খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

দিল্লিতে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন—কী বার্তা দিতে চাইছে আওয়ামী লীগ?

অমিতাভ ভট্টশালী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২০ পূর্বাহ্ণ
দিল্লিতে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন—কী বার্তা দিতে চাইছে আওয়ামী লীগ?

ভারতের দিল্লির প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় গত শনিবার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দুই সাবেক মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পরে আগামী শুক্রবার ২৩শে জানুয়ারি দলটির আরও দুজন সাবেক মন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন। তবে দুটি অনুষ্ঠানের কোনোটিই বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দলীয় অনুষ্ঠান ছিল না।

দুটি ভিন্ন সংগঠন আয়োজন করেছে এসব সংবাদ সম্মেলনের।

গত শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে হাজির ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আগামী শুক্রবারের আলোচনা সভায় আবারও মি. নওফেলের হাজির থাকার কথা আছে, সঙ্গে থাকার কথা আরেক সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ আলী আরাফাতের।

দিল্লির প্রেস ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিই ছিল ২০২৪ এর পাঁচই অগাস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলন। তবে দলটির অনেকে নেতাই ভারতীয় গণমাধ্যমকে নানা ভাবে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন গত দেড় বছরের বেশি সময়ে।

যদিও অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে, মি. হাছান মাহমুদ এবং মি. চৌধুরী কেউই আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে ওই সংবাদ সম্মেলনে আসেননি।

“বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বা ওএইচসিএইচআর যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটি যে নিরপেক্ষ নয়, সেটা তুলে ধরতেই ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলাম। মি. মাহমুদ আর মি. চৌধুরীরা সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে আসেননি, ওই প্রতিবেদনটি যে একতরফা ভাবে তৈরি করা হয়েছে, সেটার জবাব দিতেই এসেছিলেন তারা,” বলছিলেন মি. মজুমদার।

তবে এই বিষয়ে দিল্লির সংবাদ সম্মেলনটি প্রথম নয়। মি. মজুমদার জানাচ্ছিলেন যে, এ নিয়ে তারা প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন জেনেভাতে। সেখানেই প্রথম বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছিলেন তারা।

ভলকার রিপোর্টের ‘জবাব’

দিল্লিতে গত শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি যে সংবাদ সম্মেলন হয়, সেটির আয়োজক ছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশন বা আইসিএফআর নামে একটি সংগঠন ও লন্ডনভিত্তিক একটি ল-ফার্ম।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বা ওএইচসিএইচআর জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে যে প্রতিবেদন করেছিল, তার একটি ‘রিব্যুটাল’ বা জবাবি প্রতিবেদন তৈরি করেছে আইসিএফআর নামে সংগঠনটি।

ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন যারা, তাদের অন্যতম হলেন লন্ডনভিত্তিক ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “এ বিষয়ে আমরা প্রথম সংবাদ সম্মেলনটি করেছিলাম জেনেভাতে। আমরা চাইছিলাম দিল্লির গণমাধ্যমের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরতে। আওয়ামী লীগের যে দুজন নেতা সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন, তাদের নাম দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলেই আমি জানি।

“এখানে যেহেতু জাতি সংঘের ব্যাপার আছে, তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্বন্ধে যিনি অবগত, সেই হাছান মাহমুদ ছিলেন আর মি. নওফেল নিজে যেহেতু ব্যারিস্টার, তাই আইন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার জন্য তিনি হাজির ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। তারা কিন্তু আওয়ামী লীগ হিসাবে আসেননি,” জানাচ্ছিলেন মি. মজুমদার।

ওই সংবাদ সম্মেলনে হাজির থাকা বাংলাদেশের অন্যতম সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের প্রতিবেদন যে একপেশে ছিল নিরপেক্ষতাবিহীন ছিল, সেটা খুঁজে বার করেছে আইনজীবীদের একটি টিম। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে আমাদের সরকার পক্ষের বক্তব্যই তো ছিল না। অথচ তার ভিত্তিতে বিচার হয়ে গেল, মৃত্যুদন্ডও দেওয়া হয়ে গেল।

“এই বিষয়গুলি গণমাধ্যমের সামনে আনার দরকার ছিল। জেনেভা, ব্রাসেলস আর লন্ডনে ইতোমধ্যেই সেখানকার গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন হয়। আমি আইনজীবী হিসাবে সেখানে হাজির ছিলাম,” বলছিলেন মি. চৌধুরী।

তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে নির্বাচনের আগে তাদের দেশের মানুষের কাছে কোনও রাজনৈতিক বার্তা দিতেই কি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বা এই সপ্তাহে আরও একবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন তারা?

জবাবে তিনি বলেন, “এই যে নির্বাচন হতে চলেছে, এটা তো ইলেকশন নয়, সিলেকশন। তবে দিল্লির সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ওই তথাকথিত নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই।”

তবে বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের দুজন সাবেক মন্ত্রী সশরীরে ভারতীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলে যে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন আসবেই, তাও আয়োজকরা জানতেন এবং এর জন্য প্রস্তুতও ছিলেন।

ভারতের অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতের গণমাধ্যমই সব থেকে উপযুক্ত, তাই দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা কি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন?

আগামী শুক্রবার ২৩শে অগাস্ট দিল্লিতেই যে আরেকটি আলোচনা সভা হতে চলেছে, সেটির শীর্ষক ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ – বাংলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে দিল্লিতে অবস্থিত ‘ফরেন করেসপেন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’। সেখানে সশরীরে হাজির থাকবেন অন্যান্যদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেবেন আরেক সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ আলী আরাফত।

ওই আলোচনা সভার যে দুটি পোস্টার বিবিসি বাংলার হাতে এসেছে, তার একটিতে বড়ো করে শেখ হাসিনার ছবি দেওয়া আছে। এরকম শোনা যাচ্ছে যে শেখ হাসিনাও ওই আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি হাজির হতে পারেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেও শেখ হাসিনার যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।

তা যদি হয়, তাহলে ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট ভারতে চলে আসার পরে এই প্রথমবার তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন। যদিও ইংরেজি – বাংলা মিলিয়ে ভারতের অনেক সংবাদপত্র এবং সংবাদ পোর্টালকেই ইমেইলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি।

বিবিসিও ইমেইলেই তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

আবার ভার্চুয়াল মাধ্যমেই শেখ হাসিনা নিয়মিত তার দলের নেতা-কর্মীদের আলোচনা সভাগুলিতে যোগ দেন। কিন্তু সবই শুধু অডিও মাধ্যমে – ভিডিওতে নয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমকে কেন গুরুত্ব?

গত শনিবার যে সংবাদ সম্মেলন করা হয় ‘ভলকার রিপোর্ট’ নিয়ে, তা যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

যদিও বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না, তবে তারা নিয়মিতই বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছে। সেসব প্রচারে অবশ্য বিধি নিষেধ জারি করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন একটা সময়ে ‘ভলকার রিপোর্ট’ কে সামনে রেখে বা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কথা বলে পক্ষান্তরে রাজনৈতিক প্রচারই করছে আওয়ামী লীগ।

এটা তাদের একটা রাজনৈতিক কৌশল বলে মন্তব্য করছিলেন প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট গৌতম লাহিড়ী।

ঘটনাচক্রে তাদের ক্লাবেই গত শনিবারের সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয়েছিল এবং তিনি নিজেও হাজির ছিলেন ওই সংবাদ সম্মেলনে।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন, “গত শনিবারের ওই অনুষ্ঠানটি তো আওয়ামী লীগের নামে করা হয়নি, লন্ডনভিত্তিক একটি ল-ফার্ম এটার দায়িত্বে ছিল বলেই জানি। আবার সেখানে মানবাধিকারের বিষয়টা সামনে রাখা হয়েছিল। জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে যে ভলকার রিপোর্ট তৈরি হয়েছে, তার ত্রুটি বিচ্যুতিগুলি ভারতীয় গণমাধ্যমকে, বিশেষত ইংরেজি ভাষার পত্রপত্রিকাগুলির সামনে তারা তুলে ধরতে চেয়েছেন। তবে স্বাভাবিকভাবে আওয়ামী লীগের প্রাক্তন মন্ত্রীদের রাজনৈতিক প্রশ্নও করা হয়েছে।”

তার কথায়, “বাংলাদেশের মানুষ তো ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরাখবর প্রচুর পড়েন, তাই এদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে আমার মনে হয়।”

বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ একাধিক নেতাও এই একই কথা বলেছেন। তাদের কথায়, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাজধানীতে এর আগে ভলকার রিপোর্ট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হলেও সেখানকার গণমাধ্যমের বাংলাদেশ নিয়ে অতটা আগ্রহ থাকবে না, যতটা আগ্রহ দেখাবে ভারতীয় গণমাধ্যম। আবার দিল্লির বদলে কলকাতায় হলে হয়ত আরও বেশি আগ্রহ দেখাত পত্রপত্রিকাগুলো।

কিন্তু গৌতম লাহিড়ী বলছিলেন যে সেদিনের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকদের টার্গেট সম্ভবত ছিল ভারতের জাতীয় গণমাধ্যম।

তিনি বলছিলেন যে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংবাদ সম্মেলন করতে ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটা তিনি জানেন না।

“আয়োজকরা আমাদের সরকারের অনুমোদন নিয়েছিলেন কি না জানা নেই। তবে সরকার তো বাধা দেয় নি। যদি সরকার না চাইত তাহলে তো এ ধরনের অনুষ্ঠান করা যেত না। আমার মনে আছে, চার-পাঁচ বছর আগে যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইল বিএনপির কোনো একটা বিষয়ে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন। ফোন করে সরকারের তরফে বলা হয়েছিল যে ওই আয়োজনটা না করতে দেওয়াই উচিত। পরে একটি হোটেলে তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।”

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

সালথায় রক্তপাতের পথ ছেড়ে শান্তির পথে, অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুল দিল প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
সালথায় রক্তপাতের পথ ছেড়ে শান্তির পথে, অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুল দিল প্রশাসন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও সহিংসতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশীয় অস্ত্র জমা দেন। পরে অস্ত্র হস্তান্তরকারীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানিয়ে মানবিক ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রশাসন।

অনুষ্ঠানে অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের ইতিবাচক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। উপস্থিত বক্তারা বলেন, ভয়ভীতি বা শাস্তির পরিবর্তে সম্মান ও সামাজিক স্বীকৃতির মাধ্যমে মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা সম্ভব। এই উদ্যোগ সেই বিশ্বাসেরই বাস্তব প্রতিফলন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ, পুলিশ পরিদর্শক ইন্দ্রজিৎ মল্লিক এবং সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম।

এছাড়া মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফসার মাতুব্বর, সাবেক চেয়ারম্যান শাহিদুজ্জামান শাহিদ, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আ. রাজ্জাক মোল্লা, মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবি, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মাতুব্বর, যুবদল নেতা ইমরান হোসেন, সজিব মাতুব্বরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন, “শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনগণের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন, তারা সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”

বক্তারা আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার সমাজে সহিংসতা, অপরাধ ও অস্থিরতা বাড়ায়। তাই অস্ত্রমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দেওয়ার এই উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক স্বীকৃতি মানুষের আচরণ পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অস্ত্র জমাদানকারীদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে প্রশাসন একটি ইতিবাচক, মানবিক ও দূরদর্শী বার্তা দিয়েছে, যা এলাকায় শান্তির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে উপস্থিত সবাই ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসম্পৃক্ত ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। মাঝারদিয়া ইউনিয়নের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আলফাডাঙ্গায় টিটা বাঁওড়ে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত, বাড়বে দেশীয় মাছের উৎপাদন

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় টিটা বাঁওড়ে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত, বাড়বে দেশীয় মাছের উৎপাদন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টিটা বাঁওড়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ৬৮০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এবং ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর অর্থায়নে পাবদা, গুলশা, টেংরা ও শিং জাতের মাছের পোনা টিটা বাঁওড়ে অবমুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক ময়েদুজ্জামান।

এসময় বক্তারা বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ বাংলাদেশের জলজ জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নানা কারণে এসব মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। টিটা বাঁওড়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণের ফলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জেলেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া আসাদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস, জামায়াতে ইসলামী আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এস. এম. হাফিজুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা এস. এম. রিদওয়ানুন্নবী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম দাউদ, উপজেলা মৎস্য অফিসের সহকারী রিফাত মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু জানান, দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষা ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জলাশয়ের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরে পদ্মায় স্পিডবোট থামিয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতি, যাত্রীকে কুপিয়ে ইঞ্জিন লুট

মো. মোস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পদ্মায় স্পিডবোট থামিয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতি, যাত্রীকে কুপিয়ে ইঞ্জিন লুট

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী একটি স্পিডবোটে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতরা এক যাত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তার কাছে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন এবং স্পিডবোটের ইঞ্জিন লুট করে নিয়ে যায়। নদীপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এ ঘটনা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বালুরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর খবর পেয়ে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নদীর মাঝের একটি চরসংলগ্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিনবিহীন স্পিডবোট ও এর চালককে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া চালক সঞ্জিব (২২) সদর ইউনিয়নের খালাশিডাঙ্গী গ্রামের অভিমান্যুর ছেলে।

স্পিডবোট চালক সঞ্জিব জানান, সন্ধ্যার আগে তিনি গোপালপুর ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে যান। পরে একজন যাত্রী নিয়ে ফের গোপালপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর পদ্মার বালুরটেক এলাকায় মাওয়ার দিক থেকে আসা ১০ থেকে ১৫ জন লোক বহনকারী একটি বড় স্পিডবোট তাদের ধাওয়া করে।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তিনি দ্রুত একটি চরে স্পিডবোট ভিড়িয়ে যাত্রীকে রেখে নিজের প্রাণ রক্ষার্থে চরের ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে ডাকাতরা স্পিডবোটটি দখলে নিয়ে যাত্রীর ওপর হামলা চালায়।

আহত যাত্রী মো. লিটন (৩৫) জানান, বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকায় প্রয়োজনীয় কাজ শেষে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় গোপালপুর ঘাট থেকে একটি ফিরতি স্পিডবোটে ওঠেন। কিছুদূর যাওয়ার পর একটি স্পিডবোট তাদের ধাওয়া করে। চালক নেমে যাওয়ার পর ডাকাতরা তাকে ঘিরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

তিনি আরও জানান, ডাকাতরা তার কাছে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং স্পিডবোটের প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যায়। হামলায় তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপর গুরুতর জখম হয়। পরে ডাকাতদের অনুরোধ করলে তারা তাকে একটি জেলে নৌকায় তুলে দেয়। সেখান থেকে তিনি মৈনট ঘাটে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং দোহার নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

তবে এ ঘটনায় তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “সন্ধ্যার পর পদ্মা নদীতে ডাকাতির খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে নদীর মাঝের একটি চরসংলগ্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিনবিহীন স্পিডবোট ও চালককে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নৌ পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”

ফরিদপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাসিম আহাম্মেদ জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।