খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

নির্বাচনী মাঠে বিএনপি-জামায়াতের পারস্পরিক সমালোচনা: ভোটারদের জন্য কী ইঙ্গিত?

মরিয়ম সুলতানা
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪১ এএম
নির্বাচনী মাঠে বিএনপি-জামায়াতের পারস্পরিক সমালোচনা: ভোটারদের জন্য কী ইঙ্গিত?

বাংলাদেশে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ভোটের প্রচারণা শুরু হয়েছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। সরাসরি নাম উল্লেখ করে কেউ কাউকে দোষারোপ না করলেও প্রথম দিনের প্রচারণায় দুই দলের শীর্ষ নেতারাই পরোক্ষভাবে অপর পক্ষের দিকে ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা বলেছেন।

অথচ, এর আগে দুই দলের নেতারা বলেছিলেন যে, তারা আর দোষারোপের রাজনীতিতে ফিরবেন না।

তবে প্রচারণায় দুই দলের নেতাদের বক্তব্যে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি ও জামায়াত বাংলাদেশের পুরোনো রাজনৈতিক ধারা মেনেই নিজেদের জয় সুনিশ্চিত করতে চাইছে। এজন্য তারা চিরচেনা বাকযুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

দল দুটির নেতারা অবশ্য তাদের বক্তব্যের পেছনে নানা যুক্তি দিচ্ছেন। বিএনপি’র মতে, তারা জামায়াতকে দোষারোপ করছে না, সত্য বলছে।

আর জামায়াতে ইসলামী বলছে, তারা যেটাই বলছে, তার পেছনে মূল কারণ আত্মরক্ষা।

প্রচারণার শুরুতে কী বলেছে বিএনপি-জামায়াত

বৃহস্পতিবার, ২২শে জানুয়ারি থেকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়েছে।

ওইদিন সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের প্রচার শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রথমদিনেই তিনি সিলেটের একাধিক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন এবং বক্তব্যে তিনি সরাসরি না হলেও জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। দলটির বিরুদ্ধে তিনি ‘মিথ্যাচার’ করা, মানুষকে ‘ঠকানো’ ও ‘শিরিক’ করার অভিযোগ এনেছেন।

এমনকি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা কথাও টেনে আনেন তারেক রহমান।

মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর নিয়ে নারীদের ‘একটি দল বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করছে’ বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা মি. রহমান।

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্যে ইঙ্গিত রয়েছে।

তিনি বলেছেন, “আমরা দেখেছি গত ১৫ বছর ১৬ বছর জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে, এখন এই দেশে বর্তমানে আরেকটি রাজনৈতিক দল তারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।”

এছাড়াও, তারেক রহমান বলেন, “নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেব, ওই দেব বলছে, টিকিট দেব বলছে… বেহেস্তের মালিক আল্লাহ…যেটার মালিক মানুষ না, সেটার (দেওয়ার) কথা যদি সে বলে, তাহলে এক তো শিরক হচ্ছে, সবকিছুর ওপরে আল্লাহ’র অধিকার। কাজেই তারা আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তাহলে কেমন ঠকান ঠকাবে বোঝেন এবার।”

মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে মি. রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে “মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি।”

সিলেট থেকে সড়কপথে হবিগঞ্জে আসার আগে মৌলভীবাজারের শেরপুরে নির্বাচনি সমাবেশে তিনি বলেছেন, “আরে ভাই, আপনাদেরকে তো মানুষ একাত্তরে দেখেছে; ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। একাত্তরে মানুষ দেখেছে আপনারা কীভাবে দেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।”

অথচ, চারদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেছিলেন, দোষারোপের রাজনীতি নয়, মানুষকে ভালো রাখার রাজনীতি করতে হবে। “দোষারোপের রাজনীতি করলে মানুষের পেট ভরবে না।”

অন্যদিকে, বিএনপি সিলেট থেকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেও জামায়াতে ইসলামী শুরু করেছে ঢাকা থেকেই।

২২শে জানুয়ারি, প্রচারণার প্রথম দিন মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

প্রথমদিনের সমাবেশে তিনি “আমি কারো সমালোচনা করতে চাই না” বললেও ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন।

“ভোট ডাকাতদের কারণে গত ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেননি এবং দেশের মানুষ নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চান না” বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির।

তিনি বলেন, “আর এই দেশে ফ্যাসিবাদের ছায়াও দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদ এখন যদি নতুন কোনো জামা পরে সামনে আসে, পাঁচই অগাস্ট যে পরিণতি হয়েছিল, সেই নতুন জামা পরা ফ্যাসিবাদের একই পরিণতি হবে।”

বিগত তিনটি নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সমাবেশে বলেন, “আপনারা কি নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চান? আমরা নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চাই না।”

এছাড়া, “চাঁদাবাজি, দখল-বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, পাথর মেরে লোক হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে লোক হত্যা, এগুলো থেকে যারা নিজের কর্মীকে বিরত রাখতে পারবে, তারাই জনগণকে আগামীর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। যারা এগুলো পারবে না, তারা যত রঙিন স্বপ্নই দেখাক, জাতি তাদের মতলব বুঝতে পারবে,” বলেন শফিকুর রহমান।

দেখা যাচ্ছে, ‘দোষারোপ’, ‘সমালোচনা’ না করার কথা বললেও একই পথে হাঁটছে বিএনপি-জামায়াত।

যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন নেতারা

পুরোনো রাজনীতির ধারাতেই প্রতিপক্ষের সমালোচনা ও ‘দোষারোপ’ করে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা।

বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “আমাদেরটা দোষারোপ নয়, (১৯৭১কে) মনে করিয়ে দেওয়া।”

মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জামায়াত যা করেছে, তা প্রমাণিত সত্য। আমরা যা বলছি, তা হিস্ট্রি থেকে বলছি। জামায়াত বলছে মনগড়া কথা।”

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে যখন বিএনপি গঠিত হয়, তখন সেখানে মুক্তিযোদ্ধারাও ছিলেন উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল। জামায়াতকে স্বীকার করতে হবে, উই মেড আ মিস্টেক। তারা ডিনায়ালে থাকলে আমরা তাদেরকে বারবার মনে করিয়ে দিবো।”

চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে বিএনপি’র যুক্ত থাকা নিয়ে জামায়াত যে অভিযোগ করছে, সে বিষয়ে বিএনপির ওই নেতার বক্তব্য হচ্ছে, এখানে বরং “জামায়াত নিজেই সন্ত্রাসী।”

এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রেউদাহরণ দিতে গিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “ওদের ট্র্যাক রেকর্ড দেখলেই বোঝা যাবে ওরা কী করেছে। রগ কাটা…ছাত্রলীগের মাঝে ঢুকে কী করেছে তা সবাই জানে…ওরাই বড় চাঁদাবাজ।”

অন্যদিকে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবিসিকে বলেন, “আমরা দোষারোপের রাজনীতি করছি না। আমাদের সম্পর্কে একটা দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। তাদের কথায় মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে। সে কারণে আমাদেরকে আমাদের অবস্থানটা পরিষ্কার করতে হচ্ছে।”

মি. জুবায়ের এ-ও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর “মূল উদ্দেশ্য, সামনে আমরা কী করতে চাই, তা তুলে ধরা। কিন্তু কেউ আমাদের দোষারোপ করলে আত্মরক্ষার্থে…আমাদের অবস্থান তুলে ধরতে হবে।”

গত বছরের ডিসেম্বরে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেওয়ার পর তখন লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা তারেক রহমান পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন।

শফিকুর রহমান তখন কোনো দলের নাম না উল্লেখ করে সিলেটে আয়োজিত এক সমাবেশে বলেছিলেন, “একদল দখলদার বনতে গিয়ে তাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, আরেক দল বেপরোয়া দখলদার হয়ে উঠেছে। একদল জনগণের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, আরেক দল একই পথ ধরেছে, এমনকি নিজেদের মধ্যে মারামারিতে নিজেদের শেষ করে দিচ্ছে।”

ধারণা করা যায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। ফলে এটি বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছিলো তখন।

তবে শফিকুর রহমানের কথার জবাবে তখন পরদিনই তারেক রহমান এক ভার্চুয়াল বক্তৃতায় বলেছিলেন, “তাদেরকে তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে, ১৯৭১ সালে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে কীভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে; ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাবার আগে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছিলো ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য”।

তারেক রহমান তখন আরও বলেছিলেন, “কেউ কেউ বলে থাকে পলাতক স্বৈরাচার (আওয়ামী লীগ) বিএনপির সম্পর্কে যেভাবে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতো, আমরা ইদানীং লক্ষ্য করছি, কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল ঠিক একই সুরে গান গাইছে বা একই সুরে কথা বলার চেষ্টা করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাদেরও তো দু’জন ব্যক্তি আমাদের সাথে সেইসময় সরকারে ছিল।”

দুই দলের এই শীর্ষ নেতার বাকযুদ্ধ নিয়ে তখন ‘বিএনপি ও জামায়াতের তিক্ততা বা কথার যুদ্ধ তীব্র হচ্ছে কেন‘ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলো বিবিসি বাংলা।

ওই প্রতিবেদনেও জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেছিলেন, “বিএনপির দিক থেকে কিছু আক্রমণাত্মক বক্তব্য আসছে যা অপ্রত্যাশিত।”

এ প্রসঙ্গে তখন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, “আমরা যা বলছি তা ইতিহাস ভিত্তিক ও সত্যি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।”

প্রচারণার ধরণ কী বার্তা দিচ্ছে

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। পুরোনো ধারাতেই চলছে।এর প্রকাশ দেখা যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের নির্বাচনী প্রচারণায়।

“বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিরাজমান, তাতে শুধুমাত্র অন্যকে হেয় করা বা দোষারোপ করা, প্রতিপক্ষকে হেনস্তার মুখোমুখি করার মতো ভাষা ব্যবহার করা হয়। কারণ দলগুলো মনে করে, অন্যকে নিচু করার মধ্য দিয়ে জয় নিশ্চিত হবে,” বলছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন।

বিএনপি ও জামায়াত, দুই দলই বলেছে যে, তারা দোষারোপের রাজনীতি করবে না। বরং, তারা শুধু নিজেদের প্রচারণা চালিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে দু’টো দলই তাদের দেওয়া কথা রাখছে না। বরং, বাংলাদেশের সংস্কৃতির পুনঃউৎপাদন চলছে এবং নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, এগুলোর প্রবণতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন মিজ নাসরীন।

তবে দোষারোপের রাজনীতি অনেকসময় আক্রমণাত্মক রাজনীতি হয়ে ওঠে; পরিবেশকে অনিরাপদ করে তোলে, এমনকি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে হত্যার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে বলেও বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, “দোষারোপের রাজনীতি” টার্মটিকেই “রাজনৈতিক” বলা হয় এবং তিনি মনে করেন, এই কথাটির কোনো গুরুত্ব গুরুত্ব নেই। কারণ “রাজনীতির খেলাটাই হলো শত্রু-মিত্র খেলা। এখানে আপনি আপনার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল না করতে পারলে আপনি দুর্বল হিসেবে প্রমাণিত হবেন।”

“যেটা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো এই প্রচারণাকে কেন্দ্র করে যেন কেউ আহত-নিহত না হয়। যদি ভায়োলেন্স হয়, তাহলে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে,” যোগ করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারণার সময় প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার যে রীতি, এটি ভোটের ময়দানে জনমত তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। কারণ অনেকসময় ভোটাররা মিথ্যাকেও সত্য মনে করে।

সেইসাথে, এখন দলগুলো বিপরীত মেরুতে হাঁটলেও “নির্বাচন শেষে তারা এগুলো ভুলেও যেতে পারে, এই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেও যেতে পারে। আজকে যারা পরস্পরের শত্রু, ভবিষ্যতে তারা কাছাকাছিও আসতে পারে। রাজনীতিতে শেষ কথা তো কিছু নাই,” বলেন মি. আহমেদ।

বিএনপি ও জামায়াত কোন পথে এগোতে চাইছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় পাঁচটি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহ্দী আমিন সে বিষয়গুলো জানিয়েছেন।

প্রথম কর্মসূচি ‘তারেক রহমানকে পরামর্শ দিন,’ এতে কিউআর কোড স্ক্যান করে সাধারণ মানুষ সরাসরি তারেক রহমানের কাছে মতামত ও প্রস্তাব পাঠাতে পারবেন।

দ্বিতীয় কর্মসূচি ‘লেটার টু তারেক রহমান’, যেখানে চিঠি, ই-মেইল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকদের ভাবনা নেওয়া হবে।

তৃতীয় ‘ম্যাচ মাই পলিসি’ একটি সোয়াইপভিত্তিক ওয়েব অ্যাপ, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিন লক্ষাধিক মানুষ বিএনপির নীতি নিয়ে মতামত দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ হচ্ছে চতুর্থ কর্মসূচি। এর আওতায় তারেক রহমান সিলেটে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন, যেখানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও যুব ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়। সভায় ১২৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

পঞ্চম কর্মসূচি, বিএনপি বিভিন্ন খাতে তাদের নীতি ও ভিশন তুলে ধরে প্রচারপত্র বিতরণ করবে।

এদিকে, জামায়াতে ইসলামীরও এই ধরনের কোনো প্রচারণা কর্মসূচি আছে কিনা, জানতে চাইলে সুস্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি দলটি।

তবে দলটির নেতা মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী ভোটারদের জন্য – এলাকাভিত্তিক কাজ করতে চাইছে। বিশেষ করে নারী, যুবক, তরুণ এবং ছাত্রদের জন্য।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেএম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও নগরকান্দা থানা নিয়ে গঠিত আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার  পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর -২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন -সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। ‘

কেএম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক। তার আদর্শ, সততা মানুষের জন্য কাজ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় নগরকান্দার লস্করদিয়ায় কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্পণ ও আগামী ২৩ মার্চ বিকালে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন