খুঁজুন
, ,

যুক্তির লড়াইয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শপথ, আলফাডাঙ্গায় চ্যাম্পিয়ন পাইলট স্কুল

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
যুক্তির লড়াইয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শপথ, আলফাডাঙ্গায় চ্যাম্পিয়ন পাইলট স্কুল

‘রুখবো দুর্নীতি, গড়বো দেশ—হবে সোনার বাংলাদেশ’ এই অদম্য প্রত্যয় বুকে ধারণ করে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা। তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে সততা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দুর্নীতিবিরোধী চেতনা ছড়িয়ে দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্যোগে এবং আলফাডাঙ্গা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এ বিতর্ক উৎসবের আয়োজন করা হয়।

​রোববার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল (পাইলট) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে উপজেলার ৪টি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই মেধা-লড়াই শুরু হয়। যুক্তি, তথ্য আর পাল্টা যুক্তির মননশীল লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্বাগতিক প্রতিষ্ঠান আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল (পাইলট) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

নক-আউট পর্বের প্রথম ম্যাচে ‘ক’ গ্রুপে বিতর্কের বিষয় ছিল— ‘অভাব নয়, সীমাহীন লোভই দুর্নীতির প্রধান কারণ’। এতে প্রস্তাবনার পক্ষে লড়াই করে আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিপক্ষে অবস্থান নেয় হেলেঞ্চা উচ্চ বিদ্যালয়।

​অন্যদিকে ‘খ’ গ্রুপে বিতর্কের বিষয় নির্ধারণ করা হয়— ‘দুর্নীতির মূল কারণ হলো আইনের শাসনের অভাব’। এই ম্যাচে পক্ষে ছিল কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমি এবং বিপক্ষে যুক্তি পেশ করে জাটিগ্রাম এম.এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

​দুই গ্রুপের সেরা দুই দলকে নিয়ে মুখোমুখি করা হয় গ্র্যান্ড ফাইনালে। চূড়ান্ত পর্বের রোমাঞ্চকর বিতর্কের বিষয় ছিল— ‘দুর্নীতিই বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রধান অন্তরায়’। শব্দের জাদুতে হলরুম মাতানো এ ম্যাচে বিচারকদের রায়ে বিজয়ের হাসি হাসে আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল (পাইলট) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জয়ী দলের বিতার্কিকরা হলেন— আদিবা আক্তার অর্পা (নবম শ্রেণি), সুমাইয়া সামিন (নবম শ্রেণি) ও ফাহমিদা শাদ দিবা (অষ্টম শ্রেণি)। এছাড়া আসরে অনন্য সাধারণ নৈপুণ্য দেখায় কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির সাবরিনা, ফাহমিদা ও মোহাম্মাদ; হেলেঞ্চা উচ্চ বিদ্যালয়ের মার্জিয়া মার্জান তরী, মাশরুবা জাহান ও লামিয়া আক্তার এবং জাটিগ্রাম এম.এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গোধুলী, মাইশা ও মাশরুবা।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মনিরুল হক সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ।

​বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ আলো করে ছিলেন দুদকের সহকারী পরিদর্শক মো. শামীম আহমেদ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশরাফুর রহমান, আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুল ইসলাম এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মো. তাজমিনউর রহমান (তুহিন) ও শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস । মিলন কুমার সরকারের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সুশাসন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ সমাজকে এখন থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনাই শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

​পুরো প্রতিযোগিতায় বিচারকের কড়া দায়িত্বে ছিলেন আলফাডাঙ্গা মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ডা. শায়লা সুলতানা, ভূগোলের প্রভাষক ডা. উম্মে সালমা এবং দুদকের সহকারী পরিদর্শক মো. শামীম আহমেদ। ঘড়ির কাঁটার নিখুঁত হিসাব বা সময় নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গৌর দাস গৌতম।

​অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী ও বিজিত বিতার্কিকদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার সামগ্রী তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এ সময় হলরুমে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

একটি পোটলা, একটি লাঠি আর এক বৃদ্ধার অপেক্ষাহীন জীবন

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
একটি পোটলা, একটি লাঠি আর এক বৃদ্ধার অপেক্ষাহীন জীবন

ঘড়ির কাঁটা রাত সাড়ে ৯টা ছুঁইছুঁই। বাইরে রিমঝিম বৃষ্টি। ফরিদপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মিটমিট করে জ্বলছে ডিম লাইটের ক্ষীণ আলো। দূরে কোথাও ট্রেনের হুইসেল মিলিয়ে যায় রাতের নিস্তব্ধতায়। একটি কুকুর ধীরে ধীরে পাশ ঘেঁষে চলে যায়। চারপাশে মানুষের আনাগোনা কমে এসেছে, অথচ একজন মানুষ তখনও জেগে আছে—না, চোখে নয়; জীবনের কঠিন বাস্তবতায়।

প্ল্যাটফর্মের এক কোণে মাটিতে শুয়ে আছেন এক বৃদ্ধা। গায়ে একটি পুরোনো শাড়ি। মাথার নিচে ছোট্ট কাপড়ের বালিশ। পাশে একটি পোটলা—হয়তো এটাই তার সমস্ত সম্বল। একজোড়া পুরোনো স্যান্ডেল, একটি লাঠি, আর একটি প্লাস্টিকের গামলায় রাখা পানির বোতল ও কিছু সামান্য জিনিসপত্র। মনে হয়, এই অল্প কয়েকটি জিনিসই তার পুরো পৃথিবী।

বয়স হয়তো ষাট পেরিয়েছে। মুখে সময়ের নির্মম আঁচড়, শরীরে ক্লান্তির ছাপ। সারাদিন তিনি কী খেয়েছেন, আদৌ খেতে পেরেছেন কি না—সেই খবর রাখার মানুষ হয়তো আর কেউ নেই। মাথার ওপর নেই কোনো ছাদ, অপেক্ষায় নেই কোনো আপনজন। দিনের শেষে তার ঠিকানা এই রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, আর আকাশটাই যেন তার একমাত্র ছাদ।

হয়তো একদিন তারও ছিল একটি সংসার। ছিল সন্তানের মুখ, ছিল হাসি-আনন্দে ভরা উঠোন। সময়ের নির্মম স্রোতে হারিয়ে গেছে সব। আজ তিনি সমাজের হাজারো ব্যস্ত মানুষের চোখের সামনে থেকেও অদৃশ্য এক মানুষ। শত শত যাত্রী তার পাশ দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু খুব কম মানুষই থেমে জানতে চায়—“মা, আপনি কেমন আছেন?”

সভ্যতার অগ্রগতির গল্প আমরা প্রতিদিন বলি। উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিয়ে গর্ব করি। অথচ একটি অসহায় বৃদ্ধা যখন রেলস্টেশনের খোলা প্ল্যাটফর্মে বৃষ্টির রাতে ঘুমিয়ে থাকেন, তখন প্রশ্ন জাগে—আমাদের উন্নয়নের আলো কি তার কাছে পৌঁছেছে?

হয়তো এই বৃদ্ধা কোনো খবরের শিরোনাম হবেন না। কিন্তু তার নীরব ঘুম, তার পাশে পড়ে থাকা লাঠি আর ছোট্ট পোটলাটি আমাদের সমাজের এক কঠিন বাস্তবতার প্রতীক। মানবিকতার পরীক্ষা বড় বড় মঞ্চে নয়, এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই।

হয়তো একটি উষ্ণ খাবার, একটি শুকনো কম্বল, একটু চিকিৎসা কিংবা একটি নিরাপদ আশ্রয়—এসবই বদলে দিতে পারে তার আগামী সকাল। কারণ, প্রতিটি মানুষেরই সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রের নয়, আমাদের সবার।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

এই ৪ অভ্যাস আছে? ভাইরাল হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি-ভিডিও

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ
এই ৪ অভ্যাস আছে? ভাইরাল হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি-ভিডিও

ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা বুঝতেই পারেন না, কীভাবে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত অন্যের হাতে পৌঁছে গেল।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন কিছু অসতর্ক অভ্যাসই এমন ঘটনার বড় কারণ। এসব অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন থাকলে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ফাঁস বা ভাইরাল হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কেন ভাইরাল হয় ব্যক্তিগত কনটেন্ট?

পুলিশি তদন্ত ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের অবনতি বা বিশ্বাসভঙ্গের জেরে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও বাইরে চলে যায়। এ ছাড়া ব্ল্যাকমেল বা আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে হ্যাকাররাও এগুলোকে হাতিয়ার বানায়। হোটেল কক্ষে লুকানো ক্যামেরা বসানো, অচেনা লিংকে ক্লিক করিয়ে ফোনে ক্ষতিকর অ্যাপ ঢুকিয়ে দেওয়া কিংবা ফ্রি ক্লাউড-লিংকের ফাঁদেও পড়েন অনেকে।

ঝুঁকি বাড়ায় যে ৪ অভ্যাস–

১. সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা

ভাইরাল ভিডিও দেখার লোভে অনেকেই অচেনা লিংকে ক্লিক করেন। সেখান থেকে টেলিগ্রাম চ্যানেল বা বিভিন্ন ক্লাউড স্টোরেজে ঢুকে পড়েন। এতে অজান্তেই গ্যালারির অ্যাক্সেস দিয়ে ফেলেন ব্যবহারকারীরা। আর সেই সুযোগ কাজে লাগায় সাইবার অপরাধীরা।

২. ভুয়া অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড

অজান্তে ভুয়া বা সন্দেহজনক অ্যাপকে গ্যালারির অনুমতি দিয়ে ফেলেন অনেকেই। এতে সরাসরি ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও চলে যায় হ্যাকারদের হাতে।

৩. সম্পর্কের টানাপড়েন

পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাইরাল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা বিশ্বাসঘাতকতা। সঙ্গীর হাতে ফাঁস হচ্ছে ব্যক্তিগত মুহূর্ত।

৪. হোটেল কক্ষের স্পাই ক্যামেরা

বিভিন্ন হোটেল কক্ষে লুকানো ক্যামেরার ফাঁদে পড়ে বহু মানুষ ব্যক্তিগত মুহূর্ত হারাচ্ছেন। পরে সেই ছবি বা ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

কীভাবে বাঁচবেন?

পারমিশন হাইজিন মানুন: অচেনা অ্যাপকে কখনোই Photos/Media/Camera/Microphone–এর অনুমতি দেবেন না। ফোনের Settings → Apps → Permissions গিয়ে সময় নিয়ে পরখ করুন, অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ করুন।

লিংক-শৃঙ্খলা: কোনো ভাইরাল ভিডিও/ফটো দেখার কথা বলে আসা লিংকে ক্লিক করবেন না। বিশেষ করে ব্রাউজার থেকে অ্যাপ ইন্সটল বা ‘Join/Download’ চাপতে বললে সতর্ক হোন।

অফিসিয়াল স্টোর ব্যবহার করুন: অ্যাপ নামালেই হবে না; রেভিউ, ডাউনলোড সংখ্যা, প্রকাশকের পরিচয় দেখে নিন। Unknown Sources/Install unknown apps বন্ধ রাখুন।

ক্লাউড ব্যাকআপ বুদ্ধিমানের মতো: স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ চালু থাকলে ব্যাকআপ ফোল্ডার এনক্রিপ্ট করুন, দুই স্তরের নিরাপত্তা (2FA) চালু রাখুন এবং শেয়ার্ড-লিংক সীমিত রাখুন।

ডিভাইস সুরক্ষা: ফোনে শক্তিশালী পাসকোড/বায়োমেট্রিক, স্ক্রিন-লক টাইমআউট কম, Find My Device চালু, নিয়মিত সফটওয়্যার/সিকিউরিটি আপডেট ইনস্টল করুন।

হোটেল রুমে সতর্কতা: অস্বাভাবিক স্থানে (ধোঁয়া-সেন্সর, চার্জার, ঘড়ি, টিভির নিচে) লেন্সের মতো জিনিস দেখলে পরীক্ষা করুন। ফ্ল্যাট/রুম নেওয়ার পর আলো কমিয়ে টর্চ বা ফোনের ফ্ল্যাশে লেন্সের ঝিলিক আছে কি না দেখে নিন।

সূত্র: আনন্দবাজার ডটকম

ফরিদপুরে ৫৩ লিটার চোলাই মদসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৫৩ লিটার চোলাই মদসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর সদর উপজেলার রঘুনন্দনপুর গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫৩ লিটার চোলাই মদ জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় চোলাই মদ সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে রঘুনন্দনপুর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় ভারতী রানী দাস (৪০) নামে এক নারীর নিজ বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ৪৮ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আশেক মোল্লা (৩০) নামে অপর এক ব্যক্তির হেফাজত থেকে আরও ৫ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৫৩ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ওই এলাকায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানোর পর নিশ্চিত তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়।

ফরিদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ৫৩ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূল এবং মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।