খুঁজুন
শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

বিদ্যালয়ের ঘণ্টা বাজানো দুঃখীরামের জীবনে আজ নীরবতা—পা হারিয়ে লড়ছে মৃত্যুর সাথে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
বিদ্যালয়ের ঘণ্টা বাজানো দুঃখীরামের জীবনে আজ নীরবতা—পা হারিয়ে লড়ছে মৃত্যুর সাথে

এক সময় বিদ্যালয়ের ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ডাকতেন, সবার ছোট-বড় প্রয়োজন মিটিয়ে নীরবে দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু আজ সেই মানুষটিই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, নিঃসঙ্গতা আর অসহায়ত্বের ভার বয়ে বেড়াচ্ছেন।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত দপ্তরী বাবু সুকুমার বিশ্বাস, যাকে এলাকাবাসী ‘দুঃখীরাম’ নামেই বেশি চেনেন, বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি আছেন। দীর্ঘদিন ধরে পায়ে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক হয়ে ওঠে যে, চিকিৎসকদের শেষ পর্যন্ত তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করে অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের শয্যায় দিন কাটাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শৈশবেই পিতৃহীন হয়ে পড়েন সুকুমার বিশ্বাস। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই মানুষটির আশ্রয় হয় স্থানীয় ঘোষ পরিবারে। প্রয়াত মোহিত মোহন ঘোষের সহানুভূতি ও সহযোগিতায় তিনি জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরীর চাকরি পান। দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে অবসর নিলেও জীবনের শেষ সময়ে এসে তাকে লড়তে হচ্ছে চরম অনিশ্চয়তার সঙ্গে।

তার নিজের কোনো জমিজমা নেই, নেই কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস কিংবা নিকট আত্মীয়স্বজনের সহায়তা। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার শরীরে রক্তস্বল্পতা (হিমোগ্লোবিন কম) ও সংক্রমণের মাত্রা আশঙ্কাজনক। সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হলে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, ওষুধ, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং একটি হুইলচেয়ার—যার জন্য প্রয়োজন বড় অঙ্কের অর্থ।

তার ভাগ্নে সৈকত ঘোষ জানান, “মামা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি। এখন পা কেটে ফেলার পর তার চিকিৎসা আরও ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। আমাদের পক্ষে এই খরচ বহন করা একেবারেই সম্ভব হচ্ছে না।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিটান্ত কুমার ঘোষ বলেন, “দুঃখীরাম দাদা শুধু একজন দপ্তরী নন, তিনি আমাদের বিদ্যালয়ের ইতিহাসের অংশ। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষকে এভাবে অসহায় অবস্থায় দেখতে খুব কষ্ট হয়। আমরা সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।”

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আতিয়ার রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ের শুরু থেকে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ তার এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ সমাজের সবার প্রতি সাহায্যের জন্য অনুরোধ জানাই।”

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে সরকারিভাবে সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

সদরপুরে গাব গাছে ঝুলছিল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
সদরপুরে গাব গাছে ঝুলছিল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুরে স্বর্ণ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার তিনদিন পর জোসনা বিশ্বাস (৪৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (০১ মে) দুপুরে সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর গ্রামের শিকদার বাড়ির পুকুরপাড়ে একটি গাব গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশে খবর দিলে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পারিবারিক ও থানার জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে জোসনা বিশ্বাস নিজ বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ নিয়ে সদরপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। নিখোঁজের ঘটনায় তার মেয়ে সাধনা বিশ্বাস ও ছেলে অমিত বিশ্বাস শুক্রবার সকালে সদরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৩০৮) দায়ের করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে গ্রামের দুই শিশু পুকুরপাড়ের একটি গাব গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। পরে আশপাশের লোকজন এসে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আফজাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং লাশ উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে এসআই মো. আফজাল হোসেন জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে, স্বর্ণ নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ এবং তিনদিন পর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

ফরিদপুরে সড়কে ঝরল দুই প্রাণ: তিন মাসের সন্তান রেখে চলে গেলেন স্বামী-স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সড়কে ঝরল দুই প্রাণ: তিন মাসের সন্তান রেখে চলে গেলেন স্বামী-স্ত্রী

ফরিদপুরের মধুখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী এক দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (০১ মে) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পরীক্ষেতপুর এলাকায় একটি হ্যাচারির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—তামিম মিয়া (২০) ও তার স্ত্রী শিমলা খাতুন (১৯)। তামিম মিয়া উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের আশাপুর গ্রামের হাবিবুল ইসলামের ছেলে।

জানা যায়, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে তারা মোটরসাইকেলে করে ফরিদপুর শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পাঁচ চাকার ট্রলির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তামিম মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় শিমলা খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানেও শেষ রক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।

জানা গেছে, নিহত এই দম্পতির ঘরে রয়েছে মাত্র তিন মাস বয়সী একটি শিশু সন্তান। হঠাৎ করেই মা-বাবাকে হারিয়ে শিশুটি এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে করিমপুর হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘাতক ট্রলিটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল

বিশ্বজুড়ে পরাশক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় মানবতা আজ চরম সংকটের মুখে-এমন মন্তব্য করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক এই অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়ছে, তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এখনই জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বাইশরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে আয়োজিত এক ইসলামী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাকের পার্টি ও বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) এর ওফাত দিবস উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মোস্তফা আমীর ফয়সল আরও বলেন, মুসলিম বিশ্ব আজ বিভক্ত ও নানা সংকটে জর্জরিত। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি দাবি করেন, অন্যরা ব্যর্থ হলেও জাকের পার্টি দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. সায়েম আমীর ফয়সল।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশ থেকে আগত বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১ মে (১৮ বৈশাখ) বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী ইন্তেকাল করেন। দিনটি জাকের অনুসারীদের কাছে গভীর শোক ও তাৎপর্যের সঙ্গে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে।