যমে পাশ হতে হবে।

বিশেষ করে ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স যদি সরকার পাশ না করে, তাহলে এটি ব্যবহার করে বিগত সরকার যেসব কাজ করেছে তার সবই বৈধতা হারাবে।

“পাঁচটি ব্যাংক একিভূতকরণের যে কাজগুলো হয়েছে, যেখানে সরকার ৩২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এটিও একটি জটিলতার মধ্যে পড়বে,” বলেও মত মি. হোসেনের।

নতুন গভর্নর এবং ‘স্বার্থের সংঘাত’ বিতর্ক

নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত মি. রহমান দেশের আর্থিক খাত সংস্কারে কতটা ভূমিকা রাখতে পারবেন, এ নিয়েও নানা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ চলছে।

জানা গেছে, দায়িত্ব পাওয়া নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান পোশাক, আবাসন ও ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, কাগজে কলমে যা আছে কেবল তার ভিত্তিতেই নতুন গভর্নরের যোগ্যতার বিচার করা ঠিক হবে না।

তার ডিগ্রি এবং বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ডের বিষয়গুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার জন্য অপ্রাসঙ্গিক নয় বলেও মনে করেন তিনি।

তবে “কনফ্লিকট অব ইন্টারেস্টের বিষয়গুলো সামনে আসলেই একটু থমকে যেতে হয় যে, এগুলো ঠিকমতো রিসল্ভ হয়েছে কিনা- এটিই প্রশ্ন,” বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. মোয়াজ্জেম।

সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে অর্থনীতিবিদ বা পেশাদার আমলাদেরই অতীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো এমন একজনকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো যিনি পোশাক ও রিয়েল এস্টেট খাতের একজন ব্যবসায়ী।

এছাড়া দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকে তার নামে থাকা একটি লোন পুনঃতফসিল করার বিষয়টি নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে।

এক্ষেত্রে ঋণ খেলাপিদের শাস্তি দেওয়া বা ব্যাংক তদারকি করার ক্ষেত্রে তিনি কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন, তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন অনেকে।

“তিনি হয়তো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থেকে সরলেন কিন্তু মালিকানা তো তারই। এছাড়া লোন পুনঃতফসিলের বিষয়টিও তো কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের জায়গা,” বলেন মি. মোয়াজ্জেম।

এছাড়া এই পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদদের অনেকে।

মূলত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালিত হয় ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার অনুযায়ী। যেখানে কিছু নির্দেশনা থাকলেও গভর্নর নিয়োগে নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই।

এমনকি ব্যবসায়ী বা অন্য কোনো পেশার মানুষ গভর্নর হতে পারবেন না, এমন কিছুও সেখানে উল্লেখ নেই।

দেশের আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই পদটিতে নিয়োগের সিদ্ধান্ত সরকারের। এক্ষেত্রে চার বছর মেয়াদে নিয়োগের কথা বলা হলেও সরকার চাইলে মেয়াদ বাড়াতে পারবে।

গভর্নর নিয়োগ এবং বাতিলের একটি প্রক্রিয়া থাকা উচিত বলেই মনে করেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।

তিনি বলছেন, “যোগ্য ব্যক্তিদের শর্টলিস্ট করে, তাদেরকে ডাকা হবে, তার মধ্য থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এটি না হলে নিয়োগ এবং বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

সালথায় বেকারিতে অগ্নিকাণ্ড, আগুনে পুড়ল ময়দা-চিনি ও তিন মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
সালথায় বেকারিতে অগ্নিকাণ্ড, আগুনে পুড়ল ময়দা-চিনি ও তিন মোটরসাইকেল

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রসুলপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বেকারি, তিনটি মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পুড়ে গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) ভোর ৫ টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা আহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুর বাজারে সেলিম মাতুব্বরের মালিকানাধীন আল্লাহরদান বেকারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বেকারিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের নীরবতায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন এবং একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে সালথা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে আশপাশের দোকান ও স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

অগ্নিকাণ্ডে বেকারির ভেতরে থাকা দুটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল, একটি রানার মোটরসাইকেল, প্রায় ২০ বস্তা ময়দা, ২৫ বস্তা চিনি, বেকারি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং পুরো টিনশেড ঘর পুড়ে যায়। এতে মালিকের প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সালথা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল জলিল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বেকারির চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বেকারি মালিকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভোরে আগুন লাগার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ক্ষতিগ্রস্ত বেকারিটি এলাকার অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর আর্থিক ক্ষতি বেশ বড়। দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে বেকারির কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিকভাবে চালু করা সম্ভব হবে।

অল্প বয়সী নারীরা কেন বয়স্ক পুরুষের প্রেমে পড়ে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
অল্প বয়সী নারীরা কেন বয়স্ক পুরুষের প্রেমে পড়ে?

প্রেম বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে বয়স সবসময় নির্ধারক নয়। মানুষের অনুভূতি, পছন্দ কিংবা মানসিক সংযোগ অনেক সময় বয়সের সীমা অতিক্রম করে যায়। যদিও অধিকাংশ সম্পর্কেই দুই সঙ্গীর বয়স কাছাকাছি থাকে, তবুও বাস্তবে এমন অনেক সম্পর্ক দেখা যায় যেখানে নারীর বয়স তুলনামূলক কম এবং পুরুষের বয়স বেশি। কেন এমনটা ঘটে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে বয়সে বড় পুরুষদের প্রতি অনেক নারীর আকর্ষণের মূল কারণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নয়; বরং মানসিক পরিপক্বতা, দায়িত্বশীলতা, স্থিরতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ। আধুনিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মানসিক পরিপক্বতা তৈরি করে আস্থা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, যা তার চিন্তাভাবনা ও আচরণে পরিপক্বতা আনে। বয়সে বড় পুরুষরা সাধারণত আবেগ নিয়ন্ত্রণে বেশি দক্ষ হন এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অযথা উত্তেজিত হওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বা অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

বাস্তবভিত্তিক সম্পর্কের প্রতি ঝোঁক

পরিণত বয়সের অনেক পুরুষ সম্পর্ককে কেবল আবেগের জায়গা থেকে নয়, বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করেন। তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন। সম্পর্কে কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা এড়িয়ে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার প্রবণতাও তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে থাকে আত্মবিশ্বাস

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বয়সে বড় অনেক পুরুষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা ব্যক্তিগত বিষয়ে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমাতে সাহায্য করে। এই স্থিরতা অনেক নারীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে স্পষ্ট

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্ব অনেক। বয়সে বড় অনেক পুরুষের ক্যারিয়ার, পরিবার এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকে। ফলে সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কম দেখা যায় এবং সঙ্গীর মধ্যেও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা

জীবনের নানা অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে নতুন পরিবেশ ও ভিন্ন মতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায়। অনেক পরিণত বয়সের পুরুষ এই অভিযোজন ক্ষমতার কারণে বিভিন্ন সামাজিক বা পারিবারিক পরিস্থিতিতে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। অনেক নারী এই গুণটিকেও ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করেন।

পারস্পরিক সম্মান ও সহানুভূতির গুরুত্ব

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বয়সে বড় অনেক পুরুষ সম্পর্কে সঙ্গীর মতামতকে গুরুত্ব দেন, ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করেন এবং প্রয়োজন হলে সমঝোতার পথও বেছে নেন। এই ধরনের আচরণ সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বদলে গেছে সম্পর্কের ধারণা

একসময় ধারণা ছিল, বয়সে বড় পুরুষের প্রতি নারীদের আকর্ষণের প্রধান কারণ আর্থিক নিরাপত্তা। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। এখন অনেক নারী এমন একজন সঙ্গীকে গুরুত্ব দেন, যিনি দায়িত্বশীল, আবেগ বোঝেন, খোলামেলা যোগাযোগে বিশ্বাসী এবং সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, পরিণত বয়সের অনেক পুরুষ দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়তে বেশি আগ্রহী হন। তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং দায়িত্ববোধকে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন।

বয়স নয়, সম্পর্কের ভিত্তি বোঝাপড়া

তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও স্পষ্ট করে বলছেন, শুধু বয়স বেশি হলেই কেউ আদর্শ জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠেন না। একইভাবে কম বয়স মানেই অপরিপক্ব এমন ধারণাও সঠিক নয়। একটি সম্পর্কের সফলতা নির্ভর করে ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, যোগাযোগের দক্ষতা এবং বোঝাপড়ার ওপর।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে তখনই, যখন দুইজন মানুষ একে অপরকে সম্মান করেন, বিশ্বাস করেন এবং মানসিকভাবে একসঙ্গে পথ চলতে প্রস্তুত থাকেন।

ফরিদপুরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভেস্তে গেল গোল্ডকাপ ফাইনাল, খেলা ছাড়াই মিলল শিরোপা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভেস্তে গেল গোল্ডকাপ ফাইনাল, খেলা ছাড়াই মিলল শিরোপা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি। দুই দলের লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকা হাজারো দর্শকের হতাশার মধ্যেই প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক বিরোধে এক দল মাঠে না আসায় টুর্নামেন্টের পরিসমাপ্তি ঘটে ওয়াকওভারের মাধ্যমে। পরে টুর্নামেন্টের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে মাঠে উপস্থিত দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে ট্রফি তুলে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (২২ জুলাই) আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, গত সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ ও পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের। মাঠ, দর্শক, রেফারি ও আনুষ্ঠানিকতার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও নির্ধারিত সময়ে পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশের কোনো খেলোয়াড় মাঠে উপস্থিত হননি।

এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বৈরী আবহাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রথমে খেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন।
খেলা স্থগিতের ঘোষণায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকরা। তারা উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লার হস্তক্ষেপে উপজেলা প্রশাসন টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী মাঠে উপস্থিত দলকে ওয়াকওভারে বিজয়ী ঘোষণা করে। একই রাতে তাদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, পুরো ঘটনার নেপথ্যে ছিল প্রধান অতিথি নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ। আয়োজকদের আমন্ত্রণপত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লার নাম প্রধান অতিথি হিসেবে উল্লেখ করা হলে বিএনপির একটি পক্ষ আপত্তি তোলে। তাদের দাবি ছিল, বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করা হোক। এ বিরোধের জের ধরেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাসের নির্দেশে পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ মাঠে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু বলেন, “প্রধান অতিথি নির্ধারণ নিয়েই মূল সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি এবং খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে বিশেষ অতিথি করা হয়। যেহেতু পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ আমাদের সভাপতির এলাকার দল, তাই তারা মাঠে যায়নি। প্রশাসন প্রথমে খেলা পরে আয়োজনের কথা বললেও পরে রাতে অপর দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি দিয়েছে। বিষয়টি আমরা সাংগঠনিকভাবে পর্যালোচনা করব।”

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, “একটি দল মাঠে উপস্থিত না হওয়ায় ওয়াকওভার হয়েছে। টুর্নামেন্টের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মাঠে উপস্থিত দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি দেওয়া হয়েছে। ওয়াকওভারের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।”

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, খেলাধুলা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হলেও প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একটি বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তাদের আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন রাজনৈতিক বিতর্কমুক্ত রেখে ক্রীড়ার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।