খুঁজুন
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩

সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে সালথায় সংঘর্ষ, আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে সালথায় সংঘর্ষ, আহত ১৫

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিনা গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় মালোর সঙ্গে একই এলাকার মাসুদ চৌধুরী ও দুলাল চৌধুরীর মধ্যে সরকারি জমি লিজ ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ চলাকালে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করে।

সালথা থানার ওসি (তদন্ত) কেএম মারুফ হাসান রাসেল জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিরোধপূর্ণ সরকারি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় যে কোনো সময় আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

ফরিদপুরে বেড়েছে হামের প্রকোপ: ৪ মাসে ২৯৮ আক্রান্ত, ঝরল ৪ প্রাণ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বেড়েছে হামের প্রকোপ: ৪ মাসে ২৯৮ আক্রান্ত, ঝরল ৪ প্রাণ

ফরিদপুর জেলায় হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলায় মোট ২৯৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও ২০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গায় ১০ জন, বোয়ালমারীতে ১২ জন, ভাঙ্গায় ৮ জন, চরভদ্রাসনে ৪ জন, নগরকান্দায় ২ জন, মধুখালীতে ৩ জন, সদরপুরে ৭ জন, ফরিদপুর সদরে সর্বোচ্চ ১৪ জন এবং সালথায় ৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার দিক থেকেও হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে। ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ জন। বর্তমানে এই দুই হাসপাতালে মোট ৫৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন থাকতে, শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমরা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছি এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করছেন।”

তিনি আরও জানান, জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদানের আওতা বাড়ানো এবং দ্রুত শনাক্তকরণই পারে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

অ্যাসিডিটির সমস্যা? জানুন ঘরোয়া উপায় নিয়ন্ত্রণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
অ্যাসিডিটির সমস্যা? জানুন ঘরোয়া উপায় নিয়ন্ত্রণ
বুক জ্বালা, ঢেকুর ওঠা, বমিভাব, পেটে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা বা অল্প খেলেই ভরাপেট লাগা অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। কখনও কিছু খাবারের কারণে, আবার কখনও দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেও এমনটি হয়।

এই অ্যাসিডিটির সমস্যা কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। 

দারুচিনি
দারুচিনি প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে।

এটি হজম ও শোষণ প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং পাকস্থলীর সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। দারুচিনির চা পান করলে উপকার পাওয়া যায়।
 

জিরা
জিরা অ্যাসিড প্রতিরোধে কার্যকর। হজমে সহায়ক এবং পাকস্থলীর ব্যথা কমাতে ভূমিকা রাখে।

ভাজা জিরা গুঁড়া পানির সঙ্গে মিশিয়ে বা সেদ্ধ পানিতে জিরা দিয়ে খাবারের পর পান করা যেতে পারে। 

তুলসী পাতা
তুলসী পাতা থেঁতো করে মধুর সঙ্গে খেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপকার পাওয়া যায়।

আপেল সাইডার ভিনেগার
এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে দুই চা-চামচ ভিনেগার মিশিয়ে খালি পেটে পান করলে গ্যাস কমতে সাহায্য করে।

আনারস
আনারস খাদ্য হজমে সহায়তা করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে।

ঠান্ডা দুধ
দুধে থাকা ক্যালসিয়াম পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরিতে বাধা দেয়। অ্যাসিডিটির সমস্যা হলে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ উপকারী।

পানি
পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। তবে খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট পর পানি পান করলে হজম ভালো হয়।

খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা
পরিমিত খাবার খাওয়া, কম তেল-মসলায় রান্না করা এবং দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থাকা জরুরি। কুমড়া, মুলা, পেঁয়াজ, মরিচ, নারিকেল ও গরুর মাংসসহ ভারী খাবার এড়িয়ে চললে অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে সন্তানের ওপর প্রভাব

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে সন্তানের ওপর প্রভাব

অভিনেত্রী নোরা ফতেহির জীবনের পেছনের গল্পটা যতটা ঝলমলে, ততটাই ভাঙা স্মৃতিতে ভরা। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি শেয়ার করেছেন তার শৈশবের কঠিন অভিজ্ঞতা, যা আজও তার সম্পর্ক ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

নোরার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে তার খুব ছোট বয়সে। সেই সময় থেকেই তিনি বড় হয়েছেন মায়ের একক সংগ্রামে।

নোরা জানান, বিচ্ছেদের পর তার বাবা অনেকটা অদৃশ্য হয়ে যান, দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজও ছিল না। এই অভিজ্ঞতাই তার ভেতরে এক ধরনের মানসিক ভয় তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, কোনো সম্পর্কে যাওয়ার আগে আমি অনেক ভাবি। কারণ আমার মাথায় বারবার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের স্মৃতি ফিরে আসে।

অনেক ভালো মানুষের সঙ্গেও দেখা হয়েছে, কিন্তু সেই ভয় আমাকে পিছিয়ে দেয়।
এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শুধু তার প্রেমজীবনেই নয়, আবেগ ও সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। বিচ্ছেদের যন্ত্রণা তিনি সহজে মেনে নিতে পারেন না।

বিচ্ছেদ ও সন্তানের মানসিক প্রভাব

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ শিশুদের জীবনে গভীর আবেগগত প্রভাব ফেলে। এতে তার মনে অনিশ্চয়তা, ভয়, রাগ ও দুঃখ জন্মাতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো

বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হলে সন্তানকে বয়স অনুযায়ী পরিষ্কারভাবে জানানো
বাবা-মা সম্পর্কে নেতিবাচক কথা না বলা
সন্তানের অনুভূতি মনোযোগ দিয়ে শোনা
তাদের আশ্বস্ত করা যে তারা একা নয়, দুইজনই তাদের পাশে আছেন
প্রয়োজন হলে শিশু মনোবিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া।

বিয়ে বিচ্ছেদ জীবনের একটি কঠিন বাস্তবতা হলেও, সন্তানের মানসিক সুস্থতা সবার আগে। বাবা-মায়ের দায়িত্ব হলো, নিজেদের দূরত্ব যেন সন্তানের শৈশব ও ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। ভালোবাসা, ধৈর্য আর সঠিক যত্নই পারে এই কঠিন সময়কে কিছুটা সহজ করে দিতে।