খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর-৪: ভোটের মূল পাল্লায় বাবুল ও সরোয়ার, স্বতন্ত্র প্রার্থীও খেলাচ্ছে প্রভাব

আরিফুজ্জামান হিমন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর-৪: ভোটের মূল পাল্লায় বাবুল ও সরোয়ার, স্বতন্ত্র প্রার্থীও খেলাচ্ছে প্রভাব

ফরিদপুর–৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি এখন চরম উত্তাপে পৌঁছেছে। বহু বছর ধরে এই আসনটি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিক হলেও এবারের ভোটযুদ্ধে পুরো চিত্রটাই ভিন্ন। বিএনপির শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন দুই অভিজ্ঞ প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী ফুটবল ও ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে থাকলেও তারা এখনো মূল লড়াইয়ের বাইরে, তবে শেষ মুহূর্তে ভোট কেটে নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না কেউই।

সরোয়ারের শক্তিশালী সাংগঠনিক ঘাঁটি:

ভাঙ্গা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সরোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজে জড়িত। স্থানীয়দের মতে, তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কারণে ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্য। মাওলানা সরোয়ার বলেন, “মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি। ভোটাররা সেই কাজের মূল্যায়ন করবেন, আমি আশাবাদী।”

তিন উপজেলায় তার সাংগঠনিক শক্তি ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। ভাঙ্গায় সরোয়ারের ঘাঁটি সবচেয়ে দৃঢ়, চরভদ্রাসনেও তিনি উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখাচ্ছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাঠ পর্যায়ের এই দৃঢ়তা তার ভোট ব্যাংককে শক্তিশালী রাখছে।

বাবুলের সুবিধাজনক অবস্থান:

বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের ভাঙন ধরার সুযোগ কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন। নিক্সন চৌধুরী ও কাজী জাফর উল্যাহর অনুসারী বহু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় নেতা এখন প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রচারে মাঠে নামছেন।

বাবুল বলেন, “দলের জন্য যে লড়াই করেছি, এত নিপীড়ন আর কেউ ভোগ করেনি। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের জন্য আমাকে ১২৮ বার কারাবরণ করতে হয়েছে।” তার এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সদরপুর উপজেলায় বিএনপির প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে বাবুলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রভাব:

ফুটবল ও ঘোড়া প্রতীক নিয়ে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। যদিও তারা নতুন, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারা যেকোনো একটি প্রধান প্রার্থীর কিছু ভোট কেটে নিতে পারেন। এই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভোটের ফলাফলে শেষ মুহূর্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

তিন উপজেলায় ভোটের ভিন্ন চিত্র:

ফরিদপুর–৪ আসনের তিন উপজেলায় ভিন্ন ভোটের চিত্র দেখা যাচ্ছে।

ভাঙ্গা: সরোয়ারের ঘাঁটি দৃঢ় ও প্রভাবশালী।

সদরপুর: বিএনপির উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে, বাবুলের জন্য সুবিধাজনক।

চরভদ্রাসন: ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তবে মূল ভোট ব্যাংক এখনো বাবুল ও সরোয়ারের নিয়ন্ত্রণেই।

মোট ভোটার সংখ্যা এই আসনে ৪ লাখ ৫১ হাজারের বেশি। শেষ মুহূর্তের প্রচারণা ও রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বেড়ে চলায় ভোটের ফলাফলকে অগোচর রাখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনে কোনও প্রার্থীর জয়–পরাজয় পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। ফলে ফরিদপুর–৪ আসনে ভোটারদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত প্রভাব ফেলবে।

ফলাফল যাই হোক, এবারের ভোট যুদ্ধ প্রমাণ করছে যে, স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তি, সংগঠনের গভীরতা এবং ভোটারদের প্রত্যাশা মিলিয়ে কেবলমাত্র অভিজ্ঞতা নয়, নতুন প্রার্থীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”