খুঁজুন
, ,

জার্সি পরে শপথ! সংসদে হাসনাতকে ঘিরে যে তুমুল বিতর্ক?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ
জার্সি পরে শপথ! সংসদে হাসনাতকে ঘিরে যে তুমুল বিতর্ক?

জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ গত মঙ্গলবার এমপি হিসেবে শপথ নেন একটি স্পোর্টস জার্সি পরে যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-বিতর্ক।

অনেকের মতে, সংসদের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনপ্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানে এমন পোশাক পরা ছিল ‘অপেশাদারি ও অসম্মানজনক’।

অন্যদিকে হাসনাতের সমর্থকদের দাবি, আন্দোলনের সময় তিনি যে জার্সি পরতেন সেটিই তিনি শপথের দিন বেছে নিয়েছেন যা জনগণের সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে।

তবে সংসদ সদস্য কী পরছেন, বাংলাদেশ এই আলোচনা নতুন নয়। এর আগেও একই ধরনের বিতর্কের জন্ম হয়েছে।

সংসদের আচরণবিধি নিয়ে জানাশোনা আছে এমন বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সংসদে উপস্থিত হওয়ার জন্য পোশাক সংক্রান্ত কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই, তবে রেওয়াজ আছে।

বিশ্বের অনেক দেশেই সংসদ বা আইনসভায় উপস্থিত থাকার ক্ষেত্রে লিখিত-অলিখিত ড্রেসকোড আছে এবং সেগুলো মানাও হয়। কারণ সংসদ বা আইনসভার মতো প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রের মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

কী ভেবে ওই জার্সি পরেছিলেন হাসনাত

হাসনাত আবদুল্লাহ ঠিক কী ভেবে শপথগ্রহণের দিন ওই জার্সিটিই পরেছিলেন, তা জানতে তার সাথে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দেননি।

এর আগেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং তারপর বিভিন্ন সময়ে নানা অনুষ্ঠানে তাকে এই জার্সি গায়ে দেখা গেছে।

জার্সিটির সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো রয়েছে, ইংরেজিতে লেখা ‘ইংলিশ’ যা মূলত বিভাগের নাম এবং জার্সির পেছনেও ইংরেজিতে তার নাম লেখা আছে ‘হাসনাত’, তার নিচে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ১০।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে বড় ব্যবধানে জয়ী হন হাসনাত আবদুল্লাহ। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমর্থনে এনসিপির দলীয় প্রতীক শাপলা কলি নিয়ে নির্বাচন করেছেন তিনি।

এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মুহাম্মদ ইউনূস যেদিন ফ্রান্স থেকে ঢাকায় আসেন, সেদিনও শাহজালাল বিমানবন্দরে তাকে বরণ করতে এই ধরনের জার্সি পরে গিয়েছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

এমনকি গত বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সেই চিরচেনা জার্সি পরেই মঞ্চে উঠেছিলেন তরুণ এই এনসিপি নেতা।

বর্তমানে তিনি এনসিপি’র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্বে রয়েছেন।

জার্সি পরা নিয়ে আলোচনা কেন

সংসদ বিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, “কাজটা (জার্সি পরা) ঠিক হয় নাই। কারণ গতানুগতিক নিয়মে ফর্মাল অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমাজের একটা গ্রহণযোগ্যতা থাকে”।

“তবে যেহেতু তারা একটা বিপ্লব করেছেন, তাই তিনি হয়তো জার্সি পরার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে দেখাতে চেয়েছেন। হয়তো জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন যে বিপ্লব কিন্তু এখনো চলে যায়নি। যেহেতু জুলাই নিয়ে অলরেডি একটা বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে,” যোগ করেন তিনি।

লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ সংসদে জার্সি পরা নিয়ে আপত্তিকে ‘শুচিবায়ু’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, “হাসনাতের হয়তো এখানে কিছুটা স্টান্টবাজি থাকতে পারে। কিন্তু একেবারে অবাক হওয়ার কিছু নাই, টি-শার্টে আমি সমস্যা দেখি না। আস্তে আস্তে এটা হতেই পারে। আমাদের এখানে আমজনতার পোশাক কেউ পরে না, পরে কলোনিয়াল মেন্টালিটির শাসকদের পোশাক। মনে করে, স্যুট টাই পরলে জেন্টলম্যান হওয়া যায়”।

এ সময় তিনি উদাহরণ হিসেবে আরও বলেন, “মওলানা ভাসানী তো লুঙ্গি পরে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। তার তো সমস্যা হয়নি”।

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী এক চরিত্র আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, যিনি তার অনুসারীদের কাছে মওলানা ভাসানী হিসেবে পরিচিত।

২৫ বছর ধরে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কাভার করা সাংবাদিক ও গবেষক কামরান রেজা চৌধুরী বলছিলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ’র জার্সি পরাটা “বোধহয় অ্যাটেনশন ড্র করার উপায়”।

তার মতে, “হাসনাত আব্দুল্লাহ হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন যে আমি আগের মতোই আছি, আমি আমার মতো যাবো। সেজন্যই সবাই পাঞ্জাবি-পাজামা পরে গেলেও তিনি জার্সি পরে গেছেন। এটা পলিটিক্সের পার্ট। উনি বোঝাতে চেয়েছেন, আমি জনগণের মানুষ”।

এতে “মানুষের কাছে হাসনাত আব্দুল্লাহ’র গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। কারণ মানুষ মনে করবে, সে জনগণের সঙ্গেই আছে,” যোগ করেন এই সাংবাদিক।

সংসদের নির্দিষ্ট ড্রেসকোড আছে?

গতকাল ১৭ই ফেব্রুয়ারি বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে ড্রেসকোড ছিল।

সাংবাদিকদের জন্য দেওয়া আমন্ত্রণপত্রগুলোতে মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ‘অফিসিয়াল/লাউঞ্জ স্যুট/মানানসই’ পোশাক পরে আসার কথা বলা হয়।

লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিকেলের মন্ত্রিসভার অনুষ্ঠানে মন্ত্রী থেকে শুরু করে সবার জন্য ড্রেসকোড ছিল।

কিন্তু সকালে এমপিদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কোনো ড্রেসকোড ছিল কি না, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

এদিকে, সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজামউদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, তার জানা মতে সংসদে কোনো ড্রেসকোড নেই। তবে সেখানে সবাই গ্রহণযোগ্য পোশাক পরেন।

একই তথ্য পাওয়া যায় দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কাভার করা সাংবাদিক ও গবেষক কামরান রেজা চৌধুরীর সাথে কথা বলার পরেও।

তিনিও বলছিলেন, অফিসিয়ালি (কাগজে-কলমে) সংসদের জন্য কোনো ড্রেসকোড নেই।

“গত ২৫ বছরে আমি সংসদ সদস্যদের পরতে দেখেছি পাঞ্জাবি-পাজামা। এমপিদের অনেকে প্যান্ট-শার্ট, কেউ কেউ ব্লেজার পরেন। নারীদের প্রায় সবাই শাড়ি পরেন। এটা নিজস্ব রুচির বিষয়। তবে সাধারণত এমপিরা সংসদে একটু সুন্দর ড্রেস পরেই যান”।

এর আগেও সংসদের ড্রেসকোড নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশের সংসদে পোশাক পরা ঘিরে এর আগে কিছু ঘটেছিলো কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত কিছু পাওয়া না গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে কিছু আলোচনা।

বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদ সংস্থা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মর্তুজা অন্তুর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মকিম হোসাইন হাওলাদারের পোশাক নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

১৯৭৩ সালের সাতই মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, সেসময় বাকেরগঞ্জ-৬ থেকে এমপি হয়েছিলেন ওই মকিম হোসাইন হাওলাদার।

মকিম হাওলাদার সবসময় লুঙ্গি পরেই চলাফেরা করতেন উল্লেখ করে মি. মর্তুজা লিখেছেন, তিনি “সংসদেও যাওয়া শুরু করলেন লুঙ্গিটা পরেই। তো এই নিয়ে তারই সহকর্মী কিছু এমপি অস্বস্তিতে পড়লেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি সংসদে অফিসিয়ালি আলোচিত হলো”।

“একজন এমপি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদে ড্রেসকোডের বিষয়টি তুললেন, সংসদের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লুঙ্গি পরে আসা যায় কি না সেই প্রশ্নও রাখলেন”।

“লুঙ্গির বিষয়টি নিয়ে অফিসিয়ালি প্রশ্ন ওঠার পর মকিম হাওলাদারও ছেড়ে কথা বললেন না। যদিও তার নাম কেউ উল্লেখ করেনি, তবুও বুঝলেন আলোচনা আসলে তাকে নিয়েই। সংসদ নেতার উদ্দেশে মকিম হাওলাদার বললেন, তিনি লুঙ্গি পরেন এটা জেনেই তো তাকে নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। এখন এমপি হওয়ার পর তাকে কেন প্যান্ট পরতে হবে?” লিখেছেন গোলাম মর্তুজা অন্তু।

মকিম হোসাইনের জবাব মেনে নিয়ে সংসদে লুঙ্গি পরে যাওয়ার বিষয়ে কোনো বিধি-নিষেধ না রাখার সিদ্ধান্ত হয় বলেও লিখেছেন তিনি।

তবে লেখক মহিউদ্দিন আহমদ এবং অধ্যাপক নিজামউদ্দিন আহমেদ, দু’জনের কেউ-ই এই ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।

তবে সাংবাদিক কামরান রেজা চৌধুরী বলেছেন যে তিনিও এরকম একটি ঘটনার কথা শুনেছেন। তার ভাষ্যে, “উনার কথা শোনা যায়, কিন্তু আমি কোনো রেকর্ডে পাইনি”।

তবে সেই প্রথম সংসদের ঘটে যাওয়া আরেকটি ঘটনার কথা বিবিসিকে বলেন তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছ থেকে তিনি সরাসরি এই কথা শুনেছিলেন উল্লেখ করে বলেন, “প্রথম সংসদে আব্দুল হামিদ রিকশা নিয়ে সংসদে গিয়েছিলেন, কারণ তার গাড়ি ছিল না। তখন তাকে আটকানো হয়। তখন শেখ মুজিবুর রহমান চিফ হুইপকে ডেকে বলেছিলেন যে তাকে একটা গাড়ি দেওয়া যায় কি না। তখন তাকে একটা পুরোনো গাড়ি দেওয়া হয়”।

অন্যান্য দেশে সংসদে কী পরতে হয়

যুক্তরাজ্যের সংসদে এমপিদের জন্য স্পষ্ট ফরমাল ড্রেস পরার বিধান রয়েছে।

দেশটিতে পুরুষদের জন্য সাধারণত স্যুট ও টাই এবং নারীদের জন্য ফরমাল পোশাক। টি-শার্ট, স্পোর্টস জার্সি, স্লোগানযুক্ত টি-শার্ট বা অতিরিক্ত ক্যাজুয়াল পোশাক অনুচিত হিসেবে ধরা হয়।

সে দেশে পোশাককে “রেসপেক্ট অব দ্য হাউজ” বা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা বলে মনে করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সংসদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সংসদের আনুষ্ঠানিক নিয়ম-নীতিতে পুরুষ ও নারীদের জন্য একই মাত্রার ফরমাল ড্রেসের কথা বলা হয়েছে।

সেখানেও বলা হয়েছে যে স্পোর্টসওয়্যার, স্লোগান লেখা পোশাক বা অতিরিক্ত ক্যাজুয়াল পোশাক প্রত্যাশিত না। কারণ এগুলো সংসদের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না।

তবে এতে আরও বলা হয়েছে যে গরম বা জরুরি পরিস্থিতিতে জ্যাকেট খুলে রাখা যেতে পারে। কিন্তু নিয়মকে একেবারেই অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই।

কমনওয়েলথের অনেক দেশেই মূলত সংসদে রাজনৈতিক স্লোগান বা স্টেটমেন্ট ছাপা পোশাক পরা নিষিদ্ধ। নারী-পুরুষ উভয়কেই ফরমাল পোশাক পরতে হয়।

তবে অনেক দেশে ঐতিহ্যবাহী পোশাককে ফরমাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে স্বাধীনতার পর নতুন রাষ্ট্রগুলো নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে নিজস্ব ড্রেসকোড তৈরি করে।

যেমন, আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়ায় ‘কাউন্ডা স্যুট’ জনপ্রিয় হলেও কেনিয়ার সংসদে তা নিষিদ্ধ।

ক্যারিবিয়ানে ঔপনিবেশিক পোশাকের বদলে ‘কারিবা স্যুট’ চালু হয়, যা একসময় জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী মাইকেল ম্যানলে পরলেও পরে আর সংসদীয় পোশাক হিসেবে গ্রহণযোগ্য থাকেনি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নেলসন ম্যান্ডেলার রঙিন ‘মাদিবা স্যুট’ রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং ভারতে স্বাধীনতার পর ‘নেহরু কলার’ সাংস্কৃতিক মর্যাদার অংশ হয়।

এ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে পোশাকের সঙ্গে সময়, রাজনীতি ও জাতীয় পরিচয়ও গভীরভাবে যুক্ত।

তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নীরব প্রহরী জাকির, ৩৭ বছর পরও টাকার অভাবে ধুকছে চিকিৎসা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নীরব প্রহরী জাকির, ৩৭ বছর পরও টাকার অভাবে ধুকছে চিকিৎসা

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নতুন ভবনের করিডোরে প্রতিদিনের মতোই ধীর পায়ে হাঁটেন মো. জাকির হোসেন। কারও হাতে এক কাপ চা তুলে দেন, কারও জন্য দরজা খুলে দেন, আবার কখনো কোনো সাংবাদিকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে দেন, চা খাওয়ান। সংবাদ শিরোনামে যাদের নাম উঠে আসে, তাদের পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষটির নাম খুব কম মানুষই জানেন। অথচ এই প্রেসক্লাবের প্রতিটি ইট, প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি কক্ষ যেন তার জীবনেরই অংশ।

মো. জাকির হোসেনের জন্ম ১৯৭৯ সালের ২৯ মে, ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর মহল্লায়। বাবা শেখ আব্দুর রহমান ছিলেন একজন নাইটগার্ড। অল্প আয়ের সেই চাকরিতে সংসার চলত কষ্টে। মা ফাতেমা বেগম ছিলেন গৃহিণী। সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যেই বড় হয়েছেন জাকির। ফরিদপুরের বাখুন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু দারিদ্র্য তার বই-খাতা কেড়ে নেয়। জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে স্কুলের বেঞ্চ ছেড়ে জীবিকার পথে নামতে বাধ্য করে।

মাত্র দশ বছর বয়সে, ১৯৮৯ সালে, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তমিজউদ্দীন তাজের হাত ধরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে পিয়ন হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেই যে শুরু, তারপর কেটে গেছে প্রায় সাড়ে তিন দশক। সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে, প্রেসক্লাবের ভবন বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি জাকিরের দায়িত্ববোধ।

এই দীর্ঘ সময়ে তিনি অসংখ্য সাংবাদিকের উত্থান-পতন দেখেছেন। অনেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব নিতে দেখেছেন, আবার তাদের চিরবিদায়ও প্রত্যক্ষ করেছেন। সভাপতি সৈয়দ ইমামুল আজম আব্দুর রব, শেখ মো. দেলোয়ার হোসেন, জগদীশ চন্দ্র ঘোষ, আব্দুল আলী শিকদার—আজ তারা আর নেই। সাধারণ সম্পাদক মন্টু দাস গোপী, ইউসুফ রেজা মন্টু, আ.জ.ম. আমীর আলী, আলী আশরাফ মো. শোয়াইব ও আরিফ ইসলামও চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আরও কত সদস্য, কত পরিচিত মুখ—এক এক করে হারিয়ে যেতে দেখেছেন তিনি।

এসব কথা বলতে বলতে জাকিরের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। চোখ ভিজে ওঠে অশ্রুতে। তিনি বলেন, “এই প্রেসক্লাবটাই আমার জীবন। এখানে আমার যৌবন কেটেছে, হাসি-কান্না কেটেছে। প্রতিটি দেয়ালে আমার স্মৃতি লেগে আছে।”

জাকিরের ব্যক্তিগত জীবনও সংগ্রামের গল্পে ভরা। স্ত্রী লিপি বেগম একজন গৃহিণী। অল্প আয়ে সংসার সামলাতে গিয়ে প্রতিটি দিনই তাদের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ। এক ছেলে ও এক মেয়েকে মানুষ করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রমে। ছেলে আজিম হোসেন ২০২৪ সালে ফরিদপুরের সরকারি ইয়াছিন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে জীবিকার তাগিদে হামিম গ্রুপের একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছেন। মেয়ে মোসা. হাফছার বিয়ে হয়েছে কাপড় তৈরির মেশিনচালক আরিফের সঙ্গে। নিজের স্বপ্নগুলো বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন জাকির।

কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর যেন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোমরের হাড় ক্ষয়ের মতো জটিল রোগে ভুগছেন তিনি। প্রতিদিন ওষুধ কিনতেই খরচ হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। এই সামান্য টাকাও অনেক সময় জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসার আশায় মানুষের সহায়তায় ছয়-সাতবার ভারতে গিয়েছেন। কিছুদিন সুস্থ থাকলেও আবার ফিরে এসেছে অসুস্থতা। প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা, কিন্তু অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা এখন অধরাই রয়ে গেছে।

সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, এত কষ্টের মধ্যেও তিনি কখনো কারও দরজায় গিয়ে হাত পাতেননি। নিজের অভাবকে হাসিমুখে আড়াল করে প্রতিদিন যথাসময়ে কর্মস্থলে হাজির হন। যারা তাকে চেনেন, তারা জানেন—জাকিরের মুখে অভিযোগের চেয়ে কৃতজ্ঞতার কথাই বেশি শোনা যায়।

২০২৬ সালের মে মাসে মায়ের মৃত্যুর পর যেন আরও একা হয়ে গেছেন তিনি। সংসারের দায়িত্ব, ওষুধের খরচ, পুরোনো দেনা—সব মিলিয়ে জীবন যেন আরও ভারী হয়েছে। তবুও দায়িত্ব পালনে তার কোনো ক্লান্তি নেই। কেউ প্রেসক্লাবে এলে এখনও আগের মতোই আন্তরিক হাসিতে অভ্যর্থনা জানান তিনি।

জাকির হোসেন কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি নন। তিনি সংবাদপত্রের প্রথম পাতার মানুষও নন। কিন্তু সংবাদ তৈরির পেছনে যারা নিরলস শ্রম দিয়ে যান, তাদের একজন তিনি। সাংবাদিকদের ব্যস্ততার ভিড়ে হয়তো অনেকেই তাকে খেয়াল করেন না, কিন্তু প্রেসক্লাবের প্রতিটি দিন, প্রতিটি আয়োজন, প্রতিটি ব্যস্ত মুহূর্তে তার নীরব উপস্থিতি অপরিহার্য।

একটি প্রতিষ্ঠানে টানা প্রায় ৩৭ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা শুধু চাকরি নয়, এটি এক ধরনের ভালোবাসা, এক ধরনের আত্মনিবেদন। সেই ভালোবাসার মূল্য কি শুধু একটি সামান্য বেতন? একজন মানুষ, যিনি জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য উৎসর্গ করেছেন, অসুস্থতার সময়ে কি তার পাশে দাঁড়ানো সমাজের দায়িত্ব নয়?

আজও জাকির হোসেনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন খুব সাধারণ—আরও একবার ভালো চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়ে বাঁচতে চান। তিনি বিলাসী জীবন চান না, বড় কোনো বাড়ি বা গাড়িও চান না। শুধু চান একটু স্বস্তিতে বেঁচে থাকার সুযোগ, যাতে প্রতিদিনের ওষুধের চিন্তা আর চিকিৎসার খরচের হিসাব তাকে তাড়া না করে।

হয়তো সমাজে এমন অনেক জাকির হোসেন আছেন, যারা নীরবে দায়িত্ব পালন করে যান, অথচ নিজেদের কষ্টের কথা কাউকে জানান না। তাদের গল্প খুব কমই আলোয় আসে। কিন্তু এমন মানুষেরাই আমাদের সমাজের নীরব ভিত্তি। তাদের ত্যাগ, সততা আর আত্মসম্মান আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের প্রকৃত মর্যাদা পদবি বা সম্পদে নয়, বরং নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতায়।

জাকির হোসেন এখনও প্রতিদিন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের দরজা খুলে দেন। হয়তো একদিন সেই দরজাই তার দীর্ঘ কর্মজীবনের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকবে। কিন্তু তার আগে, একজন সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এটাই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব।

বিয়ের দুই মাস পর মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রাণ হারাল সালথার শোয়াইব

নুরুল ইসলাম নাহিদ, সালথা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
বিয়ের দুই মাস পর মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রাণ হারাল সালথার শোয়াইব

নিজের অভাবী পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য বছর তিনেক আগে মালয়েশিয়ায় গিয়ে পাড়ি জমান মো. শোয়াইব বিশ্বাস (২৩) নামে এক যুবক। সেখানে গিয়ে দীর্ঘদিন একটি কোম্পানিতে কাজ করে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে আসেন। দেশে এসে গত মাস দুয়েক আগে বিয়ে করেন।

তবে তার বিয়ের মেহেদীর রং শুকানোর আগেই জীবিকার তাগিদে ফের মালয়েশিয়ায় নিজের কর্মস্থলে গিয়ে চলে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস- কর্মস্থলে কাজ করার সময় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর।

নিহত শোয়াইব বিশ্বাস ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের মো. শওকত বিশ্বাসের ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সেজো।

শনিবার (১০ জুলাই) সকালে শোয়াইবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভগ্নিপতি মো. তুহিন হাসান। এদিকে শোয়াইয়ের খবরে শোকে স্তব্দ হয়েছে পরিবার। এমন অবস্থায় দেশে লাশ আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে চেয়েছেন সরকারের সহযোগিতা।

নিহতের পরিবার জানান, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একটি কম্পানিতে কাজ শুরু করেন শোয়াইব। সেখানে কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিলে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। বাড়ি আসার পর গত দুই মাস আগে বিয়ে করেন তিনি। এরপর ছুটি শেষে গত ১ জুলাই মালয়েশিয়া চলে যায়। দেশটির জহুরবারু এলাকায় একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির অধীনে বোম্ব ক্রেনের সাহায্যে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পাইপ লাগানোর কাজ শুরু করেন। শুক্রবার সকালে কাজ করাকালীন বোম্বক্রেন চাপায় নিহত হন তিনি।

নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, শুক্রবার দুপুরে মালয়েশিয়ার ওই কোম্পানির দায়িত্বরত এক বাংলাদেশী আমাকে ফোন করে নিহতের বিষয়টি জানান৷ তাছাড়া ওই বাংলাদেশী ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে, তাতে নির্মমভাবে মৃত্যুর বিষয় ফুটে উঠেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে তার লাশ ফেরত পাঠানোর জন্য তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। তবে লাশটি দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, নিহত ব্যক্তি কোনো কোম্পানির অধীনে কাজ করে থাকলে তাঁরা দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে লাশ পাঠাতে পারবে৷ সেখান থেকে কোনো সহযোগিতার না পেলে নিহতের পরিবার আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৈধ কর্মী হয়ে থাকলে আমরা লাশ আনার ক্ষেত্রে দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করব।

ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারি বরখাস্ত

পান্না বালা, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারি বরখাস্ত

ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরী (১৪) ২৭ সপ্তাহের অধিক অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায়। এ মামলার একমাত্র আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে বরখাস্ত করা হয়েছে।গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম মো. ওয়াহিদ শেখ (৫৪)। তিনি ওই শিশু পরিবার এলাকার একটি বাজারে দর্জির দোকানের মালিক।

এই ঘটনায় “দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে” ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও শিশু নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে গত ৬ জুলাই ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীটি শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি স্কুলে পড়ে। শিশু পরিবার থেকে স্কুলে যাতায়াত করার সুবাদে গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে ওই এলাকার এক দর্জির দোকানের মালিক মো. ওয়াহিদ শেখ (৫৪) তাকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই ব্যক্তি তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে।

এর ফলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে শারিরীক জটিলতার জন্য শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে গত ৬ জুলাই নেওয়া হয়। চিকিৎসক পরীক্ষার পর জানায় শিশুটি ২৭ সপ্তাহ ও দুই দিনের গর্ভাবস্থায় রয়েছে।

এ মামলার সূত্রে গত ৮ জুলাই পুলিশ সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
এদিকে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে গত ৮ জুলাই সমাজসেবা অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার ও আয়া শামসুন্নাহার আক্তার ও তানিয়া তাজরীণ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ওই পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে গত ৮ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশে মেয়েটিকে সমাজসেবা বিভাগের অধীনে “নারী ও শিশু কিশোরী মহিলা হেফজতিদের আবাসন কেন্দ্র”- রাখা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।