খুঁজুন
শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে সার সংকটের শঙ্কা কতটা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ইরান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে সার সংকটের শঙ্কা কতটা?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন সংকটে পড়ে কিনা এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল ও সারের সরবরাহ নিয়ে গোটা বিশ্বের মতো চিন্তায় বাংলাদেশের কৃষকরাও।

চাহিদা মতো জ্বালানি তেল না পেয়ে বোরো মৌসুমে সেচ নিয়ে অনেক কৃষক যেমন সমস্যায় পড়েছেন, তেমনি আসন্ন আমন মৌসুমের জন্য সারের সরবরাহ নিয়েও চিন্তা বাড়ছে।

মূলত সারের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব এবং কাতার থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ।

এছাড়া দেশের কারখানাগুলোতে যে সার উৎপাদন হয় সেখানেও বড় ভরসা আমদানিকৃত গ্যাস।

কিন্তু উপসাগরীয় এলাকায় চলমান যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ এখন পুরোটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

যদিও সরকারের দাবি, সার নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই। এই মুহূর্তে দেশে যে পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে অন্তত এক বছর পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়া যাবে।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি ও সার সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তিনি বলছেন, আমদানির প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীন ও মিশরের মতো বিকল্প দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ করছে সরকার।

এদিকে, সরকারিভাবে সার মজুদ এবং সরবরাহের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় মাঠ পর্যায়ে ভিন্ন পরিস্থিতিরও খবর পাওয়া গেছে।

দেশের কোনো কোনো এলাকায় ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারের বাড়তি দাম রাখছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি কিংবা সারের সংকট তৈরি হতে পারে।

কিন্তু “বাংলাদেশে কোনো একটা সংকট তৈরি হওয়ার আগেই একটা কৃত্রিম সংকট আমরা তৈরি করে ফেলি, এটা মূল সমস্যা,” বলেন তিনি।

বাধাগ্রস্ত সার উৎপাদন

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। ফিলিং স্টেশনের সামনে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের লম্বা লাইন সেই বাস্তবতায় তুলে ধরে।

সরকারের পক্ষ থেকেও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের কথাও জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

কিন্তু বাংলাদেশের জন্য বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা।

যা সার উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ দেশের সার কারখানাগুলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি’র ওপর বড় মাত্রায় নির্ভরশীল।

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে গ্যাস সাশ্রয় করতে মার্চের শুরু থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি সার কারখানার মধ্যে চারটিই বন্ধ রেখেছে সরকার।

উৎপাদন বন্ধ বেসরকারি কাফকো সার কারখানায়ও। যা চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে দেশের কৃষিখাতের জন্য।

যদিও কারখানাগুলো শিগগিরই উৎপাদনে ফিরবে বলে দাবি কৃষিমন্ত্রীর। তিনি বলছেন, সারের মজুদ পর্যাপ্ত থাকায় জ্বালানি রেশনিংয়ের অংশ হিসেবে সার কারখানাগুলো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

“বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, উনি বলেছেন এরই মধ্যে চালু করে দেবেন। অন্তত ঘোড়াশালও যদি চালু করে দেয় তাহলেও আমরা প্রতিদিন ২৮শ টনের ওপর পেয়ে যাব,” বলেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল মজুদ দিয়ে দীর্ঘ সময় সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলেই মনে করেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

তাই চীন, মিশর বা রাশিয়ার মতো বিকল্প বাজার থেকে দ্রুত সার আমদানি নিশ্চিত করা এবং বন্ধ থাকা দেশিয় কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের ফসলি মৌসুম অনুযায়ী এখন সারের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় আপাতত তেমন সমস্যা হবে না বলেই মনে করেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম।

তিনি বলছেন, “এই মৌসুমে ধান এখন শেষের দিকে আছে, সেখানে খুব একটা সারের প্রয়োজন নেই। কিছু জায়গায় লেইট প্লানটেশন হয়েছে সেখানে কিছু সার হয়তো লাগবে।”

কিন্তু বিকল্প উৎস থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করা ঠিক হবে না বলেই মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, “আমরা যেহেতু বিকল্প উৎসের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি, সেক্ষেত্রে দামও কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।”

এছাড়া অন্যান্য খাতে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ মি. ইসলামের। “কৃষি তো এককভাবে চলে না, একটা সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার,” বলেন তিনি।

মজুদ আছে কতটা?

কৃষি নির্ভর দেশ হয়েও সারের চাহিদার প্রায় সবটাই বিদেশ থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ।

দেশের সরকারি পাঁচটি ও বেসরকারি একটি কারখানায় কিছু সার উৎপাদিত হলেও বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য বা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে।

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭০ লক্ষ টন সারের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট চাহিদার প্রায় সাড়ে ২৬ লক্ষ টনই লাগে ইউরিয়া সার। যার কেবল ১০ লক্ষ টন দেশে উৎপাদন হয়।

অর্থাৎ কৃষিতে প্রয়োজনীয় সারের বড় অংশই আমদানি করতে হয়।

আর এ কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি সারের আমদানি এবং চাহিদা পূরণ নিয়ে বাংলাদেশকে শঙ্কায় ফেলেছে।

যদিও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলছেন, পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকায় এই মুহূর্তে সংকটের কোনো শঙ্কা নেই।

“আমদানিকৃত সার এখনও যতটা মজুদ আমাদের কাছে আছে, তাতে আরও মোটামুটি এক বছর চালিয়ে নেওয়া যাবে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরিয়া চার লাখ ৯৩ হাজার টন, টিএসপি তিন লাখ ৮২ হাজার টন, ডিএপি পাঁচ লাখ নয় হাজার টন এবং এমওপি মজুদ রয়েছে তিন লাখ ৪২ হাজার টন।

মন্ত্রী বলছেন, এখন বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায়ে। ফলে আগামী কয়েক মাস নতুন করে বিপুল পরিমাণ সারের প্রয়োজন পড়বে না।

এছাড়া বর্ষা শেষে আমন মৌসুমেও ইউরিয়ার চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। মূলত আগামী বছরের বোরো মৌসুমকে লক্ষ্য করেই এখন থেকে আমদানির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

“কাতার, সৌদি আরব থেকে আমরা মূলত ইউরিয়া আমদানি করতাম। এই মুহূর্তে কোনো ক্রাইসিস নাই, তবে এটা যেহেতু চলমান প্রক্রিয়া তাই আমরা বিকল্প উৎস খুঁজছি,” বলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা

বৈশ্বিক জ্বালানির পাঁচ ভাগের এক ভাগ এবং সারের তিন ভাগের এক ভাগ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়েই সরবরাহ করা হয়।

যে পথটি গত প্রায় এক মাস ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। যার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা সিআরইউ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে ইউরিয়া সারের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। টনপ্রতি যে সারের দাম ছিল ৪৯০ ডলার, তা এখন ৬২৫ ডলারে পৌঁছেছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

এরই মধ্যে সার সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় কৃষি উৎপাদন নিয়ে সংকটে পড়েছে ভারত, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়নের সভাপতি টম ব্র্যাডশ বলেছেন, বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতা কৃষি ব্যবসাগুলোকে “প্রচণ্ড চাপের” মধ্যে ফেলছে।

তিনি বলেন, “জ্বালানি ও সারের বর্ধিত ব্যয়ভার বহন করতে এরই মধ্যে বাড়তি চাপে পড়েছেন শস্য, পশুপালন এবং দুগ্ধ খামারিরা।”

এদিকে, কিয়েল ইনস্টিটিউটের গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রভাব শুধু সারের দামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তায় বড় আঘাত হানতে পারে।

তাদের অনুমান অনুযায়ী, এর ফলে বিশ্বব্যাপী গমের দাম চার দশমিক দুই শতাংশ এবং ফল-সবজির দাম পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

তবে, বৈশ্বিক এই সংকটে রাশিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের মোট সার রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে রাশিয়া থেকে।

মধ্যপ্রাচ্যের উৎসগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাশিয়া এখন বিশ্ববাজারে সারের বড় যোগানদাতা হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করতে পারে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে থানা-উপজেলার দাবি

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে থানা-উপজেলার দাবি

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে পৃথক থানা ও উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের স্মৃতিকে ধারণ করে “রউফনগর থানা” ও “রউফনগর উপজেলা” বাস্তবায়নের দাবিতে এ কর্মসূচিতে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

শনিবার (১৬ মে) সকালে কামারখালী বাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বাগাট, কামারখালী, ডুমাইন, আড়পাড়া ও ওমেক্স ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রউফনগর থানা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও আড়পাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মোল্লা। বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মতিউল মুরাদ, কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান, আড়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ কলেজের সাবেক সদস্য দাউদ হোসেন, প্রফেসর এহেতশাম, সদস্য সচিব প্রফেসর কাজী কামাল, অ্যাডভোকেট খসরুল আলম, বিএনপি নেতা ফরিদুল ইসলাম ফরহাদ এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুখসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, দক্ষিণ মধুখালীর বিস্তীর্ণ জনপদ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নানা সেবা থেকে বঞ্চিত। সাধারণ মানুষকে থানা ও উপজেলা পর্যায়ের সেবা নিতে দূরবর্তী এলাকায় যেতে হয়, ফলে সময় ও অর্থ—দুইই অপচয় হচ্ছে। তারা জানান, এ অঞ্চলে সরকারি কলেজ, শতবর্ষী ডাকবাংলো, বৃহৎ রেল জংশন, নদীবন্দর, মিল-কারখানা ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত দিক থেকেও এলাকাটি একটি স্বতন্ত্র থানা ও উপজেলা হওয়ার যোগ্যতা রাখে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে “রউফনগর” নামকরণ করা হলে তা নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে থাকবে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারকে রউফনগর থানা ও উপজেলা ঘোষণার দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে সংক্ষিপ্ত মিছিল বের করেন এবং দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

টিকটকে প্রেম-বিয়ে: ফরিদপুরে পাটক্ষেতে রাতভর নির্যাতনের শিকার নববধূ

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
টিকটকে প্রেম-বিয়ে: ফরিদপুরে পাটক্ষেতে রাতভর নির্যাতনের শিকার নববধূ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় টিকটকে পরিচয়ের পর বিয়ে করা এক কিশোরী গৃহবধূকে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এনে পাটক্ষেতে নিয়ে রাতভর নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কুরানিয়ার চর এলাকায়। অভিযুক্ত প্রান্ত শেখ (২২) ওই এলাকার মুজিবর শেখের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্পিগঞ্জ ইউনিয়নের রশিদ শেখের মেয়ে রোকিয়া বেগমের সঙ্গে গাজীপুরে পরিচয় হয় প্রান্ত শেখের। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে প্রায় দেড় মাস আগে তারা পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী রোকিয়া বেগম জানান, শুক্রবার (১৫ মে) রাতে প্রান্ত তাকে গাজীপুর থেকে নিজ বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে ফরিদপুরের মধুখালীতে নিয়ে আসে। রাত আনুমানিক ২টার দিকে মধুখালী রেলগেট এলাকায় বাস থেকে নামার পর প্রান্ত তাকে কুরানিয়ার চর গ্রামের একটি পাটক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে রাতভর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

রোকিয়ার অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে জখম করা হয়। এমনকি তার চোখ উপড়ে ফেলারও চেষ্টা করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

শনিবার (১৬ মে) সকালে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে গ্রাম পুলিশকে খবর দেন। পরে গ্রাম পুলিশ তাকে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেখানে সাংবাদিকদের কাছে নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেন রোকিয়া। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে ভুক্তভোগী তরুণী মধুখালী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তন্ময় কুমার বলেন, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করি। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে এবং মামলার প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

সালথায় বিকল্প পথ ছাড়াই চলছে ব্রিজ নির্মাণ, ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সালথায় বিকল্প পথ ছাড়াই চলছে ব্রিজ নির্মাণ, ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নির্মাণাধীন দুটি ব্রিজকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার বালিয়াগট্টি বাজার ও সালথা বাজার এলাকায় চলমান ব্রিজ নির্মাণকাজের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো যাত্রী, পরিবহন চালক ও ব্যবসায়ীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ শুরু করায় জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

ফরিদপুর-সালথা সড়কটি জেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের কারণে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ থাকায় এখন যাত্রীদের চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প ও সংকীর্ণ সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও।

সালথা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম মারুফ বলেন, “আগে কয়েক মিনিটে বাজারে আসা যেত, এখন ঘুরে আসতে অনেক সময় লাগে। পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। এতে ব্যবসায় বড় ক্ষতি হচ্ছে।”

স্থানীয় কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জানান, প্রতিদিন কলেজে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “সকালে সময়মতো বের হলেও যানজটের কারণে ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়। বৃষ্টির দিনে কাঁচা বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে।”

এদিকে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা। সরু বিকল্প রাস্তায় বড় যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে ট্রাক ও বাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও বিকল্প সড়কের কারণে দ্রুত চলাচল করতে পারছে না।

পণ্যবাহী ট্রাকচালক আব্দুল কাদের বলেন, “রাস্তা সরু হওয়ায় গাড়ি ঘোরাতে সমস্যা হয়। একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় আটকে যেতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উন্নয়ন কাজ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে আগে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। তারা দ্রুত সাময়িক চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “নির্মাণাধীন ব্রিজের আশপাশে বিকল্প রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে কেউ জায়গা দিলে দ্রুত বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা হবে।”