খুঁজুন
, ,

ভোটের পর কী ঘটে? যে গোপন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় ফলাফল?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ
ভোটের পর কী ঘটে? যে গোপন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় ফলাফল?

বাংলাদেশে ১২ই ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট। এবারে একই সঙ্গে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলে দেরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

বাংলাদেশে নির্বাচন সাধারণত সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে একটানা চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এবার একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের সময় একঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

১২ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন বলছে, দুটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ফলাফল তৈরিতেও সময় বেশি লাগবে।

অন্যদিকে, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও দেশের সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে ইসিকে।

তিনশো সংসদীয় আসনের সাধারণ নির্বাচন, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোট ফলাফল আলাদাভাবে গণনা করে তা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

বর্তমানে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, ভোটের রেজাল্ট পরিবর্তন করে আরেকজনকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ আছে কি না অথবা রেজাল্টে কারচুপির সুযোগ আছে কি না?

জবাবে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল কয়েকটি ধাপে প্রস্তুত করতে হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের সামনে ফলাফল গণনা ও ঘোষণা করা হয়। কন্ট্রোল রুমেও আলাদাভাবে ঘোষণা করা হয় প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনে”।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র ও ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্ট উপস্থিত থাকলে কারচুপি বা রেজাল্ট পরিবর্তন কেউ করতে চাইলেও সম্ভব হবে না। তবে অতীতে অনেক সময় বিরোধী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।

একটি নির্বাচনের ফলাফল গণনা, কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট প্রস্তুতি কিংবা তা ঘোষণা করা হয় তা তুলে ধরা হলো ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য।

ভোট শেষে যেভাবে গণনা শুরু

একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় একঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সে অনুযায়ী ভোট শেষ হবে বিকেল সাড়ে চারটায়।

সাড়ে চারটার পরও যদি কোন কেন্দ্রের ভেতরে ভোটার থাকে, তাহলে সেই কেন্দ্রে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রতিটি কক্ষের ব্যালট বাক্সগুলো প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনেই লক করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অথবা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনেই লক করা ওই ভোটের ব্যালট বাক্স ভোটকেন্দ্রের পূর্বনির্ধারিত গণনা কক্ষে নেওয়া হবে।

ভোটগ্রহণের সময় একটি ভোটকেন্দ্রে নারী পুরুষ আলাদা কয়েকটি কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও ভোট গণনার জন্য একটি কক্ষ নির্দিষ্টভাবে প্রস্তুত করা হয়।

সেই গণনা কক্ষে ওই আসনের প্রতি প্রার্থীর একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবে। সেই সাথে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষকরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাদের সামনেই যে ব্যালট বাক্সগুলোতে ভোট দেওয়া হয়েছে সেগুলো খোলা হবে, তাদের সামনেই বক্স নম্বর ও লক নম্বর মিলিয়ে নেয়া হবে।

এরপর প্রতি কক্ষের ব্যালট বাক্সগুলো একটা একটা করে লক খুলে ব্যালট পেপারগুলো মেঝেতে ঢালা হবে। এরপর পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ভোট গণনা শুরু করবেন।

এরপর সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালট আর গণভোটের গোলাপি ব্যালট আলাদা করে ফেলবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র অতিরিক্ত সচিব মতিয়ূর রহমান বলেন, “আলাদা দুই ধরনের ব্যালট বান্ডিল করতে যদি দেখা যায় যে কোনোটি ছেড়া বা সঠিকভাবে সিল দেওয়া হয়নি, সেই ব্যালটগুলো আলাদা করা হবে। এছাড়াও যদি কোনো ব্যালটে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর না থাকে, সেগুলোও বাতিল ব্যালট হিসেবে গণ্য হবে”।

এরপর প্রতীক ভিত্তিক আলাদাভাবে টালি করে গণনা করা হবে ব্যালট। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা নির্ভুলভাবে গণনা করা।

একই সময় গণভোটের আলাদা ব্যালটগুলোও হ্যাঁ এবং না- দুই ভাগে আলাদা করে সেগুলো সঠিকভাবে গণনা করবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও সাবেক ইসি কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, “এবারের নির্বাচনে দুইটি ব্যালট থাকায় গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় দেরি হতে পারে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু একই সাথে যদি দুই ধরনের ব্যালট দুইটি টিম করে গণনা করা হয় তাহলে এক্ষেত্রে খুব একটা দেরি হওয়ার সুযোগ নেই”।

কেন্দ্রে ভোট গণনার পর

দুইটি ব্যালট আলাদাভাবে গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হবে।

সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৬ নম্বর ফরমের যে রেজাল্ট শিটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম, ভোটের সংখ্যা, বাতিল ভোটের সংখ্যা, মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা স্পষ্ট করে লিখতে হয়।

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা মতিয়ূর রহমান বলেন, “রেজাল্ট শিটে ভোটের সংখ্যা অংকে ও কথায় দুইভাবেই লিখতে হয়। কোনভাবেই শুধুমাত্র অংকে লেখা যাবে না; কোনভাবেই কাঁটাছেড়া করা যাবে না। এতে রেজাল্ট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে”।

এই রেজাল্ট শিটে মোট ভোট সংখ্যা, বাতিল ভোটের সংখ্যা, বৈধ ভোটের সংখ্যা ও প্রার্থীদের ভোটের সংখ্যা সব কিছুর মোট প্রদত্ত ভোটের সাথে মিল থাকতে হবে।

এই রেজাল্ট শিট প্রস্তুত হওয়ার পর তাতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টরা স্বাক্ষর করবেন। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলের সাতটি সেট প্রস্তুত করতে হয়।

সেখান থেকে একটি কপি ভোটকেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড কিংবা কেন্দ্রের উন্মুক্ত স্থানে টানিয়ে দিবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।

বাকি সেটগুলোর মধ্যে দুইটি সেট কেন্দ্রের ব্যালট ও নির্বাচনী সরঞ্জাম যে বস্তায় রাখা হয়, সেই বস্তার মধ্যে দুইটি কপি রেখে বস্তাটি সিলগালা করা হবে। দুইটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হাতে করে নিয়ে যাবেন সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার (জেলা প্রশাসক/বিভাগীয় কমিশনার/আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) কাছে।

কেন্দ্রের রেজাল্টের আরেকটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখবেন, আরেকটি সেট তিনি নির্দিষ্ট খামে পাঠিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনে।

এর বাইরেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট, সাংবাদিক কিংবা পর্যবেক্ষকদের কেউ যদি কেন্দ্রের ফলাফলের কপি চান, সেটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে।

এভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ করে নির্বাচনী অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই জয়-পরাজয় সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে থাকেন।

এই কার্যক্রম শেষে সরাসরি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও অন্তত দুইজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশ ও আনসারের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়/নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে চলে যাবেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা) কার্যালয়ে ফলাফলের কপি এবং গণনাকৃত ব্যালট জমা দিবেন। এই রেজাল্ট পাওয়ার পর সেটি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতিতে মাইকে ঘোষণা করবেন।

কোনো কেন্দ্রের ফলাফল মাইকে ঘোষণার আগে পর্যন্ত সেখানে ওই কেন্দ্রে থাকতে হবে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে।

একইভাবে গণনা করে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করা হবে।

চূড়ান্ত ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করবেন। সেখানে প্রার্থীদের এজেন্ট কিংবা প্রার্থীরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন।

যদি গণনা বা রেজাল্ট নিয়ে কোন প্রার্থীর আপত্তি থাকে তাহলে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে পুনঃগণনার আবেদন করতে পারেন। যদি কমিশন অনুমতি দেয় তাহলেই কেবলমাত্র পুনঃগণনা করা হতে পারে।

এছাড়া যদি কোনো প্রার্থীর এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে ভোট শেষ হওয়ার পরেই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে এ নিয়ে মামলা করতে পারবেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

“বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপত্তা ও পূর্ণ স্বাধীনতায় উৎসব পালন করে”: শামা ওবায়েদ

জাকির হোসেন, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
“বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপত্তা ও পূর্ণ স্বাধীনতায় উৎসব পালন করে”: শামা ওবায়েদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে দেশের সকল ধর্মের মানুষ সমঅধিকার, পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

​মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​তিনি সন্ধ্যায় রামনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

​মণ্ডপ পরিদর্শনকালে শামা ওবায়েদ বলেন, “বর্তমান সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

​বিগত ১৭ বছর দেশের মানুষকে অত্যন্ত কঠিন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় সকল ধর্মের মানুষ এক হয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উৎসব উদযাপন করছেন। এটাই বাংলাদেশের আসল সৌন্দর্য ও মাধুর্য।”

​পরিদর্শনকালে মণ্ডপে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে বিগত সরকারের বরাদ্দের সাথে বর্তমান সরকারের বরাদ্দের তুলনা করে তিনি জানতে চান, এ বছর তাঁরা আগের চেয়ে বেশি সুবিধা ও অর্থ বরাদ্দ পেয়েছেন কি না। জবাবে উপস্থিত সকলেই ইতিবাচক সাড়া দেন।

​এ সময় ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মিয়াজী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ এবং নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

​এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ, সহ-সভাপতি মাহাবুব আলী মিয়া, যুবদলের আহ্বায়ক তৈয়াবুর রহমান, রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল সত্তার মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সালাম বেপারী, সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান মাতুব্বর, প্রচার সম্পাদক হাকিম মুন্সি, যুবদল নেতা তুষার মন্ডল, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক টগড় মন্ডলসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের স্থানীয় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ফরিদপুরে নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা সুইচগেট সংলগ্ন নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩২ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে নদীর পশ্চিম পাশে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে।

​খবর পেয়ে একে একে ঘটনাস্থলে পৌঁছান নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিআইডি পুলিশের সদস্যরা। মরদেহটি উদ্ধারের পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ ও নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে নৌপুলিশ নিহতের মরদেহ হেফাজতে নেয় এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে।

​তবে নিহত ব্যক্তি কীভাবে মারা গেছেন এবং তাঁর পরিচয় কী, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, আমরা নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে নৌপুলিশের সহায়তায় সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

ফরিদপুরে হাসপাতালে চুরি: সিসিটিভিতে শনাক্ত বিএনপি নেতার ছেলে, ৬ মাসের জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হাসপাতালে চুরি: সিসিটিভিতে শনাক্ত বিএনপি নেতার ছেলে, ৬ মাসের জেল

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৫টি সিলিং ফ্যানসহ লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল চুরির ঘটনায় মো. মান্না শেখ (২৭) নামে এক যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

​দণ্ডিত মান্না শেখ বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজাউল হক শেখের ছেলে।

​পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোর চারটার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত ক্যানটিনের তালা ভেঙে এসব মালামাল চুরি হয়। হাসপাতালটিতে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চুরির বিষয়টি ধরা পড়েনি। পরদিন শনিবার সকালে ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

​পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত মান্না শেখকে শনাক্ত করে বোয়ালমারী থানা পুলিশ। ঘটনা জানাজানি হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে।

​এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। রোববার বিকেলে আসামিকে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

​বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর শনাক্তের পর মালামাল উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

​এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর আগেও একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল এলাকায় অবস্থানকারী কিছু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক এসব চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে তাঁদের ধারণা। তবে এ বিষয়ে পুলিশের সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।