খুঁজুন
, ,

ইরান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে সার সংকটের শঙ্কা কতটা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ইরান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে সার সংকটের শঙ্কা কতটা?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন সংকটে পড়ে কিনা এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল ও সারের সরবরাহ নিয়ে গোটা বিশ্বের মতো চিন্তায় বাংলাদেশের কৃষকরাও।

চাহিদা মতো জ্বালানি তেল না পেয়ে বোরো মৌসুমে সেচ নিয়ে অনেক কৃষক যেমন সমস্যায় পড়েছেন, তেমনি আসন্ন আমন মৌসুমের জন্য সারের সরবরাহ নিয়েও চিন্তা বাড়ছে।

মূলত সারের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব এবং কাতার থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ।

এছাড়া দেশের কারখানাগুলোতে যে সার উৎপাদন হয় সেখানেও বড় ভরসা আমদানিকৃত গ্যাস।

কিন্তু উপসাগরীয় এলাকায় চলমান যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ এখন পুরোটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

যদিও সরকারের দাবি, সার নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই। এই মুহূর্তে দেশে যে পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে অন্তত এক বছর পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়া যাবে।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি ও সার সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তিনি বলছেন, আমদানির প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীন ও মিশরের মতো বিকল্প দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ করছে সরকার।

এদিকে, সরকারিভাবে সার মজুদ এবং সরবরাহের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় মাঠ পর্যায়ে ভিন্ন পরিস্থিতিরও খবর পাওয়া গেছে।

দেশের কোনো কোনো এলাকায় ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারের বাড়তি দাম রাখছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি কিংবা সারের সংকট তৈরি হতে পারে।

কিন্তু “বাংলাদেশে কোনো একটা সংকট তৈরি হওয়ার আগেই একটা কৃত্রিম সংকট আমরা তৈরি করে ফেলি, এটা মূল সমস্যা,” বলেন তিনি।

বাধাগ্রস্ত সার উৎপাদন

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। ফিলিং স্টেশনের সামনে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের লম্বা লাইন সেই বাস্তবতায় তুলে ধরে।

সরকারের পক্ষ থেকেও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের কথাও জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

কিন্তু বাংলাদেশের জন্য বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা।

যা সার উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ দেশের সার কারখানাগুলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি’র ওপর বড় মাত্রায় নির্ভরশীল।

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে গ্যাস সাশ্রয় করতে মার্চের শুরু থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি সার কারখানার মধ্যে চারটিই বন্ধ রেখেছে সরকার।

উৎপাদন বন্ধ বেসরকারি কাফকো সার কারখানায়ও। যা চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে দেশের কৃষিখাতের জন্য।

যদিও কারখানাগুলো শিগগিরই উৎপাদনে ফিরবে বলে দাবি কৃষিমন্ত্রীর। তিনি বলছেন, সারের মজুদ পর্যাপ্ত থাকায় জ্বালানি রেশনিংয়ের অংশ হিসেবে সার কারখানাগুলো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

“বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, উনি বলেছেন এরই মধ্যে চালু করে দেবেন। অন্তত ঘোড়াশালও যদি চালু করে দেয় তাহলেও আমরা প্রতিদিন ২৮শ টনের ওপর পেয়ে যাব,” বলেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল মজুদ দিয়ে দীর্ঘ সময় সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলেই মনে করেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

তাই চীন, মিশর বা রাশিয়ার মতো বিকল্প বাজার থেকে দ্রুত সার আমদানি নিশ্চিত করা এবং বন্ধ থাকা দেশিয় কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের ফসলি মৌসুম অনুযায়ী এখন সারের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় আপাতত তেমন সমস্যা হবে না বলেই মনে করেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম।

তিনি বলছেন, “এই মৌসুমে ধান এখন শেষের দিকে আছে, সেখানে খুব একটা সারের প্রয়োজন নেই। কিছু জায়গায় লেইট প্লানটেশন হয়েছে সেখানে কিছু সার হয়তো লাগবে।”

কিন্তু বিকল্প উৎস থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করা ঠিক হবে না বলেই মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, “আমরা যেহেতু বিকল্প উৎসের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি, সেক্ষেত্রে দামও কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।”

এছাড়া অন্যান্য খাতে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ মি. ইসলামের। “কৃষি তো এককভাবে চলে না, একটা সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার,” বলেন তিনি।

মজুদ আছে কতটা?

কৃষি নির্ভর দেশ হয়েও সারের চাহিদার প্রায় সবটাই বিদেশ থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ।

দেশের সরকারি পাঁচটি ও বেসরকারি একটি কারখানায় কিছু সার উৎপাদিত হলেও বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য বা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে।

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭০ লক্ষ টন সারের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট চাহিদার প্রায় সাড়ে ২৬ লক্ষ টনই লাগে ইউরিয়া সার। যার কেবল ১০ লক্ষ টন দেশে উৎপাদন হয়।

অর্থাৎ কৃষিতে প্রয়োজনীয় সারের বড় অংশই আমদানি করতে হয়।

আর এ কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি সারের আমদানি এবং চাহিদা পূরণ নিয়ে বাংলাদেশকে শঙ্কায় ফেলেছে।

যদিও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলছেন, পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকায় এই মুহূর্তে সংকটের কোনো শঙ্কা নেই।

“আমদানিকৃত সার এখনও যতটা মজুদ আমাদের কাছে আছে, তাতে আরও মোটামুটি এক বছর চালিয়ে নেওয়া যাবে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরিয়া চার লাখ ৯৩ হাজার টন, টিএসপি তিন লাখ ৮২ হাজার টন, ডিএপি পাঁচ লাখ নয় হাজার টন এবং এমওপি মজুদ রয়েছে তিন লাখ ৪২ হাজার টন।

মন্ত্রী বলছেন, এখন বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায়ে। ফলে আগামী কয়েক মাস নতুন করে বিপুল পরিমাণ সারের প্রয়োজন পড়বে না।

এছাড়া বর্ষা শেষে আমন মৌসুমেও ইউরিয়ার চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। মূলত আগামী বছরের বোরো মৌসুমকে লক্ষ্য করেই এখন থেকে আমদানির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

“কাতার, সৌদি আরব থেকে আমরা মূলত ইউরিয়া আমদানি করতাম। এই মুহূর্তে কোনো ক্রাইসিস নাই, তবে এটা যেহেতু চলমান প্রক্রিয়া তাই আমরা বিকল্প উৎস খুঁজছি,” বলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা

বৈশ্বিক জ্বালানির পাঁচ ভাগের এক ভাগ এবং সারের তিন ভাগের এক ভাগ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়েই সরবরাহ করা হয়।

যে পথটি গত প্রায় এক মাস ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। যার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা সিআরইউ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে ইউরিয়া সারের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। টনপ্রতি যে সারের দাম ছিল ৪৯০ ডলার, তা এখন ৬২৫ ডলারে পৌঁছেছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

এরই মধ্যে সার সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় কৃষি উৎপাদন নিয়ে সংকটে পড়েছে ভারত, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়নের সভাপতি টম ব্র্যাডশ বলেছেন, বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতা কৃষি ব্যবসাগুলোকে “প্রচণ্ড চাপের” মধ্যে ফেলছে।

তিনি বলেন, “জ্বালানি ও সারের বর্ধিত ব্যয়ভার বহন করতে এরই মধ্যে বাড়তি চাপে পড়েছেন শস্য, পশুপালন এবং দুগ্ধ খামারিরা।”

এদিকে, কিয়েল ইনস্টিটিউটের গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রভাব শুধু সারের দামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তায় বড় আঘাত হানতে পারে।

তাদের অনুমান অনুযায়ী, এর ফলে বিশ্বব্যাপী গমের দাম চার দশমিক দুই শতাংশ এবং ফল-সবজির দাম পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

তবে, বৈশ্বিক এই সংকটে রাশিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের মোট সার রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে রাশিয়া থেকে।

মধ্যপ্রাচ্যের উৎসগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাশিয়া এখন বিশ্ববাজারে সারের বড় যোগানদাতা হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করতে পারে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরের মধুখালীতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর অংশের মধুখালীতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং সরকারি খাস জমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল ওহাব শেখের নির্মিত ‘মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব মার্কেট’সহ প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মধুখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মধুখালী উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দুই পাশের সওজ-এর জায়গা ও সরকারি খাস জমি দখল করে বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে আসছিল। এতে সড়ক সরু হয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো। জনস্বার্থ বিবেচনায় ও সড়ক নিরাপদ রাখতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

​অভিযান চলাকালে মধুখালী রেলগেট বাজার, পৌরসভা বাজার, মরিচ বাজার ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের অংশ থেকে শুরু করে মহাসড়কের দু’পাশের সকল অবৈধ পাকা-আধা পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় শত শত সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

​অভিযান পরিচালনাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত সাংবাদিকদের জানান, মহাসড়কের দু’পাশে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা তৈরির কারণে দুর্ঘটনা ও যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জনস্বার্থ রক্ষা এবং মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

​অভিযান চলাকালীন সময় মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান সরেজমিনে সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত থেকে উদ্ধার কাজে সহায়তা প্রদান করেন।

​দীর্ঘদিন পর সরকারি জমি উদ্ধারে প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উচ্ছেদ অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা সুজন মিয়া বলেন, “এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। স্বাধীনতার পর মধুখালীতে এত বড় আকারের সওজ ও খাস জমি উদ্ধারের ঘটনা এবারই প্রথম। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং যানজট কমবে। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও সওজকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

ফরিদপুরে ড্রামের খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধে ক্যাবের সচেতনতামূলক কর্মশালা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ড্রামের খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধে ক্যাবের সচেতনতামূলক কর্মশালা

মানবস্বাস্থ্যের ওপর ড্রামের খোলা ভোজ্যতেলের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ভোক্তা ও বাল্ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করার লক্ষ্যে ফরিদপুরে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ফরিদপুর পৌরসভার হলরুমে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক তারেক আইয়ুব খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব ও ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান।

​ক্যাব জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক​ মো. ইলিয়াছুর রহমান, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ​ডা. মাহমুদুল হাসান, কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ​মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ​মুস্তাক হাসান মুক্ত ইফতিখার, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান ​অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।

​কর্মশালায় অনিরাপদ ড্রামে ড্রামজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধের তাগিদ দিয়ে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে খোলা ভোজ্যতেলের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় ভাঙ্গায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ
সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় ভাঙ্গায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা

তরুণ সমাজকে প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার ও সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংগঠনের নিয়মিত সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার পাশাপাশি অনলাইনে নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে ভাঙ্গার একটি মহিলা কলেজের হলরুমে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভাঙ্গা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

​বসুন্ধরা শুভসংঘ ভাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি গোলাম মোরশেদ এবং সহ-সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সদস্য ও উপদেষ্টাবৃন্দ অংশ নেন।

​সভায় বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয় সাইবার নিরাপত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন প্রতারণা, ভুয়া তথ্যের বিস্তার, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও সাইবার হয়রানির ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নেই।

​আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এম রাজন। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি নতুন নতুন সাইবার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তাই নিজেদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, টূ-স্টেপ ভেরিফিকেশন বা দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু রাখা এবং যেকোনো অপরিচিত লিংক বা বার্তা পেয়ে ক্লিক না করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।”

​তিনি আরও বলেন, তরুণদের প্রযুক্তির ইতিবাচক ও সঠিক ব্যবহারের পথ দেখানোর পাশাপাশি সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিকভাবে সচেতনতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

​সাইবার নিরাপত্তার পাশাপাশি সভায় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং এলাকার দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

​সভায় উপস্থিত সদস্যরা বসুন্ধরা শুভসংঘের কল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোকে মাঠপর্যায়ে আরও গতিশীল, জনকল্যাণমুখী ও কার্যকরী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।