খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

বাংলাদেশে দায়মুক্তির ইতিহাস: কবে, কারা পেয়েছে?

তানহা তাসনিম
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৫ পিএম
বাংলাদেশে দায়মুক্তির ইতিহাস: কবে, কারা পেয়েছে?

দায়মুক্তি! গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ঘুরেফিরে বারবার সামনে এসেছে এই প্রসঙ্গ। সম্প্রতি এ নিয়ে আইন উপদেষ্টার বক্তব্যের পর আবার শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দায়মুক্তি আইনটি কোন সময় অব্দি জারি করা হবে তা এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। তবে এবারও আইন করার ক্ষেত্রে অতীতেই ঘটনাগুলোই আলোচনায় আসছে।

কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর আগেও অন্তত তিনবার আইন ও অধ্যাদেশ জারি করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আর রাজনীতির বাইরে ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য আইন করে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়।

দেখা যাচ্ছে শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা – সবার আমলেই দেওয়া হয়েছে দায়মুক্তির আইনি ভিত্তি। তবে এর কোনোটিই পরবর্তী সময়ে আর কার্যকর থাকেনি।

ফলে এই সময়ে এসে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে দায়মুক্তি দেওয়ার উদাহরণ থাকলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা বরাবরই ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।

একইসাথে বিচার পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। ফলে আইন করে যদি সেই অধিকার হরণ করা হয়, তবে তা কখনো তা ‘সংবিধানসংগত হয় না’ বলেও তারা মনে করছেন।

বাংলাদেশে কবে কখন দেওয়া হয়েছে দায়মুক্তি?

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমবারের মতো দায়মুক্তি দেওয়া হয় বিতর্কিত রক্ষীবাহিনীকে।

শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ১৯৭২ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গঠিত এই আধাসামরিক বাহিনীর জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ নিয়ে সমালোচনা যখন বাড়ছিল, তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে ১৯৭৪ সালে অধ্যাদেশে সংশোধনী এনে বাহিনীর সব কাজকে আইনসঙ্গত বলে ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, পরবর্তী সময়ে বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য এই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক বলে রুল জারি করেন।

পরে ১৯৭৫ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো অধ্যাদেশের সংশোধনী আনা হয় এবং সেখানে নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য শাস্তির উল্লেখ করা হয়।

একই বছর শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে রক্ষীবাহিনী বিলোপ করে সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং এসংক্রান্ত আদেশ রদ করা হয়।

আবার এই আদেশের এক সপ্তাহ আগেই, ২৬শে সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো জারি করা হয় ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’।

এতে বলা হয়, শেখ মুজিব ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারীদের বিচার করা যাবে না। চার বছর পর ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে সংসদে আইনটি অনুমোদন পায়।

২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে সংসদে আইনটি বাতিল করা হয়, পরে কার্যকর হয় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের মধ্যে ছয়জনের বিচার ও শাস্তি

তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশে এই ঘটনা ঘটে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় – ২০০৩ সালে। সেময় আইনশৃঙ্খলার যুক্তিতে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিনহার্টের’ সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন করা হয়।

সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ওই অভিযানে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ হেফাজতে মারা যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব মৃত্যু হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ঘটেছে বলে দাবি করে তৎকালীন সরকার।

দায়মুক্তি দেওয়ার আইনটি চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হলে ১২ বছর পর ২০১৫ সালে একে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

যদিও বাতিল ঘোষিত দায়মুক্তি আইনটি আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এখনো কার্যকর দেখানো হচ্ছে। সংসদেও বিলুপ্ত হয়নি আইনটি।

দায়মুক্তি নিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেন, “বিচার চাওয়ার অধিকারটা হলো আমার এক নম্বর মৌলিক অধিকার। আপনি বিচার চাইতে পারবেন না, এটা তো কোনো আইন করে বন্ধ করা কখনো সংবিধানসংগত হয় না”।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, জাতি গঠনের সাথে দায়মুক্তির সম্পর্ক রয়েছে। জাতীয় অখণ্ডতা ও সম্প্রীতি ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে যেন কোনো ঝামেলা তৈরি না হয় এজন্য দায়মুক্তির প্রসঙ্গটা আসে।

কিন্তু বাংলাদেশে বরাবরই তা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কতিপয় ব্যক্তিকে কিংবা কতিপয় গোষ্ঠীকে কিংবা একটা বিশেষ বাহিনীকে কিংবা একটা রাজনৈতিক দলকে রক্ষা করার জন্য এই আইনগুলো করা হয়েছে”।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দায়মুক্তি কতটা যৌক্তিক?

২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এর তিনদিন পর গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।

গত ১৭ মাসে আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সরকারে থাকা উপদেষ্টাদের কয়েকজনকে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দায়মুক্তি দেওয়া নিয়ে আলাপ তুলতে দেখা গেছে। জুলাই সনদেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই বিষয়টি।

সবশেষ হবিগঞ্জে থানায় বসে একজন সমন্বয়কের পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া এবং ঢাকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটককৃত আরেকজন সমন্বয়ককে ঘিরে যখন আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দায়মুক্তি নিয়ে আইন বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন।

“জুলাই যোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছিল। অবশ্যই তাদের দায়মুক্তির অধিকার রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফ্যসিষ্ট শেখ হাসিনার খুনীদের বিরুদ্ধে তারা যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম করেছিল সেজন্য তাদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন প্রণয়নের প্রয়োজনও রয়েছে”, লেখেন তিনি।

একইসাথে বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে দায়মুক্তির আইনের বৈধতা রয়েছে উল্লেখ করে ১৯৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দায়মুক্তি আইনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

তবে এমন তুলনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

“ওইটা ছিল পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে, বিশেষ একটা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। আর এটা একটা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছিল, উইদইন দ্য কান্ট্রি (দেশের ভেতরে)। সুতরাং এই দুইটার মধ্যে কখনো তুলনা হয় না”, বলছিলেন অধ্যাপক রহমান।

তিনি আরও বলেন, “আপনি যদি দায়মুক্তির কথা আনেন, তাহলে কীসের জন্য আপনি দায় দিচ্ছেন? আপনি কী অপরাধ করলেন যে আপনি দায়মুক্তি চান? এখন আপনি যদি বলেন, আমি পুলিশ মেরে ফেলেছি, থানা জ্বালিয়ে দিয়েছি, আমি খুন করেছি, লুট করেছি – আমাকে দায়মুক্তি দেন – এটাতো ন্যায্য না”।

একই কথা বলছিলেন শাহদীন মালিকও। তার মতে, বিচার না করে দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি ইতিহাসে ভালো চোখে দেখা হবে না।

“এখন হয়তো বিপ্লবোত্তর এক, দেড় বছর হয়েছে। আমাদের মননে-চেতনায় অনেক বেশি দাগ কেটেছে। কিন্তু ১৫ বছর পরে তো লোকে ভাবা শুরু করবে, এটা কী হলো? তাদের এত লোক মেরে ফেলেছে, হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তাদের দায়মুক্তি কেন দেওয়া হলো – এই প্রশ্নগুলো আসবে,” বলেন তিনি।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

ঘাড় ও বগলে কালচে দাগ কেন হয়? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৮ এএম
ঘাড় ও বগলে কালচে দাগ কেন হয়? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

অনেকের ঘাড়, বগল কিংবা শরীরের ভাঁজে অন্য জায়গার তুলনায় কালচে দাগ দেখা যায়। অনেকেই এটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি মনে করে বেশি করে ঘষে বা সাবান ব্যবহার করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি সব সময় পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং এটি কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক অ্যানেসথেসিওলজি ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। গত ৪ মার্চ তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক ভিডিও বার্তায় জানান, ঘাড় বা বগলের ত্বক গাঢ় হয়ে যাওয়ার একটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম রয়েছে— Acanthosis Nigricans।

কেন হয় এই কালচে দাগ?

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অবস্থায় ত্বক শুধু গাঢ়ই হয় না, বরং একটু মোটা ও মসৃণ বা ভেলভেটের মতো দেখায়। অনেকেই এটিকে ময়লা বা অপরিষ্কার ভাবলেও আসলে তা নয়। ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করলে সাধারণত কোনো পরিবর্তন হয় না।

ডা. কুনাল সুদের মতে, এই সমস্যাটি বেশিভাগ ক্ষেত্রেই শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বেশি থাকা বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে এটি অনেক সময় প্রিডায়াবেটিস, টাইপ ২ ডায়াবেটিস কিংবা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)–এর মতো সমস্যার সঙ্গে দেখা যায়।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কী?

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের পেশি, চর্বি ও লিভারের কোষগুলো ইনসুলিন হরমোনের প্রতি ঠিকমতো সাড়া দেয় না। অথচ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইনসুলিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যখন কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি সাড়া কম দেয়, তখন রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে অগ্ন্যাশয়কে আরও বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। এই পরিস্থিতিই অনেক সময় ত্বকের এমন কালচে দাগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

চিকিৎসা কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, Acanthosis Nigricans নিজে থেকে সংক্রামক বা মারাত্মক রোগ নয়। তবে এর পেছনে থাকা কারণগুলো শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

ডা. কুনাল সুদের মতে, শুধু ত্বক ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করে লাভ নেই। বরং শরীরের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায়?

স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Cleveland Clinic জানায়, কিছু জীবনধারাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানো সম্ভব। যেমন—

পুষ্টিকর খাবার খাওয়া : অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার কমিয়ে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া।

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম : ব্যায়াম করলে শরীরের পেশি রক্তের গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে, ফলে ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা কমে।

অতিরিক্ত ওজন কমানো : অনেক ক্ষেত্রে ওজন কমালে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও কমে যায়।

পরীক্ষা করা জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি ঘাড় বা বগলে এমন কালচে দাগ দেখা যায় এবং তা দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। অনেক সময় A1C পরীক্ষা করা হয়, যার মাধ্যমে গত তিন মাসে রক্তে গ্লুকোজের গড় মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরের ত্বকে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সময় ছোট একটি লক্ষণই বড় কোনো শারীরিক সমস্যার আগাম ইঙ্গিত দিতে পারে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

রমজানের শিক্ষা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা: সালথায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
রমজানের শিক্ষা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা: সালথায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সালথা উপজেলা শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে সালথা উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুসল্লি, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রমজানের তাৎপর্য ও নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা এবং মিলনমেলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল ফজল মুরাদ।

আলোচনা সভায় প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা মাহে রমজানের শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, রমজান কেবল রোজা পালনের মাসই নয়, এটি আত্মসংযম, ধৈর্য, ত্যাগ ও নৈতিকতার অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি জীবনকে শুদ্ধ করার পাশাপাশি সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও সহমর্মিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধকে ধারণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমান, নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বকুল মিয়া, নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের সুরা সদস্য ও তালমা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা মাহবুব হোসেন, ঢাকা মহানগরীর মুহাম্মদপুর থানা জামায়াতের সুরা সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ সাইফুর রহমান হিটু।

এ ছাড়া উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি চৌধুরী মাহবুব আলী সিদ্দিকী নসরু, সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। এ বিষয়ে সোমবার (৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপকমিশনার (পশ্চিম) কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি তিনি বিধি অনুযায়ী সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। এ কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ডও দেওয়া হয়। পরে তিনি ফৌজদারী মামলা দুটির অভিযোগ থেকে আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে খালাস পান।

এছাড়া তার গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করায় আরোপিত চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশটি বাতিল করা হয়। তাই কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলায় ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে তার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হলো এবং তিনি বিধি মোতাবেক সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।