রমজানে নিরাপদ ইফতার নিশ্চিত করতে ফরিদপুরে ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ
পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার প্রস্তুত ও বিক্রি নিশ্চিত করতে ফরিদপুরে ইফতার বিক্রেতা ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সচেতনতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ মালিক ও খাদ্য প্রস্তুতকারীরা অংশগ্রহণ করেন।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুর শহরের ইমাম উদ্দিন চত্বরে অবস্থিত অ্যাবলুম ক্যাফেটেরিয়া বারবিকিউ শাখায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ফরিদপুর রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় শহরের প্রায় ৩০টি রেস্তোরাঁর মালিক, ব্যবস্থাপক ও খাদ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ফরিদপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তা আজমুল ফুয়াদ নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, রমজান মাসে ইফতারের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিপণন কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান, ফরিদপুর রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহেলসহ সংশ্লিষ্টরা।
প্রশিক্ষণে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল—খাদ্য প্রস্তুতের আগে ও পরে হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক ব্যবহার, গ্লাভস, মাস্ক, এপ্রোন ও হেড কভার পরিধান করা, রান্নাঘরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জীবাণুমুক্ত বাসনপত্র ব্যবহার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা, ফলমূল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে ব্যবহার করা এবং নিরাপদ উৎসের পানি ফুটিয়ে ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
খাবার সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণ করাও প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বিশেষ করে রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করতে হলে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া একবার ব্যবহৃত তেল পুনরায় ব্যবহার না করা, অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পরিহার করা এবং ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে খোলা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার তৈরি ও বিক্রি, বাসি বা পঁচা উপকরণ ব্যবহার, খবরের কাগজ বা কালিযুক্ত কাগজে খাবার পরিবেশন এবং শিল্পে ব্যবহৃত রং ব্যবহার না করার ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়। বক্তারা বলেন, এসব অনিয়ম মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
আয়োজকরা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে। কর্মশালা শেষে ফরিদপুর জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির উদ্যোগে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন
Array