খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

দেশে ঈদ কবে, জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
দেশে ঈদ কবে, জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে উদযাপিত হবে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায়। ১৪৪৭ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং ঈদের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে আজ সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্মমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, আজ বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তবে আজ চাঁদ দেখা না গেলে আগামীকাল রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং ঈদ উদযাপিত হবে শনিবার। দেশের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে তা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত টেলিফোন নম্বরে (০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০০২-২২৩৩৮৩৩৯৭) অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে ঈদের প্রধান জামাত নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নামাজ আদায় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই মাঠে ২৫০ জন অতি গুরুত্বপূর্ণ পুরুষ ও ৮০ জন নারীর জন্য বিশেষ নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তবে বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে জামাতের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক প্রধান জামাতে ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যেমন আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসহ দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কয়েকশ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে সকাল ১০টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। শোলাকিয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের টুপি, জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কিছু সঙ্গে না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে পাঁচ প্লাটুন বিজিবিসহ চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় দুঃস্বপ্ন, ভাঙ্গার যুবকের ২৪ লাখ টাকা লুট

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় দুঃস্বপ্ন, ভাঙ্গার যুবকের ২৪ লাখ টাকা লুট

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে নির্যাতন চালিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের দীঘলকান্দা গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর মাতুব্বরের ছেলে সবুজ মাতুব্বরকে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেন একই গ্রামের তাহিদ মাতুব্বর। পরে তাহিদের নেতৃত্বে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সবুজকে লিবিয়ায় নিয়ে যায়।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চক্রের মূলহোতা তাহিদ মাতুব্বর (৩৫), তার মা কহিনুর বেগম, ভাই সহিদ মাতুব্বর ও বোন লিটা বেগমসহ আরও কয়েকজন। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রথমে ১৯ লাখ টাকা নেয় চক্রটি। এরপর গত ২০২৫ সালের ২ জুলাই সবুজকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে আরও ৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ মাস ধরে লিবিয়ায় অবৈধভাবে আটকে রেখে নির্যাতনের পর গত ৫ ডিসেম্বর সবুজকে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে ৩৮ দিন কারাভোগের পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

সবুজের বাবা লুৎফর মাতুব্বর বলেন, “লিবিয়ায় অবস্থানরত তাহিদের নির্দেশে তার পরিবারের সদস্যরা দেশে বসেই পুরো অর্থ লেনদেন ও বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করত। আমরা ধার-দেনা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা নেওয়ার পরও চক্রটি পুনরায় ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করে এবং পরে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করে।

লুৎফর মাতুব্বর বলেন, “আমার মতো আরও অনেক পরিবার এই চক্রের প্রতারণার শিকার। কেউ কেউ লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে সাগরে নিখোঁজ হয়েছেন বলেও শুনেছি। আমি আমার টাকার ফেরত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আল আমিন জানান, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার একটি অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদরপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ৩ ফার্মেসিকে জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ৩ ফার্মেসিকে জরিমানা

ফরিদপুরের সদরপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টার হালনাগাদ না করা ও ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন ব্যতিরেকে ফার্মেসি পরিচালনার অপরাধে তিনটি ফার্মেসিকে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে জব্দ করা অবৈধ ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে।

রবিবার (৩ মে) বিকালে উপজেলার হাসপাতাল মোড় ও বাবুরচর বাজার এলাকায় সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়ার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টার হালনাগাদ না করা, ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন ব্যতিরেকে ফার্মেসি পরিচালনা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখা ও বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫১ ধারা অনুসারে তিন ফার্মেসি মালিক গোপালকৃষ্ণ সাহাকে (৪০) ৩ হাজার, মো. শরিফুল ইসলামকে (৩৬) ৩ হাজার ও আ. মোতালিবকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান চলাকালীন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সদরপুর থানা পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এবার সতর্কতামূলকভাবে তুলনামূলক কম জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুটির নাম ওজিহা। তার বয়স সাত মাস। সে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর এলাকার বাসিন্দা সবুজ মাতুব্বরের মেয়ে।

শিশুটিকে হামের উপসর্গ নিয়ে শনিবার (০২ মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (০৩ মে) ভোররাত পাঁচটার দিকে তার মৃত্যু।

ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩ মে পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট নয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে দুইজন করে ছয়জন এবং রাজবাড়ী, যশোর ও মাগুরার একজন করে মোট তিনজন রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান জানান, ৭ মাস বয়সী শিশু ওজিহা ভর্তির সময়ই তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হলেও ফলাফল আসার আগেই শিশুটি মারা যায়।

গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে ২৬ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন ২৬ রোগীসহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮০ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন শিশুসহ মোট ৩০ শিশুর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে আজ রোববার পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৫২ জন শিশু ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২০২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।