খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন: অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তি কতটা সম্ভব?

আবুল কালাম আজাদ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৯ এএম
আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন: অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তি কতটা সম্ভব?

বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়াই চলছে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি।

২০১৪ সাল থেকে একাধারে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর আবারো সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া আসন্ন নির্বাচনটি শেষ পর্যন্ত কতটা অংশগ্রহণমূলক হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বাংলাদেশে পর পর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্যে ২০১৪ আর ২০২৪ সালে বিএনপি ও জামায়াত অংশ না নেয়ায় একতরফা নির্বাচন হয়েছে।

আর আঠারো সালের নির্বাচনকে সমালোচকেরা বলে থাকেন রাতের ভোট। আসন্ন নির্বাচনও সব দলের অংশগ্রহণে হচ্ছে না।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে সেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেনা ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগ এবং তাদের জোটের শরিক মিত্র দলগুলোর কয়েকটি।

এই নির্বাচনে মূলত অংশ নিচ্ছে গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি বিশেষ করে ২০১৪ এবং ২৪ সালের ভোটে অংশ না নেয়া আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াত।

ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধনও বাতিল করে দিয়েছে।

এ অবস্থায় দলটি ভোটে অংশ নিতে না পারলেও বিতর্কের কিছু নেই বলে মনে করে আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। তাদের দৃষ্টিতে এই নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক হবে।

দুই জোটের অবস্থান

ছাব্বিশের নির্বাচনটিও ভবিষ্যতে কারো কারো কাছে একতরফা হিসেবে মূল্যায়ন হবে। তবে জাতীয় নির্বাচনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা দুই জোটের নেতারা মনে করেন, সর্বস্তরের ভোটার, বৈধ দল ও প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেই হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, ভোটার উপস্থিতির মাধ্যমেই আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অংশগ্রহণমূলক বলতে আমরা বুঝি ভোটারদের অংশগ্রহণ। পার্টিকুলার কোনো দলের নয়।

“নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হয় একটা আইনের ভিত্তিতে। দেশে ইলেকশন কমিশন আছে, একটা নির্বাচনী আইন আছে সাংবিধানিক একটা বিধি আছে। আপনারা দেখবেন সেই আইনের ভিত্তিতে যারা যারা যোগ্য হবেন, আইনের মধ্যে যারা থাকবেন- তারা ইলেকশন করবেন, দ্যাট ইজ কল পার্টিসিপেটরি, দ্যাট ইজ কল ইনক্লুসিভ।

“নির্বাচনে যোগ্য লোকদেরকে নির্বাচন করতে না দিলেই সেটা হবে অংশগ্রহনহীন ইলেকশন” বলেন জামায়াত নেতা মি. পরওয়ার।

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ মনে করেন, এবার অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন প্রশ্নে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই।

তার যুক্তি, বর্তমানে দেশের নিবন্ধিত সব দলই ভোটে অংশ নিচ্ছে, তাই এটি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন।

“ইনক্লুসিভ ইলেকশন মানেই হচ্ছে আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচন। বিকজ আওয়ামী লীগ কোনো পলিটিক্যাল পার্টি না। তারা একটা মাফিয়া গোষ্ঠী, তারা রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়েছে, তারা এদেশে গণহত্যা চালিয়েছে, জনরায় হয়েছে।

“গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে তারা এদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চায় না। ইনক্লুসিভ মানে যারা এখন রাজনীতিতে রেজিস্ট্রার্ড আছে, ইলেকশন কমিশনের সাথে নিবন্ধন আছে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে”।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলছেন, “যদি দুএকটা ছোট খাট দল ইলেকশনে অংশগ্রহণ না করে থাকে, সেটা সবসময় হয়ে থাকে তাতে কিছু যায় আসে না। নির্বাচনের ইনক্লুসিভ চরিত্র থাকবে গ্রহণযোগ্য হবে বিশ্বাসযোগ্য হবে।”

জাতীয় পার্টির ভিন্ন অবস্থান

বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রধান জোট আসন্ন নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছে। আওয়ামী লীগ না থাকায় এই দুই জোটের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

দুই জোট মনে করছে, ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। তবে তাদের এই প্রত্যাশা পূরণ হবে কিনা- সেটি নিয়ে সন্দেহ এবং আশঙ্কার কথা শোনা যায় জাতীয় পার্টির অবস্থান থেকে ।

দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “আনকন্ট্রোলড আনচেকড একটা ইলেকশনের দিকে বাংলাদেশ যাচ্ছে এবং ভোটের দিনে এখানে স্থানীয় মব, স্থানীয় শক্তি, স্থানীয়ভাবে যারা হোল্ড রাখে, তারা যা চাইবে তাই হবে।

“বাধা দেয়ার মতো কোনো শক্তি এখন পর্যন্ত আমরা দেখতে পারছি না। এই যে বল্গাহীন, বাধা না দেয়ার ক্ষমতা ছাড়া একটা ভোট হচ্ছে সেটারতো বিকল্প আরো অনেক কিছু হওয়া উচিত ছিল। জাতীয় পাটি জামাতের নিষিদ্ধের সময় প্রতিবাদ করেছিল, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সময়ও প্রতিবাদ করেছে” বলেন মি.পাটোয়ারী।

অতীতে আওয়ামী লীগের জোটের সঙ্গে থাকা জাতীয় পার্টি এবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলছেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ঘটনা আওয়ামী লীগকে কোনো পলিটিক্যাল সলিউশন দেয়নি। আবার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ঘটনাও কিন্তু বিএনপি- জামায়াতকে কোনো পলিটিক্যাল সলিউশন দিল না।

“ইনক্লুসিভ ভোট ছাড়া ফুল ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশন হবে না। পরের ভোটে গিয়ে হয়তো আমরা একটা ফুল ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশনের দিকে যেতে পারি। সেদিকে যেতে গেলে আগেতো একটা সেমি ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশন লাগবে। আমি মনে করি সেদিক থেকে এবারের ভোটে অনেক সমস্যার সমাধান হবে” বলেন মি. পাটোয়ারী।

মি. পাটোয়ারীর কথায়, ভোট না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

“এই ইলেকশনটা কিন্তু একটা ট্রানজিশন, একটা সেমি ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশন। আওয়ামী লীগেরও কিন্তু একটা ট্রানজিশন প্রয়োজন। সকলেরই কিন্তু একটা শিফট প্রয়োজন। ভোট না হলে বর্তমান সরাকার দেশ চালাতে পারবে না।”

অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনী রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “প্রকৃত অংশগ্রহনমূলক যেটাকে আমরা বুঝি যে সকল রাজনৈতিক দল মত সবার অংশগ্রহন সেটা এবার আসলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

“সামনে এটা হয়তো পরের নির্বাচনে হলেও হতে পারে যদি আওয়ামী লীগ তার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করে পর্যালোচনা করে এবং বিচারগুলো যদি হয়ে যায়, তারপরে আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই একভাবে আসতে পারে।

“এখন ওই আংশিকভাবেই নির্বাচন করতে হবে। তারপরেও নির্বাচন কতটা ঠিকঠাক হয় সেটাও এখন উদ্বেগের বিষয়” বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব

অতীতে নির্বাচনগুলোর বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ এই দুই দলেরই ভোটার সবচেয়ে বেশি। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও দলটির সমর্থক ভোটাররা রয়েছেন; তাদের ভোট জয় পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তবে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাদের কর্মী সমর্থকদের ভোটদানে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। সেটি ভোটার উপস্থিতিতে কেমন প্রভাব ফেলবে, সেটি নিয়ে দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে।

বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ বলছেন, আওয়ামী লীগ না থাকায় ভোটার উপস্থিতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।

“এদেশের মানুষ এবং নতুন প্রজন্ম যারা নতুন ভোটার হয়েছে, যাদের বয়স আঠারো থেকে ত্রিশ পঁয়ত্রিশের মধ্যে তারা স্বাধীনভাবে মুক্ত পরিবেশে ভোট দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে, উদগ্রীব হয়ে আছে, এই ভোটারকে কেউ থামাতে পারবে না।

“আর এখানে একটা ক্ষুদ্র অংশ যদি নিজেরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না চায় বা ভোট দিতে না চায়, সেই স্বাধীনতাতো তাদের আছে। তবে আমি মনে করি না যে, তাদের সংখ্যা খুব একটা বেশি হবে” বলেন বিএনপি নেতা মি.আহমদ।

জামায়াত জোটের পক্ষ থেকেও মনে করা হয় যে, ভোটার উপস্থিতি নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলছেন, আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয়, সেটি ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব ফেলবে।

“যদি আওয়ামী লীগ অলটুগেদার ভোট বর্জন করে, তাহলে কিন্তু কাস্টিংটা অবৈধভাবে করতে হবে। এবং সেটাকে কেউ লুকাতে পারবে না। বাংলাদেশে ৪২ হাজার সেন্টারে ভোট হবে, সেখানে অবৈধ কাস্টিংগুলো একসময় ন্যাকেড হয়ে যাবে এবং ভোটটা তখন প্রশ্নবিদ্ধ হবে”।

শামীম পাটোয়ারি এ-ও বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসুক, এটা আমরা সবাই চাচ্ছি এবং কী করলে আসবে- সেটা সবাইকে একটা সমঝোতাও করতে হবে।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এবার ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পড়লে প্রশ্ন উঠতে পারে।

আনু মুহাম্মদের ভাষায়, “ফিফটি পার্সেন্টের বেশি ভোট না হলেতো সেটা গ্রহণযোগ্য হয় না। আর এতদিন পরে নির্বাচন হচ্ছে এটাতো আরো বেশি হবার কথা। সেটা যদি না হয় সেটা একটা ব্যর্থতা হবে।

“এখন এটা নির্ভর করে নির্বাচন কমিশন কতটা আস্থার অবস্থা তৈরি করতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার কতটা আন্তরিকতার সাথে নির্বাচনে যায়। এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে এটা স্পষ্ট করতে হবে যে, তারা কোনো পক্ষপাতিত্ব করছে না। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনেরও এটা একটা পরীক্ষা” বলেন আনু মুহাম্মদ।

আসন্ন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে- এমন বিশ্লেষণ আছে। প্রথমত ভোটার উপস্থিতি, দ্বিতীয়ত নিরাপত্তা ও ভোটের পরিবেশ, যা শান্তিপূর্ণ অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করবে। এখানেও দুশ্চিন্তা দিক রয়েছে বলে মনে করেন আনু মুহাম্মদ।

“জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু যারা তাদের মধ্যে আগের বিভিন্ন নির্বাচনে আমরা দেখছি যে, তাদের মধ্যে একটা আতঙ্কের অবস্থা তৈরি করা হয়, যাতে নির্বাচনে তারা ভোট দিতে না যায়।

“তাদের নির্বাচনে যাওয়া এবং না যাওয়া- দুই দিক থেকে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। সেই জায়গাটাতো নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা আসে কারণ তারা একটা বড় অংশ।”

সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক আছে বলে বলছেন আনু মুহাম্মদ

“এখন মাজার আক্রান্ত হচ্ছে, বাউলরা আক্রান্ত হচ্ছে- এদের সাথেতো বিশাল জনগোষ্ঠী। এখন তারা যদি দেখে যে, আমরা একটা সহিংসতার মধ্যে পড়বো বা যারা এখানে নির্বাচন করছে বা দাপটের সাথে চলাফেরা করছে তারা আমাদের উপর আক্রমণ করতে পারে, তাহলেও ভোটসংখ্যা অনেক কমে যাবে।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর