খুঁজুন
, ,

আলফাডাঙ্গায় চার দিন ধরে নিখোঁজ গৃহবধূ, মাকে ফিরে পেতে তিন শিশুর আকুতি

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় চার দিন ধরে নিখোঁজ গৃহবধূ, মাকে ফিরে পেতে তিন শিশুর আকুতি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় স্বামী ও তিন শিশু সন্তান রেখে চার দিন ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন আশরাপিয়া পিংকী (৩৫) নামে এক গৃহবধূ। গত ৭ জুলাই (মঙ্গলবার) সকালে সন্তানদের বই কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে উৎকণ্ঠা। সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে পিংকীর তিন শিশু সন্তান, যারা বারবার মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানাচ্ছে।

নিখোঁজ পিংকী আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের মো. হোসেন মৃধার স্ত্রী। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। হোসেন মৃধা জাহাজের প্রথম শ্রেণির মাস্টার এবং পাশাপাশি জাহাজ-সংক্রান্ত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

এ ঘটনায় পিংকীর স্বামী হোসেন মৃধা তার শাশুড়িসহ আটজনের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, পিংকীর মা সালমা বেগমও মেয়ের সন্ধান চেয়ে থানায় পৃথক একটি অভিযোগ দিয়েছেন। ফলে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে ফলিয়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের মেয়ে আশরাপিয়া পিংকীর সঙ্গে একই গ্রামের মনিহাল মৃধার ছেলে হোসেন মৃধার বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন তারা ঢাকার উত্তরায় বসবাস করতেন।

হোসেন মৃধার দাবি, শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা নিয়েছেন। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত এক ব্যবসায়িক অংশীদারের পাঠানো ৬০ লাখ টাকা শ্যালকের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর পর থেকেই স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আচরণ বদলে যায়। তিনি টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা, ভয়ভীতি এবং বিরোধের সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২৯ জুন পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে মারধরের শিকার হতে হয়। পরে আত্মীয়-স্বজনের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হলে তিনি পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন এবং সন্তানদের স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি করান।

হোসেন মৃধার ভাষ্য, গত ৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পিংকী সন্তানদের বই কেনার কথা বলে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। বিষয়টি জানাতে শাশুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন হোসেন।

তিনি বলেন, “চার দিন হয়ে গেল। আমার স্ত্রী কোথায় আছে জানি না। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, আমার তিনটি সন্তান মায়ের জন্য কান্নাকাটি করছে। আমরা চাই, তাকে দ্রুত খুঁজে বের করা হোক।”

এদিকে, পিংকীর আপন চাচা মুন্নু মোল্যা ও সাবেক ইউপি সদস্য ছালাম মোল্যাসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, হোসেন মৃধা শান্ত স্বভাবের মানুষ। তাদের ধারণা, পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে পিংকীর মা সালমা বেগম বলেন, “আমার মেয়ের ওপর প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। তাকে মারধর করা হতো। আমার মেয়েও তাদের বাড়ি থেকেই নিখোঁজ হয়েছে। সে কোথায় আছে, আমরাও জানি না। আমিও থানায় অভিযোগ করেছি। আমিও আমার মেয়েকে ফিরে পেতে চাই।”

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিখোঁজ গৃহবধূর সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।”

রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাত মানবপাচার চক্র, নিহত ২০ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাত মানবপাচার চক্র, নিহত ২০ বাংলাদেশি

উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় পাঠিয়ে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাত মানবপাচারকারী একটি চক্র। চক্রটির খপ্পরে পড়ে অন্তত ২০ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এ চক্রের প্রধান দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

​একই সঙ্গে পৃথক এক অভিযানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ৪৬৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার এবং তাদের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

​বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহা. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

​সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চক্রটি ভিকটিম রাজন হোসেনকে কনস্ট্রাকশন কাজের কথা বলে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠায়। তবে গত ৭ মে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর রাজনসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। পরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখসারিতে ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হন রাজন। চিকিৎসা শেষে কোনোমতে পালিয়ে গত ২৩ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।

​পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ চাইলে অভিযুক্তরা রাজনের পরিবারকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মামলা করা হলে, গত ১৩ অক্টোবর রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমান (৫৫) এবং ঝিনাইদহ থেকে মো. আবু তাহের লেন্টুকে (৫০) গ্রেফতার করে এসআরবি।

​প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাচার করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠায়। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন ইতিপূর্বে মারা গেছেন এবং মাত্র ২ জন আহত অবস্থায় দেশে ফিরতে পেরেছেন।

​এদিকে, পৃথক এক অভিযানে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালায় এসআরবি-১০। সেখান থেকে ৪৬৩ বোতল ফেনসিডিলসহ মো. রুহুল আমীন (২৬) ও মো. লিয়াকত (৪৩) নামের দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় মাদক বহনের কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, দু’টি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা।

​আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এসআরবি এ ধরনের মানবপাচার ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে বলে জানানো হয়।

‘ড. ইউনূসকে অপমানে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে’: রিজভী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
‘ড. ইউনূসকে অপমানে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে’: রিজভী

জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে ঝামেলায় ফেলতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে পতিত দোসররা নানাভাবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দেশের মানুষকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

​বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে গাজীরটেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মোঃ লকাই বিশ্বাসের জন্য নির্মিত বাড়ির চাবি হস্তান্তর, চিকিৎসা সহায়তা ও কর্মসংস্থান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​রিজভী বলেন, “ভারত থেকে পতিত সরকারের দোসররা ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চক্রান্ত শুরু করেছে। গত কয়েকদিন আগে বিদেশের মাটিতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নেক্কারজনকভাবে অপমান করা হয়েছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়—আপনারা একটি বার ভেবে দেখুন।”

​ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

​এ সময় অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম কিবরিয়া স্বপনসহ দলটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​বক্তব্য শেষে রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মো. লকাই বিশ্বাসের হাতে নতুন নির্মিত বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি চিকিৎসা সহায়তা ও কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ করেন তিনি।

‘স্বচ্ছতা ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে’: এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
‘স্বচ্ছতা ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে’: এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম বলেছেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। উন্নয়নের সুফল যেন প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

​বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ফরিদপুর জেলা এলজিইডি কার্যালয় পরিদর্শনের সময় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

​এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুর জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে তিনি কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় দলীয় নেতাদের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভা শেষে তিনি কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

​এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গি, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজসহ এলজিইডির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

​মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী জেলার চলমান ও আগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।