খুঁজুন
, ,

আপনার ওপর কত জাকাত ফরজ? হিসাব করবেন যেভাবে

আবু সাঈদ
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ
আপনার ওপর কত জাকাত ফরজ? হিসাব করবেন যেভাবে

সামর্থবান প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জাকাত দেওয়া ফরজ। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রত্যেক এমন ব্যক্তি সামর্থ্যবান, যার কাছে সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপা বা তার সমপরিমাণ মূল্যের নির্দিষ্ট সম্পদ রয়েছে। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৯) সুতরাং যার কাছে এই পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার উপর জাকাত ফরজ। নির্দিষ্ট সময় তাকে জাকাত আদায় করতে হবে।

সব সম্পদে জাকাত আসে না। কেবলমাত্র পাঁচ ধরনের সম্পদে জাকাত আদায় করতে হয়। তা হলো স্বর্ণ, রুপা, নগদ ক্যাশ, ব্যবসায়ী পণ্য এবং গবাদি পশু (যদি গবাদি পশুর জন্য বছরের অধিকাংশ সময় খাবারের ব্যবস্থা করা না লাগে এবং মাঠের ঘাসেই তার পেট চলে, তাহলে জাকাত আসবে। অন্যথায় আসবে না।) এই পাঁচ জিনিসের মধ্য থেকে যেসব জিনিস আছে, তার মোট মূল্য যদি সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপার মূল্য পরিমাণ হয়, তাহলে জাকাত দিতে হবে। এগুলোর বাইরে অন্যান্য সম্পদে -হোক তা হীরা, জাওহার বা এজাতীয় কোনো মূল্যবান জিনিস- জাকাত আসবে না। (ফিকহি মাকালাত : ৩/১৪৮; আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৬১; বাদায়েউস সানায়ে : ২/৯১; রদ্দুল মুহতার : ২/২৬৩)

ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যক্তি যেদিন সামর্থ্যবান হয়, সেদিনটি তার বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হয়। কারণ, এমন সামর্থ্যবান অবস্থায় থেকে এক চান্দ্র বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ঠিক ওই দিনটিতেই জাকাত ফরজ হয়। ওই দিনের জাকাতযোগ্য সম্পদ অনুযায়ীই জাকাত আদায়ের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। যেমন কেউ মুহাররমের ৫ তারিখে সামর্থ্যবান হলো, এরপর আগামী বছর মুহাররমের ৫ তারিখেও যদি তার কাছে নেসাব পরিমাণ জাকাতযোগ্য সম্পদ থাকে, তাহলে নতুন বছরের ৫ মুহাররম তার ওপর জাকাত ফরজ হবে এবং সেদিন যে পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার আলোকে জাকাত আদায়ের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। (ফিকহি মাকালাত : ৩/১৬৩-১৭০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৭৫; আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৫৬; রদ্দুল মুহতার : ২/২৯৪)।

যে দিন জাকাত ফরজ হবে (যেমন উপরোক্ত উদাহরণে নতুন বছরের ৫ মুহাররম), ওই দিন ব্যক্তির কাছে থাকা জাকাতযোগ্য সম্পদের একটি তালিকা করতে হবে। এরপর এসব সম্পদের সর্বমোট মূল্য হিসাব করে বের করতে হবে। অতঃপর জাকাতযোগ্য সম্পদের মূল্য থেকে ঋণের টাকা -যদি থেকে থাকে- বাদ দিতে হবে। তারপর যে টাকাটা অবশিষ্ট থাকে, তার আড়াই শতাংশ হিসাব করে জাকাতের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

বিষয়টি আরেকটু বিস্তারিত বলা যাক। জাকাতের হিসাব বের করতে আমাদের চার ধাপে কাজ করতে হবে। প্রথম কাজ হলো, জাকাতযোগ্য সম্পদের একটি তালিকা তৈরি করা। আমরা প্রথমেই বলেছি, জাকাতযোগ্য সম্পদ পাঁচটি- স্বর্ণ, রুপা, নগদ ক্যাশ, ব্যবসায়ী পণ্য এবং গবাদি পশু। এর মধ্যে স্বর্ণ-রুপার স্থিতি সহজেই নিরুপণ করা যায়। গবাদি পশুরু বিষয়টিও স্পষ্ট। কিন্তু নগদ ক্যাশ ও ব্যবসায়ী পণ্য বিভিন্ন পন্থায় সংরক্ষিত থাকে। সেজন্য অনেক ক্ষেত্রে তা নির্ধারণে বিভ্রম ঘটতে পারে। হিসাবের সুবিধার্তে আমরা একটি তালিকা নমুনা হিসেবে পেশ করছি-

যেমন থাকতে পারে স্বর্ণ, রুপা, নগদ অর্থ, প্রাপ্য ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রা, ব্যাংকে রক্ষিত অর্থ, ফেরতযোগ্য বীমা পলিসিতে জমাকৃত অর্থ, শেয়ার, বন্ডের ক্রয়মূল্য, ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের মূল টাকা, বিক্রিত পণ্যের বাকি মূল্য, বিক্রির উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত বস্তু, ব্যবসার কাঁচামাল এবং অংশীদারিত্ব ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত মূল পূঁজি ইত্যাদি।

এভাবে বিভিন্ন রূপে নগদ ক্যাশ এবং ব্যবসায়ী পণ্য থাকতে পারে। এসবের হিসাব বের করতে হবে। এটি জাকাত হিসাবের ক্ষেত্রে প্রথম কাজ।

দ্বিতীয় কাজ হলো, এসব সম্পদের মূল্য বের করতে হবে। মূল্য বের করার ক্ষেত্রে উত্তম হলো, এসব পণ্যের বাজারদর হিসাব করা। অর্থাৎ আপনি যদি এখন বাজার থেকে পণ্যটি ক্রয় করেন, কত টাকা দিয়ে কিনতে হবে, ওই পরিমাণ টাকা মূল্য ধরতে হবে। এভাবে প্রত্যেকটি পণ্যের বাজারদর খোঁজ করে মূল্য হিসাব করা। তারপর সবগুলো মূল্য যোগ করে দেখতে হবে আপনার কাছে কত টাকা আছে।

অবশ্য পণ্যটির বিক্রয় মূল্যের আলোকেও হিসাব করা যায়। অর্থাৎ আপনি পণ্যটি এখন বিক্রি করতে গেলে বাজারে কত টাকায় বিক্রি করতে পারবেন, সেটাকে মূল্য হিসেবে হিসাব করা। তবে ক্রয়মূল্য ধরা হলে যেহেতু দরিদ্রদের উপকার বেশি হয়, সেজন্য ক্রয়মূল্য ধরাটাই উত্তম। (ফাতাওয়া উসমানী : ২/৬৬)।

তৃতীয় কাজ হলো আপনার যদি কোনো ঋণ থেকে থাকে, ওই ঋণের টাকা জাকাতযোগ্য সম্পদের সর্বমোট মূল্য থেকে বাদ দিতে হবে। তবে এই ঋণের মধ্যে ব্যবসার ঋণ উদ্দেশ্য নয়। ঋণের একটি সম্ভাব্য তালিকা এমন হতে পারে-

ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নেওয়া ঋণ; বাকিতে ক্রয়কৃত পণ্যের অপরিশোধিত ঋণ, যা জাকাতবর্ষের মধ্যেই আদায় করতে হবে; স্ত্রীর মোহর, যা চলতি বছরই দেওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা রয়েছে; ফ্ল্যাট, দোকান, বাড়ি ইত্যাদি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সিকিউরিটি হিসেবে নেওয়া অর্থ। ভাড়াটিয়া এর জাকাত আদায় করবে। তবে বাড়ি বা দোকানের মালিক যদি এর জাকাত আদায় করে ফেলে, তাহলে ওই টাকা হস্তগত হওয়ার আগে ভাড়াটিয়াকে এর জাকাত দিতে হবে না। যেন একই সম্পদে দুবার জাকাত না দিতে হয়। আর বাড়ি বা দোকানের মালিক প্রতি বছর এর জাকাত আদায় করে থাকলে, যে বছর সে উক্ত টাকা ফেরত দেবে, কেবল সেই বছর তা বাদ দিয়ে জাকাত হিসাব করবে; কর্মচারীদের অনাদায়ী বেতন-ভাতা; অনাদায়ী বাড়ি বা দোকান ভাড়া; ট্যাক্স ও বিদ্যুৎ ইত্যাদির বিল, যা আগে শোধ করা হয়নি এবং জাকাতবর্ষের মধ্যেই শোধ করতে হবে; অতীতের জাকাত যা এখনও আদায় করা হয়নি; ব্যবসার উদ্দেশ্যে নেওয়া ঋণ, যা দিয়ে জাকাতযোগ্য সম্পদ ক্রয় করা হয়েছে। যেমন, পণ্য বা কাঁচা মাল ইত্যাদি।

এগুলো হলো ঋণের সম্ভাব্য তালিকা। তৃতীয় কাজ হলো এসব ঋণ খুঁজে বের করা। তারপর তার মূল্য যোগ করে যত টাকা হয়, তা জাকাতের নেসাব থেকে বাদ দেওয়া। (আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৫৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৭২; রদ্দুল মুখতার : ২/২৬০)।

চতুর্থ কাজ হলো, জাকাতের নেসাবে অবশিষ্ট যে টাকা আছে, তার থেকে আড়াই শতাংশ টাকা জাকাত হিসেবে আদায় করা।

এভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাব করে জাকাত আদায় করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে উত্তম হলো, কোনো শরীয়াহ বিশেষজ্ঞ আলেমের মাধ্যমে জাকাতের হিসাব সম্পন্ন করা। নিজে নিজে জাকাতের হিসাব করা সমুচিত নয়। কারণ, হতে পারে আপনার সম্পদের এমন কোনো দিক আছে, যেটাকে আপনি জাকাতযোগ্য মনে করছেন না। অথচ শরীয়তের দৃষ্টিতে তাতেও জাকাত আসে। বর্তমানে নগদ ক্যাশ ও ব্যবসায়ী পণ্য নানা উপায়ে গচ্ছিত থাকে। তাই এমন ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। সেজন্য শরীয়াহ বিশেষজ্ঞ কোনো আলেমের মাধ্যমে জাকাতের হিসাব করিয়ে নেওয়াটা নিরাপদ।

মনে রাখতে হবে, জাকাত রমজানের সাথে সম্পৃক্ত কোনো ইবাদত নয়। বরং যেদিন ব্যক্তি সামর্থ্যবান হবে, তার ঠিক এক বছর পরে একই দিন তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। ঠিক এক বছর পরেই জাকাতযোগ্য সম্পদের পরিমাণ বের করে জাকাত আদায়ের পরিমাণ নির্ধারণ করে নিতে হবে। এরপর ইচ্ছে হলে একসঙ্গে জাকাতের হকদারদের মাঝে ওই টাকা বিতরণ করে দিতে পারে। আবার অল্প অল্প করে বিভিন্ন সময় তা আদায় করা যেতে পারে।

কারো যদি রজমানে জাকাত আদায় করার ইচ্ছে থাকে, তাহলে তার উচিৎ হলো যেদিন জাকাত ফরজ হবে, সেদিন জাকাতের হিসাব করে টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা। এরপর রমজানের সময় ওই টাকা জাকাতের হকদারদের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া। তবে উত্তম হবে- যেদিন জাকাতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হলো, সেদিন থেকে অল্প অল্প করে জাকাত দিতে শুরু করা। এরপর যখন রমজান মাস আসে, তখন বাকিটুকু হকদারদের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া।

 

ভাঙ্গায় নবাগত ইউএইচএফপিওর সঙ্গে পল্লী চিকিৎসকদের মতবিনিময়, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের আশ্বাস

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় নবাগত ইউএইচএফপিওর সঙ্গে পল্লী চিকিৎসকদের মতবিনিময়, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের আশ্বাস

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবযোগদানকৃত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. সোহাগ শাফির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন ভাঙ্গা উপজেলা পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতারা। এ সময় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, পল্লী চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় নবাগত ইউএইচএফপিও ডা. সোহাগ শাফি বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পল্লী চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই পল্লী চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে সাধারণ মানুষ আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। যেকোনো প্রয়োজনে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পল্লী চিকিৎসকদের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এ সময় পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতারা নবাগত কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ও তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা উপজেলা পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সুমন মোল্লা, সহ-সভাপতি লিয়াকত শিকদার ও ওবাইদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন লস্কর ও মনিরুজ্জামান টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাঁকা এবং কোষাধ্যক্ষ মো. বশির আহমেদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সেবা ডেন্টাল অ্যান্ড হোমিও হল (বালিয়াচরা বাজার শাখা-৩)-এর পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন, খোকন শেখ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল: ফরিদপুরে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল: ফরিদপুরে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওবায়দুর রহমানের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে ফরিদপুর জেলা বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা এবং সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপনের স্বাক্ষরিত এক বহিষ্কারাদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পরে বিষয়টি দলীয় সূত্রেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে ওবায়দুর রহমানের প্রায় ৫ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুত বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়, নৈতিক স্খলনজনিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. ওবায়দুর রহমানকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক বা দলীয় সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে দলীয়ভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে জেলা বিএনপির এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি কোনো ধরনের অনৈতিক বা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও এর উৎস বা কীভাবে এটি প্রকাশ্যে এলো, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ওবায়দুর রহমানের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, দলীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে জেলা বিএনপির এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের একই পরিবারের মা-ছেলে-মেয়েসহ নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের একই পরিবারের মা-ছেলে-মেয়েসহ নিহত ৩

ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের সালথার এক পরিবারের মা, ছেলে ও মেয়েসহ তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারের কর্তা ও অপর এক ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার ছেলে তাসবিক (২০) এবং মেয়ে জারা (১৫)। আহত হয়েছেন তানিয়ার স্বামী শফিকুল ইসলাম খোকন ও বড় ছেলে নাবিল।

তানিয়া তাহমিনা রিনা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার সেজো মেয়ে। তবে তার স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি সৌদি আরবে বসবাস করছিল বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার মামাতো ভাই নাসিম আহমেদ কবীর জানান, বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের পাঁচ সদস্য একটি প্রাইভেটকারে করে রিয়াদ থেকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে রওনা হন। যাত্রাপথে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর তাদের গাড়িটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তানিয়া, তার ছেলে তাসবিক ও মেয়ে জারা মারা যান। আহত দুইজনকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নিহতের ভাই তৌহিদ মোহাম্মাদ মুরাদ বলেন, “রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারের পেছনে একটি বড় যানবাহন সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আমার বোন, ছোট ভাগ্নে ও ভাগ্নির মৃত্যু হয়। আমার ভগ্নিপতি ও বড় ভাগ্নে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ চলছে।”

তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ দেশে আনা হবে নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হবে—এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে একই পরিবারের তিন সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে সালথার আটঘর ইউনিয়নসহ পুরো এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।