খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে বাবার জানাজার তিনঘণ্টা আগে মাছ লুটের অভিযোগে মামলা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাবার জানাজার তিনঘণ্টা আগে মাছ লুটের অভিযোগে মামলা

বাবার জানাজার তিনঘণ্টা আগে মাছ লুটের মামলা হয়েছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কোষাধ্যক্ষ এসএম ফারুক হোসেন এবং সাতৈর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে।

রোববার (১৫ মার্চ) রাতে বোয়ালমারী থানার মামলাটি দায়ের হয়। এর আগে বিকেলে বিলচাপাদহের সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস বাদী হয়ে এজাহার দাখিল করেন। মামলায় দুই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক তারিকুল ইসলামসহ ২৫ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১০০-১৫০ জনকে।এদিকে ঘটনার আগের দিন রাতে (১ মার্চ) সাতৈর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমানের বাবা মো. রাশেদ মোল্লা মারা যান। পরদিন সকাল ১০টায় তার জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মৃতদেহ দাফন করা হয়। কিন্তু রাতে বাবার মৃত্যুর পর মরদেহ বাড়িতে রেখে ঘটনার তিন ঘণ্টা আগে বিলের মাছ লুটের অভিযোগে ঘটনার তের দিন পরে মামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২ মার্চ সকাল ৭টার দিকে বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র অবস্থায় বিল চাপাদহের আশি লাখ টাকার মাছ ও সরঞ্জাম লুট করে বলে বাদী এজারের উল্লেখ করেন।এ ব্যপারে মামলার চার নম্বর আসামি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের ভাই এনামুল মোল্লা বলেন, আমার বাবা রাশেদ মোল্লা ১ মার্চ দিনগত রাতে মারা যান। আমি তখন ঢাকায় ছিলাম। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতে বাড়িতে যাই এবং পরদিন সকাল ১০টার দিকে আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। বাবার মৃত্যুর তেরদিন পরে ১৫ মার্চ রাতে জানতে পারি আমাদের দুই ভাইয়ের নামে মামলা হয়েছে।

সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, ১ মার্চ রাতে আমার বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মারা যান। ২ মার্চ সকাল ১০টায় তার জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাহলে আমার বাবার মরদেহ রেখে সকাল ৭টায় কীভাবে মাছ লুট করতে গেছি। আমাদের রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম ফারুক হোসেন বলেন, গত পাঁচ আগস্টের পরে চাপাদহ বিল এলাকায় একটিবারের জন্যও যাইনি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে পরিকল্পিতভাবে এ মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ মামলা মিথ্যা, ভিত্তিহীন। হেনস্তা করার জন্য তৃতীয় কোনো পক্ষের দায় আমাদের ওপর চাপানো হচ্ছে।বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে বিলের মাছ লুট ও ঘটনার তের দিন পরে থানায় মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী ও বিলচাপাদহ মৎসজিবী সমিতির সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস বলেন, বিলে পাহারাদার ছিলেন। পাহারাদাররা যাদের যাদের মাছ মারতে দেখছে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সাতৈর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রাফিউল আলম মিন্টুর মোবাইলে কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যপারে বক্তব্য জানতে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. আনোয়ার হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি। তিনি কলটি বারবার কেটে দেন।

এ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরে সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা সার্কেল) মো. আজম খান বলেন, মামলা হতেই পারে। মামলায় তদন্ত করে বাদ যায়, যুক্ত হয়। মামলা তদন্ত করে, সত্য-মিথ্যা যাচাই করে মামলার তদন্তকারীকে কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

ফরিদপুরে দোকানঘরের দেয়াল চাপা পড়ে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে দোকানঘরের দেয়াল চাপা পড়ে যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের নগরকান্দায় একটি পুরাতন দোকানঘরের দেয়াল ভাঙার সময় চাপা পড়ে শাহিন (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকার ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরকান্দা উপজেলা অডিটোরিয়ামের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত শাহিন নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের শশা গ্রামের কামাল শেখের ছেলে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আবু জাফর (৬৫) নামে এক ব্যক্তির পুরাতন দোকানঘরের সাইড ওয়াল ভাঙার কাজ করছিলেন শাহিন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত দেয়ালটি হঠাৎ করে তার ওপর ভেঙে পড়ে। এতে শাহিনের বুক ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

​ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ।

আলফাডাঙ্গায় ছাত্রদলের ডেঙ্গু বিরোধী মশক নিধন ও জনসচেতনতা অভিযান

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় ছাত্রদলের ডেঙ্গু বিরোধী মশক নিধন ও জনসচেতনতা অভিযান

দেশব্যাপী ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ডেঙ্গুর স্থানীয় প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে এই সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে আলফাডাঙ্গা থানা চত্বরে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো এবং সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরবর্তীতে আলফাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, উপজেলা পরিষদ চত্বর এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে মশার ওষুধ ছিটান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।

​অভিযানের সূচনা পর্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু, আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নেয়ামত হোসেন পারভেজ এবং উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আরব আলীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​উপজেলা ছাত্রদল নেতা জিসান মিয়ার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান সোহান, ইমন তালুকদার, আলামিন শেখ, ফাহিম আহমেদ ও আব্দুল্লাহ আল ফয়সালসহ অন্যান্য তরুণ নেতাকর্মীরা।

​কর্মসূচির বিষয়ে ছাত্রদল নেতা জিসান মিয়া জানান, ফরিদপুর-১ আসনের বিএনপি নেতা খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নির্দেশনায় জনস্বার্থে এ সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ডেঙ্গুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগামীতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফরিদপুরে ভ্যানের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণ গেল কিশোরীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ভ্যানের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণ গেল কিশোরীর

ফরিদপুরের সদরপুরে চলন্ত ভ্যানের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে জামিলা (১৩) নামে এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চর কুমারিয়া গ্রাম থেকে মোল্লা গ্রামে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত জামিলা চর কুমারিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. মহিউদ্দিন সিকদারের মেয়ে। তাঁর মা তাসলিমা বেগম পূর্বেই মারা গেছেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ভ্যানে চড়ে ভগ্নিপতি মো. রিয়াজুল শেখের বাড়িতে যাচ্ছিল জামিলা। পথে মোল্লা গ্রামের একটি শাখা সড়কে পৌঁছালে অসাবধানতাবশত তার পরনের ওড়নাটি চলন্ত ভ্যানের চাকায় পেঁচিয়ে যায়। এতে ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে গলায় ফাঁস লেগে সে গুরুতর আহত হয়।

​পরবর্তীতে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জামিলাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।