খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

গণঅভ্যুত্থানের পর কতটা স্বাধীন বাংলাদেশের গণমাধ্যম?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৮ এএম
গণঅভ্যুত্থানের পর কতটা স্বাধীন বাংলাদেশের গণমাধ্যম?

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারকে উৎখাত করেনি—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং তথ্যপ্রবাহের কাঠামোকেও আমূল পরিবর্তন করেছে।

ছাত্র, শ্রমিক ও নাগরিক সমাজের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার যেমন রাজনৈতিক সংস্কারের সূচনা করেছে, তেমনি সংবাদমাধ্যমও এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে—যেখানে ভয়, নীরবতা ও প্রচারযন্ত্রের জায়গা নিচ্ছে প্রশ্ন, সমালোচনা ও বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি।

এই প্রতিবেদনে আমরা তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করেছি অভ্যুত্থানের আগে ও পরে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বয়ান, টোন, কাভারেজ ও সেন্সরশিপের ধরন, এবং অনুসন্ধান করেছি—স্বাধীনতার পরিধি কতটা বেড়েছে, আবার কোন কোন সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

১. অভ্যুত্থানের আগে: ভয়, নিয়ন্ত্রণ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের যুগ

জুলাই ২০২৪-এর পূর্ববর্তী সময় ছিল বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি।

আইনি নিপীড়ন: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (DSA) এবং পরবর্তীতে সাইবার নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করা হতো সাংবাদিক, লেখক ও নাগরিকদের দমন করতে।

সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ: বড় মিডিয়া হাউসগুলো রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে ছিল, ফলে সরকারবিরোধী বক্তব্য বা দুর্নীতির খবর প্রায় অনুপস্থিত ছিল।

ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণ: অসংখ্য সাংবাদিক হয়রানি, গ্রেফতার বা মামলার মুখোমুখি হন; এর ফলে স্বতঃস্ফূর্ত আত্মনিয়ন্ত্রণই হয়ে ওঠে নিরাপত্তার একমাত্র কৌশল।

ফলে সংবাদমাধ্যম হয়ে পড়ে এক রঙের বয়ানমাধ্যম—যেখানে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা ছিল অপরাধের শামিল, আর নাগরিক প্রতিবাদগুলোকে উপস্থাপন করা হতো ‘অরাজকতা’ হিসেবে।

২. বাঁকবদল: জুলাই অভ্যুত্থান ও তথ্যনিয়ন্ত্রণের পতন

২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন ছাত্র-জনতার ঢেউ রাস্তায় নেমে এলো, তখন রাষ্ট্রীয় মিডিয়া কাঠামো প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।

ফেসবুক, ইউটিউব, ও টেলিগ্রাম হয়ে ওঠে নাগরিক সংবাদমাধ্যমের মূল মঞ্চ

মেইনস্ট্রিম টিভি ও পত্রিকা যখন নীরব, তখন হাজারো তরুণ সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন রাজপথ থেকে।

#StudentRevolution এবং #BangladeshUprising হ্যাশট্যাগে মিলিয়ন মানুষের ডিজিটাল উপস্থিতি রাষ্ট্রীয় প্রচারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।

এই সময়েই শুরু হয় তথ্যের গণতন্ত্রীকরণ—যেখানে রাষ্ট্রের চেয়ে নাগরিকরাই হয়ে ওঠে তথ্যের মূল উৎস। তবে এর সাথে ছড়িয়ে পড়ে গুজব, বিভ্রান্তি ও একাধিক সত্যের সংঘাত, যা আজও বিদ্যমান।

৩. অভ্যুত্থানের পরের প্রেক্ষাপট: স্বাধীনতা ফিরে এসেছে, তবে ভঙ্গুর

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি দেয় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের।
এর ফলে কিছু বাস্তব পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে—

ক. প্রত্যক্ষ সেন্সরশিপের হ্রাস

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর সরাসরি আইনি চাপ অনেক কমে গেছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বাড়ছে, বিশেষ করে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কার বিষয়ে।

খ. সম্পাদকীয় সাহসের প্রত্যাবর্তন

টকশো, সম্পাদকীয় ও মতামত কলামগুলোতে এখন মতের বৈচিত্র্য বেড়েছে। প্রধান সংবাদপত্রগুলো সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনাও প্রকাশ করছে উন্মুক্তভাবে।

গ. বিকল্প মিডিয়ার উত্থান

বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক নাগরিক সংবাদ উদ্যোগ, ইউটিউব টকশো ও স্বাধীন ডিজিটাল ম্যাগাজিন এখন নতুন আস্থার জায়গা তৈরি করছে।

তবে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও নীতিগত অস্পষ্টতা এখনো মিডিয়ার টেকসই স্বাধীনতার পথে প্রধান বাধা।

৪. স্থায়ী চ্যালেঞ্জ: অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ ও কাঠামোগত দুর্বলতা

নতুন স্বাধীনতার ভেতরেও কিছু গভীর সমস্যা রয়ে গেছে—

অর্থনৈতিক নির্ভরতা: অধিকাংশ মিডিয়া এখনো রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল।

আইনি সংস্কারের অভাব: কার্যকর তথ্য অধিকার আইন ও হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা না থাকায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সীমিত।

মেরুকৃত বয়ান: রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব মিডিয়া ন্যারেটিভ গড়ে ওঠায় যৌথ বাস্তবতা দুর্বল হচ্ছে।

ডিজিটাল হয়রানি: বিশেষত নারী সাংবাদিকরা এখনো অনলাইন হুমকি ও অপপ্রচারের মুখোমুখি।

অর্থাৎ, ভয় কমেছে ঠিকই, কিন্তু স্বাধীনতার মূল্য এখনো অনেক বেশি।

৫. প্রতিবাদ ও নাগরিক কণ্ঠের উপস্থাপন: আগে ও পরে

১২টি প্রধান বাংলা ও ইংরেজি মিডিয়ার (এপ্রিল–সেপ্টেম্বর ২০২৪ বনাম আগস্ট–অক্টোবর ২০২৫) কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে—

সূচকঅভ্যুত্থানের আগেঅভ্যুত্থানের পরেপ্রতিবাদের খবরের হার৬%১৯%নাগরিক আন্দোলনের ইতিবাচক উপস্থাপন১৪%৬৩%সরকারি প্রেস রিলিজকে মূল উৎস হিসেবে ব্যবহার৪৮%২৩%স্বাধীন বিশেষজ্ঞ/একাডেমিক সূত্র ব্যবহার১২%৩৭%

এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে, বয়ানের বৈচিত্র্য বেড়েছে, যদিও তা এখনো প্রধানত শহরকেন্দ্রিক ও অভিজাতমুখী।

৬. ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ: মুক্তির পর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ

গণঅভ্যুত্থানের পর সংবাদমাধ্যম একটি পুনর্গঠনের সময় অতিক্রম করছে।
এই স্বাধীনতাকে স্থায়ী করতে হলে প্রয়োজন—

একটি স্বাধীন প্রেস ফ্রিডম কমিশন, যা রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করবে।

মিডিয়া মালিকানার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

জনস্বার্থ তহবিল গঠন করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা উৎসাহিত করা।

ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি, যাতে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি মোকাবিলা করা যায়।

এভাবেই গণমাধ্যম স্বাধীনতা একক ঘটনা থেকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে রূপ নিতে পারে।

গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের গণমাধ্যম এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে—
ভয় থেকে মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু টেকসই হওয়ার জন্য এখনো সংগ্রাম করছে।

যেখানে আগে ছিল নীরবতা, এখন সেখানে প্রশ্ন আছে।
কিন্তু প্রশ্ন টিকে থাকার জন্য দরকার স্থিতিশীল প্রতিষ্ঠান, আর্থিক স্বচ্ছতা, এবং পেশাদার নৈতিকতার সংস্কৃতি।

স্বাধীনভাবে কথা বলাই যথেষ্ট নয় — এখন প্রয়োজন এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সত্য টিকে থাকতে পারে।

সূত্র : মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেএম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও নগরকান্দা থানা নিয়ে গঠিত আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার  পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর -২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন -সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। ‘

কেএম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক। তার আদর্শ, সততা মানুষের জন্য কাজ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় নগরকান্দার লস্করদিয়ায় কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্পণ ও আগামী ২৩ মার্চ বিকালে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন