খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি কোনটি? কেনার আগে জেনে নিন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম
কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি কোনটি? কেনার আগে জেনে নিন

বর্তমান যুগে স্মার্ট টিভি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড টিভি, যা প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদান করে, তা দর্শকদের বিনোদন এবং কাজের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

এখন, সিনেমা দেখা, গেমিং, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রিয় শো উপভোগ করা—সবকিছুই সহজে সম্ভব।

তবে, বাংলাদেশে অনেকেই কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি খুঁজছেন, যা একদিকে বাজেটের মধ্যে থাকবে, অন্যদিকে ভালো পারফরম্যান্সও দেবে।

এই নিবন্ধে আমরা কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি মডেল এবং তাদের তুলনা নিয়ে আলোচনা করবো।

অ্যান্ড্রয়েড টিভি কী এবং কীভাবে কাজ করে?

অ্যান্ড্রয়েড টিভি হলো এমন একটি স্মার্ট টিভি, যা গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে।

এটি সাধারণ টিভির মতো দেখতে হলেও, এর মধ্যে অনেক আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্মার্ট ফিচার থাকে, যেমন ইন্টারনেট সংযোগ, গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপস ডাউনলোড, ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, প্রাইম ভিডিও, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, এবং আরও অনেক কিছু।

এর মাধ্যমে আপনি শুধু টিভি দেখাই না, বরং গেম খেলতে, ভিডিও কল করতে, এবং ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারেন।

অ্যান্ড্রয়েড টিভি ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হয় Wi-Fi বা ইথারনেটের মাধ্যমে। এতে থাকা প্রসেসর এবং অপারেটিং সিস্টেম কনটেন্ট লোড করে, স্ক্রিনে প্রদর্শন করে এবং ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে।

আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড টিভি প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি এবং সাউন্ডের গুণমান উন্নত করা হয়, যেমন HDR, 4K বা 8K রেজোলিউশন এবং AI-ভিত্তিক ফিচার যা আপনার বিনোদন অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।

অ্যান্ড্রয়েড টিভি কেনার আগে যা জানা জরুরি-

অ্যান্ড্রয়েড টিভি কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা উচিত:

স্ক্রিন সাইজ: আপনার ঘরের আকার এবং দেখার দূরত্ব অনুযায়ী টিভির সাইজ নির্বাচন করুন। ছোট ঘরের জন্য ৩২ ইঞ্চি এবং বড় ঘরের জন্য ৫০ ইঞ্চির বেশি সাইজ উত্তম।

রেজোলিউশন: ৪কে UHD রেজোলিউশন আজকাল জনপ্রিয়, তবে কিছু সাধারন ৪কে মডেল এবং Full HD মডেলও ভালো পারফর্ম করে। ৪কে রেজোলিউশন বড় স্ক্রিনে বেশি কার্যকর।

অপারেটিং সিস্টেম (OS): অ্যান্ড্রয়েড টিভি সাধারণত গুগল প্লে স্টোর এবং স্মার্টফোনের মতো অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে। তবে কিছু ব্র্যান্ডের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমও থাকে, যেমন Samsung-এর Tizen বা LG-এর WebOS।

কানেক্টিভিটি: Wi-Fi, Bluetooth, HDMI পোর্ট—এই কানেক্টিভিটি পোর্টগুলো নিশ্চিত করুন যাতে আপনি অন্যান্য ডিভাইস সংযোগ করতে পারেন।

ফিচার: গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, Dolby Vision, HDR, বা গেমিং মোডের মতো কিছু আধুনিক ফিচারও আপনার অ্যান্ড্রয়েড টিভির পারফরম্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশে কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি এর জনপ্রিয়, উন্নত এবং সেরা ব্র্যান্ড ও মডেলসমূহ

বাংলাদেশের বাজারে কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভির জন্য কয়েকটি জনপ্রিয় এবং উন্নত ব্র্যান্ডের মডেল পাওয়া যায়। নিচে সেরা কয়েকটি ব্র্যান্ড এবং তাদের মডেল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

১. হায়ার H32K85FX ৩২ ইঞ্চি HD গুগল টিভি
মূল্য: ২০,০০০ – ২৬,৯০০ টাকা

বিশেষত্ব:

Google TV অপারেটিং সিস্টেম: সহজ ও স্মুথ ইউজার ইন্টারফেস, গুগল প্লে স্টোর সাপোর্ট।

৩২ ইঞ্চি HD ডিসপ্লে: ছোট ও মাঝারি রুমের জন্য উপযোগী।

Dolby Audio: পরিষ্কার ও শক্তিশালী সাউন্ড কোয়ালিটি।

Google Assistant ও Chromecast: ভয়েস কন্ট্রোল ও মোবাইল থেকে কনটেন্ট কাস্ট করার সুবিধা।

এই টিভিটি কম বাজেটে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যান্ড্রয়েড/গুগল টিভি অভিজ্ঞতা দেয়। যারা প্রথমবার স্মার্ট টিভি কিনতে চান বা বেডরুমের জন্য ভালো একটি টিভি খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি অপশন।

২. তোশিবা 32V35KP ৩২ ইঞ্চি HD অ্যান্ড্রয়েড টিভি (অফিশিয়াল)
মূল্য: ২৬,৯৯০ – ২৯,২৮০ টাকা

বিশেষত্ব:

Android TV: নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, প্রাইম ভিডিও প্রি-ইনস্টল।

Dolby Digital সাউন্ড: উন্নত অডিও অভিজ্ঞতা।

Bluetooth 5.0 ও Wi-Fi 5: দ্রুত কানেক্টিভিটি।

অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি: ৩ বছরের পার্টস, প্যানেল ও সার্ভিস ওয়ারেন্টি পাবেন রায়ান্সে।

তোশিবা একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড। অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি এবং স্থিতিশীল পারফরম্যান্সের কারণে এটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য একটি স্মার্ট টিভি পছন্দ।

৩. হাইসেন্স 43A4F4 ৪৩ ইঞ্চি Full HD অ্যান্ড্রয়েড টিভি (অফিশিয়াল)
মূল্য: ৩২,০০০ – ৩৪,৭২০ টাকা

বিশেষত্ব:

৪৩ ইঞ্চি Full HD ডিসপ্লে: বড় স্ক্রিনে পরিষ্কার ও শার্প ভিজ্যুয়াল।

Android TV: গুগল প্লে স্টোর ও জনপ্রিয় স্ট্রিমিং অ্যাপ সাপোর্ট।

Dolby Digital ও DTS Virtual X: শক্তিশালী সাউন্ড এক্সপেরিয়েন্স।

Game Mode ও Sports Mode: গেমিং ও স্পোর্টস দেখার জন্য উপযোগী।

যারা কম দামে বড় স্ক্রিনের অ্যান্ড্রয়েড টিভি খুঁজছেন, তাদের জন্য হাইসেন্স 43A4F4 একটি চমৎকার ভ্যালু-ফর-মানি অপশন।

৪. স্যামসাং BU8000 ৪৩ ইঞ্চি 4K স্মার্ট টিভি
মূল্য: ৩৫,০০০ – ৩৭,০০০ টাকা

বিশেষত্ব:

৪কে UHD রেজোলিউশন: Crystal Clear ও ডিটেইলড ছবি।

Tizen OS: দ্রুত ও স্মুথ স্মার্ট টিভি পারফরম্যান্স।

HDR10+ ও Motion Xcelerator: উন্নত ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি।

Alexa, Google Assistant ও Bixby সাপোর্ট।

যদিও এটি অ্যান্ড্রয়েড টিভি নয়, তবে কম দামে ৪কে কোয়ালিটি ও প্রিমিয়াম স্মার্ট ফিচার চাওয়ার জন্য স্যামসাং BU8000 একটি শক্তিশালী অপশন।

৫. সনি ব্রাভিয়া KD-43X75K ৪৩ ইঞ্চি 4K অ্যান্ড্রয়েড টিভি (আনঅফিশিয়াল)
মূল্য: ৫১,৬০০ – ৬০,০০০ টাকা

বিশেষত্ব:

৪কে UHD ডিসপ্লে ও X1 প্রসেসর: অসাধারণ ছবি ও কালার একুরেসি।

TRILUMINOS PRO: জীবন্ত ও প্রাকৃতিক রঙ।

Android TV: গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও Chromecast বিল্ট-ইন।

Motionflow XR: স্মুথ ভিডিও ও স্পোর্টস ভিউইং।

সনি ব্রাভিয়া টিভি তার ছবি ও প্রসেসিং কোয়ালিটির জন্য বিখ্যাত। যারা প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড টিভি চান এবং বাজেট একটু বেশি, তাদের জন্য এটি আদর্শ। বাংলাদেশে কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি নির্বাচন করতে হলে প্রথমেই আপনাকে আপনার বাজেট, স্ক্রিন সাইজ এবং ব্যবহার অনুযায়ী প্রয়োজন নির্ধারণ করতে হবে।

বর্তমানে হায়ার, তোশিবা, হাইসেন্স, সনি এবং স্যামসাং—এই ব্র্যান্ডগুলো কম বাজেট থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম সেগমেন্ট পর্যন্ত ভালো মানের স্মার্ট ও অ্যান্ড্রয়েড টিভি অফার করছে। যারা কম বাজেটে স্মার্ট টিভি চান, তাদের জন্য Haier ও Toshiba ভালো অপশন। বড় স্ক্রিন ও ভ্যালু-ফর-মানি খুঁজলে Hisense একটি চমৎকার পছন্দ। আর উন্নত ছবি, স্মার্ট ফিচার ও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার জন্য Sony Bravia এবং Samsung টিভি ব্যবহারকারীদের নিরাশ করবে না।

অ্যান্ড্রয়েড ও স্মার্ট টিভির আধুনিক সুবিধাগুলো ব্যবহার করে আপনি সহজেই অনলাইন স্ট্রিমিং, গেমিং এবং স্মার্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে আপনার বিনোদন অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ ও উপভোগ্য করে তুলতে পারবেন।

পবিত্র শবে বরাতের রাতেও আল্লাহ যাদের ক্ষমা করেন নি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৪ এএম
পবিত্র শবে বরাতের রাতেও আল্লাহ যাদের ক্ষমা করেন নি?

পবিত্র শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত মুসলমানদের জন্য এক মহিমান্বিত রজনী। হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী এই রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন। শবেবরাত উপলক্ষে সারা বিশ্বের মুসলমানগণ নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকেন। তবে শুধু একটি রাত ইবাদত করলেই সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে এমন ধারণা সঠিক নয়।

শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতের শুরু থেকেই আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি মনোযোগী হন এবং ঘোষণা করতে থাকেন; কে আছে ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করব; কে আছে রিযিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিজিক দেব; কে আছে বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে মুক্ত করব ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই আমাদের উচিত এই রাতে নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য দোয়া করা।

তবে এই মহিমান্বিত রাতেও দুই শ্রেণির মানুষ আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকবে। এক. মুশরিক (যার জীবনে শিরক রয়েছে)। দুই. মুশাহিন (হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণকারী)।

বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ অর্ধ-শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তার সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৫৬৬৫)

ইসলামে শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য মনে করা বা আল্লাহর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে অংশীদার করা মারাত্মক অপরাধ। একইভাবে হিংসা-বিদ্বেষ মানুষের নেক আমল ধ্বংস করে দেয়।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হিংসা থেকে দূরে থাকো। কেননা হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন লাকড়িকে ভস্ম করে দেয়। (সুনানে আবু দাউদ)

শবে বরাত কোনো ভাগ্যরজনী নয়। ভাগ্য নির্ধারণের রাত হলো লাইলাতুল কদর। শবে বরাত হলো আল্লাহর বিশেষ রহমতের রাত; যা ধারাবাহিক ইবাদতকারীদের জন্য এক ধরনের বোনাস। তবে যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে নতুনভাবে আল্লাহর পথে ফিরে আসে, তারাও এ রাতে সৌভাগ্যবান হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ—বিজ্ঞান কী বলে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১১ এএম
আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ—বিজ্ঞান কী বলে?

অতিরিক্ত টেনশন বা কাজের চাপের কারণে অনেকেই নিজের অজান্তে আঙুল ফুটিয়ে থাকেন। আঙুল ফোটানো অনেকের কাছে স্বস্তিদ্বায়ক, আবার অনেকের কাছে অভ্যাস। অনেকের ধারণা, আঙুল ফোটানো, আঙুলের হাড়ের জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেকের ধারণা, নিয়মিত আঙুল ফোটালে নাকি আঙুলের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে এ বিষয়ে? সম্প্রতি হেলথলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।

চলুন জেনে নেওয়া যাক-

আঙুল ফোটানোর পেছনের কারণ

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষ নিয়মিত বা মাঝেমধ্যে আঙুল ফুটিয়ে থাকেন। কেউ এই শব্দ শুনে আনন্দ পান, কেউ আবার মনে করেন এতে মানসিক চাপ কমে। অনেকেই আবার একে স্ট্রেস থেকে মুক্তির একটি উপায় হিসেবে দেখেন। কেউ কেউ চিন্তা বা উদ্বেগের সময় চুল পাকান, কেউ আবার নখ কামড়ান। তারাও অনিচ্ছাকৃতভাবে আঙুল ফোটাতে শুরু করেন। একবার এই অভ্যাস তৈরি হলে, তা ছেড়ে দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

আঙুল ফোটালে যে শব্দ হয়, তার উৎস

অনেকেই ভাবেন, হাড় ঘষা লেগেই বুঝি শব্দটি হয়। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা। ২০১৫ সালের এক গবেষণায় এমআরআইতে দেখা গেছে, আঙুল ফোটানোর সময় জোড়া টান দিলে অস্থিসন্ধির তরলের মধ্যে একটি ছোট ‘ক্যাভিটি’ বা ফাঁপা জায়গা তৈরি হয়, যেটির সৃষ্টিই শব্দের কারণ। আর ২০১৮ সালের আরেক গবেষণায় বলা হয়, শব্দটি আসলে ওই ফাঁপা অংশটি আংশিক ভেঙে পড়ার সময় তৈরি হয়। আর একই আঙুল কিছুক্ষণ পর আবার ফোটানো যায়। কারণ ওই ফাঁপা জায়গাটি আবার পূর্ণ হতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে।

আঙুল ফোটানো কি ক্ষতিকর

অনেক অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে কেউ যদি এটি নিয়মিত বা দিনে বারবার করতে থাকেন, তাহলে সমস্যা হতে পারে। এতে অস্থিসন্ধির ভেতরের তরল (সাইনুভিয়াল ফ্লুইড) কমে যেতে পারে। ফলে হাড়ে হাড়ে ঘষা লাগে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

তবে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আঙুল ফোটানো সরাসরি বাত বা হাড় ক্ষয়ের কারণ নয়। এক চিকিৎসক টানা ৫০ বছর ধরে শুধু এক হাতের আঙুল ফোটান। পরে তিনি দেখেন, ফোটানো হাত ও না ফোটানো হাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এতে প্রমাণিত হয়, আঙুল ফোটানো সব সময় ক্ষতিকর নয়।

যখন সাবধান হওয়া জরুরি

যদি আঙুল ফোটানোর সময় বা পরে ব্যথা হয়, আঙুল ফুলে যায় বা নড়াতে সমস্যা হয়, তাহলে এটি শুধু অভ্যাস নয়। এটি শরীরের কোনো সমস্যা বা রোগের লক্ষণ হতে পারে, যা গাউট, আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্ট ইনজুরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। উপসর্গগুলো হলো—

১. আঙুলে ব্যথা

২. ফুলে যাওয়া

৩. জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া

৪. নড়াচড়া করতে কষ্ট হওয়া

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে যদি কেউ নিয়মিতভাবে এটি করেন, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই সতর্ক থাকা ভালো। আর যদি আঙুলে ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বস্তি হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র : হেলথ লাইন

কে এই আলোচিত নীলা ইসরাফিল? জানুন তার পরিচয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৩ এএম
কে এই আলোচিত নীলা ইসরাফিল? জানুন তার পরিচয়

গোপালগঞ্জ জেলার মেয়ে নীলা ইসরাফিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে এক আলোচিত ও বিতর্কিত নাম। ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিকমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি নিয়মিতই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়াত উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে মুয়াজ আরিফের সাবেক স্ত্রী হিসেবে পরিচিতি পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নীলা নিজ পরিচয়েই আলোচনায় উঠে এসেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে নীলার দৃশ্যমান উপস্থিতি শুরু হয়। বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলনে তাকে সরব ভূমিকায় দেখা যায়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের গড়া নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন তিনি। দলটির বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নীলার উপস্থিতি সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তবে রাজনৈতিক যাত্রা খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দলের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে নীলা একপর্যায়ে নিজের সাবেক শ্বশুর প্রয়াত উপদেষ্টা হাসান আরিফ এবং এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন নীলা ইসরাফিল। পদত্যাগের পরও তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করে যাচ্ছেন, যা তাকে আলোচনায় রাখছে।

রাজনীতির বাইরে নীলা ইসরাফিল একজন পরিচিত মডেল ও অভিনেত্রী। শোবিজ অঙ্গনে তার পথচলা শুরু হয় বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে। রায়হানের নির্দেশনায় একটি প্রতিষ্ঠানের মশার কয়েলের বিজ্ঞাপনে প্রথম মডেল হিসেবে কাজ করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে দেশীয় বিজ্ঞাপন জগতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন নীলা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টির বেশি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে মেজবাউর রহমান সুমনের নির্দেশনায় ‘বিকাশ’ এবং পলকের নির্দেশনায় ‘জিপি’র বিজ্ঞাপন উল্লেখযোগ্য।

অভিনয় জগতে নীলার অভিষেক হয় অনিমেষ আইচ পরিচালিত নাটক ‘কুয়া’র মাধ্যমে। এরপর তিনি ‘ঘর সংষার’, ‘টিরিগিরি টক্কা’, ‘ফুল এইচডি’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। গেল ঈদে সকাল আহমেদ পরিচালিত ‘কে খুনী’ ও ‘ব্রেক আপ ইন’ নাটক দুটি প্রচারিত হয়, যা ইউটিউবে দর্শকদের ভালো সাড়া পায়।

চলচ্চিত্রেও নীলা কাজ করেছেন। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত একমাত্র সিনেমা আবীর খান পরিচালিত ‘পোস্টমাস্টার ৭১’। এ ছাড়া ধ্রুব’র পরিচালনায় আরও একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন তিনি, যা এখনো মুক্তির অপেক্ষায়।

রাজনীতি ও বিনোদন—দুই অঙ্গনেই সক্রিয় নীলা ইসরাফিলকে ঘিরে আলোচনা থামছে না। সমর্থক ও সমালোচক—দুই পক্ষের নজরেই থাকা এই তরুণী ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবেন, তা নিয়েই কৌতূহল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।