খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

বিদ্যালয়ের ঘণ্টা বাজানো দুঃখীরামের জীবনে আজ নীরবতা—পা হারিয়ে লড়ছে মৃত্যুর সাথে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
বিদ্যালয়ের ঘণ্টা বাজানো দুঃখীরামের জীবনে আজ নীরবতা—পা হারিয়ে লড়ছে মৃত্যুর সাথে

এক সময় বিদ্যালয়ের ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ডাকতেন, সবার ছোট-বড় প্রয়োজন মিটিয়ে নীরবে দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু আজ সেই মানুষটিই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, নিঃসঙ্গতা আর অসহায়ত্বের ভার বয়ে বেড়াচ্ছেন।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত দপ্তরী বাবু সুকুমার বিশ্বাস, যাকে এলাকাবাসী ‘দুঃখীরাম’ নামেই বেশি চেনেন, বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি আছেন। দীর্ঘদিন ধরে পায়ে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক হয়ে ওঠে যে, চিকিৎসকদের শেষ পর্যন্ত তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করে অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের শয্যায় দিন কাটাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শৈশবেই পিতৃহীন হয়ে পড়েন সুকুমার বিশ্বাস। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই মানুষটির আশ্রয় হয় স্থানীয় ঘোষ পরিবারে। প্রয়াত মোহিত মোহন ঘোষের সহানুভূতি ও সহযোগিতায় তিনি জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরীর চাকরি পান। দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে অবসর নিলেও জীবনের শেষ সময়ে এসে তাকে লড়তে হচ্ছে চরম অনিশ্চয়তার সঙ্গে।

তার নিজের কোনো জমিজমা নেই, নেই কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস কিংবা নিকট আত্মীয়স্বজনের সহায়তা। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার শরীরে রক্তস্বল্পতা (হিমোগ্লোবিন কম) ও সংক্রমণের মাত্রা আশঙ্কাজনক। সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হলে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, ওষুধ, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং একটি হুইলচেয়ার—যার জন্য প্রয়োজন বড় অঙ্কের অর্থ।

তার ভাগ্নে সৈকত ঘোষ জানান, “মামা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি। এখন পা কেটে ফেলার পর তার চিকিৎসা আরও ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। আমাদের পক্ষে এই খরচ বহন করা একেবারেই সম্ভব হচ্ছে না।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিটান্ত কুমার ঘোষ বলেন, “দুঃখীরাম দাদা শুধু একজন দপ্তরী নন, তিনি আমাদের বিদ্যালয়ের ইতিহাসের অংশ। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষকে এভাবে অসহায় অবস্থায় দেখতে খুব কষ্ট হয়। আমরা সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।”

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আতিয়ার রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ের শুরু থেকে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ তার এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ সমাজের সবার প্রতি সাহায্যের জন্য অনুরোধ জানাই।”

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে সরকারিভাবে সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

সালথায় ৭ নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সালথায় ৭ নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন করে ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব বিদ্যালয়ের অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংকটপূর্ণ এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক গ্রামের শিক্ষার্থীদের দূরবর্তী বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে হয়। বিশেষ করে ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। নতুন বিদ্যালয়গুলো স্থাপিত হলে এসব এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার কাছেই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন  বলেন, “সালথায় ৭টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, অতিশীঘ্রই বিদ্যালয়গুলো অনুমোদন পাবে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করা সহজ হবে। একই সঙ্গে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমবে এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার আরও বৃদ্ধি পাবে।

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই নতুন এসব বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, নতুন বিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হলে সালথার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং সরকারের ‘সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা’ নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।

এদিকে বিদ্যালয়গুলোর অনুমোদনের খবরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ ও আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

সাবেক মন্ত্রী ও সংবিধান রচয়িতা গৌর চন্দ্র বালার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সাবেক মন্ত্রী ও সংবিধান রচয়িতা গৌর চন্দ্র বালার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, যুক্তফ্রন্ট সরকারের সাবেক বন ও খাদ্যমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম রচয়িতা গৌর চন্দ্র বালার ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন)।

মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের উল্লাবাড়ী গ্রামে জন্ম নেওয়া এই বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলিস্থ তাঁর বাসভবন ‘বালা বাড়ি’-তে পারিবারিকভাবে গীতা পাঠ, পূজা-অর্চনা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

গৌর চন্দ্র বালা ২০০৫ সালের ১৮ জুন ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলিস্থ নিজ বাসভবনে ৭৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে যান। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী গৌর চন্দ্র বালা ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন সাহসী নেতা। ১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে তিনি ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর জামানত বাজেয়াপ্ত করে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভায় বনমন্ত্রী এবং পরে খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনেও তিনি ছিলেন অগ্রণী ভূমিকার অধিকারী। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত আইয়ুব খানবিরোধী গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তৎকালীন ফরিদপুর-৩ (বলিয়াকান্দি-কামারখালী) আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো বিনির্মাণেও তিনি অবদান রাখেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যতম ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।

রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও গণমানুষের নেতা হিসেবে গৌর চন্দ্র বালার অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ফরিদপুর-মাদারীপুর অঞ্চলের মানুষ। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবার, শুভানুধ্যায়ী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করেন।

স্বল্প আয়ে যেভাবে চালাবেন সংসার?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:২০ পূর্বাহ্ণ
স্বল্প আয়ে যেভাবে চালাবেন সংসার?

বর্তমান সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে স্বল্প আয়ের অনেক পরিবার সংসার পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। তবে সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা ও অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে সীমিত আয়েও একটি পরিবার স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন আর্থিক সাক্ষরতা সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ সঞ্চয় ও প্রয়োজনীয় খাতে ভাগ করে ব্যয় পরিকল্পনা করলে পরিবারের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জীবনযাত্রার ব্যয় সংক্রান্ত বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, খাদ্য, বাসাভাড়া ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ই নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারের মোট ব্যয়ের বড় অংশ দখল করে। ফলে সঠিক বাজেট না থাকলে মাস শেষে আর্থিক সংকট দেখা দেয়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বল্প আয়ে সংসার পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাজেট নিয়ন্ত্রণ ও খরচের অগ্রাধিকার নির্ধারণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একাধিক গবেষণায়ও উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব পরিবার নিয়মিত বাজেট অনুসরণ করে এবং আর্থিক পরিকল্পনা মেনে চলে, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি সঞ্চয় করতে সক্ষম হয়।

বাজেট পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসের শুরুতেই একটি নির্দিষ্ট বাজেট তৈরি করা উচিত। খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় খাতে প্রথমে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। পরে অন্যান্য খরচ নির্ধারণ করতে হবে।

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো

অর্থনীতিবিদদের মতে, ছোট ছোট অপ্রয়োজনীয় খরচ একত্রে বড় চাপ তৈরি করে। বাহিরে খাওয়া, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এবং অতিরিক্ত বিনোদন খরচ কমালে মাসিক ব্যয় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সঞ্চয়ের অভ্যাস

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নির্দেশনায় নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্বল্প আয়েও আয়ের একটি ক্ষুদ্র অংশ আলাদা করে রাখার সুপারিশ করা হয়।

অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে পার্ট-টাইম কাজ, ছোট ব্যবসা বা অনলাইন কাজের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব, যা পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, “আয় কম হলেও সঠিক পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা এবং সচেতন ব্যয় অভ্যাস থাকলে সংসার পরিচালনা করা সম্ভব।”

মূল বার্তা

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য আর্থিক শৃঙ্খলাই সবচেয়ে বড় শক্তি। আয় বাড়ার অপেক্ষায় না থেকে ব্যয় ব্যবস্থাপনা ঠিক করাই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল জীবন নিশ্চিত করতে পারে।

সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত নির্দেশনা), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জীবনযাত্রা ব্যয় জরিপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের গবেষণা ও বিভিন্ন অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ।