খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভাঙ্গায় সততার অনন্য দৃষ্টান্ত: দেড় লাখ টাকা ফিরিয়ে দিলেন চায়ের দোকানি জুবায়ের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় সততার অনন্য দৃষ্টান্ত: দেড় লাখ টাকা ফিরিয়ে দিলেন চায়ের দোকানি জুবায়ের

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। আকারে ছোট হলেও মানবিকতা ও সততার দিক থেকে যেন বিশাল এক প্রতিষ্ঠান। সেই দোকানের মালিক তরুণ উদ্যোক্তা জুবায়ের আবারও প্রমাণ করলেন—সততা এখনও বেঁচে আছে।

তান্দুরী চা-সহ প্রায় ৮০ ধরনের চা বিক্রি করেন জুবায়ের। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটে তার। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী—সব শ্রেণির মানুষ তার দোকানে আড্ডা ও চায়ের স্বাদ নিতে ভিড় করেন। হাসিমুখে আপ্যায়ন আর আন্তরিক ব্যবহারই তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছে।

কয়েকদিন আগে তার দোকানে এক ক্রেতা অসাবধানতাবশত একটি ব্যাগ ফেলে যান। পরে ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে রয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭০ টাকা। এত বড় অঙ্কের টাকা পেয়ে কেউ হয়তো প্রলোভনে পড়তে পারতেন। কিন্তু জুবায়ের সেটি নিজের কাছে না রেখে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন।

তিনি স্থানীয়ভাবে মাইকিং করান, পরিচিতজনদের মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে দেন এবং প্রশাসনের সহায়তাও চান। এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য তিনি স্থানীয় এসিল্যান্ড অফিসেও যান। জুবায়ের বলেন, “এই টাকা আমার নয়। যার টাকা, তাকে খুঁজে বের করাই আমার দায়িত্ব।”

অবশেষে খোঁজ মেলে টাকার প্রকৃত মালিকের। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বাসিন্দা মিরাজ শেখ (প্রায় ৭০)। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদের পর তার হৃদরোগের অস্ত্রোপচারের জন্যই টাকাটি জমা করা হয়েছিল। টাকা হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে।

পরিচয় ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে এক আবেগঘন মুহূর্তে জুবায়ের পুরো টাকাই মিরাজ শেখের হাতে তুলে দেন। উপস্থিত সবার চোখে তখন আনন্দাশ্রু। কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত মিরাজ শেখ বলেন, “আজও যে এমন সৎ মানুষ আছে, তা না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।”

শুধু এই ঘটনাই নয়, জানা গেছে জুবায়ের তার মাসিক আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ অসহায় মানুষের সহায়তা ও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে ব্যয় করেন। স্থানীয়রা জানান, গোপনে তিনি অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী ও রোগীর পাশে দাঁড়ান।

বর্তমান সময়ে যখন প্রতিনিয়ত চুরি-ডাকাতি ও অনৈতিক ঘটনার খবর শোনা যায়, তখন জুবায়েরের মতো তরুণরা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তার এই মহৎ উদ্যোগ ভাঙ্গা তো বটেই, পুরো ফরিদপুর জেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি পদমর্যাদার ১৩ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি পদমর্যাদার ১৩ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি পদমর্যাদার ১৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

বুধবার (২২ এপ্রিল) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এতে স্বাক্ষর করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব ধরনের সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন ড. এ কে এম মাসুম রব্বানী (ডিআইজি, পুলিশ স্টাফ কলেজ), মো. সাখাওয়াত হোসেন (অতিরিক্ত ডিআইজি, ট্যুরিস্ট পুলিশ), মহ. আশরাফুজ্জামান (কমান্ড্যান্ট-ডিআইজি, পিটিসি, রংপুর, বর্তমানে পলাতক), এ জেড এম নাফিউল ইসলাম (ডিআইজি, এন্টি টেররিজম ইউনিট, ঢাকায় সংযুক্ত), মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ (ডিআইজি, নৌ পুলিশ, ঢাকায় সংযুক্ত), মো. মনিরুল ইসলাম (ডিআইজি, এন্টি টেররিজম ইউনিট), মাহফুজুর রহমান (ডিআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর, বর্তমানে রাজশাহীর বিপিএ সারদায় বদলির আদেশপ্রাপ্ত), মো. মুনিবুর রহমান (ডিআইজি, এফপিবিএন হেডকোয়ার্টার্স), মো. ইকবাল হোসেন (অতিরিক্ত ডিআইজি, ওএসডি, বর্তমানে রংপুর রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত), শামীমা বেগম (ডিআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর), মো. আবু কালাম সিদ্দিক (ডিআইজি, শিল্পাঞ্চল পুলিশ), মো. আমিনুল ইসলাম (ডিআইজি, পুলিশ টেলিকম) ও সালমা বেগম (ডিআইজি, এপিবিএন, পার্বত্য জেলাসমূহ)।

ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দৈনিক পুনরুত্থান পত্রিকার ১৩তম বর্ষপূর্তি উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দৈনিক পুনরুত্থান পত্রিকার ১৩তম বর্ষপূর্তি উদযাপন

ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে দৈনিক পুনরুত্থান-এর ১৩তম বর্ষপূর্তি। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনকে ঘিরে দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল আনন্দঘন র‍্যালি, আলোচনা সভা, দোয়া ও কেক কাটা—যা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় একটি বর্ণিল র‍্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি শেষে সকাল ১১টায় শুরু হয় আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক পুনরুত্থানের সহযোগী ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মিজান উর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খরসূতী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাদীন উর রহমান।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- মাগুরার মহম্মদপুর আমিনুর রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ও প্রবীণ শিক্ষাবিদ মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “সৎ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজকে আলোকিত করে এবং একটি গণমাধ্যমের দীর্ঘ পথচলার পেছনে থাকে নিরলস পরিশ্রম ও জনগণের আস্থা।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- প্রথিতযশা সাংবাদিক ও সমকাল প্রতিনিধি কাজী আমিনুল ইসলাম। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতার বিকাশে দৈনিক পুনরুত্থানের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।

দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন খরসূতী চন্দ্র কিশোর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। পরে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সফলতা কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক (ইসলাম শিক্ষা) মো. নিজাম উদ্দিন।

খরসূতী সরকারি কলেজের প্রভাষক গৌতম সিংহের সুনিপুণ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য মো. নায়েব আলী, বোয়ালমারী উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান মো. নবির হোসেন চুন্ন, চিকিৎসক ডা. মো. জিকরুল হক সিকদারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সাংবাদিক ও সুধীজন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে কেক কেটে ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দৈনিক পুনরুত্থান স্থানীয় সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনমানুষের কথা তুলে ধরে পাঠকমহলে আস্থা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

ফরিদপুরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আলোচিত সেই কবির খান গ্রেপ্তার

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আলোচিত সেই কবির খান গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া আসামি চরহরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি কবির খানকে (৫৩) অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচন্ডিপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চরভদ্রাসন থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক খানের নেতৃত্বে একটি দল দোহার থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে কবির খানকে গ্রেপ্তার করে। তিনি চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর গ্রামের মৃত সুরমান খানের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মুন্সির চর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে কবির খানকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিন্তু গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে মোটরসাইকেলে তোলার সময় তার স্বজন ও অনুসারীরা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে পুলিশ সদস্যরা গুরুতর আহত হন এবং পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কবির খানকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই রফিকুজ্জামান। তার সঙ্গে ছিলেন এসআই মোজাম্মেল হক, এসআই কাজী রিপন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা ও কনস্টেবল উজ্জ্বলসহ মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্য। হামলার সময় এসআই রফিকুজ্জামানসহ সকল সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত অভিযান জোরদার করে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় তল্লাশি চালায়। একই ঘটনায় মঙ্গলবার চরহরিরামপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে আলমগীর (২৫) নামে এক সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

চরভদ্রাসন থানার এসআই এনামুল হক খান জানান, কবির খানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আগে থেকেই দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যায়।