খুঁজুন
, ,

স্মার্টফোনের দাম বাড়ছে কেন? যে কারণগুলো দায়ী

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
স্মার্টফোনের দাম বাড়ছে কেন? যে কারণগুলো দায়ী

২০২৫ সাল থেকে বৈশ্বিক বাজারে মেমোরি চিপের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে, যা ২০২৬ সালে এসে ৫০–৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোন শিল্পে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই মেমোরি চিপের বাড়তি দামের কারণে স্মার্টফোনের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

গত এক দশকে স্মার্টফোন কেবল বিলাসপণ্য নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

যোগাযোগের পাশাপাশি অফিসের কাজ, শিক্ষা, ডিজিটাল লেনদেন, সরকারি-বেসরকারি সেবা, সামাজিক যোগাযোগ, বিনোদন এবং ই-কমার্স—সব ক্ষেত্রেই স্মার্টফোন এখন অপরিহার্য। সব শ্রেণি ও আয়ের মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমের কেন্দ্রে অবস্থান করছে এই ডিভাইস।
স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামের বিষয়ে ভোক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে। এখন ক্রেতারা এমন ফোন প্রত্যাশা করেন যা সাশ্রয়ী মূল্যের পাশাপাশি টেকসই এবং দীর্ঘদিন ভালো পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম।

বাংলাদেশের মতো মূল্য-সংবেদনশীল বাজারে ভোক্তারা দামের সঙ্গে ফিচারের সর্বোত্তম সমন্বয়কে গুরুত্ব দেন এবং স্মার্টফোনকে বিলাসিতা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোনের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ইন্দোনেশিয়া ও ভারতে স্মার্টফোনের দাম বাড়ানো হয়, একই বছরের ডিসেম্বরে নেপালেও মূল্য সমন্বয় কার্যকর হয়। বাংলাদেশে ২০২৬ সাল থেকে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

বাজারের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে স্মার্টফোনের দাম প্রায় ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ডিআরএএম (DRAM) ও এনএএনডি ফ্ল্যাশ (NAND Flash) মেমোরি চিপের দামে ধারাবাহিক বৃদ্ধি। ওই সময় ডিআরএএম চিপের দাম ১৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, আর এনএএনডি ফ্ল্যাশের দাম বাড়ে ৫–১০ শতাংশের মতো। এই প্রবণতা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মোট মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধি ৫৫–৬০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা স্মার্টফোনের উৎপাদন ব্যয় ও খুচরা মূল্যে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেমোরি সংকটের অন্যতম কারণ হলো উৎপাদিত মেমোরির একটি বড় অংশ এখন এআই-নির্ভর ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড অবকাঠামোর দিকে চলে যাচ্ছে, যেখানে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে স্মার্টফোন শিল্পের জন্য মেমোরি সরবরাহ তুলনামূলকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। এদিকে নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনে অন-ডিভাইস এআই ফিচার যুক্ত হওয়ায় শক্তিশালী প্রসেসর ও বেশি র‍্যামের প্রয়োজন হচ্ছে। উন্নত হার্ডওয়্যার ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে পড়ছে।

এই খরচ বৃদ্ধির প্রভাব সব সেগমেন্টে সমান নয়। এন্ট্রি-লেভেল বা বাজেট স্মার্টফোন সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ২০০ ডলারের নিচের স্মার্টফোনগুলোর উপকরণ খরচ ২০–৩০ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২৬ সালে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও উৎপাদন ব্যয় ১০–১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। প্রিমিয়াম বা হাই-এন্ড ফোনগুলো তুলনামূলকভাবে এই চাপ সামাল দিতে পারলেও, সেখানেও উপকরণ খরচ ১০–১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।

তবে সব নির্মাতা সমানভাবে এই সংকটে পড়েনি। যেসব ব্র্যান্ডের গড় বিক্রয়মূল্য বেশি, তারা তুলনামূলকভাবে চাপ সামাল দিতে পারছে। বিপরীতে, কম মার্জিনে ব্যবসা করা ব্র্যান্ডগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো বাজারে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এআই-কেন্দ্রিক চাহিদার কারণে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম। ফলে ২০২৬ সালের পরেও স্মার্টফোনের দামের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
আন্তর্জাতিক সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারেও এই বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট। ধীরে ধীরে ভোক্তারাও বুঝতে পারছেন, এই দাম বাড়ার পেছনে স্থানীয় কোনো কারণ নয়, বরং বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি দায়ী।

বাঙ্গালী আমৃত্য জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে : শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
বাঙ্গালী আমৃত্য জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে : শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ও ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ পতন উপলক্ষে বিএনপির বিজয় র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোয়ালমারী উপজেলা ও পৌর বিএনপির(একাংশ) আয়োজনে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বোয়ালমারী রেলস্টেশন থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে পৌরসদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বোয়ালমারী চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

র‍্যালীতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে র‍্যালিটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। র‍্যালী শেষে বোয়ালমারী চৌরাস্তায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

র‌্যালী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে বাঙালি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে। জুলাই আন্দোলনে ছাত্রজনতা জীবন দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি কোনোদিন ভুলবে না। আর কোনোদিন যাতে জুলাইয়ের জঘন্যতম দিন না আসে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, মফিজুর কাদের খান মিল্টন, জাহাঙ্গীর আলম কালা মিয়া, সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মিনাজুর রহমান লিপন, পৌর সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মনির হোসেন, জাসাসের সাবেক সভাপতি শাইন আনোয়ার, যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব হাসান সজীব, ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক যাকারিয়া মোল্লা সুমন, জুয়েল প্রমুখ।

ফরিদপুরে শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা, বিএনপির বিজয় র‌্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা, বিএনপির বিজয় র‌্যালি

ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনার পাশাপাশি জেলা বিএনপির উদ্যোগে ‘ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস’ উপলক্ষে বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (০৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের হাসিবুল হাসান লাভলু সড়কে অবস্থিত ‘শহীদ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ সর্বপ্রথম শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বিএনপি এবং বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকারীদের অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ, জেলা শিক্ষা অফিস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, বন বিভাগ, জেলা তথ্য অফিস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, নির্বাচন অফিস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় যুব শক্তি, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, দুর্নীতি দমন কমিশন, শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ‘ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস’ উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিজয় র‌্যালি বের করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছার সভাপতিত্বে র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।

র‌্যালিতে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, দেলোয়ার হোসেন দিলা, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান সবুজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

পথসভায় বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এ বিজয়ের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশে যাতে আর কোনো স্বৈরাচার বা একনায়কতান্ত্রিক শাসনের উত্থান না ঘটে, সে লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।

এছাড়া ফ্যাসিবাদ পতন দিবস (৫ আগস্ট) উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে বিকাল সাড়ে ৪টায় শহরের থানা রোড়ে (ফলপট্রি) এক বিশাল গন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

ফরিদপুরে রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া শিশুর অপেক্ষায় দিন গুনছে মা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া শিশুর অপেক্ষায় দিন গুনছে মা

ফরিদপুরে রেলস্টেশন থেকে মানুষের ভিড়ের মধ্যেই হারিয়ে যাওয়া তিন বছরের মো. বাপ্পি নামে এক সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছেন মা শারমীন আক্তার। ঘটনার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মেলেনি তার কোনো খোঁজ। শেষ আশ্রয় হিসেবে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সন্তানকে ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন শিশুটির মা।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় বুধবার (৫ আগস্ট) করা জিডি সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ শিশু মো. বাপ্পির (৩) গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সিংহ প্রতাপ গ্রামে। পরিবারের সঙ্গে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর (কি পাইলাম মোড়) এলাকায় বসবাস করছিল সে।

শিশুটির মা শারমীন আক্তার বনানী জিডিতে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ফরিদপুর রেলস্টেশনে মানুষের ভিড়ের মধ্যে থেকে তার একমাত্র ছেলে নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনার পরপরই আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জিডিতে শিশুটির শারীরিক বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বাপ্পির গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, মুখম-ল গোলাকার, মাথার চুল কালো ও ছোট এবং উচ্চতা প্রায় ২ ফুট ৩ ইঞ্চি। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল একটি হাফ প্যান্ট ও বেগুনি রঙের হাফহাতা গেঞ্জি। বয়স কম হওয়ায় সে নিজের নাম ছাড়া অন্য কোনো পরিচয় বলতে পারে না শিশুটি।

মা শারমীন আক্তার বনানী বলেন, “আমার একমাত্র সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য সব জায়গায় খুঁজেছি। এখনও কোনো খোঁজ পাইনি। কেউ যদি আমার ছেলেকে দেখে থাকেন বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তাহলে দয়া করে আমাকে (মোবাইল নম্বর ০১৭২৭-৪৬৬৩৫৪) বা নিকটস্থ থানায় জানাবেন।”

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, জিডি গ্রহণের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিশুটির সন্ধান পেতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি শিশুটির সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় অথবা ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।