খুঁজুন
, ,

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কী করছে বাংলাদেশ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কী করছে বাংলাদেশ?

জ্বালানি নিতে ঢাকায় ফিলিং স্টেশনের সামনে লম্বা লাইনে যানবাহনের অপেক্ষা। কখনো লাইনে দাড়ানো নিয়ে বাকবিতণ্ডা, আবার কখনো চাহিদা মতো জ্বালানি না পেয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ উঠছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ‘আপাতত জ্বালানি সংকট নেই’ এমন বার্তা দেওয়া হলেও অস্থিরতা কাটেনি। বরং জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তার শঙ্কায় ফিলিং স্টেশনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন অনেকে।

গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি অনেকটা এমনই।

কেবল বাংলাদেশ নয়, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকেই জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে গোটা বিশ্বেই।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি নিয়ে শঙ্কা অমূলক নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। অনেকেই বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি নিয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

এক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় জ্বালানি নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তাটা বেশি বলেই মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আগেভাগেই প্রস্তুতি না থাকলে সংকট মোকাবেলা কঠিন হতে পারে।

তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত কয়েকদিনে জ্বালানি নিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। এতে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কতটা কমেছে তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, সংকট মোকাবিলায় ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

“জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের মধ্যে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা শিগগিরই কেটে যাবে,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরশন বা বিপিসি বলছে, দেশেই উৎপাদন হওয়ায় পেট্রোল বা অকটেন সংকটের শঙ্কা নেই। তারপরও জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভীড় করছেন অনেকে।

ডিজেল নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিকল্প উৎসের খোঁজ চলছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে এরইমধ্যে ভারতকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা।

বিকল্প উৎসের খোঁজে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌযান চলাচলে ইরানের নিষেধাজ্ঞার পর বিশ্বব্যাপি জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের বলেছেন, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকলে বিশ্বে “বিপর্যয়কর পরিণতি” হতে পারে।

এমন প্রেক্ষাপটে সংকট মেটাতে বিকল্প উৎসের খোঁজে বাংলাদেশ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের কাছে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাবও দিয়েছে ঢাকা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, “তারা আমাদের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে। এখন তো তারাও সংকটে আছে,” বলেন তিনি।

অবশ্য বিপিসি ও ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের মধ্যে আগের একটি চুক্তির আওতায় পাঁচ হাজার টন ডিজেল বুধবার বাংলাদেশে এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বা বিপিসি।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৭ সালে হওয়া ওই চুক্তি অনুসারে ২০২৬ সালে মোট এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করতে পারবে বাংলাদেশ।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চীনের সহায়তাও চেয়েছে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এর সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

মি. টুকু বলছেন, জ্বালানি আমদানির জন্য বিকল্প উৎসের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার।

“যা যা করার দরকার সবটাই করছি আমরা। আমরা স্পট পার্চেজ করছি। আমারে কাছে যে তেল আছে তা দিয়ে আমি চালাতে পারবো, মানুষকে একটু সাশ্রয়ি হতে হবে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

চীন এবং ভারত ছাড়াও ব্রুনেই, আফ্রিকা ও আমেরিকা থেকেও জ্বালানি তেল আনার ব্যাপারে সরকার আলোচনা চালাচ্ছে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে গড়ে ১৫ জাহাজ জ্বালানি প্রতি মাসে বাংলাদেশে আসে।

“যুদ্ধ শুরুর পর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ছয়টি জাহাজ এসে পৌঁছেছে। বাকি জাহাজগুলো সময়মতো আসে কিনা এটাই দেখার বিষয়। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি এখনও কোনো সরবরাহকারি পরিবর্তন করেনি,” বলেও জানান তিনি।

‘জ্বালানি রেশনিং’ কতদিন চলবে?

“প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাড়ানোর পর বাইকে ২৫০ টাকার তেল দিল, প্রতিদিনই এভাবে লাইনে দাড়াচ্ছি তেল নেওয়ার জন্য।”

বিবিসি বাংলাকে এভাবেই বলছিলেন ঢাকার রামপুরা এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা মোকাবেলায় ‘সাশ্রয়ী ব্যবহার’ এর উপর শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

পরিস্থিতি সামলাতে গত পাঁচই মার্চ ১১ দফা নির্দেশনাও দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। যেখানে গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা, আলোকসজ্জা পরিহারসহ নানা নির্দেশনা ছিল।

এছাড়া ‘প্যানিক বাইং’ বন্ধে যানবাহন ভেদে দৈনিক কতটুকু জ্বালানি নেওয়া যাবে সেটিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

অবশ্য জ্বালানি রেশনিং করতে গিয়ে দেশের বেশ কিছু স্থানে তেলের নির্দিষ্ট পরিমাণ এবং লাইনে দাড়ানোসহ নানা কারণে বাকবিতণ্ডা এবং মারপিটের খবরও পাওয়া গেছে।

এমনকি অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি নিরাপত্তা ও টহল জোরদারের দাবিও জানিয়েছেন ফিলিং স্টেশন মালিকরা।

এদিকে, বুধবার নিজেদের সবশেষ বার্তায় বিভাগীয় পর্যায়ে তেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বা বিপিসি।

যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “দেশের বিভাগীয় শহরে জ্বালানি তেল (অকটেন ও পেট্রোল) এর গড় বিক্রয় হতে ২৫ শতাংশ হ্রাস এর পরিবর্তে বর্তমানে ১৫ শতাংশ হ্রাস করে ফিলিং স্টেশন প্রতি বরাদ্দ চার্ট অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।”

এছাড়া, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের পার্সেল নির্ধারিত সময়ে নিয়মিতভাবেই দেশে আনা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিপিসি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, জ্বালানির মজুদ বৃদ্ধি এবং বিকল্প উৎস থেকে প্রাপ্তি সাপেক্ষে ধীরে ধীরে জ্বালানি রেশনিং প্রক্রিয়া শিথিল করা হবে।

“রেশনিং সব দেশেই হয়, ক্রাইসিস মোমেন্টে। দাম এখনই বাড়াচ্ছি না, তবে টেম্পরারিলি দাম আমাদের বাড়াতে হবে,” বলেন তিনি।

সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই বলেই মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম।

তিনি বলছেন, “পর্যাপ্ত জ্বালানি যেসব দেশের হাতে রয়েছে তাদের সিদ্ধান্ত আর আমাদের সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া এক হবে না, অপশন কম।”

“সরকারকে কিছুটা টাইট স্টেপ তো নিতেই হতো, অযাচিত কোনো পদক্ষেপ তো এখনও চোখে পড়েনি,” বলেন তিনি।

‘উদ্বেগ’ গোটা বিশ্বেই

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির দুই সপ্তাহ না যেতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়।

যদিও মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধ “প্রায় সম্পন্ন” বলে মন্তব্য করার পর তেল ও গ্যাসের দাম হঠাৎ করেই ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে।

বুধবার তেলের দামের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ৮৮ ডলারের আশপাশেই রয়েছে। সব মিলিয়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত।

এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী তেল বাজার স্থিতিশীল করার বিকল্প উপায় নিয়ে জি-৭ দেশগুলোর সাথে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আইইএ।

জি-৭ দেশগুলো জানিয়েছে যে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মোকাবেলায় “প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” নিতে প্রস্তুত তারা।

যদিও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে জ্বালানি সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম মজুদধারী দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এদিকে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির প্রধান উৎপাদক কাতার, উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের চেয়েও এলএনজির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইউরোপ এবং এশিয়ার দেশগুলোতে যার প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। মার্চের শুরু থেকেই শিল্প কারখানায় ২০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ কমিয়েছে ভারত।

জ্বালানির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা এবং সরকারি কর্মচারিদের জ্বালানি ভাতা কমানোসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তানও।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে অস্ত্র, ককটেল ও সেনাপোশাকসহ ভুয়া কর্মকর্তা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অস্ত্র, ককটেল ও সেনাপোশাকসহ ভুয়া কর্মকর্তা গ্রেফতার

ফরিদপুর শহরের কোতয়ালী থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার, তাজা কার্তুজ, ককটেল, দেশীয় অস্ত্র, ওয়াকিটকি ও সেনাবাহিনীর পোশাকসহ সাফায়েত আহমেদ (৩৬) নামের এক ভুয়া সেন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)।

​মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে ও সকালে পৃথক স্থান থেকে তাকে গ্রেফতার ও এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

​এসআরবি-১০ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর কোতয়ালী থানাধীন উত্তর কালীবাড়ি এলাকার জেনারেল হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনে মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে অভিযান চালায় এসআরবি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা মাদকসেবীরা পালিয়ে যায়। পরে ভবনে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার ও ৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

​পরবর্তীতে একই দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে নীলটুলি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অপর এক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে পালানোর চেষ্টাকালে চরকমলাপুর এলাকার মৃত বশির আহমেদের ছেলে সাফায়েত আহমেদকে আটক করা হয়।

​পরে তার দেওয়া তথ্য মতে বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ২টি ককটেল, ১টি খেলনা রিভলবার, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি রামদা, ১টি ছুরি, ১টি সুইচ গিয়ার, ১টি ওয়াকিটকি, ১টি ট্রেজার গান, ২৫ রাউন্ড গুলির খোসা, ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২টি সেনাবাহিনীর ক্যাপ, ১টি এপিবিএন-এর ক্যাপ ও ১টি সেনাবাহিনীর কোমর বন্ধনী উদ্ধার করা হয়।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক সাফায়েত দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি মাদক ও একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলা রয়েছে।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে এসআরবি-১০ এর সিপিএসসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো: শাহরিয়ার রিফাত অভি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ দমনে এসআরবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম, দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম, দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী আদর্শ লিপি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পাশেই গড়ে উঠেছে একটি পোল্ট্রি ফার্ম। অভিযোগ, ফার্মের মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় সেখান থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াজখালী এলাকায় বিদ্যালয়টির ১৫ মিটার পাশেই পোল্ট্রি ফার্মটি স্থাপন করা হয়েছে। ফার্মে মুরগি পালনের কারণে নিয়মিত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ বিদ্যালয়ের দিকে এলে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না। কখনো কখনো তাদের বমি বমি ভাবও হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল আক্তার বলে, ক্লাস করার সময় এমন দুর্গন্ধ আসে যে নাকে হাত দিয়ে বসে থাকতে হয়। তখন স্যার-ম্যাডামের পড়ায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। মাঝে মাঝে বমি বমি লাগে।

অভিভাবক মোসা. সালমা আক্তার বলেন, আমরা সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য স্কুলে পাঠাই। কিন্তু স্কুলের পাশেই এমনভাবে পোল্ট্রি ফার্ম করা হয়েছে যে দুর্গন্ধে শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা দরকার।

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. মিনু আক্তার বলেন, পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ স্কুলের দিকে এলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আবু সাঈদ খান বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপনের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধের সমস্যা চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ফার্ম কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফার্মের মালিক বারবার কার্যক্রম বন্ধ করার কথা বললেও পোল্ট্রি বিক্রি করে আবার নতুন করে পোল্ট্রি পালন শুরু করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

তবে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মো. মজনু খান বলেন, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পোল্ট্রিগুলো বিক্রি করে দেব। এরপর আর এখানে পোল্ট্রি পালন করব না।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানান, এ বিষয়টি আমি অবগত না। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে হাতি দিয়ে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হাতি দিয়ে টাকা আদায়, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সদর বাজার চৌরাস্তায় হাতি নিয়ে বিভিন্ন দোকান ও পথচারীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ব্যস্ত বাজারে এভাবে টাকা তোলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

​স্থানীয়রা জানান, দুপুরে এক মাহুত একটি হাতি নিয়ে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের চৌরাস্তা এলাকায় আসেন। পরে হাতিটিকে বিভিন্ন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে শুঁড় উঁচিয়ে টাকা চাইতে দেখা যায়। হাতি দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দেন।

​বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দোকানের সামনে হাতি এসে দাঁড়ালে চাইলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেকেই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবে প্রতিদিন টাকা তোলা হলে বাজার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

​স্থানীয়দের আশঙ্কা, আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের চৌরাস্তা অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা। যেকোনো মুহূর্তে হাতিটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। হাতি নিয়ে এভাবে টাকা তোলার কোনো আইনি অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়ে বন বিভাগ ও প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেছেন তারা।

​বিষয়টি নজরে আনলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন জানান, হাতি দিয়ে টাকা সংগ্রহের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলে সুযোগ বুঝে মাহুত হাতি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও বাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা।