খুঁজুন
, ,

সংবাদ প্রকাশের পরই নড়েচড়ে বসলো পৌরসভা, ফরিদপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান শুরু

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পরই নড়েচড়ে বসলো পৌরসভা, ফরিদপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান শুরু

দীর্ঘদিনের ফুটপাত দখল ও অবৈধ স্থাপনা নিয়ে ভোগান্তির খবর প্রকাশের পর এবার ফরিদপুর শহরে ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে পৌরসভা।

রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে পৌর সুপার মার্কেটের সামনে থেকে এ অভিযান শুরু হয়। এতে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযানের ফলে বেশ কিছু এলাকায় পথচারীদের চলাচলের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ফুটপাত ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তবে উচ্ছেদের পর আবারও যেন ফুটপাত দখল না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এর আগে গত ২৫ জুলাই ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, ভাসমান ব্যবসা ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় পথচারীদের দুর্ভোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জনতা ব্যাংক মোড়, হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারসংলগ্ন সড়ক, থানা মোড়, গোয়ালচামট, রাজবাড়ী রাস্তার মোড় ও টেপাখোলা সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলের কারণে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

ওই প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় ব্যস্ত সড়ক দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন পথচারীরা। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ব্যবসায়ীরা অবশ্য জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে বসার কথা জানিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, রোববারের অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জাকী। অভিযানে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলুর রহমান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান, উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. শরিফুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) লাইজিং হোসেন রাজুসহ পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

অভিযানকালে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে নতুন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

ফরিদপুর পৌরসভার কর্মকর্তারা জানান, শহরের ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় ফুটপাত দখল করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সাংবাদিক হাসানউজ্জামান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, শুধু একদিনের অভিযানেই সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত মনিটরিং ও উচ্ছেদ কার্যক্রম চালু রাখা প্রয়োজন। এটা যেন লোকদেখানো অভিযান না হয়। পাশাপাশি জীবিকার প্রয়োজনে ফুটপাতে বসা ভাসমান ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হলে একদিকে যেমন তাদের জীবিকা রক্ষা হবে, অন্যদিকে পথচারীরাও ফিরে পাবেন নিরাপদে হাঁটার অধিকার।

ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে পৌরসভার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী। তাদের মতে, উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেই ফরিদপুর শহরের ফুটপাতগুলো স্থায়ীভাবে পথচারীবান্ধব হয়ে উঠবে।

এর আগে গত ২৬ জুলাই ‘ফরিদপুরে ফুটপাত দখলে নাকাল পথচারী, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে হাঁটছেন নগরবাসী‘ এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফরিদপুর প্রতিদিন। এর পরই অভিযানে নামলো ফরিদপুর পৌরসভা।

ফরিদপুরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মামলায় আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মামলায় আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একটি মামলায় সিদ্দিক মাতুব্বর (৬০) নামে এক আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (০৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ফরিদপুর শহরের কোর্টপাড় এলাকা থেকে ওই আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিদ্দিক মাতুব্বর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া গ্রামের জহুর মাতুব্বরের ছেলে। এছাড়া সে একই উপজেলার পরমেশ্বরী ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক।

গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, বৈষম্যেবিরোধী আন্দোলনের একটি মামলায় সিদ্দিক মাতুব্বরকে ফরিদপুরের কোর্টপাড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন রয়েছে।

যে ৯ পাপের শাস্তি দুনিয়াতে না পেয়ে কারও মৃত্যু হবে না?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
যে ৯ পাপের শাস্তি দুনিয়াতে না পেয়ে কারও মৃত্যু হবে না?

মানুষের জীবনে এমন কিছু পাপ রয়েছে, যেগুলোর শাস্তি কেবল পরকালের জন্য স্থগিত থাকে না; বরং দুনিয়াতেই তার প্রতিফলন দেখা যায়। কখনো তা আসে পারিবারিক অশান্তি হিসেবে, কখনো সামাজিক অপমান, আবার কখনো জীবনের বরকত ও শান্তি হারানোর মধ্য দিয়ে।

সমসাময়িক সমাজ বাস্তবতায় দেখা যায়, প্রযুক্তির বিস্তার ও ভোগবাদী জীবনের চাপে অনেকেই অজান্তে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে এসব গুরুতর পাপে জড়িয়ে পড়ছেন। কিন্তু এর ভয়াবহতা অনুধাবন করতে না পারায় তারা দুনিয়াতেই নানা ধরনের সংকট, অস্থিরতা ও বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বাস্তবতাকে সামনে এনে জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক আলোচনায় কোরআন-হাদিসের আলোকে এমন ৯টি পাপের কথা তুলে ধরেছেন, যেগুলোর শাস্তি দুনিয়াতে ভোগ করানো ছাড়া আল্লাহ কাউকে মৃত্যু দেবেন না।

নিচে কালবেলার পাঠকদের জন্য সেই ১০টি ভয়াবহ পাপ তুলে ধরা হলো—

১. মা-বাবার অবাধ্যতা

মা-বাবার সাথে বেয়াদবি, তাদের অশ্রদ্ধা করা বা তাদের অধিকার খর্ব করা এমন এক অপরাধ, যার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন। হাদিস অনুযায়ী, মা-বাবার নাফরমান সন্তানের প্রায়শ্চিত্ত দুনিয়াতে ভোগ করা ছাড়া মৃত্যু হয় না। এই পাপ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো মা-বাবার কাছে সরাসরি ক্ষমা চাওয়া এবং তাদের সন্তুষ্ট করা।

২. জুলুম

কারো ওপর গায়ের জোর খাটানো বা মাস্তানি করা এমন এক জঘন্য পাপ, যার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতে নগদ দেন। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো জালেমই জুলুম করে পার পায়নি। এমনকি পশুপাখিও যদি একে অন্যের ওপর জুলুম করে, তবে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার বিচার করবেন। মাজলুম ব্যক্তি যদি অন্য ধর্মেরও হয়, তবুও আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন এবং জালেমকে পাকড়াও করেন।

৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা

রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা একটি ভয়াবহ অপরাধ। অনেক সময় মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘কাগুজে বন্ধু’দের নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও নিজের আপন ফুফু, চাচা বা ভাই-বোনের খবর রাখে না। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহ তার সাথে নিজের সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

৪. কথায় কথায় মিথ্যা বলা এবং আমানতের খেয়ানত করা

মিথ্যা সব পাপের মূল। যারা কথায় কথায় মিথ্যা বলে এবং আমানতের খেয়ানত করে, তাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয়। মিথ্যাবাদী ও আমানতের খেয়ানতকারীদে জীবনে আল্লাহ কখনোই বরকত দান করেন না এবং দুনিয়াতেই তাদের লাঞ্ছিত হতে হয়।

৫. মানুষকে অপমান ও অপদস্ত করা

আজকাল বন্ধু-বান্ধব মিলে কাউকে নিয়ে ট্রল করা বা ‘রেগিং’ করাকে বিনোদনের অংশ মনে করা হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যে ব্যক্তি অন্যকে অপমান করে, সে নিজেও কোনো না কোনো পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে অপমানিত হবেই—এটি আল্লাহর নিয়ম।

৬. লোকদেখানো ইবাদত

মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য বা ফেসবুকে লাইক-কমেন্ট পাওয়ার আশায় কোনো ভালো কাজ করা লৌকিকতা। যারা মানুষকে দেখানোর জন্য দান-সদকা বা ইবাদত করে, তাদের আমলের কোনো সওয়াব তো থাকেই না, উল্টো দুনিয়াতে তাদের জন্য লাঞ্ছনা অপেক্ষা করে।

৭. নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা

আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত ভোগ করে যদি কেউ তার শোকর আদায় না করে কিংবা যে মানুষটি তার উপকার করেছে তার প্রতি কৃতজ্ঞ না হয়, তবে আল্লাহ সেই নেয়ামত ছিনিয়ে নেন। অকৃতজ্ঞ ব্যক্তির জীবনে অভাব-অনটন ও ভয় গ্রাস করে।

৮. ব্যবসায় প্রতারণা ও ওজনে কম দেওয়া

মাপে কম দেওয়া বা ভালো মালের নিচে পচা মাল লুকিয়ে রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে বড় অপরাধ। কোনো বিক্রেতা যদি কাস্টমারের সাথে প্রতারণা করে, তবে সে রাসুলের (সা.) উম্মত হিসেবে দাবি করার যোগ্যতা হারায়। এই ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা পার্থিব সম্পদে বরকত পায় না এবং অশান্তিতে ভোগে।

৯. আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা

যে কোনো ধরনের পাপ বা আল্লাহর বিধানের অবাধ্যতার একটি বড় শাস্তি হলো মানসিক অশান্তি ও ডিপ্রেশন। দেখা যায়, সব ধরনের ভোগ-বিলাসের উপকরণ থাকা সত্ত্বেও পাপিষ্ঠ ব্যক্তির মনে শান্তি থাকে না, যা অনেক সময় তাদের আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়।

চরভদ্রাসনে কাঠের সেতু উদ্বোধন শেষে মাদক নির্মূলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন এমপি বাবুল

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ
চরভদ্রাসনে কাঠের সেতু উদ্বোধন শেষে মাদক নির্মূলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন এমপি বাবুল

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার মৌলভীর চর সরদার বাড়িতে কাঠের সেতু উদ্বোধন ও মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১টায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি ও প্রবাসী ইউনুস আলী পরামানিকের অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ এবং চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফর আলী।

আরমান আলী সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ওয়াহিদুজ্জামান মোল্ল্যা, সদস্য সচিব আব্দুল কুদ্দুস বাদশা, সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান শিকদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা এ.জি.এম. বাদল আমিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কুদ্দুস আলী, মো. ইয়াকুব আলী, ওবায়দুল বারী দীপু, মো. মঞ্জুরুল হক মৃধা, মোস্তফা কবির, গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. মোজাফফর হোসেন জাফর, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাশেদ আল ফারুকী, কৃষক দলের নেতা মো. কামরুল হাসান ফিরোজ, ছাত্রদল নেতা শুভ সালাউদ্দিন মোল্ল্যা, আল-আমিন মোল্ল্যাসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আরমান আলী সরদারের মায়ের কবর জিয়ারত করা হয়। পরে ইউনুস আলী পরামানিকের অর্থায়নে নির্মিত কাঠের সেতুটির উদ্বোধন করেন অতিথিরা। স্থানীয়রা জানান, সেতুটি নির্মাণের ফলে এলাকার মানুষের হাট-বাজারে যাতায়াত সহজ হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। পরে সরদার বাড়ি ঈদগাহ মাঠে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, মাদক যুবসমাজের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। মাদকের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় পরিচয় কোনোভাবেই মাদক কারবারিদের রক্ষা করবে না। মাদকসংক্রান্ত কোনো তদবিরও গ্রহণ করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন।

এমপি বাবুল আরও বলেন, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ জন্য প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তরুণদের খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি প্রশাসনকে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না।

সভায় বক্তারা চরভদ্রাসনকে মাদকমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।