খুঁজুন
, ,

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কী করছে বাংলাদেশ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কী করছে বাংলাদেশ?

জ্বালানি নিতে ঢাকায় ফিলিং স্টেশনের সামনে লম্বা লাইনে যানবাহনের অপেক্ষা। কখনো লাইনে দাড়ানো নিয়ে বাকবিতণ্ডা, আবার কখনো চাহিদা মতো জ্বালানি না পেয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ উঠছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ‘আপাতত জ্বালানি সংকট নেই’ এমন বার্তা দেওয়া হলেও অস্থিরতা কাটেনি। বরং জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তার শঙ্কায় ফিলিং স্টেশনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন অনেকে।

গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি অনেকটা এমনই।

কেবল বাংলাদেশ নয়, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকেই জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে গোটা বিশ্বেই।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি নিয়ে শঙ্কা অমূলক নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। অনেকেই বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি নিয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

এক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় জ্বালানি নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তাটা বেশি বলেই মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আগেভাগেই প্রস্তুতি না থাকলে সংকট মোকাবেলা কঠিন হতে পারে।

তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত কয়েকদিনে জ্বালানি নিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। এতে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কতটা কমেছে তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, সংকট মোকাবিলায় ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

“জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের মধ্যে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা শিগগিরই কেটে যাবে,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরশন বা বিপিসি বলছে, দেশেই উৎপাদন হওয়ায় পেট্রোল বা অকটেন সংকটের শঙ্কা নেই। তারপরও জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভীড় করছেন অনেকে।

ডিজেল নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিকল্প উৎসের খোঁজ চলছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে এরইমধ্যে ভারতকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা।

বিকল্প উৎসের খোঁজে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌযান চলাচলে ইরানের নিষেধাজ্ঞার পর বিশ্বব্যাপি জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের বলেছেন, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকলে বিশ্বে “বিপর্যয়কর পরিণতি” হতে পারে।

এমন প্রেক্ষাপটে সংকট মেটাতে বিকল্প উৎসের খোঁজে বাংলাদেশ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের কাছে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাবও দিয়েছে ঢাকা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, “তারা আমাদের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে। এখন তো তারাও সংকটে আছে,” বলেন তিনি।

অবশ্য বিপিসি ও ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের মধ্যে আগের একটি চুক্তির আওতায় পাঁচ হাজার টন ডিজেল বুধবার বাংলাদেশে এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বা বিপিসি।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৭ সালে হওয়া ওই চুক্তি অনুসারে ২০২৬ সালে মোট এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করতে পারবে বাংলাদেশ।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চীনের সহায়তাও চেয়েছে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এর সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

মি. টুকু বলছেন, জ্বালানি আমদানির জন্য বিকল্প উৎসের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার।

“যা যা করার দরকার সবটাই করছি আমরা। আমরা স্পট পার্চেজ করছি। আমারে কাছে যে তেল আছে তা দিয়ে আমি চালাতে পারবো, মানুষকে একটু সাশ্রয়ি হতে হবে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

চীন এবং ভারত ছাড়াও ব্রুনেই, আফ্রিকা ও আমেরিকা থেকেও জ্বালানি তেল আনার ব্যাপারে সরকার আলোচনা চালাচ্ছে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে গড়ে ১৫ জাহাজ জ্বালানি প্রতি মাসে বাংলাদেশে আসে।

“যুদ্ধ শুরুর পর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ছয়টি জাহাজ এসে পৌঁছেছে। বাকি জাহাজগুলো সময়মতো আসে কিনা এটাই দেখার বিষয়। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি এখনও কোনো সরবরাহকারি পরিবর্তন করেনি,” বলেও জানান তিনি।

‘জ্বালানি রেশনিং’ কতদিন চলবে?

“প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাড়ানোর পর বাইকে ২৫০ টাকার তেল দিল, প্রতিদিনই এভাবে লাইনে দাড়াচ্ছি তেল নেওয়ার জন্য।”

বিবিসি বাংলাকে এভাবেই বলছিলেন ঢাকার রামপুরা এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা মোকাবেলায় ‘সাশ্রয়ী ব্যবহার’ এর উপর শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

পরিস্থিতি সামলাতে গত পাঁচই মার্চ ১১ দফা নির্দেশনাও দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। যেখানে গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা, আলোকসজ্জা পরিহারসহ নানা নির্দেশনা ছিল।

এছাড়া ‘প্যানিক বাইং’ বন্ধে যানবাহন ভেদে দৈনিক কতটুকু জ্বালানি নেওয়া যাবে সেটিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

অবশ্য জ্বালানি রেশনিং করতে গিয়ে দেশের বেশ কিছু স্থানে তেলের নির্দিষ্ট পরিমাণ এবং লাইনে দাড়ানোসহ নানা কারণে বাকবিতণ্ডা এবং মারপিটের খবরও পাওয়া গেছে।

এমনকি অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি নিরাপত্তা ও টহল জোরদারের দাবিও জানিয়েছেন ফিলিং স্টেশন মালিকরা।

এদিকে, বুধবার নিজেদের সবশেষ বার্তায় বিভাগীয় পর্যায়ে তেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বা বিপিসি।

যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “দেশের বিভাগীয় শহরে জ্বালানি তেল (অকটেন ও পেট্রোল) এর গড় বিক্রয় হতে ২৫ শতাংশ হ্রাস এর পরিবর্তে বর্তমানে ১৫ শতাংশ হ্রাস করে ফিলিং স্টেশন প্রতি বরাদ্দ চার্ট অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।”

এছাড়া, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের পার্সেল নির্ধারিত সময়ে নিয়মিতভাবেই দেশে আনা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিপিসি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, জ্বালানির মজুদ বৃদ্ধি এবং বিকল্প উৎস থেকে প্রাপ্তি সাপেক্ষে ধীরে ধীরে জ্বালানি রেশনিং প্রক্রিয়া শিথিল করা হবে।

“রেশনিং সব দেশেই হয়, ক্রাইসিস মোমেন্টে। দাম এখনই বাড়াচ্ছি না, তবে টেম্পরারিলি দাম আমাদের বাড়াতে হবে,” বলেন তিনি।

সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই বলেই মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম।

তিনি বলছেন, “পর্যাপ্ত জ্বালানি যেসব দেশের হাতে রয়েছে তাদের সিদ্ধান্ত আর আমাদের সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া এক হবে না, অপশন কম।”

“সরকারকে কিছুটা টাইট স্টেপ তো নিতেই হতো, অযাচিত কোনো পদক্ষেপ তো এখনও চোখে পড়েনি,” বলেন তিনি।

‘উদ্বেগ’ গোটা বিশ্বেই

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির দুই সপ্তাহ না যেতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়।

যদিও মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধ “প্রায় সম্পন্ন” বলে মন্তব্য করার পর তেল ও গ্যাসের দাম হঠাৎ করেই ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে।

বুধবার তেলের দামের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ৮৮ ডলারের আশপাশেই রয়েছে। সব মিলিয়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত।

এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী তেল বাজার স্থিতিশীল করার বিকল্প উপায় নিয়ে জি-৭ দেশগুলোর সাথে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আইইএ।

জি-৭ দেশগুলো জানিয়েছে যে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মোকাবেলায় “প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” নিতে প্রস্তুত তারা।

যদিও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে জ্বালানি সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম মজুদধারী দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এদিকে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির প্রধান উৎপাদক কাতার, উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের চেয়েও এলএনজির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইউরোপ এবং এশিয়ার দেশগুলোতে যার প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। মার্চের শুরু থেকেই শিল্প কারখানায় ২০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ কমিয়েছে ভারত।

জ্বালানির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা এবং সরকারি কর্মচারিদের জ্বালানি ভাতা কমানোসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তানও।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”