খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

সদকাতুল ফিতরের প্রয়োজনীয় মাসআলা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
সদকাতুল ফিতরের প্রয়োজনীয় মাসআলা

ইসলামে ‘সদকাতুল ফিতর’ একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা শেষে ঈদুল ফিতরের আনন্দ যেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে অভাবী ও দুস্থরা সমানভাবে উপভোগ করতে পারে, সে জন্যই আ—্লাহ তাআলা এই সদকা ওয়াজিব করেছেন। এটি শুধু দরিদ্রের প্রতি করুণা নয়, বরং রোজাদারের রোজার ত্রুটিবিচ্যুতির পরিমার্জক এবং আ—্লাহর কৃত”তা প্রকাশের একটি মাধ্যম।

প্রবাসীদের ফিতরা আদায়ের নিয়ম
বর্তমানে অনেক প্রবাসী বিদেশে অবস্থান করে স্বদেশে ফিতরা আদায় করতে চান।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা হলো ফিতরা আদায়কারী ব্যক্তি যেখানে অবস্থান করবেন, সেখানকার দ্রব্য মূল্যই হিসাব করতে হবে। অর্থাৎ একজন প্রবাসী যদি সৌদি আরবে থাকেন এবং বাংলাদেশে তাঁর ফিতরা আদায় করতে চান, তবে তাঁকে সৌদি আরবের সর্বনিম্ন ফিতরার হার অনুযায়ী টাকা পাঠাতে হবে। বাংলাদেশের সর্বনিম্ন হার (যেমন ১০০ টাকা) দিলে তাঁর ফিতরা আদায় হবে না—যদি সৌদিতে তার হার বেশি (যেমন ২০০ টাকা) হয়।
অনুরূপভাবে প্রবাসীর নাবালেগ সন্তানদের ফিতরা আদায়ের দায়িত্ব পিতার ওপর, তাই তাদের ফিতরাও পিতার অবস্থানস্থলের মূল্য অনুযায়ী হবে।
তবে প্রবাসীর স্ত্রী ও বালেগ সন্তানরা যদি দেশে থাকেন, তবে তাঁদের ফিতরা দেশের বাজারমূল্য অনুযায়ী আদায় করা যাবে, কারণ তাঁদের ফিতরা মূলত তাঁদের নিজেদের ওপরই আবশ্যক। (আল-বাহরুর রায়েক : ২/৩৫৫)

চাল দিয়ে ফিতরা আদায়ের সঠিক পদ্ধতি
আমাদের দেশে চাল প্রধান খাদ্য হওয়ায় অনেকে চাল দিয়ে সরাসরি ফিতরা দিতে চান। কিন্তু হাদিস শরিফে সরাসরি চালের কথা উ—্লেখ নেই। নবী করিম (সা.) পাঁচটি দ্রব্যের কথা উ—্লেখ করেছেন : গম, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনির।যব, খেজুর, পনির ও কিশমিশ দ্বারা আদায় করলে এক ‘সা’ (৩২৭০.৬০ গ্রাম) এবং গম দ্বারা আদায় করলে আধা ‘সা’ (১৬৩৫.৩১৫ গ্রাম) দিতে হবে। কেউ যদি চাল দিতে চান, তবে তাঁকে এই পাঁচটির যেকোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে। সরাসরি এক সা’ বা আধা সা’ চাল দিলে ফিতরা সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে আদায় হবে না। (কিফায়াতুল মুফতি : ৪/৩১২)

মূল্য দ্বারা ফিতরা আদায়ের বৈধতা
অনেকে মনে করেন খাদ্যদ্রব্য ছাড়া টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা জায়েজ নেই। অথচ সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈদের আমল দ্বারা এটি প্রমাণিত।

বিশিষ্ট তাবেঈ আবু ইসহাক আস সাবিয়ি (রহ.) বলেন, আমি সাহাবায়ে কেরামকে খাবারের সমমূল্যের দিরহাম দিয়ে ফিতরা দিতে দেখেছি। খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) পত্রে লিখেছিলেন আধা সা’ গম বা তার সমমূল্য আধা দিরহাম আদায় করতে। বর্তমান যুগে দরিদ্রদের প্রয়োজন পূরণে টাকার উপযোগিতা বেশি হওয়ায় ফকিহরা একে উত্তম বলেছেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা : ১০৩১৭; আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৬)
সামর্থ্য অনুযায়ী ফিতরার হার নির্বাচন
আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে সবাই শুধু গমের সর্বনিম্ন হার অনুযায়ী ফিতরা আদায় করেন। প্রকৃত পক্ষে যার সামর্থ্য আছে তার উচিত কিশমিশ, খেজুর বা পনিরের মূল্য অনুযায়ী ফিতরা দেওয়া। ঢালাওভাবে সামর্থ্যবানদের শুধু গমের মূল্যে ফিতরা দেওয়া সমীচীন নয়। নিজের আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী দামি দ্রব্যের হিসাব ধরাটাই তাকওয়ার পরিচয়।

জাকাত ও ফিতরার নিসাবের পার্থক্য
অনেকে মনে করেন যার ওপর জাকাত ফরজ নয়, তার ওপর ফিতরাও নেই। এটি ভুল। জাকাত শুধু সোনা-রুপা, নগদ টাকা ও ব্যবসার মালের ওপর হয়। কিন্তু সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয় প্রয়োজন অতিরিক্ত সব ধরনের সম্পদের ওপর (যেমন : অতিরিক্ত জমি, আসবাব, ঘরবাড়ি)। ঈদের দিন সকালে যার কাছে এই পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপর ফিতরা ওয়াজিব। তেমনিভাবে জাকাত দিতে পারেন না এমন ব্যক্তিও যদি নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হন, তবে তাঁকে ফিতরা নিতে দেওয়া যাবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬০)

আদায়ের সময় ও বণ্টন পদ্ধতি
সদকাতুল ফিতর আদায়ের সর্বোত্তম সময় হলো ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে। তবে রমজানের শেষ দশকে বা দু-তিন দিন আগেও আদায় করা যায়, যেন দরিদ্ররা কেনাকাটা করতে পারে। যদি কেউ ঈদের নামাজের আগে দিতে না পারেন, তবে পরে হলেও তা আদায় করতে হবে, কারণ এটি একটি ওয়াজিব হক। (বুখারি, হাদিস : ১৫০৯; আবু দাউদ, হাদিস : ১৬০৬)

ফিতরা কাদের দেওয়া যাবে ও যাবে না?
ফিতরা পাওয়ার হকদার শুধু অভাবী মুসলমান। আত্মীয়দের মধ্যে যারা অভাবী (যেমন—ভাই, বোন, চাচা, ফুফু) তাদের দেওয়া সবচেয়ে উত্তম, এতে সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক, উভয় সওয়াব পাওয়া যায়। অমুসলিমদের ফিতরা দেওয়া জায়েজ নয়। নিজের ঊর্ধ্বতন (পিতা-মাতা, দাদা-দাদি) এবং নিজের অধস্তন (ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি) এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দেওয়া বৈধ নয়।
বাড়ির কাজের লোক যদি অভাবী হয়, তবে তাকে ফিতরা দেওয়া যাবে, তবে শর্ত হলো এটি তার পারিশ্রমিক বা বোনাস হিসেবে দেওয়া যাবে না। ফিতরা দিতে হবে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে। এ ছাড়া মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ, রাস্তাঘাট বা জনকল্যাণমূলক কাজে ফিতরা ব্যয় করলে ফিতরা আদায় হবে না। কারণ ফিতরার টাকা সরাসরি গরিবের মালিকানায় পৌঁছানো জরুরি। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৬৯৪৭; রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৮)

রোজা না রাখলে ফিতরার বিধান
কেউ কেউ মনে করেন কোনো কারণে রোজা রাখতে না পারলে ফিতরা দিতে হয় না। এটি ভুল। সদকাতুল ফিতর একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। রোজা রাখা বা না রাখার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। যদি কেউ অসুস্থতা বা অন্য কোনো ওজরে রোজা রাখতে না পারেন, কিন্তু তিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তাঁকে অবশ্যই ফিতরা আদায় করতে হবে।

আদায়ের সময় ও বিলম্বের হুকুম
ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগেই ফিতরা আদায় করা মুস্তাহাব। তবে রমজানের শেষ দিকে বা দু-তিন দিন আগেও আদায় করা উত্তম, যেন দরিদ্ররা ঈদের কেনাকাটা করতে পারে। যদি কেউ ঈদের নামাজের আগে দিতে না পারেন, তবে তাঁকে পরে অবশ্যই আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যথাসময়ে আদায় না করার কারণে হাদিসে বর্ণিত বিশেষ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হবে। রাসুলু—্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে নামাজের আগে আদায় করবে তা মাকবুল সদকা, আর যে নামাজের পর দেবে তা সাধারণ সদকা।’
(বুখারি, হাদিস : ১৫০৯; আবু দাউদ, হাদিস : ১৬০৯)

একজনের ফিতরা কয়েকজনকে দেওয়া
সদকাতুল ফিতর বণ্টনের ক্ষেত্রে শরিয়তে শিথিলতা রয়েছে। একটি ফিতরা একাধিক দরিদ্র ব্যক্তিকে ভাগ করে দেওয়া জায়েজ। উদাহরণস্বরূপ, একজনের ফিতরার টাকা ১০০ টাকা হলে তা ২০-৩০ টাকা করে তিন-চারজনকেও দেওয়া যাবে। তবে একটি পূর্ণ ফিতরা একজন দরিদ্রকে দেওয়া উত্তম। একইভাবে কয়েকজনের ফিতরা একত্র করে একজন দরিদ্রকেও দেওয়া বৈধ। (বাদায়েউস
সানায়ে : ২/২-৮; আল-বাহরুর রায়েক : ২/২৫৫)

আধুনিক মাধ্যমে (বিকাশ/নগদ) ফিতরা প্রেরণ
বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে ফিতরা পাঠালে ‘ক্যাশ আউট’ চার্জ দাতা নিজেকেই বহন করতে হবে। কারণ ফিতরার পুরো টাকা গরিবের হাতে পৌঁছানো শর্ত। চার্জ বাবদ টাকা কেটে রাখা হলে ওই পরিমাণ ফিতরা আদায় হবে না। একইভাবে ফিতরার খাদ্যদ্রব্য পাঠাতে পরিবহন ভাড়া বা শ্রমিকের মজুরি দাতার নিজস্ব সম্পদ থেকে দিতে হবে, ফিতরার টাকা থেকে নয়। (ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ : ৬/২১৭)

সদকাতুল ফিতর আমাদের ইবাদতের ত্রুটি মোচন করে এবং সমাজের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটায়। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত সঠিক মাসআলা জেনে বিশুদ্ধ নিয়তে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোত্তম মানের দ্রব্যমূল্য হিসাব করে এই ওয়াজিব ইবাদতটি পালন করা।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা মারামারি ও সংঘর্ষ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল কিংবা মাতুব্বররা এখানে লিড দিয়ে থাকেন। তারা তাদের দলে লোকজন ভিড়িয়ে আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করে থাকেন।

এরপর চলে এলাকায় আধিপত্য, দরবার-সালিশ, মামলা-হামলাসহ নানা কাহিনী। এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এ উপজেলার কাইজা, সংঘর্ষ আর বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা। এভাবেই কারো যাচ্ছে প্রাণ, কেউ হচ্ছেন বাড়ি হারা, কেউবা বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

যাহোক, এবার আসি কেন সালথা উপজেলায় মারামারি ও সংঘর্ষ বন্ধ হয় না—

এই উপজেলার মানুষ ধর্মপরায়ণ। তাইতো মাদ্রাসার সংখ্যাও বেশি, যেমন— বাহিরদিয়া মাদ্রাসা, পুরুরা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সংখ্যাও অসংখ্য।

তবুও কেন থামছে না সংঘর্ষ—

‌> আধিপত্য বিস্তারের লড়াই:

মাতুব্বর তার আধিপত্য বিস্তার করতে এবং একক বলয় তৈরি করতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ করে থাকেন। এরপর ঢাল, সরকি, রামদা, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল দিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে যদি নিজের পক্ষের কোনো লোকজন না যায় তবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। এরপরও কাইজা বা সংঘর্ষে না গেলে যিনি কাইজায় না যান তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করা, এছাড়া তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে একজন নিরীহ মানুষ কাইজা বা সংঘর্ষে না যেতে চাইলেও বাধ্য করা হয়।

> জোর করে দলভুক্ত করা:

বিপীরত বা বিরোধী পক্ষের মাতুব্বরের লোকজনকে মারধর ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেন অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাসীন মাতুব্বর কিংবা মোড়লরা। অতঃপর দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়েও কাইজা করান। না করলে হুমকি-ধামকি আর ভাংচুর চালায় তাদের বাড়িঘরেও।

> প্রতিবাদের পথ বন্ধ:

কেউ যদি মাতুব্বরের অপকর্ম নিয়ে কথা বলে কিংবা প্রতিবাদ করে তবে তাকে মারধর সহ মিথ্যা মামলায় জড়ান ওই মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা।

> একপাক্ষিক সালিশ ব্যবস্থা:

এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই এই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল সালিশ ডেকে যে রায় দেন সেটাই মানতে হয়! ভয়ে কেউ সঠিক কথা বলতে পারেন না।

> সালিশকে আয়ের উৎস বানানো:

এরপর এই মোড়ল বা মাতুব্বররা এলাকায় যে কোনো ঘটনা মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে উভয় পক্ষের কাছে থেকে বা যে কোনো এক পক্ষের কাছে থেকে টাকা বা জরিমানা আদায় করেন। অতঃপর সেখানে ভাগ বসানোর অভিযোগ রয়েছে অহঃরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হন সে ব্যক্তি।

> অসৎ যোগসাজশের অভিযোগ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মাতুব্বররা যোগসাজশ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিধায় অনেক নিরীহ মানুষ থানা কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করলে উল্টো নিজেই অপরাধী ও মামলা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাইতো, ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

> শিক্ষিত সমাজের নীরবতা:

এ উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো চাকরিজীবী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকেন না। হয়রানি ও সম্মানহানির ভয়ে এ এলাকার মোড়ল কিংবা মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না। তারা মনে করেন মাতুব্বরদের কিছু বললে উল্টো তারা নাজেহাল হবেন, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। তাই অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

এ উপজেলায় সংঘর্ষ ও মারামারি এড়াতে বা প্রতিরোধের উপায়-

> . ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ গঠন:

এ উপজেলায় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর প্রথা বিলুপ্তি করে এলাকার সুশীল সমাজের লোক— যেমন নিরপেক্ষ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, চাকরিজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কিংবা নিরপেক্ষ একজন মানুষকে প্রধান করে নিরপেক্ষভাবে গ্রামের যেকোনো বিরোধ কিংবা সমস্যা সমাধান কিংবা পরিচালনা করার জন্য ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ নামক একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তারা গ্রামের যেকোনো বিরোধ মিমাংসা করবেন। না পারলে আইনগত সহায়তা নিবেন বা সুপারিশ করবেন।

> মাদকবিরোধী কমিটি:

প্রতিটি এলাকার গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা এলাকার মাদক নির্মূল বা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে।

> সংঘর্ষ প্রতিরোধ টিম:

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে সুশীল সমাজের লোকজন দিয়ে কাইজ্যা কিংবা সংঘর্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা সংঘর্ষ বন্ধে ভূমিকা পালন করবেন।

> নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর অথবা যারা মারামারিতে উস্কানি দেয় তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবেনা।

> প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়:

থানা পুলিশ ও প্রশাসন স্থানীয় প্রতিটি গ্রামে গঠন করা শান্তি কমিটির কিংবা সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে কাজ করতে পারেন।

> জরুরি হেল্পলাইন চালু:

সংঘর্ষ ও কাইজা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করার জন্য থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। যাতে যেকোনো সহিংসতা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করতে পারে প্রশাসন।

> দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান:

প্রশাসনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা। যাতে নতুন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করতে না পারা ও মানুষের ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হয় কাইজের বিরুদ্ধে।

> সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট এমপি, ইউএনও কিংবা ওসিকে প্রধান করে সুশীল সমাজ, চাকরিজীবী, শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে, সম্মানি ব্যক্তির দ্বারা কয়েকটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যে কমিটির কাজ হবে একেকদিন এক একটি স্কুল-কলেজে গিয়ে এভাবে প্রতিটি স্কুল-কলেজে পৌঁছে কাইজা বা সংঘর্ষের কুফল ও খারাপ দিকগুলো বিস্তর আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যাতে নতুন প্রজন্ম এই কাইজা করতে নিরুৎসাহিত হয়।

> নিয়মিত গণসভার আয়োজন:

থানার ওসি ও ইউনওর অন্তত মাসে এলাকার লোকজন নিয়ে এক একটি ইউনিয়নে গিয়ে কাইজা বন্ধে সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

এইভাবেই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সালথা উপজেলায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক:

হারুন-অর-রশীদ, বিবিএ (অনার্স), এমবিএ (ব্যবস্থাপনা)।

– ফরিদপুর প্রতিনিধি: বাংলানিউজ২৪ ও দৈনিক আজকালের খবর।

– সিনিয়র সহ-সভাপতি : সালথা প্রেসক্লাব

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।