খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশে দায়মুক্তির ইতিহাস: কবে, কারা পেয়েছে?

তানহা তাসনিম
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে দায়মুক্তির ইতিহাস: কবে, কারা পেয়েছে?

দায়মুক্তি! গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ঘুরেফিরে বারবার সামনে এসেছে এই প্রসঙ্গ। সম্প্রতি এ নিয়ে আইন উপদেষ্টার বক্তব্যের পর আবার শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দায়মুক্তি আইনটি কোন সময় অব্দি জারি করা হবে তা এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। তবে এবারও আইন করার ক্ষেত্রে অতীতেই ঘটনাগুলোই আলোচনায় আসছে।

কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর আগেও অন্তত তিনবার আইন ও অধ্যাদেশ জারি করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আর রাজনীতির বাইরে ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য আইন করে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়।

দেখা যাচ্ছে শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা – সবার আমলেই দেওয়া হয়েছে দায়মুক্তির আইনি ভিত্তি। তবে এর কোনোটিই পরবর্তী সময়ে আর কার্যকর থাকেনি।

ফলে এই সময়ে এসে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে দায়মুক্তি দেওয়ার উদাহরণ থাকলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা বরাবরই ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।

একইসাথে বিচার পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। ফলে আইন করে যদি সেই অধিকার হরণ করা হয়, তবে তা কখনো তা ‘সংবিধানসংগত হয় না’ বলেও তারা মনে করছেন।

বাংলাদেশে কবে কখন দেওয়া হয়েছে দায়মুক্তি?

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমবারের মতো দায়মুক্তি দেওয়া হয় বিতর্কিত রক্ষীবাহিনীকে।

শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ১৯৭২ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গঠিত এই আধাসামরিক বাহিনীর জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ নিয়ে সমালোচনা যখন বাড়ছিল, তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে ১৯৭৪ সালে অধ্যাদেশে সংশোধনী এনে বাহিনীর সব কাজকে আইনসঙ্গত বলে ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, পরবর্তী সময়ে বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য এই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক বলে রুল জারি করেন।

পরে ১৯৭৫ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো অধ্যাদেশের সংশোধনী আনা হয় এবং সেখানে নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য শাস্তির উল্লেখ করা হয়।

একই বছর শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে রক্ষীবাহিনী বিলোপ করে সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং এসংক্রান্ত আদেশ রদ করা হয়।

আবার এই আদেশের এক সপ্তাহ আগেই, ২৬শে সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো জারি করা হয় ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’।

এতে বলা হয়, শেখ মুজিব ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারীদের বিচার করা যাবে না। চার বছর পর ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে সংসদে আইনটি অনুমোদন পায়।

২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে সংসদে আইনটি বাতিল করা হয়, পরে কার্যকর হয় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের মধ্যে ছয়জনের বিচার ও শাস্তি

তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশে এই ঘটনা ঘটে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় – ২০০৩ সালে। সেময় আইনশৃঙ্খলার যুক্তিতে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিনহার্টের’ সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন করা হয়।

সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ওই অভিযানে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ হেফাজতে মারা যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব মৃত্যু হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ঘটেছে বলে দাবি করে তৎকালীন সরকার।

দায়মুক্তি দেওয়ার আইনটি চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হলে ১২ বছর পর ২০১৫ সালে একে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

যদিও বাতিল ঘোষিত দায়মুক্তি আইনটি আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এখনো কার্যকর দেখানো হচ্ছে। সংসদেও বিলুপ্ত হয়নি আইনটি।

দায়মুক্তি নিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেন, “বিচার চাওয়ার অধিকারটা হলো আমার এক নম্বর মৌলিক অধিকার। আপনি বিচার চাইতে পারবেন না, এটা তো কোনো আইন করে বন্ধ করা কখনো সংবিধানসংগত হয় না”।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, জাতি গঠনের সাথে দায়মুক্তির সম্পর্ক রয়েছে। জাতীয় অখণ্ডতা ও সম্প্রীতি ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে যেন কোনো ঝামেলা তৈরি না হয় এজন্য দায়মুক্তির প্রসঙ্গটা আসে।

কিন্তু বাংলাদেশে বরাবরই তা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কতিপয় ব্যক্তিকে কিংবা কতিপয় গোষ্ঠীকে কিংবা একটা বিশেষ বাহিনীকে কিংবা একটা রাজনৈতিক দলকে রক্ষা করার জন্য এই আইনগুলো করা হয়েছে”।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দায়মুক্তি কতটা যৌক্তিক?

২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এর তিনদিন পর গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।

গত ১৭ মাসে আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সরকারে থাকা উপদেষ্টাদের কয়েকজনকে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দায়মুক্তি দেওয়া নিয়ে আলাপ তুলতে দেখা গেছে। জুলাই সনদেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই বিষয়টি।

সবশেষ হবিগঞ্জে থানায় বসে একজন সমন্বয়কের পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া এবং ঢাকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটককৃত আরেকজন সমন্বয়ককে ঘিরে যখন আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দায়মুক্তি নিয়ে আইন বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন।

“জুলাই যোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছিল। অবশ্যই তাদের দায়মুক্তির অধিকার রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফ্যসিষ্ট শেখ হাসিনার খুনীদের বিরুদ্ধে তারা যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম করেছিল সেজন্য তাদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন প্রণয়নের প্রয়োজনও রয়েছে”, লেখেন তিনি।

একইসাথে বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে দায়মুক্তির আইনের বৈধতা রয়েছে উল্লেখ করে ১৯৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দায়মুক্তি আইনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

তবে এমন তুলনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

“ওইটা ছিল পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে, বিশেষ একটা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। আর এটা একটা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছিল, উইদইন দ্য কান্ট্রি (দেশের ভেতরে)। সুতরাং এই দুইটার মধ্যে কখনো তুলনা হয় না”, বলছিলেন অধ্যাপক রহমান।

তিনি আরও বলেন, “আপনি যদি দায়মুক্তির কথা আনেন, তাহলে কীসের জন্য আপনি দায় দিচ্ছেন? আপনি কী অপরাধ করলেন যে আপনি দায়মুক্তি চান? এখন আপনি যদি বলেন, আমি পুলিশ মেরে ফেলেছি, থানা জ্বালিয়ে দিয়েছি, আমি খুন করেছি, লুট করেছি – আমাকে দায়মুক্তি দেন – এটাতো ন্যায্য না”।

একই কথা বলছিলেন শাহদীন মালিকও। তার মতে, বিচার না করে দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি ইতিহাসে ভালো চোখে দেখা হবে না।

“এখন হয়তো বিপ্লবোত্তর এক, দেড় বছর হয়েছে। আমাদের মননে-চেতনায় অনেক বেশি দাগ কেটেছে। কিন্তু ১৫ বছর পরে তো লোকে ভাবা শুরু করবে, এটা কী হলো? তাদের এত লোক মেরে ফেলেছে, হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তাদের দায়মুক্তি কেন দেওয়া হলো – এই প্রশ্নগুলো আসবে,” বলেন তিনি।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে বিছানায় গেলেও অনেকের চোখে ঘুম আসে না। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করেন, আবার কারও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এমন সমস্যা এক-দুদিন হলে চিন্তার কারণ না হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা হতে পারে অনিদ্রা (ইনসমনিয়া)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে পরদিন ক্লান্তি, কাজে অমনোযোগ, খিটখিটে মেজাজ, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অনেকেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ সেবন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে প্রাকৃতিকভাবেই অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন হয় অনিদ্রা?

অনিদ্রার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা

বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন)

আশপাশের অতিরিক্ত শব্দ

অস্বস্তিকর বিছানা বা ঘুমের পরিবেশ

মদ্যপানের অভ্যাস

অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ

রাতের শিফটে কাজ করার অভ্যাস

অনিদ্রা দূর করতে যা করবেন

১. নিয়মিত মেডিটেশন করুন

মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতে কার্যকর। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট মেডিটেশন করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।

২. ল্যাভেন্ডার অয়েলের ব্যবহার

ল্যাভেন্ডার অয়েল দীর্ঘদিন ধরে অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মানসিক প্রশান্তি এনে ঘুমে সহায়তা করতে পারে। বালিশে সামান্য স্প্রে করা বা ঘাড় ও কাঁধে অল্প পরিমাণে ম্যাসাজ করেও ব্যবহার করা যায়।

৩. নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর অভ্যাস

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের ‘বডি ক্লক’ বা সার্কাডিয়ান রিদমকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে ধীরে ধীরে ঘুমের সমস্যা কমতে পারে।

৪. ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান

ম্যাগনেসিয়াম পেশি শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। ডার্ক চকলেট, বাদাম, অ্যাভোকাডোসহ ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ভালো।

৫. মেলাটোনিন বাড়ায় এমন খাবার

মেলাটোনিন হলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। ডিম, দুধ, মাছ, কলা, মাশরুম, বাদাম ও আখরোটের মতো খাবার শরীরে মেলাটোনিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমানোও জরুরি।

৬. নিয়মিত শরীরচর্চা

প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম না করে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে শরীরচর্চা শেষ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৭. ৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি

অনিদ্রা কমাতে ‘৪-৭-৮’ শ্বাস-প্রশ্বাস কৌশল বেশ জনপ্রিয়। এ পদ্ধতিতে চার সেকেন্ড শ্বাস নিতে হবে, সাত সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখতে হবে এবং আট সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। কয়েকবার অনুশীলন করলে শরীর ও স্নায়ু শিথিল হতে পারে।

আরও কিছু অভ্যাস বদলাতে হবে

ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ পান করা উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, ভারী খাবার ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখলে ভালো ঘুমের সম্ভাবনা বাড়ে।

তবে জীবনযাপনের পরিবর্তনের পরও যদি দীর্ঘদিন অনিদ্রা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, অনিদ্রা অনেক সময় অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।

ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জব্দ করা হাতিটি এখনো সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। হাতিটির মালিকানা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, নাকি বন বিভাগের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে -তা নির্ধারণ হবে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাতিটি সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিক পক্ষ থেকে দুইজন মাহুতকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তারাই নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রতিদিন একটি হাতির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার সংগ্রহ করতে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ ও মাহুতদের। থানা প্রাঙ্গণে হাতির জন্য স্থায়ীভাবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

থানায় অবস্থানকালে হাতিটি প্রায়ই মাহুতদের সঙ্গে থানা চত্বরে হেঁটে বেড়ায়। বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটিকে দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন অপ্রত্যাশিত এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সদরপুর থানার পলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকলেসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই থাকবে। আদালত যদি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে। আর বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, হাতিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, পুলিশ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে আটক এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে হাতিটি থানার হেফাজতেই রয়েছে।