খুঁজুন
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২

কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, কারা পাবেন না? —বিস্তারিত জানুন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, কারা পাবেন না? —বিস্তারিত জানুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নির্বাচনি যে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল তার মধ্যে অন্যতম অঙ্গীকার ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। ভোটে দলটি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে।

এবার তাদের সামনে প্রতিশ্রুতি পূরণের পালা। সে মোতাবেক সরকার এগোচ্ছেও অনেকটা জোর কদমে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের বেশকিছু অঞ্চলে প্রান্তিক মানুষের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিতে নেওয়া হচ্ছে পদক্ষেপ।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারাদেশে স্বল্পআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক প্রস্তাব মোতাবেক, ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সহায়তা দিলে এক অর্থবছরে প্রায় ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে (ক্যাশ-আউট চার্জসহ)। বিদ্যমান বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীদের সমন্বয়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয়ের সম্ভাবনাও দেখছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রামীণ দরিদ্র, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তি, বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী-প্রধান পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। বিদ্যমান কিছু কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা একযোগে সুবিধা পাবেন না—এমন বিধিনিষেধও থাকবে।

বর্তমানে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডে প্রায় ৬৫ লাখ পরিবার ভর্তুকিমূল্যে পণ্য পাচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল ওম্যান ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচিসহ একাধিক প্রকল্পের তথ্য একীভূত করে নতুন কার্ডে অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্ভাব্য বাস্তবায়ন কৌশল ঠিক করতে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, সরকার ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়েছে। অর্থবছর হিসাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা (ক্যাশ-আউট চার্জসহ)। তবে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় ও দ্বৈততা পরিহারের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা সাশ্রয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। এ হিসাবে অর্থের প্রয়োজন হবে প্রায় ৬ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা।

কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সুপারিশ আসতে হবে।

গ্রামীণ সবচেয়ে হতদরিদ্র পরিবার, নিম্নআয়ের মানুষ, উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার, নারীপ্রধান ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা বা অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবার, ১৫–১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রত্যাগত অভিবাসী বিশেষত নারী অভিবাসীর পরিবার এবং শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবার এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।

পাশাপাশি যেসব পরিবারের ঘরের দেওয়াল মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশ দিয়ে তৈরি এবং ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুর পরিবারগুলো এই ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ভূমিহীন পরিবার বলতে বোঝাবে—যাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই, কিন্তু কৃষিনির্ভর। যাদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা আছে, কিন্তু কৃষিযোগ্য জমি নেই—তারাও থাকবেন ভূমিহীন পরিবারের আওতায়।

এছাড়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) স্বল্পআয়ের পরিবারভিত্তিক কার্ডধারী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচির উপকারভোগী, খাদ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত পরিবারকেও সমন্বয়ের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার চিন্তা করছে সরকার।

কারা পাবেন না

একই পরিবারের একাধিক সদস্য তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না। যেসব পরিবার এরই মধ্যে নির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সুবিধা পাচ্ছেন এবং সমন্বয়ের আওতায় আসবেন না, তারাও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। এছাড়া সরকারি তালিকাভুক্ত এমন উপকারভোগী, যাদের তথ্য সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে যাচাই করে দ্বৈততা পাওয়া যাবে, তাদেরও ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে রাখা হতে পারে।

যাচাই-বাছাই ও প্রযুক্তি ব্যবহার

অর্থবিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ব্যবহার করে পাইলটিং করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে এনআইডি, জন্মতারিখ, মোবাইল ফোন নম্বর ও ইউনিয়নের নাম—এ চারটি তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্ভব। ‘সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম’–এ এরই মধ্যে ৪ কোটির বেশি উপকারভোগীর তথ্য সংরক্ষিত আছে, যা দিয়ে এনআইডি, মোবাইল ফোন বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দ্বৈততা যাচাই করা যাবে।

এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, টিআইএন, বিটিআরসির আইএমইআই ডাটাবেজ, জাতীয় সঞ্চয়পত্র, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনার ডাটাবেজ এবং এমপিও শিক্ষক ডাটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা যাবে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ পাঁচটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন থাকায় সরাসরি জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পাবলিক) পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং সম্ভব হবে।

অর্থের সংস্থান কীভাবে

ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচির ১০ লাখ ৪০ হাজার উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ২ হাজার ২২৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির পল্লী অঞ্চলের ২৫ লাখ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ২ হজার ১২১ কোটি টাকা এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৪ লাখ ৬ হাজার উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এভাবে মোট ৫ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা সমন্বয়ের মাধ্যমে পাওয়া গেলে অবশিষ্ট অর্থ সরকারকে আলাদাভাবে বরাদ্দ দিতে হবে।

দ্রুত বাস্তবায়নের রূপরেখা

প্রাথমিক প্রস্তাবে ৮টি উপজেলায় পাইলটিং বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সাতদিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই, ৭–১০ দিনের মধ্যে নীতিমালা অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ, এরপর পরবর্তী চারদিনের মধ্যে পে-রোল প্রস্তুত করে ভাতা বিতরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান ভাতাভোগীদের এনআইডি-সংযুক্ত ডাটাবেজ ব্যবহার করলে ঈদের আগেই কার্ড বিতরণ সম্ভব।

জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে অর্থবিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত এমআইএস-এ উপকারভোগীর তথ্য এন্ট্রি করা যেতে পারে। এর আগেও এমআইএস ব্যবহার করে করোনা মহামারি ও অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর সময় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সরাসরি ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এই এমআইএসে মাত্র ৪টি তথ্য এন্ট্রি দিতে হবে—এনআইডি, জন্মতারিখ, মোবাইল ফোন নম্বর ও ইউনিয়নের নাম।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবেন এবং কারা পাবেন না তার একটি সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ৫০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দিলে কত অর্থ ব্যয় হতে পারে এবং কীভাবে অর্থ ব্যয় কমানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

‘বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীদের সমন্বয়ের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে অর্থ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী’—যোগ করেন ওই কর্মকর্তা।

সূত্র : জাগোনিউজ২৪

সপ্তাহে কত ঘণ্টার বেশি কাজ করা উচিত নয়, জানাল গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সপ্তাহে কত ঘণ্টার বেশি কাজ করা উচিত নয়, জানাল গবেষণা

দ্রুতগামী এই যুগে আমরা প্রায় সবাইই ছুটে চলেছি ডেডলাইন, অফিসের চাপ, টার্গেট, মিটিং, অনলাইন-অফলাইন সমন্বয়। প্রতিদিন যেন আরও একটু বেশি কাজ করার তাড়া।

আজকের কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা যেন সবাই একটা অদৃশ্য দৌড়ে নেমেছি। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে নিয়ে রাতের ক্লান্ত শরীর বিছানায় পড়া পর্যন্ত সময় যেন থেমে থাকার অবকাশই নেই। অফিস, টার্গেট, ডেডলাইন, পরিবারের দায়িত্ব; সব মিলিয়ে দিন শেষে মনে হয় ২৪ ঘণ্টা যেন যথেষ্ট নয়।

অনেকে মনে করেন, বেশি কাজ মানেই বেশি সাফল্য। কিন্তু সত্যিকারে কি তা-ই? ব্যস্ততার এই দৌড়ে আমরা কি বুঝতে পারছি কতটা ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে আমাদের শরীর, বিশেষ করে মস্তিষ্ক?গবেষণা কিন্তু বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা শুধু ক্লান্তিই আনে না, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্য ও হৃদযন্ত্র; সবকিছুর ওপরই ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে।তাহলে দিনে ও সপ্তাহে সর্বাধিক কত ঘণ্টা কাজ করা উচিত? অতিরিক্ত কাজের চাপ মস্তিষ্কে কী প্রভাব ফেলে? বিজ্ঞান আমাদের কী সতর্ক করছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

১. কাজের আদর্শ সময়কাল

বিশ্বের বহু দেশে কর্মদিবসের আদর্শ সময় হিসেবে স্বীকৃত ৮ ঘণ্টা, যাকে বলা হয় Eight-Hour Day। এই ধারণার মূল এসেছে ১৮০০ সালের শিল্প বিপ্লবের সময় থেকে, আর এখনো এটি শ্রম আইন ও কর্মীদের সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি।

প্রতিদিন কেন ৮ ঘণ্টা?

৮ ঘণ্টা কাজ + ৮ ঘণ্টা ব্যক্তিগত জীবন + ৮ ঘণ্টা ঘুম; এই ভারসাম্য মস্তিষ্ক ও শরীরকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণা বলছে, দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে উৎপাদনশীলতা দ্রুত কমে যায়। কারণ, মস্তিষ্কের ফোকাস ধরে রাখার ক্ষমতা নির্দিষ্ট সময়ের পর কমতে থাকে।

২. কত ঘণ্টার বেশি কাজ করলে মস্তিষ্কে খারাপ প্রভাব পড়ে?

গবেষণা দেখায়, দৈনিক সময়সীমা ৮ ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেলে এবং বিশেষ করে সপ্তাহে ৫০-৫৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে শুরু করে।

ক. জ্ঞানীয় ক্ষমতা হ্রাস

লম্বা সময় কাজ করলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় Prefrontal Cortex—যা সিদ্ধান্ত, মনোযোগ ও সমস্যা সমাধানের জন্য দায়ী। ফলে মনোযোগ কমে যাওয়া, ভুল বাড়া ও চিন্তাভাবনায় ধীরগতি দেখা দেয়।

খ. মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি

অতিরিক্ত কাজ কর্টিসল হরমোন বাড়ায়, যা লিম্বিক সিস্টেমে ক্ষতি করতে পারে। কর্টিসল দীর্ঘসময় বেশি থাকলে উদ্বেগ, বার্নআউট ও বিষণ্নতা বাড়ে।

গ. স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি

WHO ও ILO-এর যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৫% আর হৃদরোগের ঝুঁকি ১৭% বেড়ে যায়। কারণ, দীর্ঘমেয়াদি চাপ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদযন্ত্রে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

ঘ. ঘুমের ব্যাঘাত

চাপ বাড়লে শরীর ও মস্তিষ্কের শিথিল হওয়ার সময় কমে যায়। ফলে অনিদ্রা, হালকা ঘুম ও ঘুমের মান কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

৩. সপ্তাহিক আদর্শ কর্মঘণ্টা কত?

সমগ্র গবেষণা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজই আদর্শ। প্রতি ৪৫-৬০ মিনিট কাজের পর ৫-১০ মিনিট বিরতি নিলে ফোকাস ও উৎপাদনশীলতা বাড়ে। একটানা অনেক ঘণ্টা কাজের বদলে ছড়িয়ে কাজ করাই মস্তিষ্কের জন্য ভালো।

সংক্ষেপে

দিনে ৮ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা- এই সীমা মেনে কাজ করলে আমরা থাকি কার্যকর, উৎপাদনশীল ও মানসিকভাবে সুস্থ। এর বেশি কাজ হয়তো সাময়িকভাবে ফল দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা শরীর থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক ও জীবনযাত্রার মান; সবকিছুর ওপরই খারাপ প্রভাব ফেলে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

ফ্যানের বাতাস নাকি এসির বাতাস, শরীরের জন্য কোনটি বেশি নিরাপদ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ
ফ্যানের বাতাস নাকি এসির বাতাস, শরীরের জন্য কোনটি বেশি নিরাপদ?

গ্রীষ্ম এলেই বাংলাদেশের ঘরে ঘরে শুরু হয় ‘ফ্যান বনাম এসি’ লড়াই। মধ্যবিত্তের ঘরে ফ্যানই ভরসা, আর শহুরে জীবনে এসি যেন স্বস্তির আরেক নাম। প্রচণ্ড গরমে ঘাম ঝরতে ঝরতে যখন ঘরে ফেরা, তখন এক ঝলক ঠাণ্ডা বাতাস যেন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই স্বস্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু প্রশ্ন, এই বাতাস কি শরীরের জন্য ভালো? ফ্যানের বাতাস কি বেশি স্বাস্থ্যকর, নাকি এসির ঠাণ্ডা হাওয়া শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

আসলে বিষয়টি শুধু আরাম বা খরচের নয়, বরং সরাসরি জড়িত আমাদের শ্বাসযন্ত্র, ত্বক, এমনকি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে। বিশেষ করে শহরের বদ্ধ ঘর, ধুলাবালি, দূষণ আর অতিরিক্ত তাপমাত্রার এই সময়ে ফ্যান ও এসি ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি না জানলে ছোট সমস্যা থেকে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ফ্যানের বাতাস

ফ্যান মূলত ঘরের বাতাসকে ঘুরিয়ে দেয়, নতুন বাতাস তৈরি করে না। ফলে ঘরের ভেতরে যদি ধুলাবালি বা জীবাণু থাকে, তা আরও ছড়িয়ে পড়ে। সরাসরি শরীরে লাগলে অনেকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা বা পেশীতে টান ধরতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরমে (৩৫°C এর বেশি) ফ্যান অনেক সময় শরীরকে পর্যাপ্ত ঠাণ্ডা করতে পারে না। তবে সুবিধা হলো, ফ্যান বাতাস শুষ্ক করে না। এতে বিদ্যুৎ খরচ কম এবং সর্দি-কাশিরও ঝুঁকি কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক বায়ু চলাচল থাকলে ফ্যান তুলনামূলক নিরাপদ।

এসির বাতাস

এসি ঘরের তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়, যা তীব্র গরমে স্বস্তি দেয়। তবে, দীর্ঘ সময় এসিতে থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, ঠাণ্ডা-গরমের হঠাৎ পরিবর্তনে সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে এবং ফিল্টার পরিষ্কার না করলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জমে শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের হাঁপানি বা অ্যালার্জি আছে, তাদের ক্ষেত্রে অপরিষ্কার এসি ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী

১. ঘরের বাতাসের মান (indoor air quality) ঠিক রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

২. এসি ব্যবহার করলে নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করতে হবে

৩. তাপমাত্রা ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা স্বাস্থ্যসম্মত

৪. ফ্যান ব্যবহার করলেও জানালা খুলে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা উচিত

কোনটি বেশি নিরাপদ?

সোজা কথায় কোনোটিই এককভাবে ‘বেশি নিরাপদ’ নয়, বরং ব্যবহার পদ্ধতিই নির্ধারণ করে নিরাপত্তা। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় ফ্যানই ভালো। আর তীব্র গরমে এসি কার্যকর, তবে নিয়ম মেনে সেটি ব্যবহার করা জরুরি।

নিরাপদ ব্যবহারের কিছু টিপস

১. ফ্যান সরাসরি শরীরে না লাগিয়ে ঘুরিয়ে দিন

২. এসির ফিল্টার প্রতি ১৫-৩০ দিনে পরিষ্কার করুন

৩. এসি থেকে বের হয়ে সঙ্গে সঙ্গে গরমে না যান

৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

উপসংহার

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্যান এখনো সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ বিকল্প। তবে শহুরে তীব্র গরমে এসির প্রয়োজন অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মূল কথা একটাই, যন্ত্র নয়; সঠিক ব্যবহারই নিরাপত্তার চাবিকাঠি।

সূত্র : মায়ো ক্লিনিক, সিডিসি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মানুষ হিসেবে আপনি কেমন? বসার ভঙ্গিই বলে দিতে পারে উত্তর

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
মানুষ হিসেবে আপনি কেমন? বসার ভঙ্গিই বলে দিতে পারে উত্তর

আধুনিক মনোবিজ্ঞানে (সাইকোলজি) শরীরের ভাষা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের অজান্তেই শরীর অনেক সংকেত দেয়, যা সরাসরি আমাদের মানসিক অবস্থা, আত্মবিশ্বাস, চিন্তার ধরন এমনকি জীবনদৃষ্টিকেও প্রতিফলিত করে। আর সেই বডি ল্যাঙ্গুয়েজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বসার ভঙ্গি।

অফিসে, বাসায়, আড্ডায় কিংবা অপেক্ষার সময়; আপনি কীভাবে বসেন, তা কেবল আরামের বিষয় নয়; বরং সেটি আপনার ভেতরের মানুষটিকেও প্রকাশ করে। অবচেতনভাবে নেওয়া এই ভঙ্গিগুলোই বলে দিতে পারে আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী, কতটা চিন্তাশীল, কিংবা কতটা সংযত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি লাইভ  ও টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মানুষের বসার ভঙ্গি থেকে তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বেশ কিছু ধারণা পাওয়া যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক—

১। ছবিতে ১নং বসার ভঙ্গি অনুযায়ী, যদি কেউ হাঁটু একসঙ্গে কিন্তু পায়ের দুই পাতায় দূরত্ব রেখে বসে, তবে সে ব্যক্তি চিন্তাহীন হয়ে থাকেন। আর এ কারণে কঠিন সময়েও তিনি স্বাভাবিক হয়েই তাকতে পারেন। পরিকল্পনাহীন জীবনযাপনে তারা অভ্যস্ত।

২। ছবিতে ২নং বসার ভঙ্গি অনুযায়ী, যদি কাউকে পায়ের উপর পা তুলে বসতে দেখেন, তবে তিনি বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী। হাসিখুশি হয়ে জীবন কাটানোতেই প্রাধান্য দেন তারা।

৩। ছবির ৩নং মানুষ অনুযায়ী, যারা হাঁটু ফাঁক করে পায়ের পাতা একসঙ্গে করে সোজা হয়ে বসেন তারা সহজে কাউকে বিশ্বাস করেন না। কথা বলতে পছন্দ করেন। সময়ের অপচয় করে এমন মানুষ তাদের অপছন্দ।

৪। ছবির ৪নং মানুষ অনুযায়ী, যারা হাঁটু এবং পায়ের পাতা একসঙ্গে করে সোজা হয়ে বসেন তারা নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকতে পছন্দ করেন। এরা বেশ ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের হয়ে থাকে।

৫। ছবির ৫নং মানুষ অনুযায়ী, যারা হাঁটু এবং পায়ের পাতা একসঙ্গে করে সোজা হয়ে একটু হেলিয়ে বসেন তারা জীবনের কাজে বেশি মনোযোগী। স্পষ্টভাষী হওয়ার পাশাপাশি এরাও বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকেন।

এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র গবেষণা ও প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। তাই কোনো তথ্য বা অনুমান প্রয়োগ করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সঙ্গ পরামর্শ করুন।