খুঁজুন
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩২

কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, কারা পাবেন না? —বিস্তারিত জানুন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৫ এএম
কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, কারা পাবেন না? —বিস্তারিত জানুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নির্বাচনি যে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল তার মধ্যে অন্যতম অঙ্গীকার ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। ভোটে দলটি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে।

এবার তাদের সামনে প্রতিশ্রুতি পূরণের পালা। সে মোতাবেক সরকার এগোচ্ছেও অনেকটা জোর কদমে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের বেশকিছু অঞ্চলে প্রান্তিক মানুষের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিতে নেওয়া হচ্ছে পদক্ষেপ।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারাদেশে স্বল্পআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক প্রস্তাব মোতাবেক, ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সহায়তা দিলে এক অর্থবছরে প্রায় ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে (ক্যাশ-আউট চার্জসহ)। বিদ্যমান বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীদের সমন্বয়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয়ের সম্ভাবনাও দেখছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রামীণ দরিদ্র, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তি, বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী-প্রধান পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। বিদ্যমান কিছু কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা একযোগে সুবিধা পাবেন না—এমন বিধিনিষেধও থাকবে।

বর্তমানে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডে প্রায় ৬৫ লাখ পরিবার ভর্তুকিমূল্যে পণ্য পাচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল ওম্যান ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচিসহ একাধিক প্রকল্পের তথ্য একীভূত করে নতুন কার্ডে অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্ভাব্য বাস্তবায়ন কৌশল ঠিক করতে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, সরকার ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়েছে। অর্থবছর হিসাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা (ক্যাশ-আউট চার্জসহ)। তবে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় ও দ্বৈততা পরিহারের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা সাশ্রয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। এ হিসাবে অর্থের প্রয়োজন হবে প্রায় ৬ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা।

কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সুপারিশ আসতে হবে।

গ্রামীণ সবচেয়ে হতদরিদ্র পরিবার, নিম্নআয়ের মানুষ, উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার, নারীপ্রধান ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা বা অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবার, ১৫–১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রত্যাগত অভিবাসী বিশেষত নারী অভিবাসীর পরিবার এবং শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবার এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।

পাশাপাশি যেসব পরিবারের ঘরের দেওয়াল মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশ দিয়ে তৈরি এবং ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুর পরিবারগুলো এই ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ভূমিহীন পরিবার বলতে বোঝাবে—যাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই, কিন্তু কৃষিনির্ভর। যাদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা আছে, কিন্তু কৃষিযোগ্য জমি নেই—তারাও থাকবেন ভূমিহীন পরিবারের আওতায়।

এছাড়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) স্বল্পআয়ের পরিবারভিত্তিক কার্ডধারী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচির উপকারভোগী, খাদ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত পরিবারকেও সমন্বয়ের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার চিন্তা করছে সরকার।

কারা পাবেন না

একই পরিবারের একাধিক সদস্য তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না। যেসব পরিবার এরই মধ্যে নির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সুবিধা পাচ্ছেন এবং সমন্বয়ের আওতায় আসবেন না, তারাও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। এছাড়া সরকারি তালিকাভুক্ত এমন উপকারভোগী, যাদের তথ্য সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে যাচাই করে দ্বৈততা পাওয়া যাবে, তাদেরও ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে রাখা হতে পারে।

যাচাই-বাছাই ও প্রযুক্তি ব্যবহার

অর্থবিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ব্যবহার করে পাইলটিং করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে এনআইডি, জন্মতারিখ, মোবাইল ফোন নম্বর ও ইউনিয়নের নাম—এ চারটি তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্ভব। ‘সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম’–এ এরই মধ্যে ৪ কোটির বেশি উপকারভোগীর তথ্য সংরক্ষিত আছে, যা দিয়ে এনআইডি, মোবাইল ফোন বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দ্বৈততা যাচাই করা যাবে।

এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, টিআইএন, বিটিআরসির আইএমইআই ডাটাবেজ, জাতীয় সঞ্চয়পত্র, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনার ডাটাবেজ এবং এমপিও শিক্ষক ডাটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা যাবে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ পাঁচটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন থাকায় সরাসরি জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পাবলিক) পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং সম্ভব হবে।

অর্থের সংস্থান কীভাবে

ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচির ১০ লাখ ৪০ হাজার উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ২ হাজার ২২৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির পল্লী অঞ্চলের ২৫ লাখ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ২ হজার ১২১ কোটি টাকা এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৪ লাখ ৬ হাজার উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এভাবে মোট ৫ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা সমন্বয়ের মাধ্যমে পাওয়া গেলে অবশিষ্ট অর্থ সরকারকে আলাদাভাবে বরাদ্দ দিতে হবে।

দ্রুত বাস্তবায়নের রূপরেখা

প্রাথমিক প্রস্তাবে ৮টি উপজেলায় পাইলটিং বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সাতদিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই, ৭–১০ দিনের মধ্যে নীতিমালা অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ, এরপর পরবর্তী চারদিনের মধ্যে পে-রোল প্রস্তুত করে ভাতা বিতরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান ভাতাভোগীদের এনআইডি-সংযুক্ত ডাটাবেজ ব্যবহার করলে ঈদের আগেই কার্ড বিতরণ সম্ভব।

জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে অর্থবিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত এমআইএস-এ উপকারভোগীর তথ্য এন্ট্রি করা যেতে পারে। এর আগেও এমআইএস ব্যবহার করে করোনা মহামারি ও অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর সময় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সরাসরি ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এই এমআইএসে মাত্র ৪টি তথ্য এন্ট্রি দিতে হবে—এনআইডি, জন্মতারিখ, মোবাইল ফোন নম্বর ও ইউনিয়নের নাম।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবেন এবং কারা পাবেন না তার একটি সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ৫০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দিলে কত অর্থ ব্যয় হতে পারে এবং কীভাবে অর্থ ব্যয় কমানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

‘বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীদের সমন্বয়ের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে অর্থ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী’—যোগ করেন ওই কর্মকর্তা।

সূত্র : জাগোনিউজ২৪

ভাঙ্গায় হত্যা ও ডাকাতি মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে এসপি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ভাঙ্গায় হত্যা ও ডাকাতি মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে এসপি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সংঘটিত একাধিক হত্যা ও ডাকাতি মামলার তদন্ত জোরদার করতে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করে মামলাগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং তদন্তে গতি আনতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা থানায় সম্প্রতি দায়ের হওয়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার মধ্যে রয়েছে—মামলা নং ২৮/২৮ (তারিখ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪), মামলা নং ২৯/২৯ (তারিখ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ধারা ৩৯৫/৩৯৭) এবং মামলা নং ১২/৪৫ (তারিখ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ধারা ৩০২/২০১/৩৪)। এসব মামলায় হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি ঘটনাগুলোর আদ্যোপান্ত পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এ সময় তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে বলে আশ্বাস দেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, “অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্তের স্বার্থে আমরা সব ধরনের প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করছি। খুব দ্রুতই এসব ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রিজওয়ান দিপু, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীমসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, পুলিশের সক্রিয় তৎপরতায় দ্রুতই অপরাধীরা ধরা পড়বে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটবে।

ফরিদপুর পুলিশ হাসপাতালে নতুন প্যাথলজি বিভাগ চালু, মিলবে দ্রুত ও নির্ভুল পরীক্ষা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
ফরিদপুর পুলিশ হাসপাতালে নতুন প্যাথলজি বিভাগ চালু, মিলবে দ্রুত ও নির্ভুল পরীক্ষা

ফরিদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত ও সহজলভ্য করতে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে নতুন প্যাথলজি বিভাগের উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আধুনিক বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সদস্যরা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করেন। তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য থেকেই ফরিদপুর পুলিশ হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলজি বিভাগ চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এই বিভাগের মাধ্যমে দ্রুত, নির্ভুল ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে রোগ নির্ণয় সম্ভব হবে। এতে করে সদস্যদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করানোর ঝামেলা কমবে এবং সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হবে।”

তিনি জানান, নতুন প্যাথলজি বিভাগে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রক্ত, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার নির্ভরযোগ্য রিপোর্ট স্বল্প সময়ে পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে এ হাসপাতালের সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন এবং ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ হাসানুল কবীর মিশুসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

এসময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, আগে ছোটখাটো পরীক্ষার জন্যও বাইরে যেতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ছিল। নতুন প্যাথলজি বিভাগ চালু হওয়ায় এখন হাসপাতালে বসেই দ্রুত পরীক্ষা করা সম্ভব হবে, যা তাদের জন্য অনেক স্বস্তির বিষয়।

পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পরিবারও এই সেবার আওতায় আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে সার্বিকভাবে পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন জেলা পুলিশ।

আলফাডাঙ্গায় ক্ষেতে গিয়ে কৃষকের কান্না—রাতে তুলে নিয়ে গেল ৫০ মন পেঁয়াজ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম
আলফাডাঙ্গায় ক্ষেতে গিয়ে কৃষকের কান্না—রাতে তুলে নিয়ে গেল ৫০ মন পেঁয়াজ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় রাতের অন্ধকারে এক কৃষকের পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে আনুমানিক ৫০ মন পেঁয়াজ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১নং বুড়াইচ ইউনিয়নের শিয়ালদী গ্রামে। ভুক্তভোগী কৃষক মো. ইনামুল হক (রুবেল) জানান, তিনি চলতি মৌসুমে শিয়ালদী ও শৈলমারী মৌজায় প্রায় ৩ একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন। ভালো ফলনের আশায় তিনি সার, সেচ ও পরিচর্যায় যথেষ্ট শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করেন।

তিনি বলেন, “গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো ক্ষেত পরিদর্শন করে বাড়ি ফিরে যাই। পরদিন সকালে আবার ক্ষেতে গিয়ে দেখি, ক্ষেতের বড় অংশ থেকে পাকা ও আধা-পাকা পেঁয়াজ তুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। প্রায় ৫০ মন পেঁয়াজ নেই।”

তিনি আরও জানান, কিছু পেঁয়াজ ক্ষেতের মধ্যেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে চোরেরা তাড়াহুড়ো করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয়দের মতে, সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে এই চুরি সংঘটিত করেছে। কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল এভাবে লুট হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষিজ পণ্য চুরির ঘটনা বাড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইদ্রিস শেখ (৬০), মো. রমিজ উদ্দিন (২৫) ও মো. ফারুক আহম্মেদ (৬০) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসনাত খান বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত তদন্ত করে চোরদের গ্রেপ্তার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।