খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ২০ ফাল্গুন, ১৪৩২

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী নিহত, স্বজনদের আহাজারি

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম
মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী নিহত, স্বজনদের আহাজারি

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার এক প্রবাসী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত মো. বেলায়েত কাজী (৩৫) ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিঘাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত ইউসুফ কাজীর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর প্রায় ৬টার দিকে মালয়েশিয়ার পেরাক প্রদেশের ইপোহ শহরে সড়কের কাজ করার সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই গাড়িটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে বলে জানা গেছে।

স্বজনরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান বেলায়েত। শুরুতেই নানা প্রতারণার শিকার হন তিনি। নির্ধারিত কাজ না পেয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন নির্মাণ ও সড়ক মেরামতের কাজে যুক্ত হন। সম্প্রতি ইপোহ এলাকায় সড়ক সংস্কার কাজ করছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুনসুর আহমদ মুন্সী জানান, সকালে তিনি দুর্ঘটনার খবর পান। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতের মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ্-আবু-জাহেরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহতের পরিবার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা কামনা করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, অবৈধভাবে বিদেশে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে এমন দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। তারা দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

গ্রামে বেলায়েতের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছাতেই এলাকায় শোকের মাতম নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চৌকিঘাটা গ্রাম।

‘আগাম মিথ্যা হত্যা মামলার আশঙ্কা’—নগরকান্দায় শতাধিক গ্রামবাসীর মানববন্ধন

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
‘আগাম মিথ্যা হত্যা মামলার আশঙ্কা’—নগরকান্দায় শতাধিক গ্রামবাসীর মানববন্ধন

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রাম বাজার এলাকায় আগাম মিথ্যা হত্যা মামলার আশঙ্কায় মানববন্ধন করেছেন শতাধিক গ্রামবাসী। 

মঙ্গলবার (০৪ মার্চ) বিকেলে নগরকান্দা–পুরাপাড়া সড়কের বনগ্রাম বাজারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে একটি পক্ষ প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। সম্ভাব্য সেই ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতেই তারা আগাম প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ২০১৬ সালে পান্নু মুন্সি নামে এক ব্যক্তি ডায়রিয়াজনিত কারণে স্বাভাবিকভাবে মারা যান। কিন্তু মৃত্যুর প্রায় দুই ঘণ্টা পর তার মরদেহ দেলবাড়িয়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে বিকৃত করা হয় এবং ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে উপস্থাপন করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

পরে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও আদালতের পর্যবেক্ষণে মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে প্রমাণিত হয় বলে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবি। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক নিরীহ ব্যক্তিকে আসামি করে হয়রানি করা হয়েছিল।

গ্রামবাসীরা আরও অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে পার্শ্ববর্তী ভাঙা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সোহেল নামে এক ব্যক্তির ঘটনাতেও একই কৌশলে হত্যা মামলা দিয়ে কয়েকজন নিরীহ গ্রামবাসীকে ফাঁসানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পান্নু মুন্সির ভাই রেজাউল মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে রয়েছেন। তাকে কেন্দ্র করেও নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা হতে পারে, এমন গুঞ্জন রয়েছে। এ কারণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে তারা দাবি করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে রেজাউল মুন্সি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রেজাউল মুন্সি নিজ বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “মানববন্ধনের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে কেউ যদি আইনগত সহায়তার জন্য থানায় আসে, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের ঘটনাগুলোকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারি ও নিরপেক্ষ তদন্তই পারে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে।

গ্রামবাসীরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে এবং নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন।

সালথায় হাইব্রিড পেঁয়াজের দানায় ভাগ্য বদল, হাইস্কুল শিক্ষক এখন সফল উদ্যোক্তা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫১ এএম
সালথায় হাইব্রিড পেঁয়াজের দানায় ভাগ্য বদল, হাইস্কুল শিক্ষক এখন সফল উদ্যোক্তা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের দরগা গট্টি গ্রামে হাইব্রিড পেঁয়াজের দানা (বীজ) চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক স্কুলশিক্ষক। তিনি গট্টি ইউনিয়নের দরগা গট্টি গ্রামের বাসিন্দা এবং গট্টি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। পাঠদানের পাশাপাশি কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছা ও উদ্যোগ থাকলে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে নিজস্ব প্রায় দুই বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে হাইব্রিড পেঁয়াজের দানা চাষ শুরু করেন তিনি। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা থাকলেও সঠিক পরিচর্যা, সময়মতো সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি ভালো ফলন পান। বাজারে পেঁয়াজের বীজের চাহিদা বেশি থাকায় উৎপাদিত দানা বিক্রি করে তিনি উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখবেন-এমনটাই আশা করছেন ওই এলাকার চাষিরা।

এ ব্যাপারে শিক্ষক জীবন কুমার বিশ্বাস ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “শুধু চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর না করে কৃষিকে আধুনিক পদ্ধতিতে করলে বাড়তি আয় সম্ভব। হাইব্রিড পেঁয়াজের দানা চাষ তুলনামূলকভাবে লাভজনক। ভবিষ্যতে আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া হাইব্রিড পেঁয়াজের দানা উৎপাদনের জন্য উপযোগী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন শিকদার ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “অনেকেই শুধু পেঁয়াজ চাষ করেন, কিন্তু বীজ উৎপাদনে আগ্রহ কম। এই শিক্ষক উদ্যোগ নিয়ে সফল হওয়ায় অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন। আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।”

তিনি বলেন, এ উপজেলায় মোট ৪০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের দানা চাষ করছেন চাষিরা। যেটা বিঘা অনুপাতে প্রায় ২০০ বিঘা।

স্থানীয় কৃষকরাও তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে আগামী মৌসুমে পেঁয়াজের দানা চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, মানসম্মত বীজ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হলে কৃষকরা সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারবেন এবং বাইরের এলাকার ওপর নির্ভরতা কমবে।

শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষিকাজে এই সাফল্য প্রমাণ করে—শিক্ষিত যুবসমাজ চাইলে আধুনিক কৃষিতে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। সালথার দরগা গট্টি গ্রামের এই উদ্যোগ এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প।

তারাবিতে ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৭ এএম
তারাবিতে ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী?

রমজানে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ব্যাপকভাবে যেসব ইবাদত করে থাকেন, তার একটি হলো তারাবি নামাজ। এই নামাজের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তারাবি পড়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এক হাদিসে তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও পরকালের আশায় রমজানের রাতে তারাবির সালাত আদায় করবে, তার অতীতের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (নাসায়ি : ২২০৫)

তারাবি নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অপারগতা ছাড়া তা পরিত্যাগকারী গোনাহগার হবে। রমজানে প্রতিদিন এশার ফরজ নামাজ পড়ার পরে বিতিরের আগে তারাবি নামাজ পড়তে হয়।

এ নামাজ সাধারণত দুই রাকাত করে পড়া হয়। দুই রাকাত পড়ে বৈঠক ও সালাম ফেরানোর মাধ্যমে তারাবি নামাজ শেষ হয়। এরপর আবার নতুন করে দুই রাকাত তারাবি পড়া হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, অনেকে দ্বিতীয় রাকাতে না বসে ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে যখন ভুলের কথা মনে পড়ে, তখন তারা দ্বিধায় পড়ে যান যে কী করবেন।

চলুন তাহলে জেনে নিই, তারাবিতে ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী

ইসলামি গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসারে বলা হয়েছে, তারাবির নামাজে প্রত্যেক দুই রাকাত শেষে বৈঠক করা ফরজ। ভুলবশত কেউ দুই রাকাতের পর বৈঠক না করে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে নিয়ম হলো, তৃতীয় রাকাতের সিজদা করার আগে আগে ভুলটি বুঝতে পারলে বৈঠকে ফিরে আসা এবং নামাজ শেষে সাহু সিজদা করা। কিন্তু এক্ষেত্রে তৃতীয় রাকাতের সিজদা করে নিলে এরপর আর বৈঠকে ফিরে আসার সুযোগ থাকে না এবং ফরজ বৈঠক ছাড়ার কারণে পূর্বের দুই রাকাত বাতিল হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে তৃতীয় রাকাতের সাথে যদি আরও এক রাকাত মিলিয়ে চার রাকাত পড়ে নেয় এবং নামাজ শেষে সাহু সিজদা করে, তাহলে পরবর্তী দুই রাকাত সহিহ বলে ধর্তব্য হয়।

তাই এমন ক্ষেত্রে তৃতীয় রাকাতের পর আরও এক রাকাত পড়ে নিলে পরবর্তী দুই রাকাত তারাবি নামাজ হিসেবে গণ্য হবে এবং এক্ষেত্রে পূর্বের দুই রাকাত বাতিল গণ্য হবে। (আলমাবসূত, সারাখসী : ২/১৪৭, আলমুহীতুল বুরহানী : ২/২৬৩, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২৩৯, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১১৮)

সূত্র : মাসিক আল কাউসার