খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি কোনটি? কেনার আগে জেনে নিন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি কোনটি? কেনার আগে জেনে নিন

বর্তমান যুগে স্মার্ট টিভি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড টিভি, যা প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদান করে, তা দর্শকদের বিনোদন এবং কাজের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

এখন, সিনেমা দেখা, গেমিং, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রিয় শো উপভোগ করা—সবকিছুই সহজে সম্ভব।

তবে, বাংলাদেশে অনেকেই কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি খুঁজছেন, যা একদিকে বাজেটের মধ্যে থাকবে, অন্যদিকে ভালো পারফরম্যান্সও দেবে।

এই নিবন্ধে আমরা কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি মডেল এবং তাদের তুলনা নিয়ে আলোচনা করবো।

অ্যান্ড্রয়েড টিভি কী এবং কীভাবে কাজ করে?

অ্যান্ড্রয়েড টিভি হলো এমন একটি স্মার্ট টিভি, যা গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে।

এটি সাধারণ টিভির মতো দেখতে হলেও, এর মধ্যে অনেক আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্মার্ট ফিচার থাকে, যেমন ইন্টারনেট সংযোগ, গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপস ডাউনলোড, ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, প্রাইম ভিডিও, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, এবং আরও অনেক কিছু।

এর মাধ্যমে আপনি শুধু টিভি দেখাই না, বরং গেম খেলতে, ভিডিও কল করতে, এবং ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারেন।

অ্যান্ড্রয়েড টিভি ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হয় Wi-Fi বা ইথারনেটের মাধ্যমে। এতে থাকা প্রসেসর এবং অপারেটিং সিস্টেম কনটেন্ট লোড করে, স্ক্রিনে প্রদর্শন করে এবং ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে।

আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড টিভি প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি এবং সাউন্ডের গুণমান উন্নত করা হয়, যেমন HDR, 4K বা 8K রেজোলিউশন এবং AI-ভিত্তিক ফিচার যা আপনার বিনোদন অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।

অ্যান্ড্রয়েড টিভি কেনার আগে যা জানা জরুরি-

অ্যান্ড্রয়েড টিভি কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা উচিত:

স্ক্রিন সাইজ: আপনার ঘরের আকার এবং দেখার দূরত্ব অনুযায়ী টিভির সাইজ নির্বাচন করুন। ছোট ঘরের জন্য ৩২ ইঞ্চি এবং বড় ঘরের জন্য ৫০ ইঞ্চির বেশি সাইজ উত্তম।

রেজোলিউশন: ৪কে UHD রেজোলিউশন আজকাল জনপ্রিয়, তবে কিছু সাধারন ৪কে মডেল এবং Full HD মডেলও ভালো পারফর্ম করে। ৪কে রেজোলিউশন বড় স্ক্রিনে বেশি কার্যকর।

অপারেটিং সিস্টেম (OS): অ্যান্ড্রয়েড টিভি সাধারণত গুগল প্লে স্টোর এবং স্মার্টফোনের মতো অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে। তবে কিছু ব্র্যান্ডের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমও থাকে, যেমন Samsung-এর Tizen বা LG-এর WebOS।

কানেক্টিভিটি: Wi-Fi, Bluetooth, HDMI পোর্ট—এই কানেক্টিভিটি পোর্টগুলো নিশ্চিত করুন যাতে আপনি অন্যান্য ডিভাইস সংযোগ করতে পারেন।

ফিচার: গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, Dolby Vision, HDR, বা গেমিং মোডের মতো কিছু আধুনিক ফিচারও আপনার অ্যান্ড্রয়েড টিভির পারফরম্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশে কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি এর জনপ্রিয়, উন্নত এবং সেরা ব্র্যান্ড ও মডেলসমূহ

বাংলাদেশের বাজারে কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভির জন্য কয়েকটি জনপ্রিয় এবং উন্নত ব্র্যান্ডের মডেল পাওয়া যায়। নিচে সেরা কয়েকটি ব্র্যান্ড এবং তাদের মডেল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

১. হায়ার H32K85FX ৩২ ইঞ্চি HD গুগল টিভি
মূল্য: ২০,০০০ – ২৬,৯০০ টাকা

বিশেষত্ব:

Google TV অপারেটিং সিস্টেম: সহজ ও স্মুথ ইউজার ইন্টারফেস, গুগল প্লে স্টোর সাপোর্ট।

৩২ ইঞ্চি HD ডিসপ্লে: ছোট ও মাঝারি রুমের জন্য উপযোগী।

Dolby Audio: পরিষ্কার ও শক্তিশালী সাউন্ড কোয়ালিটি।

Google Assistant ও Chromecast: ভয়েস কন্ট্রোল ও মোবাইল থেকে কনটেন্ট কাস্ট করার সুবিধা।

এই টিভিটি কম বাজেটে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যান্ড্রয়েড/গুগল টিভি অভিজ্ঞতা দেয়। যারা প্রথমবার স্মার্ট টিভি কিনতে চান বা বেডরুমের জন্য ভালো একটি টিভি খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি অপশন।

২. তোশিবা 32V35KP ৩২ ইঞ্চি HD অ্যান্ড্রয়েড টিভি (অফিশিয়াল)
মূল্য: ২৬,৯৯০ – ২৯,২৮০ টাকা

বিশেষত্ব:

Android TV: নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, প্রাইম ভিডিও প্রি-ইনস্টল।

Dolby Digital সাউন্ড: উন্নত অডিও অভিজ্ঞতা।

Bluetooth 5.0 ও Wi-Fi 5: দ্রুত কানেক্টিভিটি।

অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি: ৩ বছরের পার্টস, প্যানেল ও সার্ভিস ওয়ারেন্টি পাবেন রায়ান্সে।

তোশিবা একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড। অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি এবং স্থিতিশীল পারফরম্যান্সের কারণে এটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য একটি স্মার্ট টিভি পছন্দ।

৩. হাইসেন্স 43A4F4 ৪৩ ইঞ্চি Full HD অ্যান্ড্রয়েড টিভি (অফিশিয়াল)
মূল্য: ৩২,০০০ – ৩৪,৭২০ টাকা

বিশেষত্ব:

৪৩ ইঞ্চি Full HD ডিসপ্লে: বড় স্ক্রিনে পরিষ্কার ও শার্প ভিজ্যুয়াল।

Android TV: গুগল প্লে স্টোর ও জনপ্রিয় স্ট্রিমিং অ্যাপ সাপোর্ট।

Dolby Digital ও DTS Virtual X: শক্তিশালী সাউন্ড এক্সপেরিয়েন্স।

Game Mode ও Sports Mode: গেমিং ও স্পোর্টস দেখার জন্য উপযোগী।

যারা কম দামে বড় স্ক্রিনের অ্যান্ড্রয়েড টিভি খুঁজছেন, তাদের জন্য হাইসেন্স 43A4F4 একটি চমৎকার ভ্যালু-ফর-মানি অপশন।

৪. স্যামসাং BU8000 ৪৩ ইঞ্চি 4K স্মার্ট টিভি
মূল্য: ৩৫,০০০ – ৩৭,০০০ টাকা

বিশেষত্ব:

৪কে UHD রেজোলিউশন: Crystal Clear ও ডিটেইলড ছবি।

Tizen OS: দ্রুত ও স্মুথ স্মার্ট টিভি পারফরম্যান্স।

HDR10+ ও Motion Xcelerator: উন্নত ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি।

Alexa, Google Assistant ও Bixby সাপোর্ট।

যদিও এটি অ্যান্ড্রয়েড টিভি নয়, তবে কম দামে ৪কে কোয়ালিটি ও প্রিমিয়াম স্মার্ট ফিচার চাওয়ার জন্য স্যামসাং BU8000 একটি শক্তিশালী অপশন।

৫. সনি ব্রাভিয়া KD-43X75K ৪৩ ইঞ্চি 4K অ্যান্ড্রয়েড টিভি (আনঅফিশিয়াল)
মূল্য: ৫১,৬০০ – ৬০,০০০ টাকা

বিশেষত্ব:

৪কে UHD ডিসপ্লে ও X1 প্রসেসর: অসাধারণ ছবি ও কালার একুরেসি।

TRILUMINOS PRO: জীবন্ত ও প্রাকৃতিক রঙ।

Android TV: গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও Chromecast বিল্ট-ইন।

Motionflow XR: স্মুথ ভিডিও ও স্পোর্টস ভিউইং।

সনি ব্রাভিয়া টিভি তার ছবি ও প্রসেসিং কোয়ালিটির জন্য বিখ্যাত। যারা প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড টিভি চান এবং বাজেট একটু বেশি, তাদের জন্য এটি আদর্শ। বাংলাদেশে কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি নির্বাচন করতে হলে প্রথমেই আপনাকে আপনার বাজেট, স্ক্রিন সাইজ এবং ব্যবহার অনুযায়ী প্রয়োজন নির্ধারণ করতে হবে।

বর্তমানে হায়ার, তোশিবা, হাইসেন্স, সনি এবং স্যামসাং—এই ব্র্যান্ডগুলো কম বাজেট থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম সেগমেন্ট পর্যন্ত ভালো মানের স্মার্ট ও অ্যান্ড্রয়েড টিভি অফার করছে। যারা কম বাজেটে স্মার্ট টিভি চান, তাদের জন্য Haier ও Toshiba ভালো অপশন। বড় স্ক্রিন ও ভ্যালু-ফর-মানি খুঁজলে Hisense একটি চমৎকার পছন্দ। আর উন্নত ছবি, স্মার্ট ফিচার ও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার জন্য Sony Bravia এবং Samsung টিভি ব্যবহারকারীদের নিরাশ করবে না।

অ্যান্ড্রয়েড ও স্মার্ট টিভির আধুনিক সুবিধাগুলো ব্যবহার করে আপনি সহজেই অনলাইন স্ট্রিমিং, গেমিং এবং স্মার্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে আপনার বিনোদন অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ ও উপভোগ্য করে তুলতে পারবেন।

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে।

বিশেষ করে প্রায় দেড় দশক পর মমতা ব্যানার্জীর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বিদায় এবং প্রথমবারের মতো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে কৌতূহল আছে অনেকের মধ্যে।

একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ইস্যু ও পুশ-ইন কিংবা পুশ ব্যাক ইস্যুর মতো দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ভূমিকা কেমন হবে- তা নিয়েও আলোচনা, কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দলের মধ্যে।

নির্বাচনের আগে কিছু ভারতীয় নেতার বাংলাদেশ নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। পাশাপাশি বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আরও বেড়ে যায় কি-না সেই উদ্বেগও আছে অনেকের মধ্যে।

কোনো কোনো দল বলছে, নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন যেগুলো তাদের মতে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় যে-ই আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বড় ব্যবধানে মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিজেপি। এমনকি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

দলগুলো যা বলছে

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল সবসময়ই ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব তৈরির অভিযোগ করে আসছে।

এমনকি শেখ হাসিনা সরকার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’-এমন শ্লোগানও শোনা গেছে ঢাকার রাস্তায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিভিন্ন ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হয় এবং এর জের ধরে ভারতে বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল ।

ভারতের পণ্য বয়কটের ডাক, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা, বাংলাদেশে ভারতের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়া, বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা তুলে নেওয়া , ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলতে না যাওয়া- এমন অনেক ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।

যদিও বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য উভয় দেশের সরকারের দিক থেকেই দৃশ্যমান চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করে এসেছেন।

ওই সফরের আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এটা হচ্ছে একটা নিউ সম্পর্ক বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া”।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সাথে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে মনে করা হলেও ওই সময়ে তিস্তা নদীর পানি ইস্যুটির সমাধান করা যায়নি মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অবস্থানের কারণে। তিনি প্রকাশ্যেই এর বিরোধিতা করেছিলেন।

আবার এবারের নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে ভারতের বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা বাংলাদেশ সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন সেগুলোও এদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে অনেকে মনে করেন।

এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল কোন দিকে যায় সেদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোরও দৃষ্টি ছিল।

“নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে সেখানকার কিছু নেতা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্য করেছেন, যা দুঃখজনক। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের বড় সীমান্ত আছে এবং সম্পর্কের মাত্রা বহুমাত্রিক। এর মধ্যে এ ধরনের মন্তব্য সামনেও আসতে থাকলে সেটি এদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে,” বলছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, “আমরা আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ করছিলাম। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য বিজেপি অগণতান্ত্রিক চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই আমরা দেখেছি। ভোটার তালিকাকে টার্গেট করে তারা যা করেছে সেটিকেও গণতান্ত্রিক মনে হয়নি”।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রভাব পড়বে না এবং বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের উৎসাহিত হবার আশঙ্কা তারাও খুব একটা দেখছে না।

“তবে তাদের হিন্দুত্ববাদীতা, সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদীতা আমাদের উদ্বেগের বড় কারণ। তাদের রাষ্ট্রের যে আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতা সেটিই তারাই তো মানছে না। মুসলিমের ওপর যে নিগ্রহ সেটি তো সব দেখা যায় না। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ থাকলে তো অন্য ধর্মের লোকেরা নিরাপদে থাকতো”।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভারতের রাষ্ট্র ও সরকারের সহায়তা নিয়েই তো আওয়ামী লীগ শক্তি সঞ্চয় করেছিল এবং শেখ হাসিনা তাদের প্রশ্রয়েই আছেন। বিজেপি সরকার তো তাকে সহায়তা করছে। এখন তারা আরও শেল্টার পেয়ে ষড়যন্ত্র বাড়াতে পারে”।

তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়ার যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সেখানকার মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করেছে।

“তবে নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি যারাই ক্ষমতায় থাকুক দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে এবং এ থেকে মানুষ উপকৃত হবে। পারস্পারিক ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে নিশ্চয়ই দুই দেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের মধ্য দিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এলো এবং এটিও সত্যি যে একই ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশেও আছে।

“বৈশ্বিক রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে ভারতবর্ষের রাজনীতিও একই সংকটে নিপতিত। সেখানে যারাই ক্ষমতায় আসুক বা থাকুক তাতে সংকটের সমাধান হবে না কারণ তারা সবাই বুর্জোয়া ও কর্পোরেট শক্তির ধারক বাহক। তবে আমি বিশ্বাস করি দুই দেশের সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতেই সমাজকে এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

ওদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশে একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, যেই সরকার আসুক না কেন বা থাকুক না কেন, তাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।

“ভারতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আমাদের সাথে ইস্যুগুলা কিন্তু রয়েই যায়। ওগুলোতো আমাদের অবশ্যই ডিল করতে হবে,” বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

সূত্র : বিবিসি বাংলা