খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, কোয়ালিশন সরকার, ক্ষমতা হস্তান্তর – এগুলো কীভাবে হয়?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৩ এএম
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, কোয়ালিশন সরকার, ক্ষমতা হস্তান্তর – এগুলো কীভাবে হয়?

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারে, কোনো দল একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে নাকি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হবে, ক্ষমতা হস্তান্তর কীভাবে হবে- এসব নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

একই সাথে আলোচনায় আছে নির্বাচনে বিজয়ী পক্ষের গঠন করা সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর কীভাবে হবে এবং নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কী- তা নিয়েও।

এবার সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে তিনশ সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি। ওই দিন একই সাথে ভোটাররা গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ।

ফলে দৃশ্যত এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে।

ফলে নির্বাচনে কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসতে পারে কি-না তা নিয়ে যেমন কৌতূহল আছে, তেমনি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হওয়ার মতো তৈরি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি-না সেদিকেও দৃষ্টি আছে অনেকের।

কিন্তু এই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, ঝুলন্ত পার্লামেন্ট, কোয়ালিশন সরকার, ক্ষমতা হস্তান্তর কিংবা সরকার গঠন- এগুলো কী কিংবা এসব কীভাবে হয়?

একক/নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা

সংসদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলছেন, সংসদের মোট আসনের অর্ধেক+১টি কিংবা এর চেয়ে বেশি আসনে বিজয়ী হলেই তাকে একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বলা হয়।

অর্থাৎ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কোন দল বা জোটকে কমপক্ষে ১৫১টি আসন পেতে হবে। আর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের মোট আসন ৬৫০ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য পেতে হয় ৩২৬ আসন। ভারতে লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে কোনো দলকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ পেতে হরে ২৭২ আসন পেতে হয়।

“রাষ্ট্রপতি একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের প্রধানকেই সাধারণত সরকার গঠনের আহবান জানিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে কোনো দল এ ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বেশি আসনে জয়ী দলকে তখন সরকার গঠনের জন্য অন্য দলের সমর্থন যোগাড় করতে হয়। সংসদীয় পদ্ধতির সরকার আছে এমন সব দেশের জন্যই এটি প্রযোজ্য,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি এবং ১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বেশি আসনে জিতলেও একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে অন্যদের সমর্থন নিয়ে দল দুটিকে তখন সরকার গঠন করতে হয়েছিল।

নিজাম উদ্দিন আহমেদ অবশ্য বলছেন, অনেক সময় একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলকে সরকার গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির আহবান জানানোর উদাহরণ অনেক দেশেই আছে।

“সেক্ষেত্রে সরকার গঠনের পর সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হয়,” বলছিলেন মি. আহমেদ।

ভারতে ১৯৯৬ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বেশি আসন জিতেছিল বিজেপি। এরপর প্রথম বিজেপি নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। কিন্তু শপথ গ্রহণের তের দিনের মাথায় লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারায় তার সেই সরকারের পতন হয়েছিল।

নজির আছে”।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে ২০২২ সালে কোয়ালিশন সরকারের মিত্র দলগুলো সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সংসদে বিরোধী দলগুলোর আনা অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা হারিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পরে ইমরানের ওপর সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন শাহবাজ শরিফ।

দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা

অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলছেন, সরকার গঠনের জন্য একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট কিন্তু এর চেয়েও বড় বিষয় হলো দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা।

অর্থাৎ সংসদের মোট আসন সংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ কোনো দল বা জোট পেলে সেটিই দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হিসেবে পরিচিত।

“সাধারণত অনেক দেশে সংসদে সংবিধান পরিবর্তন, জরুরি কোনো আইন পাস কিংবা বিশেষ প্রস্তাব পাসের জন্য দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের সংবিধানও পরিবর্তনের জন্য এ ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিধান এখন পর্যন্ত বিদ্যমান সংবিধানে আছে,” বলেছেন মি. আহমেদ।

ক্ষমতা হস্তান্তর ও নতুন সরকার গঠন

নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দল বা জোটের নেতাকে সরকার গঠনের জন্য আহবান জানান রাষ্ট্রপতি।

নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলছেন, নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়েই পুরনো সরকারের বিদায় ঘটে এবং এটাকেই ক্ষমতা হস্তান্তর বলা হয়।

বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের উদাহরণ খুবই কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আন্দোলন বা সংঘাতের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে।

“গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী সরকার প্রধান বা তার প্রতিনিধিরা থাকেন। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমাদের দেশে এমনটা বিরল,” বলছিলেন অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এর মাধ্যমে সংসদ গঠিত হয়।

এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোট সংসদ নেতা নির্বাচন করার পর তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

এরপর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়।

“এর মধ্য দিয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর ও নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে এবার অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় সেটি এখনো পরিষ্কার নয়,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সংসদ বিষয়ক গবেষক নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

মি. আহমেদ এও বলছেন যে, অনেক সময় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহবান জানান রাষ্ট্রপতি। “সেক্ষেত্রে তিনি এই শর্ত দেন যে সরকার গঠনের পর সংসদে তার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে,” বলছিলেন তিনি।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর