খুঁজুন
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

যুক্তির লড়াইয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শপথ, আলফাডাঙ্গায় চ্যাম্পিয়ন পাইলট স্কুল

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
যুক্তির লড়াইয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শপথ, আলফাডাঙ্গায় চ্যাম্পিয়ন পাইলট স্কুল

‘রুখবো দুর্নীতি, গড়বো দেশ—হবে সোনার বাংলাদেশ’ এই অদম্য প্রত্যয় বুকে ধারণ করে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা। তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে সততা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দুর্নীতিবিরোধী চেতনা ছড়িয়ে দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্যোগে এবং আলফাডাঙ্গা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এ বিতর্ক উৎসবের আয়োজন করা হয়।

​রোববার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল (পাইলট) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে উপজেলার ৪টি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই মেধা-লড়াই শুরু হয়। যুক্তি, তথ্য আর পাল্টা যুক্তির মননশীল লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্বাগতিক প্রতিষ্ঠান আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল (পাইলট) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

নক-আউট পর্বের প্রথম ম্যাচে ‘ক’ গ্রুপে বিতর্কের বিষয় ছিল— ‘অভাব নয়, সীমাহীন লোভই দুর্নীতির প্রধান কারণ’। এতে প্রস্তাবনার পক্ষে লড়াই করে আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিপক্ষে অবস্থান নেয় হেলেঞ্চা উচ্চ বিদ্যালয়।

​অন্যদিকে ‘খ’ গ্রুপে বিতর্কের বিষয় নির্ধারণ করা হয়— ‘দুর্নীতির মূল কারণ হলো আইনের শাসনের অভাব’। এই ম্যাচে পক্ষে ছিল কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমি এবং বিপক্ষে যুক্তি পেশ করে জাটিগ্রাম এম.এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

​দুই গ্রুপের সেরা দুই দলকে নিয়ে মুখোমুখি করা হয় গ্র্যান্ড ফাইনালে। চূড়ান্ত পর্বের রোমাঞ্চকর বিতর্কের বিষয় ছিল— ‘দুর্নীতিই বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রধান অন্তরায়’। শব্দের জাদুতে হলরুম মাতানো এ ম্যাচে বিচারকদের রায়ে বিজয়ের হাসি হাসে আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল (পাইলট) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জয়ী দলের বিতার্কিকরা হলেন— আদিবা আক্তার অর্পা (নবম শ্রেণি), সুমাইয়া সামিন (নবম শ্রেণি) ও ফাহমিদা শাদ দিবা (অষ্টম শ্রেণি)। এছাড়া আসরে অনন্য সাধারণ নৈপুণ্য দেখায় কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির সাবরিনা, ফাহমিদা ও মোহাম্মাদ; হেলেঞ্চা উচ্চ বিদ্যালয়ের মার্জিয়া মার্জান তরী, মাশরুবা জাহান ও লামিয়া আক্তার এবং জাটিগ্রাম এম.এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গোধুলী, মাইশা ও মাশরুবা।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মনিরুল হক সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ।

​বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ আলো করে ছিলেন দুদকের সহকারী পরিদর্শক মো. শামীম আহমেদ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশরাফুর রহমান, আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুল ইসলাম এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মো. তাজমিনউর রহমান (তুহিন) ও শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস । মিলন কুমার সরকারের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সুশাসন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ সমাজকে এখন থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনাই শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

​পুরো প্রতিযোগিতায় বিচারকের কড়া দায়িত্বে ছিলেন আলফাডাঙ্গা মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ডা. শায়লা সুলতানা, ভূগোলের প্রভাষক ডা. উম্মে সালমা এবং দুদকের সহকারী পরিদর্শক মো. শামীম আহমেদ। ঘড়ির কাঁটার নিখুঁত হিসাব বা সময় নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গৌর দাস গৌতম।

​অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী ও বিজিত বিতার্কিকদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার সামগ্রী তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এ সময় হলরুমে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শাখা।

রবিবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শহর শাখা উচ্চ মাধ্যমিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. পারভেজ খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু এবং সাধারণ সম্পাদক তামজিদুল হাসান কায়েস।

এছাড়া এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরেফিন কায়েস ও মো. জুয়েল রানা, প্রচার সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম স্বরন, সাবেক সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. মামুন রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাহিমসহ জেলা ও কলেজ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে।

বক্তারা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্ত অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা দেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কলেজ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

সদরপুরে বসতভিটা দখলচেষ্টা ও গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
সদরপুরে বসতভিটা দখলচেষ্টা ও গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) আদেশ উপেক্ষা করে বসতভিটা দখলের চেষ্টা, গৃহবধূকে মারধর এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম। তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা তার বসতবাড়ি ও সংলগ্ন জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে।

মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মমতাজ বেগম তার তিন ভাইয়ের কাছ থেকে মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে বসতবাড়িসহ অতিরিক্ত ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি প্রায় ১০ লাখ টাকায় ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন। তবে পরবর্তীতে তার দুই ভাই শাহাদাত বেপারী ও লিটন বেপারী একই সম্পত্তি ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি ২৮৫ নম্বর দলিলমূলে ফাহিমা বেগমের কাছে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে মমতাজ বেগম সদরপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, ভাঙ্গা, ফরিদপুরে দেওয়ানি মামলা (নং-৭৮/২০২৬) দায়ের করেন। মামলাটি বাটোয়ারা ও ‘বাই-আপ’ সংক্রান্ত বলে জানা গেছে।

মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মহিউদ্দিন জানান, মামলার শুনানি শেষে আদালত বিতর্কিত সম্পত্তির বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন করতে পারবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ ওই সম্পত্তিতে প্রবেশের চেষ্টা করছে এবং তার মক্কেলকে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। এমনকি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, “আমি আমার ভাইদের কাছ থেকে জমি কিনে বছরের পর বছর বসবাস করছি। কিন্তু তারা আমাকে না জানিয়ে অন্যের কাছে জমি বিক্রি করে দেয়। পরে আমি আদালতের শরণাপন্ন হই। আদালত আমার পক্ষে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও প্রতিপক্ষ তা মানছে না। বরং আমাকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, সদরপুর থানার ৩৬ নম্বর শ্যামপুর মৌজার বিএস ১০৬১ নম্বর খতিয়ান ও বিএস ৩৭৭৭ নম্বর দাগভুক্ত জমির অংশবিশেষ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। আদালত বিতর্কিত ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির বিষয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার এসআই মোহাম্মদ মোখলেছের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে ফাহিমা বেগম ও অভিযুক্ত অন্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুরের সদরপুরে ২২ দিন ধরে বিদ্যুতবিহীন দাখিল মাদ্রাসা, ভোগান্তিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে ২২ দিন ধরে বিদ্যুতবিহীন দাখিল মাদ্রাসা, ভোগান্তিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীর হাট দাখিল মাদ্রাসায় গত ২২ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পাঠদান, অফিস কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় নুরা শেখের বাড়ির ওপর দিয়ে মাদ্রাসার বিদ্যুৎ লাইন নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২২ দিন আগে বিদ্যুৎ সংযোগ পুড়ে যায়। পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গেলে তারা বাধা দেয়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি অন্ধকারে রয়েছে।

তারা জানান, বারবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীরাও নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে মাদ্রাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কারীর হাট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. এবিএম রাইসুদ্দিন বলেন, গত ২২ দিন ধরে মাদ্রাসাটি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। বারবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এতে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে মাদ্রাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরা শেখের স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সদরপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ সংযোগ পুড়ে যাওয়ার পর নতুন করে সংযোগ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট বাড়ির ওপর দিয়ে লাইন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাড়ির লোকজন কোনোভাবেই তাদের বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নিতে দিচ্ছেন না। তবে বিষয়টি সমাধানে আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আশা করছি, দ্রুত এর একটি সুরাহা হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। মাদ্রাসাটিতে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।