খুঁজুন
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

‘আমি সুস্থ আছি’ ‘গুজবে কান দেবেন না’, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব হাসান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
‘আমি সুস্থ আছি’ ‘গুজবে কান দেবেন না’, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব হাসান

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে মো. রাকিব (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। নিহত ব্যক্তি জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পেজ ‘ফ্যামিলি এন্টারটেইনমেন্ট বিডি’-র অভিনেতা ও পরিচালক রাকিব হাসান বলে গুঞ্জন উঠলেও বিষয়টি সঠিক নয়।

রোববার (১৫ মার্চ) রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজেই সুস্থ থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন রাকিব হাসান।

রোববার (১৫ মার্চ) রাত ১১টার পর ফ্যামিলি এন্টারটেইনমেন্ট বিডির ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, আলহামদুলিল্লাহ, রাকিব ভাই সুস্থ আছেন। গুজবে কেউ কান দেবেন না। যারা এই ভুয়া খবর শোনার পর দুশ্চিন্তা থেকে ফোন বা মেসেজ দিচ্ছেন, তাদের জানাচ্ছি—আপনাদের ভালোবাসার মানুষটি ভালো আছেন। একই সঙ্গে সবাইকে তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করা হয় ওই পোস্টে।

পরে ফেসবুক লাইভে এসে অভিনেতা রাকিব হাসান বলেন, এটি আসলে একটি ভুল সংবাদ। কীভাবে এই খবর ছড়িয়েছে তা আমরা জানি না। অনেকে ফোন করেছেন কিন্তু সবার ফোনে সাড়া দিতে পারিনি, সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আল্লাহ আমাকে ভালো রেখেছেন, আমি সুস্থ আছি। সবাই দোয়া করবেন।

এর আগে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোহাম্মদ রাকিব (২৫) এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১০টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাকিব ভোলা সদর উপজেলার চৌমুহনী গ্রামের তারিকুল ইসলাম খোকনের ছেলে। তিনি বোরহানউদ্দিন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের কর্মচারী। রাকিবের পরিবার রাজধানীর নিমতলীর নাজিমুদ্দিন রোড এলাকায় থাকে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির কাজ করতেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত সোয়া নয়টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সিঁড়িতে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। এ সময় তিন-চারজন যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও রাকিবের বন্ধু আলামিন বলেন, আমরা একসঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন যুবক এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাকিবকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে পালিয়ে যায়। কেন বা কারা এই হামলা করেছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

 

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

সালথায় মাদক ব্যবসা বন্ধে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম, রাস্তায় নেমেছে গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় মাদক ব্যবসা বন্ধে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম, রাস্তায় নেমেছে গ্রামবাসী

মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবার ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর এলাকায় রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ।

মাদক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে স্থানীয়রা মাদক কারবারীদের এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে রামকান্তপুর বাজার স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে স্থানীয়দের পক্ষে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। তাই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মাদক ব্যবসা বন্ধ না হলে আরও কঠোর সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হবে।”

বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা দাবি করেন, এলাকার তরুণদের সুরক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাদকের বিস্তার রোধ করা এখন সময়ের দাবি।

সমাবেশ থেকে রাত ১২টার পর অকারণে এলাকায় ঘোরাফেরা না করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে স্থানীয়দের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠছে, রামকান্তপুরবাসীও সেই আন্দোলনের অংশ হতে চায়। তারা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এলাকায় মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ‘মাদকমুক্ত সমাজ চাই’, ‘তরুণদের বাঁচাতে মাদক রুখতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরিবারের কর্মসংস্থান চান ফরিদপুরের ভাইরাল লোকসংগীত শিল্পী লাইলী বাউল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
পরিবারের কর্মসংস্থান চান ফরিদপুরের ভাইরাল লোকসংগীত শিল্পী লাইলী বাউল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোকসংগীত পরিবেশন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা জনপ্রিয় লোকশিল্পী লাইলী বাউল তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনের স্বীকৃতি ও সফলতার জন্য গণমাধ্যমকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন লাইলী বাউল। এ সময় তাঁর ছেলে আপন শেখসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় আবেগঘন বক্তব্যে লাইলী বাউল বলেন, “গান আমার সাধনা, আমার জীবন। ছোটবেলা থেকেই গান গেয়ে আসছি। মানুষের ভালোবাসা, গণমাধ্যমের সহযোগিতা এবং আপনাদের আন্তরিক সমর্থন না পেলে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না। আমার এই স্বীকৃতি মূলত সাধারণ মানুষের ভালোবাসারই প্রতিফলন।”

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকগান পরিবেশন করলেও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গান ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশের মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। এই ভালোবাসা তাঁকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে লাইলী বাউল বলেন, “আমি মানুষের জন্য গান গেয়ে যেতে চাই। সুযোগ পেলে চলচ্চিত্রেও গান গাওয়ার ইচ্ছা আছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সুস্থ থেকে গানকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারি।”

এ সময় বক্তব্য দেন তাঁর ছেলে আপন শেখ। তিনি বলেন, “আমার মা পৃথিবীর সেরা মা। সারা বিশ্বের মানুষ আজ তাঁকে চিনছে, এটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন।”